৭.২ ফেক নিউজ (Fake News) ছড়ানোর মনস্তাত্ত্বিক মেকানিজম এবং সমাজের প্রতিক্রিয়া
মানব ইতিহাসের পাতায় তথ্যের বিকৃতি বা 'ফেক নিউজ' কোনো নতুন প্রপঞ্চ নয়; বরং এটি ক্ষমতার দম্ভ, রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য বিস্তারের এক প্রাচীন হাতিয়ার। সপ্তম শতাব্দীর মক্কায় রাসুলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়াতের পর কুরাইশদের যে প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়, তা কেবল ধর্মীয় বিরোধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত 'ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার' বা তথ্য যুদ্ধের বহিঃপ্রকাশ। কুরাইশ অভিজাত শ্রেণি বুঝতে পেরেছিল যে, মুহাম্মাদ সা.-এর সত্যবাদিতা এবং তাঁর নৈতিক উৎকর্ষতাকে সরাসরি আক্রমণ করা অসম্ভব, কারণ মক্কাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসযোগ্য। ফলে তারা সত্যকে অস্বীকার করার পরিবর্তে সত্যের চারপাশে মিথ্যার একটি জাল বুনতে শুরু করে, যা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় 'পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট' (Perception Management) হিসেবে অভিহিত করা যায়।
এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল নবির সা. ব্যক্তিত্বকে জনমানসে খণ্ডিত করা এবং তাঁর বাণীর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। যখন যুক্তির মাধ্যমে সত্যকে খণ্ডানো সম্ভব হয় না, তখন মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে লক্ষ্যবস্তুর চরিত্রহনন (Character Assassination) করা হয়। কুরাইশদের এই কৌশল ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম; তারা সরাসরি মিথ্যা বলার পরিবর্তে এমন কিছু লেবেল বা তকমা ব্যবহার করত, যা তৎকালীন আরবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম ছিল। এই প্রক্রিয়ায় তারা তথ্যের এমন এক সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল, যেখানে সামান্য সত্যের সাথে বিশাল মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হয়েছিল।
তৎকালীন আরবের মৌখিক সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। যেহেতু তখন লিখিত নথির প্রচলন সীমিত ছিল, তাই 'খবর' বা সংবাদ ছিল সম্পূর্ণভাবে শ্রবণনির্ভর। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কুরাইশরা তথ্যের একটি কৃত্রিম স্রোত তৈরি করে, যা সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে নবির সা. প্রতি এক ধরণের সংশয় তৈরি করেছিল। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল একটি সুসংগঠিত মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন, যার উদ্দেশ্য ছিল নবির সা. দাওয়াতকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ঠেলে দেওয়া। [1] , [2] অপপ্রচারের মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা এবং কগনিটিভ ডিসোনেন্স
কুরাইশ নেতাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা এক চরম 'কগনিটিভ ডিসোনেন্স' বা জ্ঞানীয় সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কগনিটিভ ডিসোনেন্স হলো এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি একই সাথে দুটি পরস্পরবিরোধী বিশ্বাসের সম্মুখীন হয়। একদিকে তারা জানত যে মুহাম্মাদ সা. জীবনে কখনো মিথ্যা বলেননি, অন্যদিকে তাঁর আনীত তাওহীদের বাণী তাদের পূর্বপুরুষদের মূর্তিপূজা এবং অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল। এই মানসিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য তারা সত্যকে গ্রহণ করার পরিবর্তে সত্যকে বিকৃত করার পথ বেছে নেয়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, যখন মানুষ নিজের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস বা স্বার্থের বিপরীতে কোনো অকাট্য সত্যের সম্মুখীন হয়, তখন সে সেই সত্যকে অস্বীকার করার জন্য মনগড়া যুক্তি বা 'ফেক নিউজ' তৈরি করে।
কুরাইশদের এই মিথ্যার বুনন ছিল অত্যন্ত কৌশলগত। তারা নবির সা. বাণীর সাথে তৎকালীন কবিদের কবিতার সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করে, যাতে সাধারণ মানুষ মনে করে এটি কেবল একটি কাব্যিক সৃষ্টি, কোনো ঐশী প্রত্যাদেশ নয়। তারা দাবি করতে শুরু করে যে, তিনি কোনো জিনের প্ররোচনায় এই কথাগুলো বলছেন। এই ধরণের অপপ্রচারের পেছনে মূল প্রেষণা ছিল তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষা করা। তারা ভয় পাচ্ছিল যে, যদি সাধারণ মানুষ এই সত্যকে গ্রহণ করে, তবে তাদের বংশগত শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এই ভয় থেকেই জন্ম নেয় এক ধরণের 'ডিফেন্সিভ সাইকোলজি', যা তাদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। [3] , [4] এই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল 'কনফার্মেশন বায়াস' (Confirmation Bias) বা নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত। কুরাইশরা মক্কাবাসীদের মধ্যে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে মানুষ কেবল সেই তথ্যগুলোই গ্রহণ করত যা তাদের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ। যখনই কেউ নবির সা. সত্যবাদিতার কথা বলত, কুরাইশরা দ্রুত সেখানে একটি নেতিবাচক গুজব ছড়িয়ে দিত, যাতে শ্রোতা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় তারা তথ্যের সত্যতা যাচাই করার মানসিকতা নষ্ট করে দিয়েছিল এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে মিথ্যার প্রতি ঝুঁকে পড়ার পরিবেশ তৈরি করেছিল। [5] , [6] চরিত্রহননের কৌশল: লেবেলিং এবং মনস্তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক
কুরাইশদের ফেক নিউজ ছড়ানোর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ছিল 'লেবেলিং' বা তকমা দেওয়া। তারা নবির সা.-কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অভিহিত করত—কখনো ' ساحر' (জাদুকর), কখনো 'كاهن' (গণক), আবার কখনো 'مجنون' (পাগল)। এই শব্দগুলো কেবল গালি ছিল না, বরং এগুলো ছিল নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক। যখন তারা তাঁকে 'জাদুকর' বলে অভিহিত করল, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া যে, নবির সা. কথাগুলো আসলে সত্য নয়, বরং এটি একটি মানসিক জাদু যা মানুষের মনকে মোহগ্রস্ত করে। এই লেবেলিংয়ের মাধ্যমে তারা নবির সা. যৌক্তিক দাওয়াতকে একটি অলৌকিক বা অস্বাভাবিক ঘটনার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চেয়েছিল।
আরবিতে এই ধরণের মিথ্যা অপবাদকে বলা হয় 'বুহতান' (بهتان), যার অর্থ হলো এমন এক মিথ্যা যা শ্রবণকারীকে স্তব্ধ করে দেয়। কুরাইশরা এই বুহতানকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল নবির সা. ব্যক্তিত্বের এমন এক নেতিবাচক চিত্র ফুটিয়ে তোলা, যাতে মানুষ তাঁর কথা শোনার আগেই তাঁর প্রতি বিতৃষ্ণা অনুভব করে। এই কৌশলটি আধুনিক যুগের 'নেগেটিভ ক্যাম্পেইনিং'-এর সাথে হুবহু মিলে যায়, যেখানে প্রতিপক্ষের আদর্শের পরিবর্তে তাঁর ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করে জনসমর্থন কমানোর চেষ্টা করা হয়। [7] , [8] এই লেবেলিং প্রক্রিয়ার আরেকটি পর্যায় ছিল তথ্যের খণ্ডিত উপস্থাপন। তারা নবির সা. কথাগুলোর কিছু অংশ কেটে নিয়ে সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করত, যাতে তা হাস্যকর বা অযৌক্তিক মনে হয়। এই ধরণের 'মিসইনফরমেশন' (Misinformation) সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। বিশেষ করে যারা মক্কার বাইরে থেকে হজ্জের জন্য আসত, তাদের কাছে নবির সা. সম্পর্কে আগে থেকেই এই নেতিবাচক ধারণা পৌঁছে দেওয়া হতো, যাতে তারা তাঁর সাথে কথা বলার সাহস না পায়। এই কৌশলটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং এর পেছনে ছিল এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক চিন্তা, যাতে মক্কার বাইরে নবির সা. প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন। [9] , [10] সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং গোত্রীয় সংহতির প্রভাব
মক্কান সোসাইটির গঠন ছিল অত্যন্ত গোত্রকেন্দ্রিক, যেখানে 'আসাবিয়্যাহ' বা গোত্রীয় সংহতি ছিল সর্বোচ্চ মূল্যবোধ। কুরাইশরা এই সামাজিক সংবেদনশীলতাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজে লাগিয়েছিল। তারা ফেক নিউজ ছড়ানোর সময় এটিকে গোত্রের সম্মান এবং পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করে দিয়েছিল। তারা প্রচার করল যে, মুহাম্মাদ সা.-এর দাওয়াত কেবল একটি ধর্মীয় পরিবর্তন নয়, বরং এটি কুরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠত্বের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ। ফলে, অনেক মানুষ যারা ব্যক্তিগতভাবে নবির সা. সত্যবাদিতায় বিশ্বাস করত, তারা গোত্রীয় চাপের মুখে পড়ে মিথ্যার পক্ষ নিতে বাধ্য হয়।
এই সামাজিক চাপের ফলে এক ধরণের 'সাইলেন্ট মেজরিটি' বা নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের সৃষ্টি হয়। অনেকে জানত যে কুরাইশরা মিথ্যা বলছে, কিন্তু গোত্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারেনি। এই নীরবতা কুরাইশদের মিথ্যার সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, যখন সমাজের প্রভাবশালী অংশ কোনো মিথ্যার সমর্থন করে, তখন সাধারণ মানুষ মনে করে যে এটাই সত্য, অথবা সত্য হলেও তা প্রকাশ করা বিপজ্জনক। এই পরিবেশটি তথ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মিথ্যার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। [11] , [12] কুরাইশরা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে 'মুতাওয়াতির' বা বহুল প্রচারিত খবরের ছদ্মবেশ ব্যবহার করত। তারা বিভিন্ন গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে একই ধরণের মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিত, যাতে মনে হয় যে এটি অনেকগুলো স্বতন্ত্র উৎস থেকে আসা নিশ্চিত খবর। আরবিতে একে বলা হয়:
অর্থাৎ, তারা তথ্যের বহুল প্রচলনের দোহাই দিয়ে তাদের মিথ্যা দাবিগুলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করত। এই কৌশলটি সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে, যেহেতু সবাই একই কথা বলছে, তাই এটি সত্য হতে হবে। এটি ছিল তথ্যের এক ধরণের কৃত্রিম বৈধকরণ প্রক্রিয়া, যা আধুনিক যুগের 'বট নেটওয়ার্ক' বা 'পেইড ট্রোলিং'-এর আদি রূপ। [13] , [14] ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তথ্যের কৌশলগত ব্যবহার
মক্কা ছিল আরবের বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। কুরাইশদের জন্য এই কেন্দ্রিকতা ছিল তাদের ক্ষমতার মূল উৎস। নবির সা. দাওয়াত এই কেন্দ্রিকতাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। তাই তাদের ফেক নিউজ ছড়ানোর লক্ষ্য কেবল মক্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। তারা জানত যে, যদি আরবের অন্যান্য গোত্র নবির সা. প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে মক্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একাধিপত্য শেষ হয়ে যাবে। তাই তারা হজ্জের মৌসুমে আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাফেলাগুলোর কাছে নবির সা. সম্পর্কে পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করত।
এই কৌশলটি ছিল এক ধরণের 'কূটনৈতিক অন্তরায়' (Diplomatic Sabotage) তৈরি করা। তারা বাইরের গোত্রগুলোকে সতর্ক করত যে, মক্কায় একজন ব্যক্তি এসেছে যে তাদের পূর্বপুরুষদের অপমান করছে এবং সমাজকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে। এই ধরণের তথ্যের মাধ্যমে তারা নবির সা. জন্য একটি 'সোশ্যাল ব্যারিয়ার' বা সামাজিক প্রাচীর তৈরি করতে চেয়েছিল। এর ফলে অনেক গোত্র নবির সা. সাথে সাক্ষাৎ করার আগেই তাঁর প্রতি এক ধরণের নেতিবাচক ধারণা পোষণ করত। এই ভূ-রাজনৈতিক চালটি ছিল অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি নবির সা. দাওয়াতের ভৌগোলিক বিস্তারকে সীমিত করার চেষ্টা করেছিল। [15] , [16] কুরাইশদের এই তথ্য যুদ্ধের আরেকটি দিক ছিল 'তথ্য নিয়ন্ত্রণ' (Information Control)। তারা চেষ্টা করত নবির সা. অনুসারীদের সাথে বাইরের জগতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে। যখন তারা দেখল যে সত্য গোপন রাখা সম্ভব নয়, তখন তারা তথ্যের রূপান্তর ঘটিয়ে সেটিকে হাস্যকর করে তোলার চেষ্টা করল। তারা নবির সা. বাণীর সাথে এমন কিছু শব্দ যুক্ত করত যা তৎকালীন আরবের অভিজাত শ্রেণির কাছে তুচ্ছ মনে হতো। এই প্রক্রিয়ায় তারা সত্যের গাম্ভীর্য নষ্ট করে দিয়ে সেটিকে একটি সাধারণ বিতর্কে পরিণত করতে চেয়েছিল। এই কৌশলটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এর লক্ষ্য ছিল নবির সা. দাওয়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক গুরুত্বকে খর্ব করা। [17] , [18] সামগ্রিকভাবে, মক্কায় ফেক নিউজ ছড়ানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কুরাইশরা কেবল মিথ্যা বলেনি, বরং তারা মানুষের ভয়, অহংকার, গোত্রীয় সংহতি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে পুঁজি করে মিথ্যার এক বিশাল ইকো-চেম্বার তৈরি করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় তারা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে তথ্যের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। নবির সা. এই চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তাঁর অবিচল সত্যবাদিতা এবং নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে এই মিথ্যার জাল ছিন্ন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে যে সুপরিকল্পিত মিথ্যা সাময়িকভাবে জয়ী হলেও দীর্ঘমেয়াদে সত্যের সামনে তা পরাজিত হতে বাধ্য। [19] , [20]