খণ্ড 38
ফন্ট:100%
থিম:

৩.২.১ ৭০ জন কুরআ (শিক্ষক সাহাবি) এর অনন্য আত্মত্যাগ

৩.২.১ ৭০ জন কুরআ (শিক্ষক সাহাবি) এর অনন্য আত্মত্যাগ

ঐতিহাসিক পটভূমি ও উহুদ-উত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি

উহুদ যুদ্ধের (৩ হিজরি) পরবর্তী সময়কালটি ছিল মদিনার নবগঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত নাজুক, সংবেদনশীল এবং ভূরাজনৈতিকভাবে চরম চ্যালেঞ্জিং। উহুদের ময়দানে মুসলিম বাহিনীর সাময়িক বিপর্যয় এবং রণকৌশলগত ক্ষয়ক্ষতির ফলে আরবের পার্শ্ববর্তী বেদুইন ও মুশরিক গোত্রগুলোর মনে এই ধারণার জন্ম হয়েছিল যে, মদিনার সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নজদ ও হেজাজের বিভিন্ন যাযাবর গোত্র মদিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে শুরু করে। আরবের এই অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন গোত্রীয় প্রধানরা মুসলিমদের ওপর আকস্মিক আঘাত হানার নীল নকশা তৈরি করছিল।

ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, উহুদ যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাস পর, সফর ৪ হিজরিতে এই চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়। [1] । ইমাম ইবনে কাসির তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, উহুদ-উত্তর এই সময়ে মদিনার মুসলিম সমাজ একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি ছিল, অন্যদিকে তেমনি বহিরাগত বেদুইন গোত্রগুলোর অতর্কিত আক্রমণের আশঙ্কায় সদা তটস্থ থাকত। [2] । এই ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবেই আরবের বিভিন্ন গোত্র মদিনার বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার জন্য নানামুখী ফাঁদ পাততে শুরু করে, যার অন্যতম নির্মম বহিঃপ্রকাশ ছিল বীর মাউনার ট্র্যাজেডি। [3]

এই সময়ে মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সাথে আরবের দূরদূরান্তে ইসলামের শান্তিময় বাণী পৌঁছে দেওয়ার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রাসুলুল্লাহ সা. অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলা করছিলেন। কিন্তু আরবের বিশ্বাসঘাতক গোত্রগুলো ইসলামের এই অহিংস দাওয়াতী মিশনকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করত। ফলে তারা সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে প্রতারণা ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়, যা শেষ পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বুদ্ধিবৃত্তিক গণহত্যার রূপ পরিগ্রহ করে।

আসহাবুুস সুফফাহ: মদিনার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র

বীর মাউনার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিতে যে ৭০ জন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেছিলেন, তাঁরা সাধারণ কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন মদিনার প্রথম নিয়মতান্ত্রিক আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'আসহাবুুস সুফফাহ'-এর অত্যন্ত মেধাবী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী। ইসলামের পরিভাষায় তাঁদের 'কুররা' (القراء) বা কুরআনের সুদক্ষ পাঠক ও শিক্ষক বলা হতো। [4] । এই সাহাবিগণ কেবল কুরআনের হাফেজই ছিলেন না, বরং তাঁরা ছিলেন কুরআনের গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, বিধি-বিধান এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহর প্রত্যক্ষ ধারক ও বাহক।

ইমাম যাহাবি তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে এই মহান শিক্ষক সাহাবিদের দৈনন্দিন জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনন্য চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সাহাবিগণ দিনের বেলা মদিনার বনে-জঙ্গলে কাঠ কেটে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে আসহাবুুস সুফফাহর দরিদ্র ও নিঃস্ব সদস্যদের খাদ্যের সংস্থান করতেন। আর রাতের অন্ধকার নেমে এলে তাঁরা গভীর মনোযোগের সাথে কুরআন তিলাওয়াত, হিফজ এবং নামাজে মশগুল থাকতেন। [5] । তাঁদের এই কঠোর পরিশ্রমী ও আধ্যাত্মিক জীবনধারা তাঁদেরকে মদিনা রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও নৈতিকভাবে বলীয়ান একটি বাহিনীতে পরিণত করেছিল।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে এই ৭০ জন কুররার অনন্য মর্যাদা ও তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক গভীরতার বিবরণ দিয়ে লিখেছেন যে, তাঁরা ছিলেন মদিনা রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত সম্পদ। [6] । রাসুলুল্লাহ সা. যখনই কোনো অঞ্চলে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারের প্রয়োজন বোধ করতেন, তখনই তিনি এই আসহাবুুস সুফফাহর সদস্যদের মধ্য থেকে যোগ্যতম ব্যক্তিদের নির্বাচন করে পাঠাতেন। অতএব, এই ৭০ জন শিক্ষকের শাহাদাত কেবল একটি সামরিক ক্ষতি ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন উদীয়মান মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অপূরণীয় শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়, যা মদিনার জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তিকে সাময়িকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

আবু বারা-র কূটনৈতিক প্রস্তাব ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর দূরদর্শিতা

৪ হিজরির সফর মাসে বনু আমির গোত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতা আবু বারা আমির ইবনে মালিক মদিনায় রাসুলুল্লাহ সা.-এর দরবারে উপস্থিত হন। আরবের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আবু বারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং বর্শা চালনায় তাঁর অসামান্য দক্ষতার কারণে তাঁকে 'মুলাইবুল আসিন্না' (বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সা. তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। আবু বারা ইসলাম গ্রহণ না করলেও এই নতুন দ্বীনের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেন। [7]

আবু বারা রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব পেশ করে বলেন যে, যদি তিনি নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারের জন্য একদল দক্ষ ও চরিত্রবান শিক্ষক প্রেরণ করেন, তবে নজদবাসী অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সা. নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের পূর্ববর্তী শত্রুতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং উহুদ-উত্তর নাজুক পরিস্থিতির কারণে এই প্রস্তাবে অত্যন্ত শঙ্কিত ছিলেন। তিনি সরাসরি তাঁর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:

«إِنِّي أَخْشَى عَلَيْهِمْ أَهْلَ نَجْدٍ»

অর্থাৎ, "আমি আমার সাহাবিদের ব্যাপারে নজদবাসীদের পক্ষ থেকে চরম আশঙ্কাবোধ করছি।" [8] । রাসুলুল্লাহ সা.-এর এই দূরদর্শী আশঙ্কা আরবের তৎকালীন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল।

রাসুলুল্লাহ সা.-এর এই আশঙ্কার জবাবে আবু বারা আরবের ঐতিহ্যবাহী গোত্রীয় আইনের আশ্রয় নেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই শিক্ষক কাফেলার নিরাপত্তার জিম্মাদার বা জামিনদার (ضامن) হচ্ছেন। তিনি বলেন: "আমি তাদের নিরাপত্তার জিম্মাদার (জিওয়ার) হলাম। অতএব আপনি তাদের প্রেরণ করুন, তারা যেন নজদবাসীদের আপনার দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানায়।" [9] । আরবের তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে 'জিওয়ার' বা নিরাপত্তা চুক্তি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি আইনি ও নৈতিক দলিল, যা লঙ্ঘন করাকে সমগ্র আরবে চরম অবমাননাকর ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ মনে করা হতো। আবু বারার মতো একজন প্রভাবশালী গোত্রপতির এই কূটনৈতিক ও সামাজিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এবং নজদ অঞ্চলে দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহান উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সা. শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রিয় ৭০ জন শিক্ষক সাহাবিকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন।

আমির ইবনে তুফাইলের বিশ্বাসঘাতকতা ও বনু সুলাইমের চক্রান্ত

৭০ জন শিক্ষক সাহাবির এই কাফেলা যখন মদিনা থেকে রওনা হয়ে নজদ ও বনু আমিরের মধ্যবর্তী 'বীর মাউনা' (মাউনা কূপ) নামক স্থানে পৌঁছায়, তখন আরবের ভূরাজনীতিতে এক চরম ও জঘন্যতম বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র উন্মোচিত হয়। আবু বারার ভ্রাতুষ্পুত্র, কুখ্যাত ও ক্ষমতা লোভী আমির ইবনে তুফাইল, তার চাচার দেওয়া ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা চুক্তিকে (জিওয়ার) সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মদিনার এই ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নজদ অঞ্চলে প্রতিহত করার জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আমির ইবনে তুফাইল প্রথমে তার নিজস্ব গোত্র বনু আমিরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এবং এই শিক্ষক কাফেলাকে হত্যা করার জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু বনু আমির গোত্র তাদের প্রবীণ নেতা আবু বারার দেওয়া নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমির ইবনে তুফাইলের এই অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক প্রস্তাবে সাড়া দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়। [10]

বনু আমির গোত্রের এই অস্বীকৃতিতে আমির ইবনে তুফাইল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বনু সুলাইম গোত্রের শরণাপন্ন হয়। বনু সুলাইম গোত্রের উপগোত্র—রিল, জাকওয়ান এবং উসাইয়্যা—পূর্ব থেকেই মুসলিমদের প্রতি চরম বিদ্বেষী ও উগ্র ছিল। আমির ইবনে তুফাইল এই গোত্রগুলোকে উত্তেজিত করে এবং তাদের সাথে নিয়ে এক বিশাল সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে। এই যৌথ বাহিনী বীর মাউনায় অবস্থানরত নিরস্ত্র, ক্লান্ত এবং ইবাদতরত শিক্ষক সাহাবিদের চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। [11]

সাহাবিগণ যখন দেখলেন যে তারা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এবং তাদের সামনে কোনো কূটনৈতিক বা শান্তিপূর্ণ মীমাংসার পথ খোলা নেই, তখন তারা বুঝতে পারলেন যে তারা এক চরম বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁরা বিন্দুমাত্র ভীত বা বিচলিত হননি। তাঁরা তাঁদের সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক সামর্থ্য নিয়ে আরবের এই বিশাল সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। [12] । এই অসম যুদ্ধে শিক্ষক সাহাবিগণ তাঁদের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ইসলামের সত্যতা ও মর্যাদার পক্ষে লড়াই করে একে একে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।

এই মহত্তম আত্মত্যাগের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর এক মাসব্যাপী কুনুতে নাজিলাহ

বীর মাউনার এই নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সংবাদ যখন মদিনায় পৌঁছায়, তখন রাসুলুল্লাহ সা. এবং মদিনার মুসলিম সমাজ এক গভীর ও নজিরবিহীন শোকের সাগরে নিমজ্জিত হয়। ঐতিহাসিক ও হাদিসের বিবরণী অনুযায়ী, উহুদ যুদ্ধের সামরিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিতে রাসুলুল্লাহ সা. এতটা ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হননি, যতটা তিনি এই ৭০ জন নিষ্পাপ ও নিরস্ত্র কুরআনের শিক্ষকের শাহাদাতে হয়েছিলেন। [13] । এই ঘটনাটি মদিনা রাষ্ট্রের জন্য কেবল একটি সামরিক ধাক্কা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক আঘাত, যা মুসলিমদের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি টানা এক মাস ধরে প্রতিদিন ফরজ নামাজসমূহের (বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের নামাজে) শেষ রুকু থেকে উঠে হাত তুলে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে 'কুনুতে নাজিলাহ' পাঠ করেন। [14] । এই দোয়ায় তিনি সরাসরি রিল, জাকওয়ান ও উসাইয়্যা গোত্রের ওপর আল্লাহর লানত ও শাস্তি কামনা করেন, যারা এই নিরপরাধ ও নিরস্ত্র শিক্ষকদের প্রতারণার মাধ্যমে হত্যা করে আরবের সমস্ত মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধূলিসাৎ করেছিল।

এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে জ্ঞান, শিক্ষা এবং শিক্ষকের মর্যাদা কতখানি উচ্চে। রাসুলুল্লাহ সা.-এর এই দীর্ঘমেয়াদী কুনুতে নাজিলাহ পাঠের মাধ্যমে আরবের অন্যান্য গোত্রগুলোর কাছে এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল যে, মদিনা রাষ্ট্র তার নাগরিকদের—বিশেষ করে জ্ঞান সাধকদের—নিরাপত্তার বিষয়ে কতটা আপসহীন। এই মহত্তম আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রমাণ করে যে দ্বীনের দাওয়াত ও জ্ঞান প্রসারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা ঈমানের সর্বোচ্চ শিখর। [15]

""
৩.২.১ ৭০ জন কুরআ (শিক্ষক সাহাবি) এর অনন্য আত্মত্যাগ
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৩.২.১ ৭০ জন কুরআ (শিক্ষক সাহাবি) এর অনন্য আত্মত্যাগ কুইজ

1 / 5

বির মাউনায় কতজন সাহাবি শহীদ হয়েছিলেন?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...