মিডিয়া হেজিমনি ও গ্লোবাল মনোপলির তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি
মিডিয়া হেজিমনি বা গণমাধ্যমভিত্তিক আধিপত্যবাদ কেবল সমকালীন ভূ-রাজনীতির কোনো আকস্মিক অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফসল। ইতালীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামশির 'হেজিমনি' তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শাসকশ্রেণি কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির জোরেই তাদের শাসন টিকিয়ে রাখে না, বরং তারা গণমাধ্যম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে শোষিত শ্রেণির মনস্তত্ত্বে এমন এক সম্মতি (Consent) উৎপাদন করে, যার ফলে শোষিতরা শোষকের আধিপত্যকে স্বাভাবিক এবং একমাত্র বাস্তব বলে মেনে নেয়। বিশ্বায়নের এই যুগে গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়া এই হেজিমনি প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তথ্যপ্রবাহের ওপর গুটিকয়েক বহুজাতিক কর্পোরেশনের এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা মনোপলি (Monopoly) বিশ্বজুড়ে মানুষের চিন্তাজগতকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো সর্বদা জনমতকে নিজেদের অনুকূলে রাখতে তথ্য ও প্রকাশনার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের আমলের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চিত্রটি এর একটি ধ্রুপদী উদাহরণ। তৎকালীন ইউরোপে মুক্তচিন্তা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে নেপোলিয়ন যে কঠোর সেন্সরশিপ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, তা আধুনিক মিডিয়া মনোপলির আদি রূপ। ফরাসি বিপ্লবোত্তর যুগে নেপোলিয়নের এই কঠোর নীতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক দলিলে উল্লেখ রয়েছে:
"انه لمن المهم جداً ألاَّ يُسمح بالنشر إلاَّ لمن تثق بهم الحكومة. فمن يُخاطب الجماهير من خلال مطبوعات هو كمن يتحدث إليهم في اجتماع عام، في مقدوره أن يعرض موادَّ مثيرة ولا بد من مراقبته"অর্থাৎ, "এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, সরকার যাদের বিশ্বাস করে তারা ছাড়া অন্য কাউকে যেন প্রকাশের অনুমতি দেওয়া না হয়। কারণ যে ব্যক্তি প্রকাশনার মাধ্যমে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে কথা বলে, সে যেন একটি জনসভায় তাদের সাথে কথা বলছে; সে উত্তেজনাপূর্ণ উপাদান প্রদর্শন করতে সক্ষম, তাই তাকে অবশ্যই নজরদারিতে রাখতে হবে।" [1] । এই ঐতিহাসিক সত্যটি প্রমাণ করে যে, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো সর্বদা তথ্য সরবরাহকারী মাধ্যমগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে, যাতে তাদের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে কোনো বিকল্প ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি হতে না পারে।
আধুনিক যুগে এই রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের স্থান দখল করেছে গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়া মনোপলি। বর্তমানে বিশ্বের সিংহভাগ গণমাধ্যম—তা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক কিংবা ডিজিটাল যাই হোক না কেন—নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গুটিকয়েক পশ্চিমা কর্পোরেট জায়ান্টের দ্বারা। এই মনোপলির ফলে বিশ্বজুড়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কেবল সেইসব তথ্য ও বিশ্লেষণই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, যা এই কর্পোরেট ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষা করে। ফলে, বিশ্বজুড়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব তৈরি হচ্ছে, যেখানে শোষিত জনগোষ্ঠী শোষকের ভাষাতেই কথা বলতে শুরু করে এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হীন চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
ঔপনিবেশিক শাসন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: হেজিমনির ঐতিহাসিক বিবর্তন
মিডিয়া হেজিমনির এই ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রটি বোঝার জন্য উনিশ ও বিশ শতকের মিশরের সংবাদপত্র শিল্পের বিবর্তন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির দমনপীড়নমূলক নীতিমালার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ যখন মিশরে তাদের আধিপত্য বিস্তার করে, তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, সামরিক শক্তির চেয়েও বিপজ্জনক হলো স্থানীয় জনগণের স্বাধীন চিন্তাপ্রবাহ এবং তাদের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি চেতনা। এই চেতনাকে দমন করার জন্য তারা একের পর এক কালো আইন প্রণয়ন করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে। ১৮৮১ সালের ২৬ নভেম্বরের কুখ্যাত মিশরীয় মুদ্রণ আইন (قانون المطبوعات المصري) এবং পরবর্তীতে ১৯০৯ সালে তার পুনরুজ্জীবন ছিল এই হেজিমনি প্রতিষ্ঠারই আইনি প্রচেষ্টা।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি এবং তাদের অনুগত স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরেছিল, তার বিবরণ দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বলা হয়েছে:
"وقد أعيد العمل بهذا القانون في 25 مارس سنة 1909 نتيجة للإفلاس السياسي البريطاني في حياة المصريين، وقد طبق على الصحف الحديثة وحدها، فألزم الصحفيين الجدد بالحصول على الترخيص الذي قد يمنح وقد يمنع"অর্থাৎ, "মিশরীয়দের জীবনে ব্রিটিশদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ফলশ্রুতিতে ১৯০৯ সালের ২৫ মার্চ এই আইনটি পুনরায় কার্যকর করা হয়। এটি কেবল নতুন সংবাদপত্রগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার ফলে নতুন সাংবাদিকদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়, যা কখনো দেওয়া হতো আবার কখনো প্রত্যাখ্যান করা হতো।" [2] । এই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং প্রশাসনিক হয়রানির মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি অনুগত মিডিয়া শ্রেণি তৈরি করা, যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গুণগান গাইবে এবং যেকোনো ধরনের স্বাধীন বা বিপ্লবী কণ্ঠস্বরকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেবে।
ঔপনিবেশিক শক্তির এই মিডিয়া হেজিমনি কেবল আইনি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা বিচারিক ব্যবস্থার মাধ্যমেও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করত। ১৯১১ সালের ১৬ জুনের ২৭ নম্বর আইনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের অপরাধের বিচার সাধারণ আদালত থেকে সরিয়ে সরাসরি ফৌজদারি আদালতে (محكمة الجنايات) স্থানান্তর করা হয়, যাতে আপিলের সুযোগ না দিয়ে দ্রুত সাংবাদিকদের শাস্তি দেওয়া যায় [3] । এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি স্পষ্ট করে যে, আধুনিক গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়া আজ যেভাবে বিশ্বজুড়ে তাদের স্বার্থবিরোধী কণ্ঠস্বরকে 'সন্ত্রাসবাদ' বা 'উগ্রবাদ'-এর তকমা দিয়ে সেন্সর করছে, তার শিকড় প্রোথিত রয়েছে এই ঔপনিবেশিক দমননীতির গভীরে।
গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়ার ন্যারেটিভ বিল্ডিং এবং ইসলামোফোবিয়া
বর্তমান বিশ্বে গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ভূমিকা দেখা যায় তাদের সুপরিকল্পিত ন্যারেটিভ বিল্ডিং (Narrative Building) বা কৃত্রিম বয়ান তৈরির প্রক্রিয়ায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে, ইসলাম এবং মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে তারা এক নিয়মতান্ত্রিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা 'সফট পাওয়ার' (Soft Power) প্রয়োগ করছে। পশ্চিমা আধুনিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে একমাত্র প্রগতিশীল আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে এবং এর বিপরীতে ইসলামি মূল্যবোধ ও আন্দোলনগুলোকে পশ্চাৎপদ, সহিংস ও ক্ষতিকর হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটিকে মিডিয়া স্টাডিজের ভাষায় 'তনিমত' (Stereotyping) বা ছাঁচে ঢালা চরিত্রায়ন বলা হয়।
মরক্কোর গণমাধ্যমে ফরাসি আধুনিকতার আগ্রাসন এবং ইসলামপন্থীদের চরিত্রহননের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গবেষকগণ দেখিয়েছেন কীভাবে সফট পাওয়ার এবং ইমেজের শক্তিকে ব্যবহার করে এই হেজিমনি প্রতিষ্ঠা করা হয়:
"القوة الناعمة وقوة الصورة: إن انتصار السلاح لا يعني بالضرورة انتصار الفكرة"অর্থাৎ, "সফট পাওয়ার এবং ইমেজের শক্তি: অস্ত্রের বিজয় মানেই কিন্তু ধারণার বা আদর্শের বিজয় নয়।" [4] । পশ্চিমা শক্তি সামরিকভাবে কোনো অঞ্চল দখল করার পর যদি সেখানকার মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করতে না পারে, তবে সেই বিজয় স্থায়ী হয় না। আর এই মনস্তাত্ত্বিক বিজয়ের কাজটিই সম্পন্ন করে গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়া। তারা সুকৌশলে এমন সব ভিজ্যুয়াল ও টেক্সট্যুয়াল ন্যারেটিভ তৈরি করে, যা মুসলিম তরুণদের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে হীনম্মন্যতায় ভোগায় এবং পশ্চিমা জীবনধারাকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে প্ররোচিত করে।
এই মিডিয়া হেজিমনির আরেকটি বড় হাতিয়ার হলো সরাসরি স্যাটেলাইট সম্প্রচার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ও সাইবারস্পেস আজ পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য উন্মুক্ত। এই আগ্রাসনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে:
"إنَّ البثَّ الإعلاميَّ المباشر بتَوَجُّهه إلى العالم الإسلامي والساحة قد هُيِّئتْ له، فأثرياء المسلمين يفتَحُون أذرعتهم"অর্থাৎ, "ইসলামি বিশ্বের দিকে লক্ষ্য করে সরাসরি মিডিয়া সম্প্রচারের ক্ষেত্রটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যে, মুসলিম ধনকুবেররাই এর জন্য তাদের বাহু প্রসারিত করে দিচ্ছে।" [5] । এর ফলে, মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব মিডিয়া হাউসগুলোও পশ্চিমা ন্যারেটিভের অনুকরণে অনুষ্ঠানমালা তৈরি করছে, যা পরোক্ষভাবে পশ্চিমা মিডিয়া হেজিমনিকেই শক্তিশালী করছে। তারা সুপরিকল্পিতভাবে 'ইসলামোফোবিয়া' বা ইসলামভীতি ছড়াচ্ছে, যাতে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর পরিচালিত যেকোনো সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়।
হেজিমনি প্রতিরোধে ইসলামি আদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের রূপরেখা
গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়ার এই সর্বগ্রাসী মনোপলি এবং বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ বিল্ডিংয়ের বিপরীতে ইসলামের রয়েছে নিজস্ব যোগাযোগ দর্শন ও সত্য প্রকাশের আপসহীন ঐতিহ্য। রাসুলুল্লাহ সা. মক্কী জীবনে কুরাইশদের তীব্র অপপ্রচার ও সামাজিক বয়কটের মুখেও সত্যের বাণী প্রচার বন্ধ করেননি। কুরাইশরা যখন রাসুলুল্লাহ সা.-কে 'জাদুকর', 'কবি' বা 'পাগল' বলে মক্কার হজে আসা মানুষের কাছে অপপ্রচার চালাত, তখন তিনি সা. ব্যক্তিগত যোগাযোগ, চারিত্রিক মাধুর্য এবং ওহীর অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে সেই মিথ্যা ন্যারেটিভকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন। এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সফল কাউন্টার-হেজিমনি (Counter-Hegemony) বা বিকল্প বয়ান তৈরির সংগ্রাম।
ইসলামি যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা (صدق) এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই (تبين)। পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো ফাসেক ব্যক্তি সংবাদ নিয়ে এলে তা যেন যাচাই করা হয়। পশ্চিমা মিডিয়া মনোপলি যেখানে মুনাফা ও রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা ও অর্ধসত্য প্রচার করে, সেখানে ইসলাম প্রতিটি তথ্যের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে। পশ্চিমা সভ্যতার এই বুদ্ধিবৃত্তিক ও মিডিয়া আগ্রাসনের মুখে মুসলিম উম্মাহর নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক শেখ আবদুর রহমান আল-সুমাইত উম্মাহর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন:
"ما هي الرسالة التي تحملها أنت ؟"অর্থাৎ, "আপনি নিজে কোন বার্তাটি বহন করছেন?" [6] । মুসলিম উম্মাহ যদি কেবল পশ্চিমা মিডিয়ার ভোক্তা হিসেবে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে এবং নিজস্ব কোনো শক্তিশালী মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তিক ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারে, তবে এই হেজিমনি থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।
পশ্চিমা সভ্যতার এই কৃত্রিম আধিপত্যবাদ এবং তথাকথিত 'সভ্যতার দ্বন্দ্ব' (Clash of Civilizations) তত্ত্বের অসারতা প্রমাণ করে ইসলামের শাশ্বত ও চিরন্তন বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে:
"صدام الحضارات بين زيف الهيمنة الغربية وخلود الرسالة الإسلامية: قراءة فكرية في جذور الصراع ومآلاته العولمة"অর্থাৎ, "পশ্চিমা আধিপত্যের মিথ্যাচার এবং ইসলামি বার্তার অমরত্বের মধ্যে সভ্যতার সংঘাত: দ্বন্দ্বের শিকড় এবং বিশ্বায়নের পরিণতি নিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পাঠ।" [7] । গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়ার মনোপলি ভাঙতে হলে মুসলিম উম্মাহকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকলে চলবে না, বরং আক্রমণাত্মক বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। নিজস্ব স্যাটেলাইট চ্যানেল, আন্তর্জাতিক মানের সংবাদ সংস্থা, এবং শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সত্য ও ন্যায়ের বিকল্প ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেবল তখনই গ্লোবাল কর্পোরেট মিডিয়ার এই মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক হেজিমনি থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।