৪.১.২ গোত্রীয় আনুগত্যের পরিবর্তনশীলতা (Fluidity of Tribal Loyalty) বুঝতে ভুল
প্রাক-ইসলামি আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক কাঠামো কোনো সুনির্দিষ্ট বা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রযন্ত্রের অধীনে পরিচালিত হতো না। সেখানে ক্ষমতার মূল উৎস এবং সামাজিক নিরাপত্তার একমাত্র রক্ষাকবচ ছিল গোত্রীয় ব্যবস্থা। তৎকালীন আরবের এই গোত্রীয় আনুগত্যকে অনেক সময় একটি অপরিবর্তনশীল, নিরেট এবং রক্তসম্পর্কীয় স্থবির কাঠামো হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষত মক্কার কুরাইশ নেতৃত্ব এবং পরবর্তীকালের অনেক প্রাচ্যবিদ ঐতিহাসিক আরবের এই গোত্রীয় আনুগত্যের গতিশীলতা ও পরিবর্তনশীলতাকে (Fluidity of Tribal Loyalty) সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক ভুলটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মক্কার কুরাইশদের রাজনৈতিক পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং বিপরীতে, রাসুলুল্লাহ সা.-এর কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিজয়কে সুনিশ্চিত করেছিল।
১. প্রাক-ইসলামি আরবে গোত্রীয় আনুগত্যের গতিশীলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
আরবিয় সমাজব্যবস্থায় রক্তসম্পর্ক বা বংশীয় ধারা (نسب) সামাজিক ঐক্যের মূল ভিত্তি হলেও, বাস্তব রাজনীতির রূঢ় প্রেক্ষাপটে এই আনুগত্য ছিল অত্যন্ত নমনীয়, স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং পরিবর্তনশীল। আরবের গোত্রগুলো কেবল রক্তের বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকতে পারত না; বরং মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশ এবং প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিগ্রহের কারণে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনে বাধ্য হতো। এই জোট বা চুক্তিকে বলা হতো 'হিলফ' (الحلف)। ড. জাওয়াদ আলি তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ 'আল-মুফাসসাল ফী তারিখিল আরব কাবলাল ইসলাম'-এ প্রাক-ইসলামি আরবের এই সামাজিক গতিশীলতা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, আরবের গোত্রীয় কাঠামো কোনো বন্ধ বা অনুদ্বায়ী ব্যবস্থা ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম।
ড. জাওয়াদ আলি এ প্রসঙ্গে লিখেছেন:
অনুবাদ:
"জাহেলী যুগে গোত্রগুলো কেবল রক্তের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত কোনো রুদ্ধ বা অবরুদ্ধ গোষ্ঠী ছিল না; বরং তারা তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিত্র (আহলাফ) এবং অনুগতদের (মওয়ালী) জন্য সর্বদা নিজেদের দ্বার উন্মুক্ত রাখত। অনেক সময় এই চুক্তিবদ্ধ মিত্রতা বংশীয় সম্পর্কের স্থলাভিষিক্ত হতো।" [1] কুরাইশরা মনে করেছিল যে, তাদের কুরাইশ বংশীয় আভিজাত্য এবং আরবের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে মক্কার অবস্থান তাদের মিত্র গোত্রগুলোর আনুগত্যকে চিরস্থায়ী করবে। তারা এই মনস্তাত্ত্বিক ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল যে, বনু কিনানাহ, বনু বকর বা আহাবীশ মিত্ররা যেকোনো পরিস্থিতিতে কুরাইশদের স্বার্থ রক্ষা করবে। কিন্তু তারা আরবের গোত্রীয় আনুগত্যের অন্তর্নিহিত বাস্তববাদ (Political Realism) বুঝতে ভুল করেছিল। আরবের গোত্রগুলোর কাছে আদর্শিক বা বংশীয় আবেগের চেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) রক্ষা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যখনই মদিনায় একটি বিকল্প এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্রের উত্থান ঘটে, তখনই এই গোত্রীয় আনুগত্যের ফাটলগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে।
২. 'জিওয়ার' (আশ্রয়দান প্রথা) এবং এর রাজনৈতিক পরিবর্তনশীলতা
আরবিয় কূটনীতি ও সামাজিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল 'জিওয়ার' (الجوار) বা আশ্রয়দান প্রথা ও নিরাপত্তা বিধান। কোনো ব্যক্তি বা দুর্বল গোত্র যখন কোনো শক্তিশালী গোত্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে আশ্রয় প্রার্থনা করত, তখন তাকে নিরাপত্তা প্রদান করা সেই গোত্র বা ব্যক্তির জন্য একটি অলঙ্ঘনীয় সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াত। তবে এই নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি কোনো স্থায়ী বা অপরিবর্তনশীল চুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থের পরিবর্তনের সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কুরাইশরা প্রায়শই এই 'জিওয়ার' প্রথার পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বুঝতে ভুল করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যেকোনো আশ্রয়দাতার ওপর থেকে এই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া সম্ভব। ড. জাওয়াদ আলি তাঁর গ্রন্থে এই প্রথার রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে লিখেছেন:
অনুবাদ:
"জিওয়ার বা আশ্রয়দান প্রথা ছিল একটি সাময়িক চুক্তি, যার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তি অন্য গোত্রগুলোর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করত। তবে এই প্রথাটি সর্বদা গোত্রগুলোর মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য এবং পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক স্বার্থের অধীন ছিল।" [2] রাসুলুল্লাহ সা. যখন তায়েফের কঠিন ও বেদনাদায়ক সফর শেষে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি মক্কার তৎকালীন মুশরিক নেতা মুতঈম ইবনে আদি-র নিরাপত্তা বিধানে (জিওয়ার) মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন [3] । কুরাইশরা এই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিল যে, গোত্রীয় আত্মমর্যাদা ও 'জিওয়ার' প্রদানের সম্মান অনেক সময় ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত বিদ্বেষের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মুতঈম ইবনে আদি কাফের হওয়া সত্ত্বেও তাঁর গোত্রীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ সা.-কে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করেছিলেন এবং কুরাইশরা তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে সাহস করেনি। কুরাইশদের এই ভুল ধারণা ছিল যে, তাদের সামাজিক বয়কট বা চাপ সমস্ত গোত্রীয় নিয়মকে ভেঙে দেবে; কিন্তু আরবের ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা বিধানের এই নমনীয়তা ও দৃঢ়তা তাদের সেই পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দেয়।
৩. মওয়ালী ও চুক্তিবদ্ধ মিত্রদের আনুগত্যের মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
প্রাক-ইসলামি আরবে 'মওয়ালী' (الموالي - মুক্তদাস বা চুক্তিবদ্ধ সামাজিক মিত্র) এবং 'আহলাফ' (الحلفاء - চুক্তিবদ্ধ জোট)-এর আনুগত্যের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত জটিল ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট। কুরাইশরা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্যের অহংকারে বিশ্বাস করত যে, তাদের অধীনে থাকা মওয়ালী এবং দুর্বল মিত্র গোত্রগুলো সর্বদা তাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করবে। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানী ও ঐতিহাসিকদের মতে, এই আনুগত্য ছিল মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যা পারস্পরিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুবিধার ওপর টিকে ছিল।
ড. জাওয়াদ আলি তাঁর গ্রন্থে মওয়ালীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাদের আনুগত্যের পরিবর্তনশীলতা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, মওয়ালীদের আনুগত্য কোনো চিরস্থায়ী বা প্রশ্নাতীত বিষয় ছিল না। তিনি উল্লেখ করেছেন:
অনুবাদ:
"মওয়ালীরা কেবল ইচ্ছাশক্তিহীন অনুসারী ছিল না; বরং তারা সর্বদা এমন একটি সত্তার সন্ধান করত যা তাদের সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। আর এই কারণেই তারা দ্রুত ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল।" [4] মাজাল্লাত আত-তুরাস আল-আরাবি-তে প্রকাশিত 'আতাউল মওয়ালী ফী আসরির রাশিদীন' প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মওয়ালীদের এই রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর কেবল মদিনা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পরেই ঘটেনি, বরং মক্কী যুগ থেকেই তাদের মনস্তাত্ত্বিক আনুগত্যের পরিবর্তন শুরু হয়েছিল [5] । কুরাইশরা তাদের এই মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে ভুল করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, শারীরিক নির্যাতন এবং অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে এই দুর্বল ও চুক্তিবদ্ধ মিত্রদের ধরে রাখা সম্ভব। কিন্তু ইসলামের সাম্য, ন্যায়বিচার এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব মওয়ালীদের সামনে একটি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ফলে, কুরাইশদের অভ্যন্তরীণ সামাজিক কাঠামোর মধ্যেই এক নীরব মনস্তাত্ত্বিক বিপ্লব ঘটে যায়, যা কুরাইশ নেতৃত্ব সময়মতো টের পায়নি।
কুরাইশদের এই কৌশলগত অন্ধত্বের আরেকটি বড় প্রমাণ হলো তাদের মিত্র গোত্রগুলোর ওপর তাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। তারা মনে করেছিল যে, বনু বকর বা বনু কিনানাহ সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু যখনই মদিনার ইসলামি রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং কুরাইশদের সিরিয়াগামী বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ করে দেয়, তখন এই মিত্র গোত্রগুলো তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক অস্তিত্বের স্বার্থে কুরাইশদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে [6] । কুরাইশরা এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনশীলতা বুঝতে ভুল করেছিল, যার ফলে তারা শেষ পর্যন্ত একাকী ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
৪. রাসুলুল্লাহ সা.-এর কৌশলগত দূরদর্শিতা বনাম কুরাইশদের কৌশলগত স্থবিরতা
রাসুলুল্লাহ সা.-এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতা কুরাইশদের এই কৌশলগত স্থবিরতাকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছিল। তিনি আরবের গোত্রীয় আনুগত্যের এই পরিবর্তনশীলতা (Fluidity of Tribal Loyalty) অত্যন্ত গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। তিনি জানতেন যে, কুরাইশদের সাথে বিভিন্ন গোত্রের যে জোট রয়েছে, তা কোনো আদর্শিক ভিত্তি বা অটুট বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং তা মূলত কুরাইশদের অর্থনৈতিক ও সামরিক ভীতি এবং প্রভাবের ওপর টিকে আছে। যদি এই ভীতি দূর করা যায় এবং একটি বিকল্প নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা যায়, তবে এই গোত্রগুলো সহজেই তাদের আনুগত্য পরিবর্তন করবে।
হুদায়বিয়ার সন্ধি (Treaty of Hudaybiyyah) ছিল এই কৌশলগত বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই সন্ধির একটি অন্যতম শর্ত ছিল যে, আরবের যেকোনো গোত্র চাইলে মুসলমানদের সাথে বা কুরাইশদের সাথে জোটে আবদ্ধ হতে পারবে। এই শর্তটি ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর একটি মাস্টারস্ট্রোক (Masterstroke)। এর মাধ্যমে তিনি আরবের গোত্রগুলোর ওপর থেকে কুরাইশদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ হ্রাস করেন এবং তাদের স্বাধীনভাবে নিজেদের আনুগত্য নির্ধারণের সুযোগ করে দেন।
ঐতিহাসিক তাবারী এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর আরবের গোত্রগুলোর সামনে যখন স্বাধীনভাবে জোট নির্বাচনের সুযোগ আসে, তখন বনু খুজাআহ গোত্র তাৎক্ষণিকভাবে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাথে জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়, অন্যদিকে বনু বকর গোত্র কুরাইশদের সাথে জোটে যোগ দেয় [7] । বনু খুজাআহ ঐতিহাসিকভাবে কুরাইশদের মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও, কুরাইশদের অন্যায় আচরণ এবং ইসলামের ক্রমবর্ধমান শক্তির কারণে তারা তাদের আনুগত্য পরিবর্তন করে মুসলমানদের সাথে জোটবদ্ধ হয়।
কুরাইশরা এই পরিবর্তনশীলতা ও এর গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বুঝতে সম্পূর্ণ ভুল করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, বনু খুজাআহর ওপর বনু বকরের আক্রমণকে সমর্থন করে তারা তাদের ঐতিহ্যগত আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, বনু খুজাআহ এখন আর কেবল একটি সাধারণ গোত্র নয়, বরং তারা মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের একটি আনুষ্ঠানিক মিত্র। কুরাইশদের এই কৌশলগত ভুল এবং হুদায়বিয়ার চুক্তি লঙ্ঘনই শেষ পর্যন্ত মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করে। রাসুলুল্লাহ সা. আরবের গোত্রীয় আনুগত্যের এই পরিবর্তনশীলতাকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করে কুরাইশদের সম্পূর্ণ মিত্রহীন ও অবরুদ্ধ করে ফেলেছিলেন, যা রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়ের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ছিল।