খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

২.৩ কোয়ান্টাম মেকানিক্স (Quantum Mechanics) এবং ডিটারমিনিজম (Determinism): মহাজাগতিক অনিশ্চয়তা এবং তাকদীরের দর্শন

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বৈপ্লবিক শাখা কোয়ান্টাম মেকানিক্স মানবসভ্যতার সামনে মহাবিশ্বের গঠন এবং কার্যকারণ সম্পর্ক (Causality) সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানবিশ্বে রাজত্ব করা 'ডিটারমিনিজম' বা 'নির্ধারণবাদ'—যে তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা পূর্বনির্ধারিত এবং গাণিতিকভাবে অনুমেয়—কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আগমনে এক চরম সংকটের মুখে পড়ে। এই বৈজ্ঞানিক রূপান্তরটি কেবল পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়, বরং এটি ইসলামের 'তাকদীর' বা খোদায়ী নির্ধারণের দর্শনের সাথে এক গভীর তাত্ত্বিক মেলবন্ধন তৈরি করে। যেখানে ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স মহাবিশ্বকে একটি বিশাল ঘড়ির যন্ত্রের সাথে তুলনা করত, সেখানে কোয়ান্টাম মেকানিক্স আমাদের শেখায় যে, ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর স্তরে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্যতা (Probability) বিদ্যমান, যা খোদায়ী ইলম এবং তাকদীরের রহস্যময়তাকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

নিউটোনীয় ডিটারমিনিজম এবং যান্ত্রিক মহাবিশ্বের ধারণা


সপ্তদশ শতাব্দীতে স্যার আইজ্যাক নিউটনের আবিষ্কৃত গতির সূত্র এবং মহাকর্ষীয় তত্ত্ব মহাবিশ্বকে একটি সুশৃঙ্খল এবং পূর্বাভাসযোগ্য যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। নিউটনের এই গাণিতিক কাঠামো অনুযায়ী, যদি কোনো বস্তুর বর্তমান অবস্থান এবং বেগ জানা থাকে, তবে ভবিষ্যতের যেকোনো মুহূর্তে তার অবস্থান নিখুঁতভাবে গণনা করা সম্ভব। এই চিন্তাধারা থেকেই 'নিউটোনীয় ডিটারমিনিজম' বা কঠোর নির্ধারণবাদের জন্ম হয়, যা বিশ্বাস করত যে মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা তার পূর্ববর্তী ঘটনার একটি অনিবার্য ফল। এই দর্শনে কোনো আকস্মিকতা বা অনিশ্চয়তার স্থান ছিল না; বরং সবকিছুই ছিল এক অমোঘ গাণিতিক নিয়মের অধীন।

নিউটনের এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল ভিত্তি ছিল তার মহাকর্ষ সূত্র, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, বস্তুর ভরের সাথে আকর্ষণ শক্তির সম্পর্ক সরলরৈখিক এবং দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। এই তত্ত্বটি গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথের নিখুঁত হিসাব প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিল, যা বিজ্ঞানীদের মনে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল করে যে, মহাবিশ্ব একটি নির্দিষ্ট নকশায় চলছে এবং এর প্রতিটি পদক্ষেপ পূর্বনির্ধারিত। এই যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব কেবল বিজ্ঞানে নয়, বরং তৎকালীন দর্শনেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে (Free Will) অস্বীকার করে সবকিছুকে বস্তুগত কারণের অধীন করার চেষ্টা করা হয়েছিল [1]

তবে এই কঠোর নির্ধারণবাদ একটি বড় দার্শনিক সংকটের জন্ম দেয়। যদি মহাবিশ্বের সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত হয়, তবে নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং খোদায়ী বিচার প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা কোথায় থাকে? নিউটোনীয় পদার্থবিজ্ঞানের এই সীমাবদ্ধতা এবং এর ফলে সৃষ্ট দার্শনিক দ্বন্দ্বটি পরবর্তীকালে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মাধ্যমে এক নতুন মোড় নেয়। নির্ধারণবাদের এই কঠোরতা যখন পরমাণুর ক্ষুদ্রতম স্তরে গিয়ে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় যে, নিউটনের সূত্রগুলো সেখানে অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং এক নতুন ধরণের 'অনিশ্চয়তা'র সূচনা হচ্ছে [2]

কোয়ান্টাম বিপ্লব এবং ডিটারমিনিজমের পতন


বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ম্যাক্স প্লাঙ্ক, আলবার্ট আইনস্টাইন এবং নিলস বোর-এর হাত ধরে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূচনা হয়, যা পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দেয়। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মূল কথা হলো, অতি ক্ষুদ্র কণাগুলোর (যেমন ইলেকট্রন বা প্রোটন) আচরণ ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সের মতো নির্দিষ্ট নয়, বরং তা 'সম্ভাব্যতা'র (Probability) ওপর নির্ভরশীল। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি (Heisenberg's Uncertainty Principle) প্রমাণ করে যে, একটি কণার অবস্থান এবং ভরবেগ একই সাথে নিখুঁতভাবে জানা অসম্ভব। এই আবিষ্কারটি নিউটোনীয় ডিটারমিনিজমের মূল ভিত্তিকেই ধসিয়ে দেয়।

কোয়ান্টাম জগতের এই অনিশ্চয়তা প্রমাণ করে যে, ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলো কখনোই কঠোর নির্ধারণবাদের অনুসারী নয়। আরবিতে একে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:


أن أصغر مكونات للمادة والذرة -وهي جسيمات عالم فيزياء الكم- لا تتبع الحتمية أبدًا في سلوكياتها وتصرفاتها وإنما تتبع الاحتمالات!

অর্থাৎ, "পদার্থ এবং পরমাণুর ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলো—যা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের কণা—তাদের আচরণ এবং কার্যাবলিতে কখনোই কঠোর নির্ধারণবাদ (Determinism) অনুসরণ করে না, বরং তারা সম্ভাব্যতা (Probability) অনুসরণ করে" [3] । এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি হয় যে, মহাবিশ্বের গভীরে এমন এক স্তরের রহস্য রয়েছে যা কেবল গাণিতিক সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

এই বৈজ্ঞানিক রূপান্তরটি ডিটারমিনিজমের সেই অহংকারকে ভেঙে দেয় যা দাবি করত যে, মানুষ যদি মহাবিশ্বের সমস্ত কণার অবস্থান জানতে পারে, তবে সে ভবিষ্যৎ নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারবে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স প্রমাণ করল যে, প্রকৃতিতে এমন এক সহজাত অনিশ্চয়তা বিদ্যমান যা কোনো মানুষের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ বা নিখুঁতভাবে গণনা করা সম্ভব নয়। এই অনিশ্চয়তা আসলে খোদায়ী সার্বভৌমত্বেরই এক বহিঃপ্রকাশ, যেখানে সৃষ্টিজগত তাঁর ইচ্ছার অধীন, কিন্তু মানুষের জ্ঞানের বাইরে [4]

তাকদীরের দর্শন এবং মহাজাগতিক অনিশ্চয়তা


ইসলামি আকীদার 'তাকদীর' বা খোদায়ী নির্ধারণের বিষয়টি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের এই অনিশ্চয়তার সাথে এক চমৎকার তাত্ত্বিক সামঞ্জস্য তৈরি করে। তাকদীর মানে এই নয় যে, মানুষ একটি পুতুলের মতো যার কোনো ইচ্ছা নেই; বরং এটি হলো আল্লাহর অসীম জ্ঞান (ইলম) এবং তাঁর সৃজনী ইচ্ছার (মশিয়ত) এক সমন্বয়। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের 'সম্ভাব্যতা'র ধারণাটি আমাদের শেখায় যে, দৃশ্যমান জগতের পেছনে এমন এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করছে, যা আমাদের সীমিত বুদ্ধির কাছে অনিশ্চিত মনে হলেও আল্লাহর কাছে তা সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট।

তাকদীরের এই দর্শনকে যখন আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে দেখা হয়, তখন বোঝা যায় যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি কণার স্পন্দন এবং প্রতিটি ঘটনার পেছনে এক খোদায়ী পরিকল্পনা বিদ্যমান। এই পরিকল্পনাটি কেবল বস্তুগত কারণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা আধ্যাত্মিক এবং খোদায়ী ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। অনেক দার্শনিক মনে করেন যে, পদার্থ এবং আত্মার মধ্যবর্তী সীমারেখা এখন ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:


والحق أن الحدود بين القوى الروحية والقوى المادية أخذت تضمحلّ وتزول، وأن ما يراه الإنسان ميسورا في عالم الروح ليس بمستوعر في عالم المادة.

অর্থাৎ, "প্রকৃতপক্ষে আধ্যাত্মিক শক্তি এবং বস্তুগত শক্তির মধ্যবর্তী সীমারেখাগুলো বিলীন হতে শুরু করেছে এবং মানুষ আত্মার জগতে যা সহজ মনে করে, তা বস্তু জগতেও অসম্ভব নয়" [5] । এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাকদীর হলো সেই মহাজাগতিক প্রোগ্রামিং, যা কোয়ান্টাম স্তরের অনিশ্চয়তাকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত করে।

তাকদীরের এই রহস্যময়তা এবং কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার মেলবন্ধন আমাদের এই শিক্ষায় পৌঁছে দেয় যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্রতম কণা আল্লাহর স্মরণে এবং তাঁর আদেশে পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে নিউটোনীয় বিজ্ঞান মনে করত কারণ (Cause) থাকলেই ফল (Effect) আসবে, সেখানে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং ইসলামি দর্শন বলে যে, কারণ এবং ফলের মাঝে আল্লাহর ইচ্ছা (Will of Allah) একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফলে, বাহ্যিক অনিশ্চয়তা আসলে খোদায়ী জ্ঞানের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ, যা মানুষের অহংকারকে চূর্ণ করে এবং তাকে স্রষ্টার সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে [6]

কার্যকারণ সম্পর্ক (Causality) এবং খোদায়ী ইলম


কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা নীতিকে কেন্দ্র করে অনেক নাস্তিক বা বস্তুবাদী দাবি করে যে, মহাবিশ্বে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নেই এবং সবকিছুই কেবল দৈব ঘটনা (Randomness)। তবে এই দাবিটি একটি চরম ভ্রান্তি। কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনিশ্চয়তার কথা বলে, কিন্তু তা 'কার্যকারণহীনতা'র কথা বলে না। বরং এটি প্রমাণ করে যে, কার্যকারণ সম্পর্কটি ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সের সরল রৈখিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং উচ্চতর।

ইসলামি দর্শনে 'সাবাবিয়্যাহ' বা কার্যকারণ সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয় না, তবে একে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন মনে করা হয়। অর্থাৎ, আগুন পোড়ানোর 'কারণ', কিন্তু আগুন পোড়াবে কি না তা নির্ভর করে আল্লাহর নির্দেশের ওপর। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সম্ভাব্যতা তত্ত্বটি এই ধারণাকেই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। যখন একটি ইলেকট্রন একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা দেখায়, তখন সেই সম্ভাবনাটি আসলে খোদায়ী ইলমেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। আরবিতে এই বিভ্রান্তির খণ্ডন করে বলা হয়েছে যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্স কখনোই কার্যকারণ সম্পর্ককে বাতিল করে না, বরং তা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে [7]

এই উচ্চতর কার্যকারণ সম্পর্কটি বুঝতে হলে আমাদের খোদায়ী ইলমের ব্যাপকতা অনুধাবন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা মহাবিশ্বের প্রতিটি কণার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবগত। মানুষের কাছে যা 'অনিশ্চয়তা' বা 'সম্ভাব্যতা', আল্লাহর কাছে তা 'নির্ধারিত' এবং 'সুস্পষ্ট'। এই বৈপরীত্যটিই হলো সৃষ্টি এবং স্রষ্টার মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য। মানুষ কেবল কার্যকারিতার বাহ্যিক রূপ দেখে, কিন্তু আল্লাহ দেখেন সেই কার্যের অন্তরালে থাকা মূল চালিকাশক্তি। ফলে, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা আসলে মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, আল্লাহর জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নয় [8]

পরমাণুর রহস্য এবং খোদায়ী সার্বভৌমত্বের বহিঃপ্রকাশ


আধুনিক বিজ্ঞান যখন পরমাণুর গভীরে প্রবেশ করল, তখন দেখা গেল যে, একটি ক্ষুদ্র পরমাণুর গঠন অনেকটা সৌরজগতের মতো। এই বিস্ময়কর সাদৃশ্য প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম এবং বৃহত্তম স্তরে একই খোদায়ী নকশা বিদ্যমান। পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রনের যে রহস্যময় গতিবিধি এবং শক্তির সঞ্চার, তা প্রমাণ করে যে, জড় পদার্থের ভেতরেও এক ধরণের প্রাণশক্তি বা খোদায়ী নির্দেশ কাজ করছে। এই শক্তির তীব্রতা এতটাই যে, একটি ক্ষুদ্র পরমাণুর বিভাজন পুরো শহর ধ্বংস করে দিতে পারে।

এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি আমাদের আধ্যাত্মিক জগতের সাথে সংযুক্ত করে। যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরমাণুর ভেতরে যে বিশাল শক্তি নিহিত, তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দৃশ্যমান ক্ষুদ্রতা আসলে প্রকৃত শক্তির অন্তরাল মাত্র [9] । এই একই যুক্তি দিয়ে আমরা রাসুল সা. এর মিরাজ বা আসমানে আরোহণের অলৌকিকতাকে বুঝতে পারি। মিরাজ ছিল পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত সব নিয়ম এবং সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এক উচ্চতর মাত্রায় প্রবেশ করা। যখন আল্লাহ তাঁর রাসুল সা. কে মিরাজের জন্য প্রস্তুত করলেন, তখন তাঁর শরীরের ভৌত ঘনত্ব এবং জাগতিক নিয়মগুলো পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, যাতে তিনি আলোর গতিবেগে বা তার চেয়েও দ্রুত ভ্রমণ করতে পারেন।

মিরাজের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, খোদায়ী ইচ্ছা যখন কার্যকর হয়, তখন পদার্থবিজ্ঞানের সব নিয়ম (যেমন নিউটোনীয় ডিটারমিনিজম বা কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা) তাঁর আদেশের সামনে নতি স্বীকার করে। রাসুল সা. এর এই যাত্রা ছিল খোদায়ী সার্বভৌমত্বের এক চূড়ান্ত প্রমাণ, যেখানে স্থান এবং কালের সীমাবদ্ধতা অর্থহীন হয়ে পড়ে [10] । সুতরাং, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা এবং মিরাজের অলৌকিকতা—উভয়ই আমাদের এই সত্যের দিকে পরিচালিত করে যে, এই মহাবিশ্ব কোনো অন্ধ যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলছে না, বরং এটি এক সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান স্রষ্টার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

""
২.৩ কোয়ান্টাম মেকানিক্স (Quantum Mechanics) এবং ডিটারমিনিজম (Determinism): মহাজাগতিক অনিশ্চয়তা এবং তাকদীরের দর্শন
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

২.৩ কোয়ান্টাম মেকানিক্স কুইজ

1 / 5

সপ্তদশ শতাব্দীতে স্যার আইজ্যাক নিউটনের আবিষ্কৃত তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কঠোর নির্ধারণবাদকে কী বলা হয়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...