খণ্ড 70
ফন্ট:100%
থিম:

৯.৩ অসম যুদ্ধ এবং শাহাদাত: স্টেট টেররিজম (State Terrorism) বনাম মর্যাল সুপিরিওরিটি (Moral Superiority)

মানব সভ্যতার ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে এমন কিছু সংঘাতের উদ্ভব হয়েছে, যেখানে রণকৌশল বা সামরিক শক্তির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আদর্শিক ও নৈতিক সংঘাত। যখন একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রযন্ত্র তার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, আইন এবং সামরিক শক্তিকে ব্যবহার করে সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তখন তাকে কেবল সামরিক যুদ্ধ বলা যায় না; বরং এটি হয়ে ওঠে 'স্টেট টেররিজম' বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। এই অসম যুদ্ধে একদিকে থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিশালতা এবং অন্যদিকে থাকে সত্যের পথে অটল থাকা একদল মানুষের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বা 'মর্যাল সুপিরিওরিটি'। এই অধ্যায়ে আমরা বিশ্লেষণ করব কীভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যখন অন্যায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন কীভাবে একটি রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বৈধতা হারায় এবং কীভাবে শাহাদাতের মাধ্যমে সেই নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মনস্তাত্ত্বিক কেন্দ্রবিন্দু ও নেতৃত্বের নৈতিক অবক্ষয়

একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণের মূল চালিকাশক্তি হলো তার নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নির্ভর করে তার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক কাঠামোর ওপর। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের আচরণের নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চতর বিচারবুদ্ধি মূলত মস্তিষ্কের সম্মুখভাগের ওপর নির্ভরশীল। এই বিষয়টি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।


إل مور «1» الذي أكد أن الناصية هي المسئولة عن المقايسات العليا وتوجيه سلوك الإنسان، وما الجوارح إلا جنود تنفذ هذه القرارات التي تتخذ في الناصية؛ لذلك فالقانون في بعض الولايات الأمريكية «2» يجعل عقوبة كبار المجرمين الذي يرهقون أجهزة الشرطة هي استئصال الجزء الأمامي من المخ (الناصية) ؛ (لأنه مركز القيادة والتوجيه)

[1]

উপরোক্ত আরবি ইবারতটি নির্দেশ করে যে, মানুষের 'নাসিয়া' বা ললাটদেশ (যা মূলত প্রিটফ্রন্টাল কর্টেক্স বা মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ) হলো উচ্চতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আচরণের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, একটি রাষ্ট্রের 'নাসিয়া' হলো তার শাসকগোষ্ঠী বা কেন্দ্রীয় কমান্ড। যদি এই কেন্দ্রীয় কমান্ড বা নেতৃত্বের নৈতিক ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন অংশটি কলুষিত হয়ে পড়ে, তবে রাষ্ট্রের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা প্রশাসনিক কাঠামো কেবল সেই অনৈতিক সিদ্ধান্তের অনুসারী হিসেবে কাজ করে। যখন শাসকের এই 'নাসিয়া' বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রটি ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ক্ষমতা ও লালসার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রটি একটি দানবিয় রূপ ধারণ করে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাতে দ্বিধাবোধ করে না।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিকৃতি। যখন শাসকরা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন রাষ্ট্রের সেই 'নাসিয়া' বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি একটি অপরাধী মনস্তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়। এই অবস্থায় রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার পরিবর্তে তা হয়ে ওঠে নিপীড়িতদের দমনে ব্যবহৃত একটি যান্ত্রিক হাতিয়ার। এই মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতিই মূলত একটি রাষ্ট্রকে 'মর্যাল সুপিরিওরিটি' বা নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের বিপরীতে অবস্থানকারী একটি 'টেররিস্ট স্টেট' বা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে।

স্থিতিশীলতার বিভ্রম ও ধ্বংসের অনিবার্য পূর্বাভাস

একটি রাষ্ট্র যখন তার অভ্যন্তরীণ অন্যায় ও অবিচারকে কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে ঢেকে রাখে, তখন বাইরে থেকে তাকে অত্যন্ত স্থিতিশীল ও শান্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই আপাত শান্তি বা স্থিতিশীলতা আসলে একটি ভয়াবহ ধ্বংসের পূর্বাভাস মাত্র। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, যে রাষ্ট্র ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্র কেবল সাময়িকভাবে একটি 'শান্তি' বজায় রাখতে পারে, যা মূলত ভয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।


إن العامة ليظهرون حتى الآن بمظهر الاعتدال، ولكن سادتهم فاسدون عمى العيون. وحكم النفوس النبيلة، الباسلة العالية، لم تعرض السلام والانسجام للخطر في يوم من الأيام. أما التشامخ والغطرسة والادعاء الكاذب واغتصاب العدالة والحق والقانون، والعبث بها بالحيلة والطمع والكبرياء، أما هذا كله فهو الطريق الذي سيؤدي بنا إلى الخراب. وحذار أن تحلم ياسيرنس (وإن بدت لك الدولة هادئة غير مضطربة) أن ستكون الدولة في مستقبلها متمتعة بالسلام والأمن؛ بل سيعقب هذا الهدوء الظاهر، قصة الحضارة - جـ 6 (ص: 176)

[2]

ইতিহাসের এই ধ্রুপদী সত্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে, সাধারণ মানুষ আপাতদৃষ্টিতে সংযত বা মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী মনে হলেও, তাদের শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অন্ধ হয়ে থাকে। যখন শাসকরা অহংকার, মিথ্যা দাবি, ন্যায়বিচার ও আইনের অধিকার হরণ এবং চাতুর্য ও লোভের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তখন সেই রাষ্ট্র অনিবার্যভাবে ধ্বংসের পথে ধাবিত হয়। ইতিহাসের এই বিশাল সত্যটি আমাদের সতর্ক করে যে, একটি রাষ্ট্র যদি আপাতদৃষ্টিতে শান্ত বা বিশৃঙ্খলামুক্ত দেখায়, তবুও সেই শান্তিময় আবরণের নিচে রক্তপাত ও বিপ্লবের বীজ অঙ্কিত হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে এই 'স্থিতিশীলতার বিভ্রম' অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শাসকগোষ্ঠী যখন রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করে দেয়, তখন আন্তর্জাতিক মহলে বা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্তরে একটি কৃত্রিম স্থিতিশীলতা প্রদর্শিত হয়। কিন্তু এই স্থিতিশীলতা কোনো নৈতিক ভিত্তি বা সামাজিক চুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং এটি দাঁড়িয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ওপর। এই ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও সত্যের চর্চা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এখানে আইন ও ন্যায়বিচারের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। এই ব্যবধানই মূলত সেই 'অসম যুদ্ধ'-এর প্রেক্ষাপট তৈরি করে, যেখানে একদিকে থাকে রাষ্ট্রীয় বিশালতা এবং অন্যদিকে থাকে সত্যের জন্য আত্মোৎসর্গকারী ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী।

আইনগত বৈধতার আবরণে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও নৈতিক প্রতিরোধের সংঘাত

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটি দেখা যায় যখন রাষ্ট্র তার দমন-পীড়নকে 'আইনগত বৈধতা' বা 'যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা' হিসেবে উপস্থাপন করে। যখন একটি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং সেটিকে 'রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা' বা 'আইন শৃঙ্খলা রক্ষা'র নামে বৈধতা দেয়, তখন তা মূলত একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ থেকে দেখা যায়, শাসকরা প্রায়শই তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একটি আইনি কাঠামো বা 'Legalistic Cover' প্রদানের চেষ্টা করেন।


إن التخلص النهائي من الاستبداد يكون بمقاومة الظلم الذي يلبس لبوساً قانونيا (يأخذ شكلاً شرعيا) … والهيئات والمؤسسات التي لا تؤمن بأن الناس كلهم صالحون طيبون وأن الحكام والقضاة مرتشون فاسدون، هي هيئات أو مؤسسات كلها باطلةفالحقيقة أنهم اتبعوا باستعداد تام تراث الإرهاب وحذوا حذو ذلك التراث الذي كان قد وصل إليهم من الحروب الدينية ومذبحة 1572 فترة القديس بارثولوميو Bartholomew وكان معظمهم قد تعلم أن يعدم أعداءه من غير أن يتحرك ضميره بل وفي بعض الأحيان بلا وازع من فضيلة لكنهم كانوا يتذرعون بضرورات الحرب وأعرافها.

[3]

ফরাসি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে 'কমিটি অফ পাবলিক সেফটি'-র কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে এই ভয়াবহ চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সেখানে দেখা যায়, অনেক সদস্যই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব রক্ষার অজুহাতে মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছেন। তারা মূলত একটি 'আইনগত পোশাক' পরিহিত অন্যায়ের শিকার ছিলেন। যখন শাসকরা এবং বিচারকরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা বাطل (বাতিল) হয়ে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাসে পরিণত হয়, যেখানে মানুষের বিবেক বা নৈতিকতা (فضيلة) কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে 'মর্যাল সুপিরিওরিটি' বা নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যখন রাষ্ট্র তার সমস্ত আইন ও শক্তি ব্যবহার করে সত্যকে দমন করতে চায়, তখন সত্যের অনুসারীরা কোনো সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং তাদের নৈতিক দৃঢ়তা ও শাহাদাতের মাধ্যমে সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নৈতিক ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ যেখানে ভয় ও দমনের মাধ্যমে মানুষের আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করে, সেখানে নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব কাজ করে মানুষের হৃদয়ে সত্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের মাধ্যমে। এই অসম যুদ্ধে রাষ্ট্র হয়তো সাময়িকভাবে জয়ী হতে পারে, কিন্তু নৈতিকভাবে তারা পরাজিত হয়। শাহাদাত হলো সেই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যা প্রমাণ করে যে, একটি রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি মানুষের আত্মিক ও নৈতিক শক্তিকে পরাজিত করতে পারে না।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের এই দ্বান্দ্বিক লড়াইটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার এক চিরন্তন সংগ্রাম। রাষ্ট্র যখন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং আইনকে অন্যায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সে তার অস্তিত্বের নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, যারা সত্যের পথে শাহাদাত বরণ করেন, তারা সাময়িকভাবে পরাজিত হলেও ইতিহাসের নৈতিক মানদণ্ডে চিরকাল বিজয়ী হিসেবে গণ্য হন। এই লড়াইটিই নির্ধারণ করে দেয় যে, একটি সভ্যতা কেবল তার সামরিক শক্তির ওপর টিকে থাকবে, নাকি তার নৈতিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

""
৯.৩ অসম যুদ্ধ এবং শাহাদাত: স্টেট টেররিজম (State Terrorism) বনাম মর্যাল সুপিরিওরিটি (Moral Superiority)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৯.৩ অসম যুদ্ধ এবং শাহাদাত: স্টেট টেররিজম (State Terrorism) বনাম মর্যাল সুপিরিওরিটি (Moral Superiority) কুইজ

1 / 5

যখন রাষ্ট্রযন্ত্র সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করতে ক্ষমতা ব্যবহার করে, তাকে কী বলা হয়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...