খণ্ড 38
ফন্ট:100%
থিম:

১.২ রাজী ও বির মাউনার ঘটনার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও গোত্রীয় রাজনীতি

১.২ রাজী ও বির মাউনার ঘটনার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও গোত্রীয় রাজনীতি

উহুদ-উত্তর ভূ-রাজনীতি এবং মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকট

৪ হিজরির সূচনাপর্বটি ছিল মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য এক অত্যন্ত জটিল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়কাল। ৩ হিজরির শাওয়াল মাসে সংঘটিত উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর আংশিক বিপর্যয় সমগ্র আরব উপদ্বীপে মদিনা রাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence Power) সম্পর্কে এক নেতিবাচক বার্তা প্রেরণ করেছিল। উহুদ যুদ্ধের পূর্বে বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিজয়ের ফলে মদিনা যে একচ্ছত্র আঞ্চলিক আধিপত্য ও ভীতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, উহুদের অমীমাংসিত ও ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ ফলাফল তা বহুলাংশে হ্রাস করে। আরবের যাযাবর ও সুযোগসন্ধানী বেদুইন গোত্রগুলো, যারা এতদিন মদিনার উদীয়মান শক্তিকে সমীহ করে আসছিল, তারা উহুদ-উত্তর পরিস্থিতিতে মদিনাকে দুর্বল ও অরক্ষিত মনে করতে শুরু করে। এই ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে মদিনার চারপাশের শত্রুভাবাপন্ন গোত্রগুলো পুনরায় সংগঠিত হতে থাকে এবং মদিনা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে [1]

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, উহুদ যুদ্ধের পর কুরাইশরা মদিনাকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে না পারলেও আরবের অন্যান্য গোত্রগুলোর নিকট এই বার্তা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল যে, মদিনার সামরিক শক্তি অপরাজেয় নয়। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার ফলে নজদ, তিহামা এবং হেজাজের সীমান্তবর্তী গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে। তারা মদিনার বিরুদ্ধে কুরাইশদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে অথবা নিজস্ব উদ্যোগে মদিনার ওপর আক্রমণ চালিয়ে লুণ্ঠন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকে। মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রকে তখন একই সাথে অভ্যন্তরীণ ইহুদি চক্রান্ত, মদিনার মুনাফিকদের অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং বহির্গত বেদুইন গোত্রগুলোর আগ্রাসী মনোভাবের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এই বহুমুখী নিরাপত্তা সংকট মদিনার পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে এক চরম পরীক্ষার সম্মুখীন করে [2]

রাসুলুল্লাহ সা. এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি জানতেন যে, এই মুহূর্তে যদি মদিনার সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়, তবে পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলো মদিনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাই তিনি বিভিন্ন গোত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রিম প্রতিরক্ষামূলক অভিযান (Preemptive Strike) পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রাজী ও বির মাউনার মতো দুটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক ঘটনার পটভূমি রচিত হচ্ছিল, যা মূলত মদিনার কূটনৈতিক সরলতা এবং আরব গোত্রগুলোর চরম রাজনৈতিক সুবিধাবাদের এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ ছিল [3]

ঐতিহাসিক কালপঞ্জি অনুসারে, রাজী ও বির মাউনার ঘটনা দুটি হিজরি চতুর্থ বর্ষের সফর মাসে প্রায় কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। ইমাম ইবনে ইসহাক এবং অন্যান্য সীরাতকারদের বিবরণী থেকে জানা যায় যে, এই দুটি ঘটনা মদিনার মুসলিম সমাজের ওপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক আঘাত হেনেছিল। ইবনে ইসহাক রাজীর ঘটনাকে ৩ হিজরির শেষের দিকে এবং বির মাউনাকে ৪ হিজরির শুরুতে উল্লেখ করলেও অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক উভয় ঘটনাকেই ৪ হিজরির সফর মাসের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মূল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

«وقصة العضل والقارة كانت في غزوة الرجيع لا في سرية بئر معونة وقد فصل بينهما ابن إسحاق فذكر غزوة الرجيع في أواخر سنة ثلاث ، وبئر معونة في أوائل سنة أربع» [4] । এই কালানুক্রমিক বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, উহুদ যুদ্ধের পর মদিনা রাষ্ট্রকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার যে সুসংগঠিত চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, এই দুটি ঘটনা ছিল তারই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ধারাবাহিকতা।

বনু লিহয়ান ও পার্শ্ববর্তী গোত্রসমূহের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজী ও বির মাউনার ঘটনার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল বনু লিহয়ান গোত্রের প্রতিশোধস্পৃহা এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের কুটিল চক্রান্ত। বনু লিহয়ান ছিল বনু হুযাইল গোত্রের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও যুদ্ধবাজ শাখা। উহুদ যুদ্ধের পর বনু লিহয়ানের নেতা সুফিয়ান বিন খালিদ আল-হুযালী মদিনা আক্রমণ করার জন্য এক বিশাল বাহিনী গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে এই খবর জানতে পেরে আবদুল্লাহ বিন উনাইস রা. নামক একজন সাহাবিকে এক গোপন অভিযানে প্রেরণ করেন। আবদুল্লাহ বিন উনাইস রা. অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বনু লিহয়ানের শিবিরে প্রবেশ করে সুফিয়ান বিন খালিদকে হত্যা করেন এবং তার মস্তক মদিনায় নিয়ে আসেন। এই সফল অগ্রিম অভিযান বনু লিহয়ানের মদিনা আক্রমণের পরিকল্পনাকে সাময়িকভাবে নস্যাৎ করে দিলেও তাদের মধ্যে এক তীব্র ও ভয়াবহ প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয় [5]

আরবিয় গোত্রীয় সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল 'থার' (Thar) বা রক্তের বদলা নেওয়া। বনু লিহয়ান তাদের নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু সরাসরি মদিনা আক্রমণ করার মতো সামরিক সামর্থ্য তখন তাদের ছিল না। তাই তারা সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নেয়। তারা 'আদাল' (Adal) এবং 'আল-কারাহ' (Al-Qarah) নামক দুটি মিত্র গোত্রের সাথে এক গোপন রাজনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করে। এই দুই গোত্র ছিল মূলত আরবের বিখ্যাত তীরন্দাজ দল এবং তারা বনু হুযাইলের সাথে মৈত্রী সূত্রে আবদ্ধ ছিল। বনু লিহয়ান এই দুই গোত্রকে বিপুল পরিমাণ উপঢৌকন ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মদিনায় এক কূটনৈতিক মিশন প্রেরণের জন্য রাজি করায়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মদিনা থেকে বিশিষ্ট সাহাবিদের ফুসলিয়ে এনে বনু লিহয়ানের হাতে তুলে দেওয়া [6]

এই ষড়যন্ত্রের রাজনৈতিক সমীকরণটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম। 'আদাল' ও 'আল-কারাহ' গোত্রের প্রতিনিধিরা মদিনায় এসে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে এবং দাবি করে যে, তাদের গোত্রের সাধারণ মানুষ ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তারা রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট আবেদন জানায় যেন তাদের সাথে কিছু যোগ্য শিক্ষক ও কুরআন প্রচারক পাঠানো হয়, যারা তাদের গোত্রকে দ্বীন শিক্ষা দেবে। বাহ্যিকভাবে এটি একটি সাধারণ ধর্মীয় ও কূটনৈতিক আবেদন মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে ছিল বনু লিহয়ানের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। মদিনার ইসলামি রাষ্ট্র তখন আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব ছিল, ফলে রাসুলুল্লাহ সা. এই কূটনৈতিক আবেদনের পেছনে লুকিয়ে থাকা গভীর চক্রান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে আঁচ করতে পারেননি এবং তিনি ১০ জন বিশিষ্ট সাহাবির একটি প্রতিনিধি দল তাদের সাথে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেন [7]

এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আরবের গোত্রীয় রাজনীতিতে কোনো স্থায়ী আদর্শ বা নৈতিকতা ছিল না। বনু লিহয়ান তাদের গোত্রীয় সম্মান পুনরুদ্ধার এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে যেকোনো স্তরের বিশ্বাসঘাতকতা করতে প্রস্তুত ছিল। অন্যদিকে, 'আদাল' ও 'আল-কারাহ' গোত্র দুটি সামান্য পার্থিব স্বার্থ ও গোত্রীয় বন্ধুত্বের খাতিরে চরম কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নেয়। তারা আরবের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী 'আমান' (নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি) এর পবিত্রতাকে ভূলুণ্ঠিত করে মদিনার সরল বিশ্বাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যা তৎকালীন আরবের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রমাণ করে [8]

কূটনৈতিক কূটকৌশল ও 'জিওয়ার' (নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি) এর রাজনৈতিক গুরুত্ব

আরবের প্রাক-ইসলামি ও প্রারম্ভিক ইসলামি যুগে 'জিওয়ার' (Jiwar) বা গোত্রীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ছিল আন্তর্জাতিক আইনের মতো এক অত্যন্ত শক্তিশালী কূটনৈতিক রক্ষাকবচ। কোনো গোত্রের প্রধান বা প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বহিরাগতকে 'জিওয়ার' বা আশ্রয় প্রদান করতেন, তবে সমগ্র আরব উপদ্বীপে তাকে স্পর্শ করা যেকোনো গোত্রের জন্য চরম অবমাননাকর এবং যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে গণ্য হতো। বির মাউনার ঘটনার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটে এই 'জিওয়ার' প্রথাটি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছিল। নজদের বনু আমির গোত্রের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আবু বারা আমির বিন মালিক, যিনি আরবে তাঁর বীরত্বের কারণে 'মুলাইবুল আসিননাহ' (বল্লম নিয়ে ক্রীড়াকারী) নামে পরিচিত ছিলেন, মদিনায় আগমন করেন [9]

আবু বারা মদিনায় এসে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তিনি তা গ্রহণ করেননি, তবে ইসলামের প্রতি তীব্র কোনো বিদ্বেষও প্রকাশ করেননি। বরং তিনি এক অত্যন্ত চতুর কূটনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন যে, নজদ অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলামের দাওয়াত শোনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. যদি তাঁর কিছু যোগ্য সাহাবিকে নজদে প্রেরণ করেন, তবে সেখানে ইসলামের এক বিশাল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তি তৈরি হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সা. নজদের বৈরী পরিবেশ এবং কুরাইশদের সাথে তাদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা চিন্তা করে প্রথমে এই প্রস্তাবে দ্বিধান্বিত ছিলেন। তিনি আবু বারার নিকট তাঁর সাহাবিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমি নজদবাসীদের ব্যাপারে আমার সাহাবিদের নিরাপত্তার আশঙ্কা করছি।" তখন আবু বারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "আমি তাদের নিরাপত্তার জামিনদার (জিওয়ার প্রদানকারী) হলাম" [10] । মূল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

«غزوة بئر معونة هي واحدة من الغزوات المهمة في تاريخ الإسلام، حيث أرسل النبي محمد -صلى الله عليه وسلم- سبعين من الأنصار، المعروفين بالقراء، إلى قبائل بني سليم» [11] । এই কূটনৈতিক নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করেই রাসুলুল্লাহ সা. ৭০ জন বিশিষ্ট আনসার সাহাবিকে, যারা 'কুররা' (কুরআনের হাফেজ ও আলেম) নামে পরিচিত ছিলেন, নজদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে মদিনা রাষ্ট্রের একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক কৌশলও নিহিত ছিল। নজদ অঞ্চলটি ছিল কুরাইশদের সিরিয়া ও ইরাকগামী বাণিজ্য কাফেলার অন্যতম বিকল্প রুট। উহুদ যুদ্ধের পর কুরাইশরা যখন মদিনার উপকূলীয় রুট এড়িয়ে নজদের ভেতর দিয়ে বাণিজ্য পরিচালনা করার চেষ্টা করছিল, তখন নজদ অঞ্চলে ইসলামি প্রভাব বিস্তার করা মদিনার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া, বনু আমির গোত্রের মতো একটি শক্তিশালী গোত্রের প্রধানের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি (Jiwar) হেজাজ ও নজদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে মুসলিমদের কূটনৈতিক অবস্থানকে অত্যন্ত শক্তিশালী করত। কিন্তু এই কূটনৈতিক সমীকরণে একটি বড় ফাঁক ছিল, যা রাসুলুল্লাহ সা. এবং আবু বারা উভয়ের হিসাবের বাইরে ছিল। তা হলো বনু আমির গোত্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল এবং আবু বারার ভ্রাতুষ্পুত্র আমির বিন তুফাইলের চরম মদিনা-বিদ্বেষী ও উচ্চাভিলাষী মনোভাব [12]

আমির বিন তুফাইল ছিলেন বনু আমির গোত্রের তরুণ ও উগ্রপন্থী অংশের নেতা, যিনি আবু বারার ঐতিহ্যগত নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে চাচ্ছিলেন। তিনি মদিনার সাথে কোনো প্রকার কূটনৈতিক সমঝোতা বা ইসলামের বিস্তারকে সহ্য করতে প্রস্তুত ছিলেন না। আবু বারা যখন মুসলিমদের 'জিওয়ার' বা নিরাপত্তা প্রদান করেন, তখন আমির বিন তুফাইল এটিকে তাঁর নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর আঘাত হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি আবু বারার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে অমান্য করে মদিনার এই কূটনৈতিক মিশনকে ধ্বংস করার জন্য বনু সুলাইম গোত্রের উসাইয়াহ, রি'ল এবং জাকওয়ান নামক শাখা গোত্রগুলোকে উস্কে দিতে শুরু করেন। এইভাবে, আরবের ঐতিহ্যবাহী 'জিওয়ার' প্রথাটি গোত্রীয় ক্ষমতার লড়াই এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের বলী হয়ে ওঠে, যা মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রকে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয় [13]

""
১.২ রাজী ও বির মাউনার ঘটনার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও গোত্রীয় রাজনীতি
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.২ রাজী ও বির মাউনার ঘটনার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও গোত্রীয় রাজনীতি কুইজ

1 / 5

রাজী ও বির মাউনার ঘটনার আগে মদিনার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...