ইতিহাসের গতিপথ কেবল যুদ্ধক্ষেত্র বা রাজদরবারের রাজনৈতিক maneuvering দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত হয় সেইসব জ্ঞানতাত্ত্বিকদের অটলতা দ্বারা, যারা সত্যের সন্ধানে ক্ষমতার প্রলোভন ত্যাগ করতে সক্ষম হন। ইমাম আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে জারির তাবারী (রহ.)-এর জীবন ও কর্মপ্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা কেবল তাঁর Methodological rigor বা পদ্ধতিগত কঠোরতার ওপর নির্ভরশীল ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর এক অনন্য রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বায়ত্তশাসনের (Intellectual Autonomy) ফসল। তাবারী (রহ.) এমন এক সময়ে বিচরণ করেছেন যখন জ্ঞান ও ক্ষমতার মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য ও প্রায়শই আপসকাম সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। তৎকালীন শাসকরা প্রায়শই ইতিহাসবিদদের ব্যবহার করতেন তাদের শাসনব্যবস্থার বৈধতা প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে। কিন্তু তাবারী (রহ.) এই 'Court Historian' বা 'রাজদরবারের ইতিহাসবিদ' হওয়ার প্রলোভন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন।
তাঁর এই ইনডিপেনডেন্স বা স্বাধীনতা কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুচিন্তিত কৌশলগত অবস্থান, যা তাঁকে তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক কাঠামো নির্মাণ করতে সাহায্য করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, যদি কোনো ইতিহাসবিদ রাষ্ট্রের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা বা পদমর্যাদা গ্রহণ করেন, তবে তাঁর গবেষণার নিরপেক্ষতা এবং সত্যনিষ্ঠা (Integrity) হুমকির মুখে পড়বে। এই অধ্যায়ে আমরা তাবারী (রহ.)-এর রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি, আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব এবং স্কলারলি আইসোলেশনের মাধ্যমে কীভাবে তিনি ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তা গভীরতর বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যালোনা করব।
রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তাবারী (রহ.)-এর জীবনকালে খিলাফত ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থান-পতন ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও জটিল। এই সময়ে একজন উচ্চপদস্থ স্কলার বা আলিমের জন্য রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ করা ছিল অত্যন্ত লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ করলে কেবল আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো না, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও একটি পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ থাকত। তবে তাবারী (রহ.) এই সমস্ত প্রলোভন বর্জন করে একটি 'Political Neutrality' বা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল তৎকালীন জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বিপরীতে একটি সাহসী পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণে তাঁর এই অস্বীকৃতি মূলত একটি 'Institutional Autonomy' বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রচেষ্টা ছিল। তিনি জানতেন যে, রাজদরবারের ঘনিষ্ঠতা তাঁকে ইতিহাসের সত্য ঘটনাগুলো বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে। যদি তিনি কোনো খলিফার রাজদরবারে উচ্চপদে আসীন হতেন, তবে তাঁর রচিত 'তারিখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলুক' (Tarikh al-Rusul wal-Muluk) গ্রন্থে সাম্রাজ্যের সমালোচনা বা শাসকদের ভুলত্রুটি তুলে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাঁর এই অবস্থানটি কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতা নয়, বরং একটি উচ্চতর ঐতিহাসিক দর্শন ছিল, যেখানে সত্যের স্থান ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর জীবন ও তাঁর কাজের গভীরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি ক্ষমতার দাপটকে নয়, বরং সত্যের মহিমাকে প্রাধান্য দিয়েছেন [1] ।
তাবারী (রহ.)-এর এই রাজনৈতিক অবস্থানটি তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যখন তাদের ইতিহাসকে নিজেদের অনুকূলে রচনার চেষ্টা করছিল, তখন তাবারী (রহ.)-এর মতো একজন নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদের উপস্থিতি ছিল ইতিহাসের জন্য এক আশীর্বাদ। তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বা রাজবংশের মুখপাত্র হয়ে ওঠেননি, বরং তিনি ছিলেন ইতিহাসের একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক। তাঁর এই নিরপেক্ষতা তাঁকে পরবর্তীকালে সকল যুগের ইতিহাসবিদদের কাছে একটি আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে [2] ।
আর্থিক স্বাধীনতা ও গবেষণার স্বায়ত্তশাসন: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
যেকোনো উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে 'Financial Independence' বা আর্থিক স্বাধীনতা একটি অপরিহার্য শর্ত। যখন একজন গবেষক বা স্কলারের জীবনযাত্রার জন্য রাষ্ট্রের বা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অনুদান বা পদের ওপর নির্ভর করতে হয়, তখন তাঁর গবেষণার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসে। তাবারী (রহ.)-এর ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি তাঁর গবেষণার কাজে যে গভীরতা ও নির্ভুলতা অর্জন করেছিলেন, তার মূলে ছিল তাঁর আর্থিক স্বায়ত্তশাসন। তিনি এমন এক জীবনধারা বেছে নিয়েছিলেন যা তাঁকে কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করতে দেয়নি।
তাবারী (রহ.)-এর এই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার স্বরূপ বুঝতে গেলে আমরা ইতিহাসের অন্যান্য মহান ব্যক্তিত্বের সাথে একটি তুলনামূলক দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। যেমনটি রেনে অঁতোয়ান ড্রয়ামুর (Rene Antoine Dreyer) সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি তাঁর পেশাগত জীবনের উচ্চতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর চিকিৎসা শাস্ত্র ত্যাগ করে বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ورينيه أنطوان دريامور هذا كان علما لا يبزه في بيولوجيا العصر الذي نحن بصدده غير بوفون، وكان يفوق بوفون كثيراً في دقة الملاحظة. هيأ لمهنة الطب، ولكنه هجرها حالما تحقق له الاستقلال المالي، وكرس نفسه للبحث العلمي.
[3]
এই উদ্ধৃতিটি তাবারী (রহ.)-এর জীবন দর্শনের সাথে এক চমৎকার সমান্তরাল চিত্র তৈরি করে। তাবারী (রহ.)-ও তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সাধনা ও গবেষণার জন্য এমন এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন যেখানে তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা বা পদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না। এই 'Financial Autonomy' বা আর্থিক স্বায়ত্তশাসন তাঁকে সেই সাহস প্রদান করেছিল, যা দিয়ে তিনি ইতিহাসের অন্ধকার ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলোকেও নির্ভীকভাবে লিপিবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, গবেষণার বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য পার্থিব প্রাপ্তির মোহ ত্যাগ করা বা অন্ততপক্ষে সেগুলোকে গবেষণার পথে অন্তরায় হতে না দেওয়া অত্যন্ত জরুরি [4] ।
তাবারীর এই আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা তাঁকে একটি 'Unbiased Researcher' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যখন একজন স্কলারের পকেট বা পদ রাষ্ট্রের হাতে থাকে, তখন তাঁর কলমটিও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কিন্তু তাবারী (রহ.) তাঁর কলমকে মুক্ত রেখেছিলেন, যা তাঁকে ইতিহাসের এক অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সত্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাঁর এই স্বায়ত্তশাসনই ছিল তাঁর গবেষণার মূল চালিকাশক্তি, যা তাঁকে তৎকালীন সময়ের সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়েছিল [5] ।
স্কলারলি আইসোলেশন: সত্যনিষ্ঠার একটি কৌশলগত মাধ্যম
তাবারী (রহ.)-এর জীবন ও কর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর দিক হলো তাঁর 'Scholarly Isolation' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা। এটি কোনো সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা সমাজবিমুখতা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত অবস্থান (Strategic Positioning), যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে তৎকালীন 'Court Scholars' বা রাজদরবারের স্কলারদের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ে অনেক স্কলার রাজদরবারের সান্নিধ্য লাভের জন্য সত্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিকৃত করতেন। তাবারী (রহ.) এই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক পচন থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
এই বিচ্ছিন্নতা তাঁকে ইতিহাসের মূল উৎসগুলোর (Primary Sources) সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিল। তিনি রাজদরবারের প্রবঞ্চনামূলক বর্ণনা গ্রহণ না করে বরং হাদিস শাস্ত্র ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপির কঠোর যাচাইকরণের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই পদ্ধতিগত বিচ্ছিন্নতা বা 'Isolation' তাঁকে সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী করেছিল। এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো যে, তাবারীর এই কঠোরতা ও যাচাইকরণ পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে মূল পাঠের অস্পষ্টতা দূর করতে সক্ষম হয়েছিল।
كليل: ما في الأصل غير واضح، وما أثبتناه يؤيده الطبري ومط. [6] [7] ]
উপরোক্ত আরবি ইবারতটি নির্দেশ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে মূল ঐতিহাসিক নথিতে যা অস্পষ্ট বা অস্পষ্ট ছিল, তাবারী (রহ.)-এর কঠোর যাচাইকরণ ও বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি সেই অস্পষ্টতা দূর করতে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর এই 'Scholarly Isolation' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক দূরত্ব কেবল নিজেকে রক্ষা করার জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল ইতিহাসের সত্যতা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি যখন মূল উৎসগুলোর সাথে কাজ করতেন, তখন তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেন [8] ।
তাবারীর এই কৌশলগত বিচ্ছিন্নতা তাঁকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল যেখানে তিনি ইতিহাসের বিচারক হিসেবে কাজ করতে পারতেন, কোনো পক্ষের সমর্থক হিসেবে নয়। এই 'Intellectual Distance' বা বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্বই তাঁর গবেষণাকে একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সত্যের সন্ধানে হলে জনসমষ্টির বা তৎকালীন প্রভাবশালী স্কলারদের মতামতের চেয়ে ঐতিহাসিক প্রমাণের (Historical Evidence) গুরুত্ব অনেক বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ইতিহাসের এক অমর ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে [9] ।
ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের সমন্বয়
তাবারী (রহ.)-এর ইনডিপেনডেন্স বা স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে তাঁর রচিত ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠতায়। তাঁর ইতিহাস রচনার পদ্ধতি কেবল তথ্য সংগ্রহ ছিল না, বরং তা ছিল একটি বিশাল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সত্যের পুনর্গঠন। তিনি যখন বিভিন্ন সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন বর্ণনা করতেন, তখন তিনি কোনো নির্দিষ্ট সাম্রাজ্যের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেননি। তাঁর এই নিরপেক্ষতা তাঁকে তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক কাঠামো প্রদান করেছিল।
তাঁর এই বস্তুনিষ্ঠতা মূলত তাঁর সেই 'Independence' বা স্বাধীনতারই ফল, যা তিনি রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি জানতেন যে, ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের কাহিনী নয়, বরং এটি সত্যের একটি নিরন্তর প্রবাহ। এই সত্যকে রক্ষা করার জন্য তাঁকে যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা তাঁকে ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। তাঁর এই কাজগুলো কেবল তাঁর সময়ের জন্য নয়, বরং পরবর্তী সকল যুগের ইতিহাসবিদদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে [10] ।
পরিশেষে বলা যায়, তাবারী (রহ.)-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ক্ষমতার প্রলোভন ও আর্থিক মোহ ত্যাগ করা অপরিহার্য। তাঁর 'Scholarly Isolation' এবং 'Political Neutrality' ছিল সত্যের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর এই অটলতা ও ইনডিপেনডেন্সই তাঁকে ইতিহাসের এক মহীরুহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার ছায়ায় আজও সত্যের সন্ধানী গবেষকরা আশ্রয় খুঁজে পান [11] ।