১০.১.১ একটি ফেক নিউজ (Fake News) কীভাবে স্টেট-টু-স্টেট ওয়ার (State-to-State War) উসকে দিতে পারে তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্রে বা সামরিক শক্তির প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন একটি বহুমাত্রিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক লড়াইয়ে (Cognitive Warfare) রূপান্তরিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যখন দুটি শক্তির মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, তখন 'ফেক নিউজ' বা মিথ্যা সংবাদ কেবল একটি ভুল তথ্য হিসেবে কাজ করে না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত 'স্ট্র্যাটেজিক ওয়েপন' বা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মিথ্যা সংবাদ মূলত একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক সংহতি (Social Cohesion) বিনষ্ট করার এবং জনমতের (Public Opinion) ওপর কৃত্রিম চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংঘাত বা 'স্টেট-টু-স্টেট ওয়ার' উসকে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই প্রক্রিয়াটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা এবং সামাজিক মেরুকরণের (Polarization) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
সামরিক কৌশল ও তথ্যের অপব্যবহার: 'দাহাহ' (Daha') ও রণকৌশলগত বিভ্রান্তি
ঐতিহাসিক ও সামরিক দর্শনে তথ্যের অপব্যবহার বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির কৌশলটি অত্যন্ত প্রাচীন। সামরিক বিজ্ঞানে একে অনেক সময় 'দাহাহ' (الدهاء) বা সামরিক চাতুর্য হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই চাতুর্যের মূল লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এবং তাদের সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতিকে অকার্যকর করে দেওয়া। যখন একটি রাষ্ট্র অন্য একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পূর্বমুহূর্তে বা যুদ্ধের সময় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়, তখন তা মূলত শত্রুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে (Decision-making process) বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
সামরিক চাতুর্যের এই ধারণাটি কেবল আধুনিক নয়, বরং এটি যুদ্ধের একটি স্বীকৃত কৌশলগত উপাদান। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা তথ্য বা 'মিসলিডিং ইনফরমেশন' ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি।
إن الدهاء في العمل العسكري يكتسب مفهوم ما يسمى بالدهاء العسكري والذي يكمن أساسه في المفاجاة بأعمال عسكرية ما، والتي تتحقق بسرية التحضير لها وتضليل العدو فيما ... [1] উপরোক্ত ইবারতটি নির্দেশ করে যে, সামরিক চাতুর্য বা 'দাহাহ' মূলত আকস্মিকতা (Surprise) এবং শত্রুকে বিভ্রান্ত করার (Misleading the enemy) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন কোনো রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা সংবাদ বা 'ফেক নিউজ' ছড়িয়ে দেয়, তখন তারা মূলত এই 'তদলিলে' (تضليل) বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির কৌশলটিই প্রয়োগ করে। এই বিভ্রান্তি কেবল সামরিক কমান্ডারের কাছেই নয়, বরং সাধারণ জনগণের কাছেও পৌঁছানো হয়, যাতে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা যায় অথবা যুদ্ধের পক্ষে উগ্র জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি করা যায়।
যুদ্ধক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে যখন এটি সরাসরি সামরিক ম্যানুভার বা রণকৌশলের সাথে যুক্ত হয়। মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে শত্রুর অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করা বা নিজেদের দুর্বলতা গোপন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা একটি স্বীকৃত সামরিক কৌশল।
ومن أمثلة خدع الحرب القيام بمناورات كاذبة، وإيقاع العدو في كمين وتضليله (بالمعلومات الكاذبة) إخفاء لما تنوي القيام به من حركات عسكرية، كما يعتبر من الخدع المشروعة العمل بواسطة الأعوان والمأجورين على إثارة الشغب في دولة العدو او نشر الأخبار الكاذبة لغرض إضعاف القوة المعنوية. [2] এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি প্রমাণ করে যে, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মিথ্যা তথ্য বা 'খুদাহ' (خدع) ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে, কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দাঙ্গা বা বিশৃঙ্খলা (إثارة الشغب) সৃষ্টির জন্য ভাড়াটে এজেন্টদের মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সমাজতাত্ত্বিক কৌশল। এটি সরাসরি একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে এবং রাষ্ট্রীয় সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও সামষ্টিক মনোবল হ্রাস: একটি সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট
ফেক নিউজের মাধ্যমে স্টেট-টু-স্টেট ওয়ার উসকে দেওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জাতির বা একটি সামরিক বাহিনীর 'সামষ্টিক মনোবল' (Collective Morale) ভেঙে ফেলা। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, একটি জাতির শক্তি কেবল তার অস্ত্রশস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না, বরং তার জনগণের আত্মবিশ্বাস এবং সংহতির ওপর নির্ভর করে। যখন কোনো রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে, তখন তারা মূলত সেই জাতির মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি বা 'সাইকোলজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার' আক্রমণ করে।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) এই প্রয়োগটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং ধ্বংসাত্মক। যখন একটি রাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বা জনগণের কাছে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেয়, তখন সেখানে একটি 'অস্তিত্বগত অনিশ্চয়তা' (Ontological Insecurity) তৈরি হয়। মানুষ যখন বুঝতে পারে না কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা, তখন তারা বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের শিকার হয়, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে।
১৯৭৩ সালের রমজান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটটি এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সেই সময়ে পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম এবং ইসরায়েলি রেডিওর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সিরীয় বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল।
حرب رمضان عام 1973م، وكيف اشتركت مع الإذاعة اليهودية في شنِّ الحرب النفسيَّة على القوات السورية بإذاعتها الأخبار الكاذبة لإضعاف الرُّوح المعنوية للجيش ... [3] এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মিথ্যা সংবাদ কেবল একটি তথ্য নয়, বরং এটি একটি 'মনস্তাত্ত্বিক প্রজেক্টাইল' হিসেবে কাজ করে। সিরীয় বাহিনীর মনোবল বা 'রূহুল মানাবিইয়াহ' (الرُّوح المعنوية) হ্রাস করার জন্য মিথ্যা সংবাদকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সমাজতাত্ত্বিকভাবে, এটি একটি জাতির সামষ্টিক চেতনাকে (Collective Consciousness) লক্ষ্য করে আঘাত হানে, যা যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি সামরিক পরাজয়ের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
যখন একটি রাষ্ট্র বুঝতে পারে যে তারা সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না, তখন তারা এই 'ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার' বা তথ্যযুদ্ধের আশ্রয় নেয়। মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দিয়ে তারা প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ভয়, সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের বীজ বপন করে। এই প্রক্রিয়াটি একটি রাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামোকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সংঘাত বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত করে।
বিভাজন ও শাসন কৌশল: 'Divide and Rule' এর আধুনিক রূপ
ফেক নিউজ বা মিথ্যা সংবাদ ব্যবহারের একটি অন্যতম প্রধান সমাজতাত্ত্বিক উদ্দেশ্য হলো একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে উসকে দেওয়া। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে 'Divide and Rule' বা 'বিভাজন ও শাসন' নীতি বলা হয়। আধুনিক যুগে এই নীতিটি সরাসরি সামরিক শক্তির বদলে 'ইনফরমেশনাল ম্যানিপুলেশন' বা তথ্যগত কারচুপির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতিগত, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলোকে মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে বড় করে দেখানো হয়, যাতে একটি অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ বা অস্থিরতা তৈরি হয়।
ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে মিশরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ব্রিটিশদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। ব্রিটিশরা কীভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে একটি রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তার একটি স্পষ্ট চিত্র এখানে পাওয়া যায়।
মিশরের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং 'আল-উরওয়াত আল-উসকা' (العروة الوثقى) পত্রিকার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, কীভাবে বিদেশি শক্তিগুলো সংবাদপত্রের মাধ্যমে বা রাজনৈতিক কারচুপির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। ব্রিটিশরা তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মিশরের জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে বিভক্ত করতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
বিশেষ করে, ব্রিটিশ কর্মকর্তা জর্জ (Gorst) যেভাবে মিশরের জাতীয়তাবাদী দলগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছিলেন, তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।
মিশরের সংবাদপত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের মুখপত্রগুলো (যেমন: العلم, اللواء, المؤيد) একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যা মূলত ব্রিটিশদের দ্বারা প্রভাবিত বা উৎসাহিত ছিল।
وقد استطاع جورست بملاينته للقصر فيفصم عرى الود بين الخديوي والحزب الوطني ويفتت الكتلة الوطنية ويقسمها شيعًا وأحزابًا، ويخلق من المسائل الصغيرة... [4] জর্জের এই কর্মকাণ্ডটি ছিল একটি 'ইনফরমেশনাল ও পলিটিক্যাল ম্যানিপুলেশন'। জাতীয় ঐক্য বা 'আল-কুতলা আল-ওয়াতানিইয়াহ' (الكتلة الوطنية)-কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপদলে বিভক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। সমাজতাত্ত্বিকভাবে, যখন একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলো একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করে, তখন সেই রাষ্ট্রটি বহিঃশত্রুর আক্রমণের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফেক নিউজ এই বিভাজনকে ত্বরান্বিত করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
ফেক নিউজ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভক্ত করে না, বরং এটি একটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতিকেও আক্রমণ করে। যখন কোনো রাষ্ট্র মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করে, তখন সেই গোষ্ঠীর মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়। এই অনাস্থাই হলো স্টেট-টু-স্টেট ওয়ারের প্রাথমিক ধাপ, যেখানে একটি রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে অন্য একটি রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।
গণমাধ্যমের দ্বান্দ্বিক ভূমিকা: জনমত গঠন বনাম সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি
গণমাধ্যম বা মিডিয়া একটি রাষ্ট্রের জন্য দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো কাজ করতে পারে। একদিকে এটি জাতীয় ঐক্য এবং সামষ্টিক চেতনার জাগরণ ঘটাতে পারে, অন্যদিকে এটি মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে গণমাধ্যমের এই দ্বান্দ্বিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিহাসে দেখা যায়, জামাল আল-দিন আল-আফগানি এবং মুহাম্মাদ আবদুহের মতো মনীষীরা 'আল-উরওয়াত আল-উসকা' পত্রিকার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জনমত গঠন করা।
فإن رابطتهم الملية "يقصد المسلمين" أقوى من روابط الجنسية واللغة... وإن كان الدين في العروة الوثقى له المكان الأول... [5] এখানে দেখা যায়, গণমাধ্যম যখন সত্য এবং আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করে, তখন তা একটি জাতির আত্মমর্যাদা ও সংহতি বৃদ্ধি করে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে গণমাধ্যম মিথ্যা সংবাদ বা 'ফেক নিউজ' প্রচার করে, তখন তা সমাজতাত্ত্বিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
ফেক নিউজের মাধ্যমে যখন কোনো রাষ্ট্র অন্য একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দেয়, তখন তারা মূলত গণমাধ্যমের এই 'মোবিলাইজেশন' বা জনমত গঠনের ক্ষমতাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে। তারা সত্যকে আড়াল করে এবং একটি কাল্পনিক বা মিথ্যা শত্রুতা (Artificial Enmity) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি সমাজতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত জটিল, কারণ এটি মানুষের আবেগ, ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদের মতো গভীর অনুভূতিগুলোকে ব্যবহার করে।
পরিশেষে, ফেক নিউজ কেবল একটি ভুল তথ্য নয়, বরং এটি একটি রাষ্ট্রীয় কৌশল যা সমাজতাত্ত্বিক বিভাজন, মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মাধ্যমে স্টেট-টু-স্টেট ওয়ারের পথ প্রশস্ত করে। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করা যেকোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।