একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল ভূ-রাজনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তির বিবর্তনে 'অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশন' বা অ্যালগরিদমিক উগ্রবাদ একটি অত্যন্ত জটিল ও বিধ্বংসী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মসমূহ, বিশেষ করে ইউটিউব (YouTube) এবং টিকটক (TikTok), তাদের ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্ট বা সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারকারীদের উগ্রবাদী ও চরমপন্থী মতাদর্শের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম 'মনস্তাত্ত্বিক প্রকৌশল' (Psychological Engineering), যা ব্যবহারকারীর চিন্তার জগৎকে একটি নির্দিষ্ট ও সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ করে ফেলে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে যে, কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র যখন অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়, তখন তা বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই বিভাজনটি ঘটছে ভার্চুয়াল স্পেসে, যেখানে অ্যালগরিদমগুলো ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ বিশ্লেষণ করে তাকে এমন সব কনটেন্ট প্রদর্শন করে, যা তার বিদ্যমান বিশ্বাসকে আরও উগ্র ও চরমপন্থী করে তোলে। এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা প্রাচীনকালের 'ফিতনা' বা বিশৃঙ্খলার আধুনিক সংস্করণ, যা মানুষের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
অ্যালগরিদমিক ইকো-চেম্বার ও মনস্তাত্ত্বিক অনুবর্তন (Psychological Conditioning)
অ্যালগরিদমিক ইকো-চেম্বার হলো এমন একটি ডিজিটাল পরিবেশ, যেখানে একজন ব্যবহারকারী কেবল তার নিজস্ব মতাদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য ও মতামতের সম্মুখীন হন। ইউটিউব বা টিকটকের অ্যালগরিদম যখন লক্ষ্য করে যে একজন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিষয়ের প্রতি আগ্রহী, তখন সে ক্রমাগত সেই বিষয়ের আরও তীব্র ও উগ্র সংস্করণগুলো ব্যবহারকারীর ফিডে সরবরাহ করতে থাকে। এর ফলে ব্যবহারকারী তার চারপাশের ভিন্নধর্মী বা ভারসাম্যপূর্ণ মতবাদ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই বিচ্ছিন্নতা তাকে একটি 'ইনফরমেশন সিলো' বা তথ্যের খাঁচায় বন্দি করে ফেলে, যা তার মনস্তাত্ত্বিক অনুবর্তন বা Psychological Conditioning-এর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
এই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। ব্যবহারকারী যখন বারবার একই ধরণের উগ্রবাদী বক্তব্য বা ভিডিও দেখেন, তখন তার মস্তিষ্ক সেই তথ্যগুলোকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে। এটি মূলত মানুষের 'কনফার্মেশন বায়াস' (Confirmation Bias) বা নিশ্চিতকরণ প্রবণতাকে কাজে লাগায়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যখন কোনো মতাদর্শ বা ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য তৈরি হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করে। যেমনটি দেখা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রতি আসক্তি বা পক্ষপাতিত্ব মানুষের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
فلما قامت الدائرة على الخليفة، رجع عن ذلك، وبعث أخذ العهد الذي كتبه للشيخ جلال الدين السيوطي.. وكادت أن تكون فتنة بسبب ذلك
[1]
উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, কীভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা সিদ্ধান্ত 'ফিতনা' বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও অ্যালগরিদমগুলো ব্যবহারকারীর পছন্দকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তা একটি ডিজিটাল 'ফিতনা' বা বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়, যা ব্যবহারকারীর চিন্তাধারাকে মূলধারা থেকে বিচ্যুত করে উগ্রবাদের দিকে ধাবিত করে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীর নিজস্ব বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং সে অ্যালগরিদমের দ্বারা নির্ধারিত একটি উগ্র বাস্তবতাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।
তদুপরি, এই ইকো-চেম্বার কেবল মতাদর্শগত নয়, বরং এটি আবেগীয়ভাবেও অত্যন্ত শক্তিশালী। ব্যবহারকারীর আবেগীয় দুর্বলতা বা ক্রোধকে পুঁজি করে অ্যালগরিদমগুলো এমন কনটেন্ট পুশ করে যা তাকে উত্তেজিত করে তোলে। যখন একজন ব্যবহারকারী ক্রমাগত উগ্রবাদী ও আক্রমণাত্মক ভিডিওর সম্মুখীন হন, তখন তার মধ্যে সহনশীলতা হ্রাস পায় এবং উগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া, যেখানে উগ্রতা আরও বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করে, যা অ্যালগরিদমকে আরও বেশি উগ্র কনটেন্ট প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করে।
ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব বা 'হাওয়া' (Hawa) বা প্রবৃত্তির অনুসরণ কীভাবে মানুষের জ্ঞান ও সত্য উপলব্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তা তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব মতাদর্শের প্রতি অন্ধভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে, তখন তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়।
ومن عجيب أمر الكوثري أنه مع – سعة علمه – يغلب عليه الهوى والتعصب للمذهب ضد أنصار السنة وأتباع الحديث الذين يرميهم ظلماً ب " الحشوية "
[2]
এই ঐতিহাসিক উদাহরণটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞান বা তথ্যের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও যদি 'হাওয়া' বা প্রবৃত্তির আসক্তি কাজ করে, তবে তা মানুষকে অন্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলতে পারে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অ্যালগরিদমগুলো মানুষের এই প্রবৃত্তি বা 'হাওয়া'কে প্রযুক্তিগতভাবে পরিচালনা করছে, যা তাকে উগ্রবাদের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামষ্টিক নিরাপত্তার সংকট
অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশন কেবল ব্যক্তিগত বা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর ভূ-রাজনৈতিক হুমকি। যখন একটি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়, তখন তা সরাসরি সেই রাষ্ট্রের সামষ্টিক নিরাপত্তা (Collective Security) এবং সামাজিক সংহতিকে হুমকির মুখে ফেলে। উগ্রবাদী কনটেন্টগুলো প্রায়শই জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা বা জাতিগত বিদ্বেষকে উসকে দেয়, যা বাস্তব জগতের সংঘাত ও সহিংসতার জন্ম দেয়।
টিকটক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যখন দ্রুতগতিতে উগ্রবাদী প্রচারণাকে ছড়িয়ে দেয়, তখন তা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা সেই ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মতো, যেখানে ভয় বা আতঙ্ক (Terror) ব্যবহার করে জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতো। যখন একটি জনগোষ্ঠীর মনে ভীতি বা রعب (Ru'b) সঞ্চারিত করা হয়, তখন তারা যুক্তিবাদী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় এবং উগ্র বা চরমপন্থী পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত হয়।
لو ألقيت قلنسوة مغولي وسط آلاف مؤلّفة من الفرسان الخوارزمية لولوا الأدبار جميعا، هكذا تمكن رعب المغول في قلوب الخوارزميّة.
[3]
ঐতিহাসিক এই বর্ণনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খওয়ারিজমীয় যোদ্ধাদের মধ্যে মঙ্গোলদের প্রতি যে ভয় বা 'রعب' সঞ্চারিত হয়েছিল, তা তাদের সামষ্টিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমান ডিজিটাল যুগে, অ্যালগরিদমগুলো উগ্রবাদী কনটেন্টের মাধ্যমে মানুষের মনে একই ধরণের 'ডিজিটাল রعب' বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই আতঙ্ক বা ভীতি ব্যবহারকারীকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, সে নিজেকে রক্ষা করার নামে উগ্র ও সহিংস পথ বেছে নিতে দ্বিধাবোধ করে না। এটি একটি আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যেখানে কোনো সরাসরি আক্রমণ ছাড়াই একটি জাতির মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া হয়।
সামষ্টিক নিরাপত্তার এই সংকটটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই অ্যালগরিদমিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে 'মাইক্রো-টার্গেটিং' ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দেয়। এর ফলে সামাজিক মেরুকরণ (Social Polarization) তীব্রতর হয় এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, যখন কোনো জাতি বা শক্তি তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হারিয়ে ফেলে এবং কেবল শক্তির দাপটে বা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তখন তাদের পতন অনিবার্য।
أما بعد: ففي قرن وبعض قرن وثب المسلمون وثبة ملئوا بها الأرض قوة وبأساً، وحكمة وعلماً، ونوراً وهداية، فحكموا الأمم...
[4]
এই উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, প্রকৃত শক্তি ও আধিপত্য আসে প্রজ্ঞা (Wisdom), জ্ঞান (Knowledge) এবং সঠিক নির্দেশনার (Guidance) সমন্বয়ে। কিন্তু অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশন এই প্রজ্ঞা ও সঠিক নির্দেশনার পরিবর্তে উগ্রতা ও বিভ্রান্তিকে প্ররোচিত করে। যখন একটি সমাজ প্রজ্ঞা ও জ্ঞান ত্যাগ করে উগ্রতার পথে ধাবিত হয়, তখন তা সামষ্টিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে ওঠে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মনস্তাত্ত্বিক প্রকৌশল ও উগ্রবাদের বিস্তার
ইউটিউব এবং টিকটকের অ্যালগরিদমগুলো মূলত 'অ্যাটেনশন ইকোনমি' (Attention Economy) বা মনোযোগের অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীকে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণ তথ্যের চেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ, বিতর্কিত এবং উগ্রবাদী তথ্যের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। অ্যালগরিদমগুলো এই জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ক্রমাগত এমন সব কনটেন্ট সরবরাহ করে যা ব্যবহারকারীর ক্রোধ বা উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।
টিকটকের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও ভয়াবহ। এর সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফরম্যাট (Short-form video) ব্যবহারকারীর মনোযোগকে অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি উগ্রবাদী ধারণা বা 'মিম' (Meme) ছড়িয়ে দিতে পারে। এই দ্রুতগতির প্রচারণায় তথ্যের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ থাকে না, ফলে ভুল বা উগ্রবাদী ধারণাগুলো মানুষের অবচেতন মনে গেঁথে যায়। ইউটিউবের ক্ষেত্রে, 'রিকমেন্ডেশন ইঞ্জিন' ব্যবহারকারীকে একটি 'র্যাবিট হোল' (Rabbit Hole) বা গভীর গহ্বরের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে একটি সাধারণ ভিডিও থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে অত্যন্ত চরমপন্থী ভিডিওর দিকে যাত্রা সম্পন্ন হয়।
এই ডিজিটাল উগ্রবাদ বা উগ্রবাদের বিস্তারকে আধুনিক যুগের একটি 'প্লেগ' বা মহামারী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। যেভাবে একটি মহামারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশনও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উগ্রবাদী মতাদর্শকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে।
العالمانية طاعون العصر، كشف المصطلح وفضح الدلالة
[5]
যদিও এখানে 'العالمانية' (Secularism) শব্দটিকে 'যুগের প্লেগ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এর অন্তর্নিহিত দর্শনটি ডিজিটাল উগ্রবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেকোনো উগ্র বা চরমপন্থী মতাদর্শ যখন একটি সামাজিক কাঠামোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করে, তখন তা একটি 'প্লেগ' বা মহামারীর মতো আচরণ করে যা সমাজের নৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশনও ঠিক একইভাবে আধুনিক সমাজের সুস্থ চিন্তার প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং একটি ডিজিটাল মহামারী সৃষ্টি করছে যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করছে।
পরিশেষে বলা যায়, অ্যালগরিদমিক রেডিক্যালাইজেশন কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা যা ব্যবহারকারীর মনস্তত্ত্ব এবং প্ল্যাটফর্মের ব্যবসায়িক মডেলের একটি বিপজ্জনক সংমিশ্রণ। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস পরিবর্তন করে না, বরং এটি বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামষ্টিক নিরাপত্তার জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীর ডিজিটাল সাক্ষরতা (Digital Literacy) বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।