খণ্ড 94
ফন্ট:100%
থিম:

১.১ আইডেন্টিটি (Identity) বা পরিচয়ের দার্শনিক সংজ্ঞায়ন: ফিতরাত (Fitrah) বনাম সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট (Social Construct)

১. মানব পরিচয়ের প্রাথমিক রূপরেখা: ইসলামিক ও পশ্চিমা দর্শনের তুলনামূলক আলোকপাত


মানব সত্তার আত্ম-পরিচয় (Identity) এবং তার অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তি অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা মানব সভ্যতার প্রাক-সংক্রান্তিকাল থেকেই দর্শনের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। 'আমি কে?', 'আমার সত্তার প্রকৃত স্বরূপ কী এবং কীভাবে তা নির্মিত হয়?'—এই চিরন্তন প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানে প্রধানত দুটি বিপরীতমুখী দার্শনিক ও সামাজিক ধারার উদ্ভব ঘটেছে: একদিকে ঐশী জ্ঞানভিত্তিক ও অস্তিত্ববাদী ইসলামি দর্শন, যা মানুষের সহজাত ঐশ্বরিক স্বভাব বা 'ফিতরাত' (Fitrah)-কে মানবেতিহাস ও ব্যক্তির পরিচয় নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে; অন্যদিকে আধুনিক পশ্চিমা সমাজবিজ্ঞান ও দর্শনের অনুসিদ্ধান্ত, যা ব্যক্তি-পরিচয়কে সামাজিক কাঠামো, সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবে গড়ে ওঠা এক গতিশীল সামাজিক নির্মাণ বা 'সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট' (Social Construct) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।

ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বের (Islamic Epistemology) দৃষ্টিকোণ থেকে, মানুষের সত্তা ও পরিচয় কোনো শূন্য পাত্র বা কেবল পারিপার্শ্বিক প্রভাবে গড়ে ওঠা কোনো আকস্মিক সত্তা নয়। বরং মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই একটি মৌলিক বিশুদ্ধতা, নৈতিক ঝোঁক এবং একত্ববাদের অন্তর্নিহিত বোধ নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করে। মধ্যযুগীয় খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের মূলধারা যখন আদি পাপ বা 'অরিজিনাল সিন' (Original Sin)-এর ধারণাকে মানুষের অস্তিত্বের মূল প্রেরক হিসেবে গণ্য করত—যেখানে প্রতিটি শিশুই জন্মসূত্রে অভিশপ্ত ও অপরাধপ্রবণ সত্তা হিসেবে বিবেচিত হতো—তখন ইসলামি দর্শন মানবপ্রকৃতির আদি বিশুদ্ধতাকে স্বীকৃতি দেয়। খ্রিস্টীয় বিচারক ও ধর্মতাত্ত্বিক গ্রাটিয়ান (Gratian) তাঁর বিখ্যাত সংকলনে উল্লেখ করেছিলেন যে, মানবজাতি বংশানুক্রমিক পাপের বোঝা বহন করে জন্মায় [1] । এর বিপরীতে ইসলামি প্রজ্ঞাচর্চায় মানুষকে প্রাকৃতিকভাবেই সৎ, সত্যমুখী এবং স্রষ্টার সত্তাকে অনুধাবনে সক্ষম এক মহোত্তম সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা আধুনিক মানবতাবাদী চিন্তাধারার চাইতেও বহুগুণ গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে আধুনিক পশ্চিমা চিন্তাবিদগণ দাবি করেন যে, ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ, এমনকি তার সামাজিক ভূমিকা ও পরিচয় মূলত সমাজ দ্বারা আরোপিত ও নিয়ন্ত্রিত। সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ইবনে খালদুন তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থে মানুষের সামাজিক জীবন ও সভ্যতার বিবর্তন প্রক্রিয়া উন্মোচন করতে গিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে নগরজীবন, বিলাসিতা এবং জটিল সামাজিক সম্পর্ক মানুষের স্বাভাবিক চরিত্র ও স্বাতন্ত্র্যকে প্রভাবিত করে [2] । সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে—ব্যক্তি কি তার সহজাত প্রকৃতির চালিকাশক্তিতে চালিত হয়, নাকি সমাজ তাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করে সেভাবেই তার আত্মপরিচয় রূপ লাভ করে? এই প্রারম্ভিক দ্বান্দ্বিকতাই ফিতরাত বনাম সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টের আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কের মূল ভিত্তি।

২. 'ফিতরাত' (Fitrah)-এর ইসলামি অন্টোলজিক্যাল ভিত্তি এবং আদিমতম মানব সত্তা


ইসলামি দর্শনে 'ফিতরাত' কেবল একটি নৈতিক বা মনস্তাত্ত্বিক শব্দ নয়; এটি মানব অস্তিত্বের অন্টোলজিক্যাল বা সত্তাতাত্ত্বিক মূল ভিত্তি। আরবি 'ফাতর' (فطر) ধাতু থেকে উদ্ভূত এই শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো কিছুকে প্রথমবারের মতো সৃষ্টি করা, বিদীর্ণ করে উদ্ভাবন করা বা পূর্ব-উৎসারিত মূল স্বভাব। ইসলামি তাফসীর ও দর্শন শাস্ত্রের বিখ্যাত পণ্ডিতদের মতে, ফিতরাত হলো সেই সহজাত প্রকৃতি ও ঐশ্বরিক মেজাজ, যার ওপর মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে এই সত্যকে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ বাক্যে উন্মোচিত করা হয়েছে:

فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا ۚ فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

“অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে দ্বীনের ওপর আপনার মুখমণ্ডল প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” [3]

এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, মানুষের ভেতরের ঐশ্বরিক ও নৈতিক চেতনা কোনো বাহ্যিক আরোপিত বিষয় নয়, বরং তা মানব অস্তিত্বের অবিনশ্বর বুনিয়াদ। ইসলামি ইতিহাস ও দর্শনের মতে, পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে এক আদিমতম জগতে (আলাম আল-আরওয়াহ) সমগ্র মানবজাতির আত্মার সাথে স্রষ্টার যে চিরন্তন অঙ্গীকার সংঘটিত হয়েছিল, তা-ই ফিতরাতের মূল উৎসমুখ। কুরআনের বর্ণনায় এসেছে:

وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا

“আর যখন আপনার রব্ব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানাদিকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রেখে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের রব্ব নই?’ তারা বলেছিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই! আমরা সাক্ষ্য দিলাম’।” [4]

এই অস্তিত্বগত অঙ্গীকারের কারণে প্রতিটি মানবশিশু এক অপাপবিদ্ধ, সত্যকামী এবং একত্ববাদী মনস্তাত্ত্বিক পরিমণ্ডল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। মহানবি সা. এই সার্বিক মানবিক সত্যকে একটি ঐতিহাসিক হাদিসে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন:

كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أوْ يُنَصِّرَانِهِ أوْ يُمَجِّسَانِهِ

“প্রত্যেক শিশুই ফিতরাতের (সহজাত শুদ্ধ প্রকৃতির) ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে।” [5]

ইসলামি সমাজবিজ্ঞানের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফিতরাত মানুষকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা যান্ত্রিক সত্তায় পরিণত করে না, বরং এটি ব্যক্তিকে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিক কম্পাস প্রদান করে। এই কম্পাস তাকে বাহ্যিক বিভ্রান্তি ও সামাজিক বিকৃতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভালো ও মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের অন্তর্দৃষ্টি যোগায়। অতএব, ফিতরাত অনুযায়ী পরিচয় হলো সেই অবিকৃত স্বকীয়তা, যা বাহ্যিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, কিন্তু তার মূল অস্তিত্ব কখনো বিলুপ্ত হয় না।

৩. সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টিভিজম (Social Constructivism) ও সামাজিক নির্মাণের আধুনিক ধারণা


ইসলামি ফিতরাত তত্ত্বের বিপরীতে আধুনিক পশ্চিমা রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনে 'সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টিভিজম' বা সামাজিক নির্মাণবাদের ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। এই মতবাদ অনুযায়ী, মানুষের পরিচয়, লিঙ্গীয় ভূমিকা, নৈতিক বোধ, এমনকি তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কোনো জন্মগত বা অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক বিষয় নয়; বরং তা নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাভিত্তিক সামাজিক প্রক্রিয়ার ফসল। এই তত্ত্বের অন্যতম আদি প্রবক্তা দার্শনিক জাঁ-জাক রূশো (Jean-Jacques Rousseau) তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক রচনায় মানব সমাজের এই রূপান্তর ব্যাখ্যা করেছেন। রূশো তাঁর রচনার শুরুতে লিখেছিলেন:

ولد الإنسان حراً وهو في كل مكان مكبل بالأغلال

“মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলিত।” [6]

রূশোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রাক-সামাজিক অবস্থায় মানুষ সরল ও প্রাকৃতিক হলেও সভ্যতার ক্রমবিকাশ, ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভব এবং জটিল সামাজিক কাঠামোর কারণে মানুষের প্রকৃত সত্তা পরিবর্তিত হয়ে সামাজিক নিয়মনীতি ও কৃত্রিম পরিচয়ে আবদ্ধ হয় [7] । আধুনিক সমাজবিজ্ঞানী বার্জার ও লাকম্যান (Berger & Luckmann) তাঁদের সামাজিক নির্মাণবাদে দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষ তার দৈনন্দিন মিথস্ক্রিয়া, ভাষা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রথার মাধ্যমে এক যৌথ বাস্তব তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সেই বাস্তবতাই ব্যক্তির আত্মপরিচয় নির্ধারণ করে দেয়।

সমাজতাত্ত্বিক নথিপত্র ও আধুনিক তাত্ত্বিক আলোচনায় দেখা যায় যে, মানুষের অর্জিত আচরণ, সামাজিক ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতি বহুলাংশে তার পরিপার্শ্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়। সমাজবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমাজ তার নিজস্ব টিকিয়া থাকার তাগিদে ব্যক্তির ওপর নিয়মকানুন ও মূল্যবোধের অনুশাসন আরোপ করে [8] । ফলশ্রুতিতে, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে 'পরিচয়' কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়, বরং তা সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল এবং সামাজিক পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মিথস্ক্রিয়ার ফল। তবে নির্মাণবাদের এই চরম রূপ যখন দাবি করে যে মানুষের কোনো সহজাত নৈতিকতা বা মৌলিক সত্তা নেই, তখনই তা ইসলামি অস্তিত্ববাদের সাথে দার্শনিক সংঘাতের মুখোমুখি হয়।

৪. সমাজমনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফিতরাত ও সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টের মিথস্ক্রিয়া


ইসলামি বিশ্ববীক্ষা ও প্রজ্ঞাময় সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'ফিতরাত' এবং 'সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট' কেবল দুটি পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব নয়, বরং মানুষের পরিচয় রূপায়নে এই দুটির একটি সুসমন্বিত মিথস্ক্রিয়া বিদ্যমান। ইসলামি দার্শনিক জ্ঞানতত্ত্ব স্বীকার করে যে, মানুষের মৌলিক সত্তা ও নৈতিক অক্ষটি 'ফিতরাত' দ্বারা সুনির্দিষ্ট, কিন্তু তার বাহ্যিক বিকাশ, সামাজিক পরিচিতি এবং পরিবেশগত অভিযোজন মূলত অর্জিত ও প্রাতিষ্ঠানিক—যা সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টের আওতাভুক্ত। নবুয়তের ঐতিহাসিক পদ্ধতি এবং সীরাতের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মহানবি সা. তৎকালীন আরব জাহেলিয়াতের ক্ষতিকর সামাজিক নির্মাণগুলোকে রদ করেছিলেন, কিন্তু মানুষের সহজাত ধনাত্মক আবেগ, মর্যাদা ও মানবিক ফিতরাতকে অক্ষুণ্ণ রেখে তার ইতিবাচক বিকাশ ঘটিয়েছিলেন।

ইসলামি অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর তাত্ত্বিক আলোচনায় এটি স্পষ্ট যে, ইসলামি ব্যবস্থা মানুষের সহজাত প্রয়োজন ও অর্জিত সামাজিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে [9] । মানুষ প্রাকৃতিকভাবে নিজের উন্নয়ন চায়, কিন্তু সামাজিক অন্যায় ও শোষণ যাতে সৃষ্টি না হয় সে জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক বিধিনিষেধের মাধ্যমে সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়। ইবনে খালদুন তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন কীভাবে মরুময় সরল জীবনের 'আসাবিয়াহ' বা সামাজিক ঐক্য এবং সুস্থ ফিতরাতী জীবনধারা নগরায়ণ ও বিলাসী সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে সামাজিক নির্মাণের বলয়ে পরিবর্তিত হয় এবং পরিশেষে রাজনৈতিক ও নৈতিক পতনের দিকে ধাবিত হয় [10]

ভূ-রাজনৈতিক ও আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে, এককভাবে সোশ্যাল কনস্ট্রাক্টিভিজমকে গ্রহণ করলে মানুষের নৈতিকতা হয়ে পড়ে আপেক্ষিক এবং মূল্যবোধ হারায় তার স্থায়ী রূপ। কারণ সমাজ যদি কেবল নিজের ইচ্ছামতো সত্য ও পরিচয় তৈরি করতে পারে, তবে সার্বভৌম নৈতিকতার আর কোনো স্থান থাকে না। ইসলামি চিন্তাধারা এই চরমপন্থার অবসান ঘটায়। ফিতরাত মানুষকে প্রদান করে এক চিরন্তন ও অবিচল নৈতিক ভিত্তিবিন্দু (Anchor), আর সামাজিক পরিবেশ তাকে দেয় সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশ ঘটানোর ব্যবহারিক কাঠামো। এই দুইয়ের ভারসাম্যপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি তার ঐশ্বরিক পরিচয় রক্ষা করে এক ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক সত্তা হিসেবে পূর্ণতা লাভ করে।

""
১.১ আইডেন্টিটি (Identity) বা পরিচয়ের দার্শনিক সংজ্ঞায়ন: ফিতরাত (Fitrah) বনাম সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট (Social Construct)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.১ আইডেন্টিটি (Identity) বা পরিচয়ের দার্শনিক সংজ্ঞায়ন: ফিতরাত (Fitrah) বনাম সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট (Social Construct) কুইজ

1 / 5

ইসলামি দর্শন অনুযায়ী মানুষের পরিচয় নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...