খণ্ড 80
ফন্ট:100%
থিম:

১৪.১.১ প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা (Institutional Taxation) বনাম ট্রাইবাল ট্রিবিউটের ইতিহাসতাত্ত্বিক (Historiographical) খণ্ডন

মানব সভ্যতার রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসে 'কর' (Tax) এবং 'ট্রিবিউট' (Tribute) বা উপঢৌকন/খাজনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক তাত্ত্বিক পার্থক্য বিদ্যমান। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায়, প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা হলো একটি আইনি বাধ্যবাধকতা, যা নাগরিক এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার সামাজিক চুক্তির (Social Contract) অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়। বিপরীতে, ট্রাইবাল ট্রিবিউট বা গোত্রীয় কর মূলত ক্ষমতা-সম্পর্ক এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে প্রদান করা এক ধরণের সমঝোতা। প্রাক-ইসলামিক আরব এবং প্রাথমিক ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাচ্যবিদরা অনেক সময় এই দুইয়ের পার্থক্য মুছে ফেলে ইসলামি করব্যবস্থাকে কেবল 'ট্রিবিউট' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। এই অধ্যায়ে আমরা সেই ইতিহাসতাত্ত্বিক ভ্রান্তির খণ্ডন করব এবং প্রমাণ করব যে, আরবে কেবল অসংগঠিত ট্রিবিউট ব্যবস্থা ছিল না, বরং সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থার বীজ বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় এক পূর্ণাঙ্গ আইনি রূপ লাভ করে।

প্রাক-ইসলামিক আরবের ট্রাইবাল ট্রিবিউট ও সুরক্ষা করের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

প্রাক-ইসলামিক আরবের অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল মূলত যাযাবর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রিক। এই যুগে কোনো কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকাঠামো না থাকায় কর আদায়ের প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণভাবে গোত্রীয় প্রধানদের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থাকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় 'প্রটেকশন মানি' বা সুরক্ষা কর বলা যেতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক কাফেলাগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের গোত্রপ্রধানদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হতো। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন ছিল না, বরং ছিল একটি ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা। যদি কোনো কাফেলা এই সুরক্ষা কর প্রদান করতে ব্যর্থ হতো, তবে তারা লুণ্ঠন এবং আক্রমণের শিকার হতো।


وهناك ضرائب أخرى أوجب دفعها إلى سادات القبائل في مقابل حماية القوافل وضمان مرور التجارة في أرضهم بأمان وسلام، وهي ضرائب حق المرور. وإلا تعرضت التجارة للنهب والسلب، وتعرض أصحاب القافلة للخطر والهلاك.

উপরোক্ত ইবারাতটি বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, এই করব্যবস্থাটি ছিল মূলত 'অধিকার' এবং 'নিরাপত্তার' একটি বিনিময় প্রথা। এখানে করদাতার সাথে করগ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি সম্পর্ক ছিল না, বরং ছিল শক্তির ভারসাম্য। এই ব্যবস্থায় গোত্রপ্রধানরা নিজেদের ভূখণ্ডে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং কাফেলাগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে এই 'জুআলা' (جعالة) বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতেন। এই প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন আরবে কর আদায়ের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত খণ্ডিত এবং অপ্রতিষ্ঠানিক, যা মূলত ট্রাইবাল ট্রিবিউটের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

তবে এই অসংগঠিত ব্যবস্থার পাশাপাশি 'মাকস' (المكس) নামক একটি কর ব্যবস্থার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা মূলত শুল্ক বা কর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই মাকস ব্যবস্থাটি প্রমাণ করে যে, আরবের কিছু নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে কর আদায়ের একটি প্রাথমিক রূপ বিদ্যমান ছিল। তবে তা আধুনিক অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা ছিল না, বরং তা ছিল স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক ধরণের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে, প্রাক-ইসলামিক আরবের করব্যবস্থাকে কেবল একটি একক ছাঁচে ফেলা সম্ভব নয়; এটি ছিল ট্রাইবাল ট্রিবিউট এবং প্রাথমিক বাণিজ্যিক শুল্কের এক সংমিশ্রণ।

কুতুবান মডেল: মন্দিরের প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ

প্রাচ্যবিদদের এই দাবি যে, আরবে ইসলাম আগমনের পূর্বে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা ছিল না, তা কুতুবান (Qataban) অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রমাণের সামনে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। কুতুবান সভ্যতায় মন্দিরের প্রভাব ছিল অত্যন্ত ব্যাপক এবং সেখানে কর আদায়ের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক। মন্দিরের অধীনে বিশাল ভূখণ্ড ছিল এবং সেই ভূখণ্ড থেকে প্রাপ্ত আয় মন্দিরের কোষাগারে জমা হতো। এটি কেবল কোনো গোত্রীয় প্রধানের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ধর্মীয় ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা।


وفي "قتبان" نجد نفوذ المعبد على الأهلين كبيرًا. وللمعبد أرضون واسعة تدر عليه دخلًا كبيرًا، وله ذرائب تبلغ عشر الدخل والميراث والمشتريات. بالإضافة إلى النذور والعطايا التي يتبرع بها الأغنياء له.

কুতুবানের এই ব্যবস্থায় দেখা যায় যে, আয়, উত্তরাধিকার এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হতো। এই ১০ শতাংশের হারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে সেখানে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক এবং আইনি কাঠামো বিদ্যমান ছিল। মন্দিরের এই কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি কেবল ধর্মীয় অনুদান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাধ্যতামূলক কর ব্যবস্থা, যা মন্দিরের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। এই ব্যবস্থাটি ট্রাইবাল ট্রিবিউটের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ছিল।

তদুপরি, কুতুবানের নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, এই করগুলো কেবল স্বেচ্ছায় দেওয়া হতো না, বরং এর জন্য নির্দিষ্ট দলিলাদি সংরক্ষিত রাখা হতো। এই প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রমাণ করে যে, আরবের দক্ষিণ অংশে একটি সুসংগঠিত কর প্রশাসন বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীকালে ইসলামি রাষ্ট্রের কর কাঠামোর জন্য একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে। সুতরাং, আরবের কর ইতিহাসকে কেবল 'ট্রিবিউট' হিসেবে চিহ্নিত করা একটি ইতিহাসতাত্ত্বিক অবিচার; বরং সেখানে মন্দিরের মাধ্যমে পরিচালিত এক উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।

ট্রাইবাল ট্রিবিউট থেকে রাষ্ট্রীয় করব্যবস্থায় রূপান্তর: একটি ইতিহাসতাত্ত্বিক খণ্ডন

ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর করব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসে। প্রাক-ইসলামিক যুগে কর আদায়ের প্রক্রিয়া ছিল মূলত গোত্রীয় প্রধানের ব্যক্তিগত প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল। গোত্রপ্রধানরা সরকারের সাথে সমঝোতা করে নিজেদের গোত্রের সদস্যদের জন্য করের পরিমাণ নির্ধারণ করতেন এবং সেই অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করে জমা দিতেন। এই ব্যবস্থায় করদাতার সাথে রাষ্ট্রের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না, বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গোত্রপ্রধান কাজ করতেন।


العادة أن تؤخذ الضريبة من القبيلة أو العشيرة مجتمعة، أي: أن رئيس القبيلة أوالعشيرة هو الذي يتولى تقديم ما على القبيلة من ضرائب إلى الحكومة، ويختلف ذلك أيضًا بحسب صلة الرئيس بالحكومة، وبحسب قوته ومركزه السياسي لدى المسئولين.

উপরোক্ত ইবারাতটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, তৎকালীন কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি ছিল রাজনৈতিক প্রভাব এবং সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সা. এবং পরবর্তী খলিফাদের যুগে এই ব্যবস্থাটি একটি আইনি এবং শরয়ী কাঠামোর অধীনে চলে আসে। জাকাত এবং জিজিয়ার মতো করগুলো আর কোনো গোত্রীয় প্রধানের সমঝোতার বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ এবং রাষ্ট্রীয় আইনের অংশ। এখানে করদাতার সাথে রাষ্ট্রের একটি সরাসরি আইনি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ট্রাইবাল ট্রিবিউটের ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে।

বিশেষ করে উমাইয়া খিলাফতের সময় জিজিয়া করের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এটি কেবল একটি কর ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানের একটি আইনি চুক্তি। জিজিয়া করের বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করত, যা প্রাক-ইসলামিক যুগের 'সুরক্ষা কর' থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, এখানে নিরাপত্তা প্রদানকারী ছিল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, কোনো বিচ্ছিন্ন গোত্র নয়। এই রূপান্তরটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি রাষ্ট্র করব্যবস্থাকে 'ট্রিবিউট' (যা কেবল আনুগত্যের প্রতীক) থেকে সরিয়ে 'ট্যাক্সেশন' (যা নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের অংশ) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে [1]

মুদ্রা ব্যবস্থা ও কর সংগ্রহের পদ্ধতিগত বিবর্তন: একটি বিশ্লেষণ

করব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিকতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো তার সংগ্রহের পদ্ধতি এবং হিসাবরক্ষণ। প্রাক-ইসলামিক আরবে মুদ্রার প্রচলন সীমিত থাকায় কর আদায়ের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান শব্দ ব্যবহৃত হতো: 'দাউতাম' (دعتم) এবং 'রাকাম' (ورقم)। এই শব্দদ্বয়ের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, তারা কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে পণ্য এবং মুদ্রার মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখত।


ولما كانت النقود قليلة إذ ذاك، كان دفع الضرائب عينًا في الغالب. ويعبر عن ذلك بـ"دعتم". أما إذا كان الدفع نقدًا. فيعبر عن ذلك بـ"ورقم".

এই পদ্ধতিটি নির্দেশ করে যে, আরবে কর আদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট পরিভাষা এবং হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল। যখন কর পণ্য আকারে দেওয়া হতো, তখন তাকে 'দাউতাম' বলা হতো এবং যখন তা মুদ্রায় দেওয়া হতো, তখন তাকে 'রাকাম' বলা হতো। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি প্রমাণ করে যে, কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি কেবল এলোমেলো কোনো উপঢৌকন ছিল না, বরং এর পেছনে একটি হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা কাজ করত। এই পদ্ধতিগত বিবর্তনটিই পরবর্তীতে ইসলামি রাষ্ট্রের 'বায়েতুল মাল' বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

প্রাচ্যবিদরা প্রায়ই দাবি করেন যে, আরবের এই করব্যবস্থা ছিল আদিম এবং অসংগঠিত। কিন্তু 'রাকাম' এবং 'দাউতাম'-এর মতো পরিভাষার ব্যবহার এবং কুতুবানের মন্দিরের ১০ শতাংশ করের নিয়ম প্রমাণ করে যে, সেখানে একটি প্রোটোকল বিদ্যমান ছিল। এই প্রোটোকলটিই ছিল প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ। ইসলামি রাষ্ট্র এই বিদ্যমান কাঠামোর ত্রুটিগুলো দূর করে সেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে। ফলে, ইসলামি করব্যবস্থাকে কেবল ট্রাইবাল ট্রিবিউটের সম্প্রসারিত রূপ বলা ভুল হবে; বরং এটি ছিল একটি আদিম কাঠামোর ওপর নির্মিত এক আধুনিক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

""
১৪.১.১ প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা (Institutional Taxation) বনাম ট্রাইবাল ট্রিবিউটের ইতিহাসতাত্ত্বিক (Historiographical) খণ্ডন
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১৪.১.১ প্রাতিষ্ঠানিক করব্যবস্থা (Institutional Taxation) বনাম ট্রাইবাল ট্রিবিউটের ইতিহাসতাত্ত্বিক (Historiographical) খণ্ডন কুইজ

1 / 5

প্রাক-ইসলামিক আরবে কাফেলাগুলোকে নিরাপদ চলাচলের জন্য যে অর্থ প্রদান করতে হতো তাকে কী বলা হতো?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...