খণ্ড 88
ফন্ট:100%
থিম:

১.২ প্রেজেন্টিজম (Presentism) বা বর্তমানবাদ: অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করার ঐতিহাসিক ফ্যালাসি (Historical Fallacy)

ইতিহাসচর্চার জগতে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম অথচ মারাত্মক বিভ্রান্তি হলো 'প্রেজেন্টিজম' বা 'বর্তমানবাদ'। যখন কোনো গবেষক বা ইতিহাসবিদের মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো বর্তমান যুগের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, রাজনৈতিক আদর্শ এবং সামাজিক রীতিনীতি দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত থাকে, তখন তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতীতকে সেই বর্তমানের চশমা দিয়ে বিচার করতে শুরু করেন। সীরাত বা নবিজির (সা.) জীবনাবলি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই প্রেজেন্টিজম একটি মারাত্মক 'ঐতিহাসিক ফ্যালাসি' (Historical Fallacy) হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি কেবল একটি পদ্ধতিগত ভুল নয়, বরং এটি ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে বিকৃত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যখন সপ্তম শতাব্দীর আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটকে একবিংশ শতাব্দীর উদারনীতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা বা আধুনিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে পরিমাপ করার চেষ্টা করা হয়, তখন ইতিহাসের প্রকৃত নির্যাসটি হারিয়ে যায় এবং একটি কৃত্রিম ও বিকৃত চিত্র ফুটে ওঠে।

প্রেজেন্টিজম মূলত একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিচ্যুতি (Epistemological Deviation)। এর ফলে গবেষক অতীতের ঘটনাপ্রবাহকে বর্তমানের 'নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব' বা 'বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা' দিয়ে বিচার করতে গিয়ে অতীতের মানুষের সীমাবদ্ধতা, তাদের তৎকালীন বাধ্যবাধকতা এবং তাদের সামাজিক কাঠামোর জটিলতাকে উপেক্ষা করেন। সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ নবিজির (সা.) প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ এবং প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল ছিল তৎকালীন আরবের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামাজিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটকে বাদ দিয়ে বর্তমানের মানদণ্ড প্রয়োগ করা মানে হলো ইতিহাসের একটি কাল্পনিক সংস্করণ তৈরি করা, যা প্রকৃত সত্যের পরিপন্থী।

প্রেজেন্টিজমের তাত্ত্বিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক বিচ্যুতি

তাত্ত্বিকভাবে, প্রেজেন্টিজম হলো একটি 'অ্যানাক্রোনিস্টিক' প্রবণতা, যেখানে বর্তমানের জ্ঞান ও মূল্যবোধকে অতীতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদদের প্রধান কাজ হলো 'Contextualization' বা প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা। কিন্তু প্রেজেন্টিজম এই প্রেক্ষাপট নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। যখন আমরা সপ্তম শতাব্দীর মদিনার সমাজব্যবস্থাকে দেখি, তখন আমাদের বুঝতে হবে যে সেই সময়ের 'Collective Security' বা 'সামষ্টিক নিরাপত্তা'র ধারণাটি আজকের আধুনিক রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আজকের রাষ্ট্রীয় ধারণাটি মূলত 'Westphalian Sovereignty'-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা সপ্তম শতাব্দীতে অস্তিত্বহীন ছিল।

প্রেজেন্টিজম গবেষককে একটি 'Moral Superiority Complex' বা 'নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ববোধের' দিকে ঠেলে দেয়। গবেষক মনে করেন, আজকের যুগের নৈতিক মানদণ্ডই হলো চূড়ান্ত এবং অতীতকে অবশ্যই সেই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। এই মানসিকতা থেকে জন্ম নেয় এমন সব প্রশ্ন, যা মূলত ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অর্থহীন। উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর আলোকে তৎকালীন মদিনার শাসনব্যবস্থাকে বিচার করা একটি বড় ধরনের তাত্ত্বিক বিচ্যুতি। তৎকালীন শাসনব্যবস্থা ছিল মূলত একটি 'Covenant-based Society' বা চুক্তিভিত্তিক সমাজ, যা আধুনিক 'Nation-state' বা জাতিরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নতর এবং নিজস্ব যুক্তিতে সুসংগত ছিল।

এই বিচ্যুতিটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি ভাষাতাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগতও বটে। অনেক সময় গবেষকরা প্রাচীন আরবি শব্দ বা ইবারত (Ibarat) এর অর্থ বর্তমানের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। অথচ প্রাচীন আরবি শব্দের অর্থ এবং তার প্রয়োগ তৎকালীন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, কোনো একটি নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সামান্যতম ভাষাগত বা ব্যাকরণগত ভুলও পুরো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বদলে দিতে পারে। যেমনটি দেখা যায়

وَقِيلَ: الْأَرْبِعَاءُ
—এখানে একটি নির্দিষ্ট দিনের (বুধবার) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যে ভাষাগত সূক্ষ্মতা প্রয়োজন, তা যদি বর্তমানের কোনো ভিন্নতর ভাষাগত কাঠামো দিয়ে বিচার করা হয়, তবে তা ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করতে পারে। একইভাবে, ব্যাকরণগত বা ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে
التّميميّ النَّحْويّ
এর মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভাষাতাত্ত্বিক নির্ভুলতা ছাড়া প্রেজেন্টিজমের ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব।

নৈতিক প্রক্ষেপণ ও সীরাত পাঠের সংকট

সীরাত গবেষণায় প্রেজেন্টিজমের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটি দেখা যায় 'নৈতিক প্রক্ষেপণ' (Moral Projection)-এর মাধ্যমে। আধুনিক যুগের মানবাধিকার, নারী অধিকার বা লিঙ্গ সমতার মতো ধারণাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলো সপ্তম শতাব্দীর আরবের সামাজিক কাঠামোর অংশ ছিল না। যখন কোনো সমালোচক নবিজির (সা.) কোনো একটি সিদ্ধান্তকে বর্তমানের লিঙ্গীয় সমতার মানদণ্ডে বিচার করে সমালোচনা করেন, তখন তিনি আসলে একটি ঐতিহাসিক ফ্যালাসি করছেন। কারণ, সেই সময়ের সামাজিক কাঠামো ছিল মূলত পিতৃতান্ত্রিক এবং বংশগত মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। নবিজির (সা.) প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সেই সামাজিক কাঠামোর মধ্যে থেকে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া, যা তৎকালীন মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

এই নৈতিক প্রক্ষেপণটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। এর মাধ্যমে গবেষক বা সমালোচক নিজেকে ইতিহাসের চেয়েও উন্নত বা 'Enlightened' হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। তিনি মনে করেন, তাঁর বর্তমানের নৈতিকতা হলো পরম সত্য, এবং অতীতকে সেই সত্যের অনুসারী হতে হবে। কিন্তু ইতিহাসবিদ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো অতীতকে তার নিজস্ব নৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বোঝা। নবিজির (সা.) যুদ্ধনীতি বা রাজনৈতিক কূটনীতিকে যদি আজকের 'International Humanitarian Law'-এর আধুনিক সংজ্ঞার মাধ্যমে বিচার করা হয়, তবে তা হবে একটি চরম অবিচার। কারণ, তৎকালীন যুদ্ধের নিয়মাবলী এবং যুদ্ধের নৈতিকতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তা ছিল তৎকালীন আরবের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অনিবার্য অংশ।

প্রেজেন্টিজম সীরাত পাঠের ক্ষেত্রে একটি 'Distorted Mirror' বা বিকৃত আয়না তৈরি করে। এটি সত্যের প্রতিফলন ঘটায় না, বরং সত্যকে বর্তমানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী মডিফাই করে। এর ফলে নবিজির (সা.) জীবনের প্রকৃত সংগ্রাম, তাঁর ত্যাগ এবং তাঁর মহানুভবতা ঢাকা পড়ে যায় এবং পরিবর্তে একটি কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি হয়। এই বিতর্কের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই, বরং এটি কেবল বর্তমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম। তাই একজন প্রকৃত গবেষককে অবশ্যই এই নৈতিক প্রক্ষেপণের ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদী (Historical Materialism) দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক কাঠামোর বিবর্তন

সপ্তম শতাব্দীর আরবের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং অস্থির। তৎকালীন আরবে কোনো কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র ছিল না; বরং ছিল বিভিন্ন গোত্র বা উপজাতি ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। এই উপজাতীয় কাঠামো বা 'Tribalism' ছিল সেই সময়ের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। আজকের আধুনিক 'Geopolitics' বা ভূ-রাজনীতি যেখানে নির্দিষ্ট সীমানা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর ভিত্তি করে চলে, সেখানে সপ্তম শতাব্দীর রাজনীতি ছিল মূলত 'Loyalty' বা আনুগত্য এবং 'Bloodline' বা বংশগতির ওপর ভিত্তি করে। প্রেজেন্টিজম এই মৌলিক পার্থক্যটিকে অস্বীকার করে এবং তৎকালীন গোত্রীয় সম্পর্কগুলোকে আধুনিক 'Diplomatic Relations' বা কূটনৈতিক সম্পর্কের সমান্তরালে বিচার করার চেষ্টা করে।

নবিজির (সা.) মদিনা সনদ বা 'Constitution of Medina' ছিল একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক দলিল। কিন্তু একে যদি আধুনিক 'Democratic Constitution'-এর মানদণ্ডে বিচার করা হয়, তবে তা ভুল হবে। মদিনা সনদ ছিল মূলত বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে একটি 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তি, যা তৎকালীন আরবের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অপরিহার্য ছিল। এটি ছিল একটি 'Pluralistic Society'-র ভিত্তি, যা আধুনিক বহুত্ববাদের (Pluralism) ধারণার সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এর মূল ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেজেন্টিজম এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটিকে মুছে ফেলে এবং একটি কৃত্রিম সমান্তরালতা তৈরি করার চেষ্টা করে।

সামাজিক কাঠামোর বিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রেজেন্টিজম একটি বড় বাধা। সপ্তম শতাব্দীর আরবে সম্পদের বণ্টন, উত্তরাধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই বিষয়গুলোকে আজকের পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে বিচার করা একটি বড় ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধ। নবিজির (সা.) অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো ছিল তৎকালীন আরবের দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা তৎকালীন সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বিবর্তনকে উপেক্ষা করে বর্তমানের অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রয়োগ করা মানে হলো ইতিহাসের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতাকে অস্বীকার করা।

মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও গবেষণার পদ্ধতিগত সতর্কতা

প্রেজেন্টিজম কেবল একটি তাত্ত্বিক সমস্যা নয়, এটি গবেষকের মনস্তত্ত্বকেও প্রভাবিত করে। একজন গবেষক যখন প্রেজেন্টিজমের শিকার হন, তখন তাঁর মধ্যে একটি 'Cognitive Bias' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পক্ষপাত তৈরি হয়। তিনি কেবল সেই তথ্যগুলোই গ্রহণ করতে চান যা তাঁর বর্তমানের মূল্যবোধের সাথে মিলে যায়, আর যে তথ্যগুলো তাঁর বর্তমানের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক, সেগুলোকে তিনি অবজ্ঞা করেন বা ভুল ব্যাখ্যা করেন। এটি গবেষণার নিরপেক্ষতাকে (Objectivity) সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রে এই পক্ষপাতিত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এটি নবিজির (সা.) প্রকৃত চরিত্র ও তাঁর মহান আদর্শের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য গবেষকদের 'Historical Empathy' বা ঐতিহাসিক সহমর্মিতা অর্জন করতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে, গবেষককে অতীতের ভুল বা অন্যায়ের সাথে একমত হতে হবে; বরং এর অর্থ হলো, অতীতের ঘটনাপ্রবাহকে সেই সময়ের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, ভয়, আকাঙ্ক্ষা এবং সীমাবদ্ধতা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা। একজন গবেষককে অবশ্যই নিজেকে সপ্তম শতাব্দীর একজন আরবের মানুষের অবস্থানে বসিয়ে চিন্তা করতে হবে—কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? তাদের সামনে কী কী বিকল্প ছিল? তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ কী ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রেজেন্টিজমের জাল ছিন্ন করা সম্ভব নয়।

পরিশেষে, সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রে প্রেজেন্টিজম থেকে মুক্তি পেতে হলে কঠোর পদ্ধতিগত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক তথ্য, প্রতিটি ইবারত এবং প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে (Contextual Analysis) বিশ্লেষণ করতে হবে। ভাষাতাত্ত্বিক নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আধুনিক তাত্ত্বিক কাঠামোর অন্ধ অনুকরণ পরিহার করতে হবে। ইতিহাস কেবল অতীতের একটি দলিল নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত প্রক্রিয়া যা আমাদের বর্তমানকে বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু সেই সাহায্য তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন আমরা অতীতকে তার নিজস্ব সত্তা ও সত্য দিয়ে গ্রহণ করতে শিখব, বর্তমানের কৃত্রিম মানদণ্ড দিয়ে নয়।

""
১.২ প্রেজেন্টিজম (Presentism) বা বর্তমানবাদ: অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করার ঐতিহাসিক ফ্যালাসি (Historical Fallacy)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.২ প্রেজেন্টিজম (Presentism) বা বর্তমানবাদ: অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করার ঐতিহাসিক ফ্যালাসি (Historical Fallacy) কুইজ

1 / 5

'প্রেজেন্টিজম' বা বর্তমানবাদ বলতে কী বোঝায়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...