খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

৬.৪ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইন জার্নালিজম: হোয়াইট সুপ্রিমেসি (White Supremacy) বনাম ইসলামিক টেরোরিজমের কভারেজ ডিসপ্যারিটি

আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় তথ্যের প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' বা দ্বিমুখী মানদণ্ড (ازدواجية المعايير) একটি প্রকট বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অপরাধীর জাতিগত পরিচয় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সংবাদের শিরোনাম, শব্দচয়ন এবং বিশ্লেষণের ধরন আমূল পরিবর্তিত হয়। এই বৈষম্যের সবচেয়ে চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন 'হোয়াইট সুপ্রিমেসি' (White Supremacy) বা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সহিংসতাকে ব্যক্তিগত মানসিক অসুস্থতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়, আর বিপরীতে মুসলিমদের দ্বারা সংঘটিত কোনো সহিংসতাকে সরাসরি 'ইসলামিক টেরোরিজম' বা ধর্মীয় উগ্রবাদের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিগত বৈষম্য কেবল তথ্যের বিকৃতি নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যার লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর প্রতি একটি নেতিবাচক এবং ভীতিকর ইমেজ তৈরি করা।

নৈতিক দ্বৈততা ও সাংবাদিকতার আদর্শিক সংকট

সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি হলো বস্তুনিষ্ঠতা এবং নিরপেক্ষতা। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নৈতিক দ্বৈততা (ازدواجية سلوكية) এবং চারিত্রিক বৈপরীত্যের শিকার। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই ধরণের দ্বিমুখী আচরণের কঠোর নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ

অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা যা বলো না তা কেন করো না?" [1] । এই ঐশী সতর্কবাণীটি বর্তমান গণমাধ্যমের নৈতিক সংকটের সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো একদিকে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সাম্যের কথা বলে, কিন্তু যখন হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা বা সহিংসতা ঘটে, তখন তারা সেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়। এই বৈপরীত্য কেবল পেশাদারিত্বের অভাব নয়, বরং এটি একটি গভীর আদর্শিক সংকটের প্রতিফলন, যেখানে নির্দিষ্ট একটি জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা গণমাধ্যমের অবচেতন মনে গেঁথে আছে [2]

এই নৈতিক দ্বৈততা যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন তা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অপরাধকে 'মানসিক বিপর্যয়' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং অন্য গোষ্ঠীর অপরাধকে 'ধর্মীয় আদর্শের বহিঃপ্রকাশ' হিসেবে দেখানো হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের পক্ষপাতমূলক ধারণা তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত একটি সামাজিক প্রকৌশল (Social Engineering), যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা এবং ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিমদের প্রতি এক ধরণের কাঠামোগত বৈষম্য তৈরি হয়, যা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় [3]

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দ্বিমুখী মানদণ্ড কেবল সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নয়, বরং সংবাদের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা তাদের শৈশব, পারিবারিক পটভূমি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গভীরে প্রবেশ করে অপরাধের কারণ খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুসলিম সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে তারা সরাসরি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, কুরআন বা হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা এবং উগ্রবাদী আদর্শের দিকে আঙুল তোলেন। এই পদ্ধতিগত বৈষম্য প্রমাণ করে যে, তথ্যের নিরপেক্ষতার দাবিটি কেবল একটি মুখোশ মাত্র, যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আধিপত্যবাদী এজেন্ডা।

হোয়াইট সুপ্রিমেসি বনাম ইসলামিক টেরোরিজম: শব্দচয়নের রাজনীতি

গণমাধ্যমে শব্দচয়ন বা 'Nomenclature' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নির্দিষ্ট শব্দ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে জনমত গড়ে ওঠে। হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতাকে প্রায়শই 'Mass Shooting' বা 'Hate Crime' হিসেবে অভিহিত করা হয়, কিন্তু সেখানে 'Terrorism' শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অন্যদিকে, একজন মুসলিমের দ্বারা সংঘটিত ক্ষুদ্রতম সহিংসতাকেও তাৎক্ষণিকভাবে 'Islamic Terrorism' হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়। এই শব্দচয়নের বৈষম্য মূলত একটি 'ডিস্টর্টেড ইমেজ' বা বিকৃত চিত্র (صورة مشوهة) তৈরি করার প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে মুসলিমদের প্রতি বিশ্বব্যাপী ঘৃণা ছড়ায় [4]

এই বৈষম্যমূলক কভারেজ ডিসপ্যারিটি বা কভারেজ ব্যবধানের ফলে একটি বিপজ্জনক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি হয়। যখন হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের অপরাধকে 'ব্যক্তিগত উন্মাদনা' হিসেবে দেখানো হয়, তখন তা ওই পুরো জাতি বা আদর্শকে দায়মুক্ত করে দেয়। কিন্তু যখন মুসলিমদের অপরাধকে 'ধর্মীয় অনুপ্রেরণা' হিসেবে দেখানো হয়, তখন তা পুরো ইসলাম ধর্ম এবং কোটি কোটি অনুসারীকে অপরাধীর কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়। এটি মূলত একটি সমষ্টিগত অপরাধবোধ (Collective Guilt) চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল, যা আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রান্তিক করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এই ধরণের বিকৃত উপস্থাপনা কেবল সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করে না, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর এবং বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি করা বিভিন্ন নজরদারি আইন বা ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এই ধরণের মিডিয়া ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। যখন মিডিয়া ক্রমাগত এই বার্তা দেয় যে ইসলাম এবং সন্ত্রাসবাদ অবিচ্ছেদ্য, তখন সাধারণ মানুষ এবং নীতিনির্ধারকরা সেই মিথ্যা ধারণাকেই সত্য বলে গ্রহণ করে। এটি মূলত তথ্যের একটি পরিকল্পিত কারসাজি, যেখানে সত্যকে আড়াল করে একটি কৃত্রিম বাস্তবতাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় [5]

ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বৈষম্য

গণমাধ্যমের এই দ্বিমুখী মানদণ্ড কেবল জাতিগত বিদ্বেষের ফল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করে। সুদান এবং অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই বৈষম্য স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আরব বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, তারা নির্দিষ্ট কিছু সংকটের প্রতি চরম সংবেদনশীল, আবার কিছু সংকটের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেখানেও দ্বিমুখী মানদণ্ড (ازدواجية المعايير) প্রয়োগ করছে, যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়কে আড়াল করা হয় [6]

এই ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ যখন সাংবাদিকতার সাথে মিশে যায়, তখন সংবাদ আর সত্যের বাহক থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে প্রোপাগান্ডা। পশ্চিমা শক্তিগুলো যখন তাদের মিত্র দেশগুলোর অপরাধ ঢাকতে চায়, তখন তারা মিডিয়াকে নির্দেশ দেয় যেন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু যখন তাদের শত্রুপক্ষ বা মুসলিম দেশগুলোর কোনো ভুল সামনে আসে, তখন তা বিশ্বজুড়ে প্রচার করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি মূলত 'সিলেক্টিভ আউটরেজ' (Selective Outrage) বা বাছাইকৃত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে কেবল নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করা হয় এবং বাকি সব উপেক্ষা করা হয়।

এই বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ সংহতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে উসকে দেয় এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তা ওই দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। এটি একটি আধুনিক রূপের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতি, যেখানে মিডিয়া হলো প্রধান অস্ত্র। ফলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয় এবং তারা তাদের প্রকৃত শত্রুর পরিবর্তে নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য হলো মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বহীনতা এবং দুর্বলতাকে স্থায়ী করা [7]

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও তথ্যের একপাক্ষিকতা

গণমাধ্যমের এই বৈষম্য কেবল সম্পাদকীয় নীতির কারণে নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ফলে ঘটে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নেপোলিয়নের শাসনামলে ফ্রান্সের সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে মনে করা হতো যে, জনসাধারণের কাছে কেবল সেই তথ্যই পৌঁছানো উচিত যা সরকারের অনুকূলে থাকে। নেপোলিয়নের সময়ে বলা হতো, "যাদের সরকার বিশ্বাস করে না, তাদের প্রকাশনার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়" [8] । এই ধরণের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আধুনিক যুগেও ভিন্ন রূপে বিদ্যমান।

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো প্রকাশ্যে সেন্সরশিপের কথা না বললেও, তারা 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি' বা জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টরা কোনো হামলা চালায়, তখন অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতাকে আড়াল করতে মিডিয়াকে প্রভাবিত করা হয়। অন্যদিকে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালানোর সময় তথ্যের একপাক্ষিকতা বজায় রাখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ মনে করে যে এই অভিযানটি ন্যায়সঙ্গত। মাদাম ডি স্টেলের মতো সাহসী ব্যক্তিত্বরা যখন এই ধরণের একপাক্ষিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তখন তাদের নির্বাসিত হতে হয়েছিল [9] । এটি প্রমাণ করে যে, তথ্যের স্বাধীনতা এবং সত্যের প্রকাশ সবসময়ই ক্ষমতার সাথে সংঘাতের মুখে পড়ে।

বর্তমান যুগে এই নিয়ন্ত্রণ আরও সূক্ষ্ম হয়ে এসেছে। অ্যালগরিদম এবং সোশ্যাল মিডিয়া মডারেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা ধারণাকে 'হেইট স্পিচ' হিসেবে চিহ্নিত করে মুছে ফেলা হয়। মজার বিষয় হলো, হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের উগ্র বক্তব্য অনেক সময় 'বাকস্বাধীনতা' (Freedom of Speech) হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু মুসলিমদের অধিকার আদায়ের কথা বা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করলে তাকে 'উগ্রবাদ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ তথ্যের একপাক্ষিকতাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সত্যের পথকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে [10]

তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে মুহাদ্দিসীনদের পদ্ধতি ও আধুনিক সাংবাদিকতা

গণমাধ্যমের এই চরম বৈষম্য এবং তথ্যের বিকৃতির বিপরীতে একটি বিজ্ঞানসম্মত এবং নৈতিক পদ্ধতির প্রয়োজন। এখানে আমরা ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের বিশেষ করে মুহাদ্দিসীনদের (Hadith Critics) তথ্য যাচাইকরণ পদ্ধতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি। মুহাদ্দিসীনরা কোনো সংবাদ বা বর্ণনা গ্রহণ করার আগে তার সূত্র (Isnad) এবং মূল পাঠ (Matn) অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করতেন। তাদের প্রধান পদ্ধতি ছিল 'মুকারানাহ' বা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (المقارنة)। ইমাম মুসলিম রহ. উল্লেখ করেছেন যে, বিভিন্ন বর্ণনাকে একত্রিত করে এবং একে অপরের সাথে মিলিয়ে দেখলেই সঠিক এবং ভুল তথ্যের পার্থক্য বোঝা যায় [11]

আধুনিক সাংবাদিকতা যদি মুহাদ্দিসীনদের এই 'তাদিক' বা যাচাইকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করত, তবে তথ্যের এই চরম বৈষম্য দূর করা সম্ভব হতো। মুহাদ্দিসীনরা কেবল তথ্যের বাহকের সততা নয়, বরং তার স্মৃতিশক্তি এবং সংবাদের যৌক্তিকতাও পরীক্ষা করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেছিলেন, "যদি তুমি চাও যে কোনো হাদিস সঠিক হোক, তবে একটির সাথে অন্যটির তুলনা করো" [12] । বর্তমান গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও যদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং স্বাধীন উৎসের সংবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হতো, তবে হোয়াইট সুপ্রিমেসি এবং ইসলামিক টেরোরিজমের কভারেজের মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধানটি সবার সামনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত।

ইসলামিক মিডিয়া বা ইসলামি গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল তথ্যের প্রচার নয়, বরং তথ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা। ইসলামি গণমাধ্যমকে কেবল ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমানায় সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করতে হবে, যা সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে [13] । যখন আমরা মুহাদ্দিসীনদের এই কঠোর সমালোচনামূলক পদ্ধতি (Critical Methodology) সাংবাদিকতায় প্রয়োগ করব, তখনই আমরা মিডিয়ার তৈরি করা 'ডিস্টর্টেড ইমেজ' বা বিকৃত চিত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তথ্যের এই যুদ্ধ জয় করতে হলে কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং প্রামাণিক দলিল এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

""
৬.৪ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইন জার্নালিজম: হোয়াইট সুপ্রিমেসি (White Supremacy) বনাম ইসলামিক টেরোরিজমের কভারেজ ডিসপ্যারিটি
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৬.৪ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইন জার্নালিজম: হোয়াইট সুপ্রিমেসি (White Supremacy) বনাম ইসলামিক টেরোরিজমের কভারেজ ডিসপ্যারিটি কুইজ

1 / 5

পশ্চিমা গণমাধ্যমে 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' বলতে মূলত কোন বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...