খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

১.৩.১ বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা (Limits of Empiricism): মেটাফিজিক্যাল সত্য নির্ধারণে সায়েন্টিফিক মেথডের অক্ষমতা

মানবসভ্যতার জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাসে 'অভিজ্ঞতাবাদ' বা 'এম্পিরিসিজম' (Empiricism) এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে আধুনিক যুগে সায়েন্টিফিক মেথড বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা মানবজাতিকে বস্তুগত জগতের রহস্য উন্মোচনে অভূতপূর্ব সক্ষমতা প্রদান করেছে। তবে এই সক্ষমতার পাশাপাশি একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান, যা হলো এর 'এপিবেমেটিক' বা অধিভৌতিক (Metaphysical) সত্য নির্ধারণের অক্ষমতা। বিজ্ঞান মূলত দৃশ্যমান, পরিমাপযোগ্য এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য প্রপঞ্চের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু অস্তিত্বের যে স্তরটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে—যেমন স্রষ্টার অস্তিত্ব, আত্মার প্রকৃতি, পরকাল এবং নৈতিক মূল্যবোধ—সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এই সীমাবদ্ধতাকে অনুধাবন না করে যখন বিজ্ঞানকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন তাকে 'সায়েন্টিজম' (Scientism) বা বিজ্ঞানবাদ বলা হয়, যা একটি দার্শনিক ভ্রান্তি।

সায়েন্টিফিক মেথডের গঠনগত সীমাবদ্ধতা ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার সীমাবদ্ধতা

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো পর্যবেক্ষণ (Observation), পরীক্ষণ (Experimentation) এবং যাচাইকরণ (Verification)। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই কোনো না কোনোভাবে মানব ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞান কেবল সেই সত্যকেই স্বীকার করে যা ল্যাবরেটরিতে প্রমাণ করা যায় অথবা টেলিস্কোপ বা মাইক্রোস্কোপের মতো যন্ত্রের মাধ্যমে দৃশ্যমান করা যায়। এই পদ্ধতিটি বস্তুগত জগতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হলেও, এটি একটি 'সংকীর্ণ জানালার' (Narrow Aperture) মতো, যার বাইরে অসীম এক সত্যের জগৎ বিদ্যমান। যখন কোনো গবেষক এই সংকীর্ণ জানালার বাইরে তাকানোর চেষ্টা করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে, বিজ্ঞানের ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো সেখানে অকেজো।

এই প্রসঙ্গে আল-লুকাহ-র একটি গবেষণাপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিজ্ঞতাবাদী বিজ্ঞানের জ্ঞানের উৎস মূলত ইন্দ্রিয়জাত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে বলা হয়েছে:



ما لا يعرفه الملحد أن مصدر المعرفة في العلم التجريبي الوضعي هو العمل العقلي في مُدخلات الحس والمشاهدة والتجريب، وأساس العلم التجريبي هو البديهيات
[1]

উপরোক্ত ইবারাতটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মূলত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ইনপুট (Sensory Inputs) এবং যৌক্তিক প্রক্রিয়াকরণের একটি সমন্বয় মাত্র। অর্থাৎ, বিজ্ঞান কেবল সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় যা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত। এখন প্রশ্ন জাগে, যে সত্যগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় (Non-empirical), সেগুলোকে কি বিজ্ঞান অস্বীকার করতে পারে? দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো কিছুর 'প্রমাণের অভাব' মানেই তার 'অস্তিত্বের অভাব' নয়। বিজ্ঞান কেবল বলতে পারে যে, "আমি এটি দেখতে পাচ্ছি না", কিন্তু সে এটি বলতে পারে না যে, "এটি অস্তিত্বহীন"। এই যে প্রমাণের সীমাবদ্ধতা, এটাই বিজ্ঞানের মৌলিক দুর্বলতা।

রাজনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এই সীমাবদ্ধতা যখন উপেক্ষা করা হয়, তখন রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় 'মেটেরিয়ালাইজম' বা বস্তুবাদ প্রাধান্য পায়। যখন একটি সমাজ বিশ্বাস করে যে কেবল পরিমাপযোগ্য জিনিসই সত্য, তখন তারা নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বহীন মনে করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতা, কারণ মানুষের অন্তরাত্মা কেবল বস্তুগত উত্তরের তৃপ্ত হয় না, বরং সে জীবনের উদ্দেশ্য এবং পরম সত্যের সন্ধান করে, যা সায়েন্টিফিক মেথডের আওতার বাইরে। [2]

মেটাফিজিক্যাল সত্য এবং বিজ্ঞানের অক্ষমতার বিশ্লেষণ

মেটাফিজিক্স বা অধিবিদ্যা হলো দর্শনের সেই শাখা যা অস্তিত্বের মূল প্রকৃতি, কারণ এবং উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের কাজ হলো 'কিভাবে' (How) কাজ করে তা ব্যাখ্যা করা, কিন্তু 'কেন' (Why) কাজ করে—এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা বিজ্ঞানের নেই। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারে যে মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে কীভাবে প্রসারিত হয়েছে, কিন্তু এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল বা এর স্রষ্টা কে, তা নির্ধারণ করার কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র নেই। কারণ স্রষ্টা বা পরম সত্তা কোনো বস্তুগত উপাদান দিয়ে গঠিত নন যে তাকে কোনো যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করা যাবে।

এই অক্ষমতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যখন বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোকে ব্যবহার করে পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেখানে এক ধরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। আল-লুকাহ-র একটি প্রবন্ধে এই 'বৈজ্ঞানিক তাফসীর' (Scientific Interpretation) এর বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:



تفسير القرآن الكريم بمكتشفات العلم التجريبي أو ما اشتهر به التفسير العلمي موضوع هام شغل بال كثير من القراء والدارسين واختلفت فيه آراء العلماء والباحثين
[3] ; [4]

এখানে গবেষক ড. মুহাম্মাদ আবদুর রহমান আল-শায়িউ উল্লেখ করেছেন যে, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এর মূল কারণ হলো, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলো পরিবর্তনশীল (Dynamic), কিন্তু ওহীর সত্য অপরিবর্তনীয় (Absolute)। আজ যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বটি সত্য বলে মনে হচ্ছে, কাল তা ভুল প্রমাণিত হতে পারে। যদি আমরা মেটাফিজিক্যাল সত্যকে (কুরআনের আয়াত) পরিবর্তনশীল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাথে বেঁধে ফেলি, তবে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও পরিবর্তনশীলতা ওহীর বিশুদ্ধতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। এটি প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান সত্যের একটি পথ হতে পারে, কিন্তু তা সত্যের একমাত্র বা চূড়ান্ত মানদণ্ড হতে পারে না।

মনস্তাত্ত্বিকভাবে, যখন মানুষ কেবল অভিজ্ঞতাবাদের ওপর নির্ভর করে, তখন সে এক ধরণের 'নিহিলিজম' বা শূন্যতাবাদের দিকে ধাবিত হয়। কারণ বিজ্ঞান তাকে বলে যে সে কেবল একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি এবং মহাবিশ্বের এক ক্ষুদ্র ধূলিকণা। কিন্তু মেটাফিজিক্যাল জ্ঞান তাকে জানান দেয় যে সে আল্লাহর সৃষ্টি এবং তার জীবনের একটি মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে যে ব্যবধান, তা কেবল বিশ্বাসের (Iman) মাধ্যমে এবং যৌক্তিক চিন্তার (Reasoning) মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব, কেবল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নয়। [5]

অভিজ্ঞতাবাদ বনাম ওহী: জ্ঞানের উৎসের সংঘাত ও সমন্বয়

জ্ঞানের উৎসের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাবাদীরা মনে করেন যে, সমস্ত জ্ঞান ইন্দ্রিয় থেকে আসে। কিন্তু ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বে (Epistemology) জ্ঞানের উৎস কেবল ইন্দ্রিয় নয়, বরং তার সাথে যুক্ত রয়েছে 'আকল' (Reason) এবং 'ওহী' (Revelation)। ওহী এমন এক জ্ঞানের উৎস যা সরাসরি স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসে এবং তা এমন সব সত্য উন্মোচন করে যা মানব ইন্দ্রিয় বা সীমিত বুদ্ধির পক্ষে জানা অসম্ভব। বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই যে, সে কেবল 'সৃষ্টি'র বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু 'সৃষ্টিকর্তা'র পরিচয় দিতে পারে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ইসলাম বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে। বরং ইসলাম বিজ্ঞানের সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। মুসলিম বিজ্ঞানীরা ঐতিহাসিকভাবেই অভিজ্ঞতাবাদী পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছিলেন, তবে তারা তাকে মেটাফিজিক্সের সাথে সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। যেমন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবদান ছিল অপরিসীম। আল-লুকাহ-র একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে:



وقد أقام المسلمون المراصد الفلكية التي شملت معظمَ بلاد العالم الإسلامي من الأندلس إلى الهند، وقد عمل "ثابت بن قرة" بالمرصد الفلكي
[6]

এখানে সাবিত ইবনে কুররা রহ.-এর মতো বিজ্ঞানীদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যারা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির চরম উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন। কিন্তু তাদের এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ছিল স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধির একটি মাধ্যম। তারা বিজ্ঞানকে সত্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড মনে করেননি, বরং বিজ্ঞানকে মনে করেছেন স্রষ্টার সৃষ্টিজগতের নিদর্শন (Ayat) বোঝার একটি হাতিয়ার। অর্থাৎ, তাদের কাছে বিজ্ঞান ছিল 'উপকরণ' (Tool), আর ওহী ছিল 'চূড়ান্ত গন্তব্য' (Destination)।

আধুনিক যুগে এই সমন্বয়টি হারিয়ে যাওয়ায় মানুষ বিজ্ঞানকে ধর্মের বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। অথচ বাস্তব সত্য হলো, বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। বিজ্ঞান উত্তর দেয় "কিভাবে" (How), আর ধর্ম উত্তর দেয় "কেন" (Why)। যখন বিজ্ঞান তার সীমানা অতিক্রম করে মেটাফিজিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দিতে চায়, তখন সে ভুল পথে পরিচালিত হয়। আবার যখন ধর্ম বিজ্ঞানসম্মত বাস্তবতাকে অস্বীকার করে, তখন সে অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হয়। তাই প্রকৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক ভারসাম্য হলো বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা এবং মেটাফিজিক্যাল সত্যের জন্য ওহীর শরণাপন্ন হওয়া। [7]

সায়েন্টিজমের রাজনৈতিক প্রভাব ও সত্যের একপাক্ষিকতা

সায়েন্টিজম বা বিজ্ঞানবাদ কেবল একটি দার্শনিক বিতর্ক নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে কেবল 'এম্পিরিক্যাল ডাটা' বা অভিজ্ঞতাবাদী উপাত্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিকতাকে 'অপ্রাসঙ্গিক' বলে গণ্য করা হয়। এর ফলে জন্ম নেয় এক ধরণের 'টেকনোক্রেটিক' শাসনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চেয়ে অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় সত্যকে কেবল সংখ্যা এবং পরিসংখ্যানের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়, যা মানুষের আত্মিক চাহিদাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে।

এই একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সমাজতাত্ত্বিক সংকটের সৃষ্টি হয়। যখন সত্য নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি হয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, তখন মানুষ তার জীবনের অর্থ খুঁজে পায় না। কারণ জীবনের অর্থ কোনো রাসায়নিক সংকেত বা গাণিতিক সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং মেটাফিজিক্যাল উপলব্ধি। বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সে মানুষকে আরামদায়ক জীবন দিতে পারে, কিন্তু প্রশান্তি দিতে পারে না। সে রোগ নিরাময় করতে পারে, কিন্তু মৃত্যুর ভয় দূর করতে পারে না।

ইতিহাসের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যখনই কোনো সভ্যতা কেবল বস্তুগত উন্নতির পেছনে ছুটেছে এবং মেটাফিজিক্যাল সত্যকে অস্বীকার করেছে, তখনই সেই সভ্যতা নৈতিক পতনের সম্মুখীন হয়েছে। কেতাব-অনলাইনের একটি আলোচনায় মানব ইতিহাসের প্যাটার্ন বা ধরন নিয়ে কথা বলা হয়েছে, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি কেবল তথ্যের সংকলন নয়, বরং এর পেছনে একটি অর্থবহ নকশা বিদ্যমান।



ليس و التاريخ العالمي للبشرية، وه تاريخ العالم، بعبارتين مترادفتين. فالأول ليس بقائمة موسوعية لكل ما هو معروف عن البشرية، وإنما هو محاولة لاكتشاف نمط ذي مغزي
[8]

এই উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, মানব ইতিহাস কেবল ঘটনাবলির সমষ্টি নয়, বরং এর একটি গভীর অর্থ (Meaningful Pattern) রয়েছে। এই অর্থটি কেবল অভিজ্ঞতাবাদী তথ্যের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন একটি উচ্চতর দার্শনিক এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি। সুতরাং, বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা মানে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা নয়, বরং বিজ্ঞানকে তার সঠিক সীমানার মধ্যে রেখে সত্যের পূর্ণাঙ্গ রূপটি উপলব্ধি করা। মেটাফিজিক্যাল সত্য নির্ধারণে সায়েন্টিফিক মেথডের অক্ষমতা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, মানুষের জ্ঞানতাত্ত্বিক তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কেবল ল্যাবরেটরি যথেষ্ট নয়, বরং তার জন্য প্রয়োজন ওহীর আলো এবং সুস্থ বিবেকের সমন্বয়। [9]

""
১.৩.১ বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা (Limits of Empiricism): মেটাফিজিক্যাল সত্য নির্ধারণে সায়েন্টিফিক মেথডের অক্ষমতা
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.৩.১ বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা কুইজ

1 / 5

অভিজ্ঞতাবাদের (Empiricism) একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...