খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

১.৩ সাইন্টিজম (Scientism) বা বিজ্ঞানবাদ: 'বিজ্ঞানই চূড়ান্ত সত্য'— এই আধুনিক ডগমার (Dogma) অ্যাকাডেমিক খণ্ডন

আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে 'সাইন্টিজম' বা 'বিজ্ঞানবাদ' একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত মতবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি কেবল বিজ্ঞানের চর্চা নয়, বরং বিজ্ঞানকে জ্ঞানতাত্ত্বিক একচেটিয়া অধিকার (Epistemological Monopoly) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রয়াস। বিজ্ঞানবাদ দাবি করে যে, কেবল পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান (Empirical Science) এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য উপাত্তই সত্য নির্ধারণের একমাত্র বৈধ মাধ্যম এবং এর বাইরে যা কিছু আছে—তা সে আধ্যাত্মিকতা হোক, দর্শন হোক কিংবা ওহী (Revelation) হোক—তা অর্থহীন বা কাল্পনিক। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানকে একটি পদ্ধতি (Method) থেকে উন্নীত করে একটি ধর্ম বা ডগমাতে (Dogma) পরিণত করেছে, যেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে চূড়ান্ত সত্যের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসলামিক জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে এই বিজ্ঞানবাদ একটি গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি স্রষ্টা, সৃষ্টি এবং মানুষের অস্তিত্বের মধ্যকার সম্পর্ককে কেবল বস্তুগত উপাত্তের সীমাবদ্ধতায় সংকুচিত করতে চায়। বিজ্ঞানবাদ মূলত বিজ্ঞানের নামে একটি আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, যা মানুষকে তার আধ্যাত্মিক উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি যান্ত্রিক ও বস্তুনিষ্ঠ পৃথিবীতে বন্দি করে ফেলে। এই খণ্ডন প্রক্রিয়ায় আমাদের বুঝতে হবে যে, বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানবাদের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে। বিজ্ঞান হলো প্রকৃতির নিয়ম অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম, আর বিজ্ঞানবাদ হলো সেই মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি অন্ধ বিশ্বাস, যা দাবি করে যে বিজ্ঞানের বাইরে কোনো সত্য নেই।

১. বিজ্ঞানের আদর্শিক ব্যবহার এবং নাস্তিক্যবাদের সংমিশ্রণ

বর্তমান যুগে বিজ্ঞানবাদ কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কোয়ান্টাম ফিজিক্স বা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো জটিল বিষয়গুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানবাদীরা বিজ্ঞানের উপাত্তগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যেন তা সরাসরি নাস্তিক্যবাদের প্রমাণ দেয়, অথচ বিজ্ঞানের প্রকৃত উপাত্তগুলো কখনোই স্রষ্টার অস্তিত্বের চূড়ান্ত অস্বীকৃতি দেয় না। এটি মূলত বিজ্ঞানের তথ্যের একটি 'আদর্শিক ব্যবহার' (Ideological Appropriation), যেখানে বৈজ্ঞানিক সত্যকে বিকৃত করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা হয়।

এই বিষয়ে গবেষণাধর্মী আলোচনায় দেখা যায় যে, আধুনিক নাস্তিক্যবাদ বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকার দাবি করলেও, তারা আসলে বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কিছু অংশকে বেছে নেয় (Cherry-picking) এবং বাকি অংশকে উপেক্ষা করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা একটি কৃত্রিম সত্য নির্মাণ করে। এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:


في نقد التوظيف الإلحادي لمعطيات العلم تقوم النزعة الإلحادية اليوم على توظيف فيزياء الكم على نحو لا يخلو من غرض أيديولوجي ؛ حيث تقتطع هذه ...

[1]

উপরোক্ত ইবারতটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বর্তমান নাস্তিক্যবাদী প্রবণতা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের উপাত্তগুলোকে একটি আদর্শিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, যেখানে তারা তথ্যের খণ্ডিত অংশ গ্রহণ করে একটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এটি প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানবাদ কোনো নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান নয়, বরং এটি একটি পূর্বনির্ধারিত আদর্শিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বাস। যখন বিজ্ঞানকে সত্যের একমাত্র মাপকাঠি বানানো হয়, তখন তা আর বিজ্ঞান থাকে না, বরং তা একটি 'আধুনিক ডগমা'য় পরিণত হয়, যা মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাসের মতোই সংকীর্ণ।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে 'এপিস্টেমিক ভায়োলেন্স' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক সহিংসতা বলা যেতে পারে। এখানে বিজ্ঞানবাদীরা দাবি করেন যে, যারা বিজ্ঞানের এই নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মেনে নিচ্ছে না, তারা অনুন্নত বা অন্ধবিশ্বাসী। অথচ প্রকৃত বিজ্ঞান সবসময় প্রশ্ন করার এবং সংশোধনের সুযোগ রাখে। বিজ্ঞানবাদ এই সংশোধনের সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে বিজ্ঞানকে একটি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে, যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলনীতিরই পরিপন্থী।

২. ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের বিকৃত রূপ

মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানবাদের প্রভাব কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঔপনিবেশিক ইতিহাস। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ যখন মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করে, তখন তারা কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণই আনেনি, বরং একটি নির্দিষ্ট ধরণের 'ইউরোপীয় বিজ্ঞানবাদ' চাপিয়ে দিয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় তারা মুসলিমদের মনে এই ধারণা গেঁথে দিয়েছিল যে, বিজ্ঞান মানেই হলো ধর্মহীনতা এবং প্রগতি মানেই হলো ঐতিহ্য ও ওহীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। ফলে মুসলিম সমাজের একটি অংশ বিজ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে না পেরে একে একটি ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে, যা তাদের নিজস্ব জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করে।

ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করেছিল যাতে বিজ্ঞান এবং ঈমানের মধ্যে একটি কৃত্রিম দেয়াল তৈরি হয়। তারা বিজ্ঞানকে এমনভাবে উপস্থাপন করল যেন তা কেবল বস্তুবাদী দর্শনেরই অংশ। এই বিষয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায় নিম্নোক্তভাবে:


وخلاصة الفقرة أن الاستعمار يعد أخطر الأحداث التي وقعت بالمسلمين في العصر الحديث، وقد لعب دورًا خطيرًا في الانحراف بمسيرة العلم داخل البيئة الإِسلامية، من جهة صنع ...

[2]

এই উদ্ধৃতিটি প্রমাণ করে যে, উপনিবেশবাদ আধুনিক যুগে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল, কারণ এটি মুসলিম পরিবেশের অভ্যন্তরে বিজ্ঞানের গতিপথকে বিচ্যুত করে দিয়েছিল। বিজ্ঞানবাদ এখানে একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা এবং তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করা যে, সত্য কেবল পশ্চিমা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই সীমাবদ্ধ। এই বিচ্যুতিটি কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, বরং চিন্তা ও দর্শনের ক্ষেত্রেও চরম প্রভাব ফেলেছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজ্ঞানবাদকে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চেয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, যেহেতু তারা বিজ্ঞানে উন্নত, তাই তাদের জীবনদর্শন এবং মূল্যবোধও চূড়ান্ত সত্য। এই ভ্রান্ত ধারণাটি মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এক ধরণের হীনম্মন্যতা তৈরি করেছিল, যার ফলে অনেকে মনে করতে শুরু করেছিলেন যে, ঈমানদার হতে হলে বিজ্ঞান ত্যাগ করতে হবে অথবা বিজ্ঞানী হতে হলে ঈমান ত্যাগ করতে হবে। অথচ ইসলামের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, আল-বিরুনী, ইবনে সিনা বা আল-খাওয়ারিজমীর মতো বিজ্ঞানীরা ওহী এবং প্রমাণের মধ্যে কোনো সংঘাত অনুভব করেননি।

৩. রিডাকশনিজম (Reductionism) এবং জীবনের অর্থহীনতার দাবি

বিজ্ঞানবাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো 'রিডাকশনিজম' বা হ্রাসবাদ। এই মতবাদ অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সমস্ত জটিলতাকে কেবল ক্ষুদ্রতম কণা বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। বিজ্ঞানবাদীরা দাবি করেন যে, মানুষের চেতনা, ভালোবাসা, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিকতা কেবল মস্তিষ্কের নিউরনের বৈদ্যুতিক সংকেত বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে কেবল একটি 'জৈবিক যন্ত্র' (Biological Machine) হিসেবে গণ্য করে এবং জীবনের কোনো উচ্চতর উদ্দেশ্য বা অর্থ থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়।

এই হ্রাসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে চরম হতাশা এবং অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দেয়। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার অস্তিত্ব কেবল কিছু পরমাণুর সমষ্টি এবং মৃত্যুর পর তার কোনো অস্তিত্ব নেই, তখন তার জীবনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রে এখন দেখা যাচ্ছে যে, কেবল বস্তুগত ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের অস্তিত্বকে বোঝা সম্ভব নয়। জীবনের গুণগত পার্থক্য (Qualitative Difference) এবং চেতনার রহস্য বিজ্ঞানবাদের এই সরলীকৃত ব্যাখ্যার বাইরে।

এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায় যে, জীবনের অর্থ অস্বীকার করার প্রবণতাটি এখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বারাও চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, প্রাণীর প্রকৃতিতে কেবল মাত্র মাত্রার পার্থক্য (Difference in degree) নয়, বরং গুণগত পার্থক্য (Difference in nature) বিদ্যমান। এই বিষয়ে বলা হয়েছে:


انظر حول نقد إنكار وجود معنى مميز للحياة، وأن هذه آراء تجاوزها الطب المعاصر الذي عاد إلى تأكيد المقولة بالفارق في الطبيعة لا في الدرجة بين الكائنات الحية ...

[3]

এই বিশ্লেষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে, জীবনের অর্থ অস্বীকার করার যে প্রবণতা বিজ্ঞানবাদীদের মধ্যে ছিল, তা বর্তমানের উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানও অতিক্রম করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান এখন স্বীকার করছে যে, বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে কেবল শারীরিক গঠনের পার্থক্য নয়, বরং তাদের প্রকৃতিগত বা গুণগত পার্থক্য রয়েছে। এটি পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে, মানুষকে কেবল রাসায়নিক উপাদানের সমষ্টি হিসেবে দেখা একটি ভুল ধারণা। মানুষের মধ্যে যে 'রুহ' বা আত্মার অস্তিত্ব রয়েছে, তা বিজ্ঞানবাদের বস্তুগত মাপকাঠিতে পরিমাপ করা অসম্ভব, কিন্তু তার প্রভাব বাস্তব এবং দৃশ্যমান।

মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজ্ঞানবাদ যখন মানুষকে কেবল বস্তু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তখন তা মানুষের সৃজনশীলতা এবং নৈতিক সংবেদনশীলতাকে ধ্বংস করে। বিপরীতে, ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে গণ্য করে, যেখানে শরীর এবং আত্মার এক অপূর্ব সমন্বয় বিদ্যমান। বিজ্ঞানবাদ কেবল শরীরের কথা বলে, কিন্তু ইসলাম শরীর এবং আত্মা উভয়েরই কথা বলে, যা মানুষকে পূর্ণতা দান করে।

৪. ওহী এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমন্বিত জ্ঞানতত্ত্ব

বিজ্ঞানবাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো এটি মনে করা যে, সত্য কেবল একটি পথেই আসতে পারে। অথচ সত্যের উৎস বহুমুখী। ইসলামে জ্ঞানের দুটি প্রধান উৎস রয়েছে: ওহী (Revelation) এবং আকল (Reason/Intellect)। ওহী আমাদের সেই সত্যগুলো প্রদান করে যা মানুষের সীমিত ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা অসম্ভব (যেমন: পরকাল, ফেরেশতা, স্রষ্টার গুণাবলি), আর আকল বা বিজ্ঞান আমাদের এই দৃশ্যমান জগতের নিয়মগুলো বুঝতে সাহায্য করে। যখন এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটে, তখনই প্রকৃত জ্ঞান অর্জিত হয়।

বিজ্ঞানবাদ ওহীকে অস্বীকার করে কেবল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করতে চায়, যা আসলে অন্ধকারের দিকে যাত্রা। কারণ, বিজ্ঞান কেবল 'কিভাবে' (How) প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু 'কেন' (Why) প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞান বলতে পারে একটি ফুল কিভাবে ফোটে, কিন্তু সেই ফুলের সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য কী এবং এর স্রষ্টার উদ্দেশ্য কী, তা বিজ্ঞান বলতে পারে না। এই উত্তরগুলো কেবল ওহীর মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।

এই সমন্বিত জ্ঞানতত্ত্বের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, ওহী এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই, বরং তারা একে অপরের পরিপূরক। এই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে:


الوحي والعلم الطبيعيومــع تطور المعــارف العلمية، وما واكبها مــن تطور الدراســات التوراتية واإلنجيلية، خاصــة علــم النقد األعلى الــذي

[4]

এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বিবর্তনের সাথে সাথে ওহীর সত্যতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে চলে আসে। বিজ্ঞানবাদীরা মনে করে যে বিজ্ঞান যত উন্নত হবে, ওহীর প্রয়োজনীয়তা তত কমবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, বিজ্ঞান যত গভীরে প্রবেশ করছে, মহাবিশ্বের জটিলতা এবং নিখুঁত নকশা তত বেশি প্রকাশিত হচ্ছে, যা একজন বুদ্ধিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের দিকেই ইঙ্গিত করে। সুতরাং, বিজ্ঞানবাদ আসলে বিজ্ঞানের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করে এবং একে একটি সংকীর্ণ খাঁচায় বন্দি করে ফেলে।

ইসলামিক জ্ঞানতত্ত্ব অনুযায়ী, জ্ঞান অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো স্রষ্টাকে চেনা এবং তাঁর সৃষ্টিজগতের রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে তাঁর মহিমা উপলব্ধি করা। বিজ্ঞানবাদ এই লক্ষ্যটিকে সরিয়ে দিয়ে কেবল বস্তুগত উপযোগিতাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে বিজ্ঞানবাদীরা প্রযুক্তিতে উন্নত হলেও মানসিকভাবে রিক্ত হয়ে পড়ে। তারা মহাবিশ্বের গাণিতিক সূত্রগুলো জানে, কিন্তু সেই সূত্রের রচয়িতার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। এই বিচ্ছিন্নতাই আধুনিক যুগের মানসিক অস্থিরতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ।

এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়, বরং একটি অস্তিত্বগত লড়াই। একদিকে বিজ্ঞানবাদ মানুষকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি যান্ত্রিক অস্তিত্বে পরিণত করতে চায়, অন্যদিকে ইসলাম বিজ্ঞানকে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করে, যেখানে প্রতিটি আবিষ্কার স্রষ্টার কুদরতের সাক্ষ্য দেয়। সুতরাং, বিজ্ঞানবাদকে খণ্ডন করার অর্থ হলো বিজ্ঞানকে তার প্রকৃত মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা এবং একে ওহীর আলোর সাথে সংযুক্ত করা, যাতে মানুষ বস্তু এবং আত্মা—উভয় জগতের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রকৃত সত্যের সন্ধান পায়।

""
১.৩ সাইন্টিজম (Scientism) বা বিজ্ঞানবাদ: 'বিজ্ঞানই চূড়ান্ত সত্য'— এই আধুনিক ডগমার (Dogma) অ্যাকাডেমিক খণ্ডন
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.৩ সাইন্টিজম (Scientism) কুইজ

1 / 5

সাইন্টিজম বা বিজ্ঞানবাদ বিজ্ঞানকে কী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...