খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

১.৫ নিউ-অ্যাথেইজম (New Atheism) বা নব্য-নাস্তিক্যবাদ: রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিসদের অ্যান্টি-থেইজমের (Anti-theism) মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ

একবিংশ শতাব্দীর বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলে 'নিউ-অ্যাথেইজম' বা নব্য-নাস্তিক্যবাদ কেবল একটি দার্শনিক অবস্থান নয়, বরং এটি একটি আক্রমণাত্মক মতাদর্শিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রথাগত নাস্তিক্যবাদ যেখানে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ না পাওয়ার কারণে নীরবতা বা অবিশ্বাসের অবস্থান গ্রহণ করত, সেখানে নব্য-নাস্তিক্যবাদ বা 'অ্যান্টি-থেইজম' (Anti-theism) সক্রিয়ভাবে ধর্ম এবং স্রষ্টার ধারণাকে আক্রমণ করে এবং একে মানবসভ্যতার অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে। এই আন্দোলনের মূল কারিগর হিসেবে রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, ক্রিস্টোফার হিটচেনস এবং ড্যান ডেননেট-এর নাম উচ্চারিত হয়, যাদের একত্রে 'ফোর হর্সমেন' (Four Horsemen) বলা হয়। এই মতাদর্শের মূল ভিত্তি হলো চরম বিজ্ঞানবাদ (Scientism), যা দাবি করে যে কেবল পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের মাধ্যমেই সত্যের অনুসন্ধান সম্ভব এবং এর বাইরে যা কিছু আছে তা কাল্পনিক বা ভ্রান্ত।

নব্য-নাস্তিক্যবাদের তাত্ত্বিক রূপরেখা ও প্রথাগত নাস্তিক্যবাদ থেকে এর বিচ্যুতি

নব্য-নাস্তিক্যবাদ এবং প্রাচীন বা প্রথাগত নাস্তিক্যবাদের মধ্যে একটি মৌলিক ও দৃশ্যমান পার্থক্য বিদ্যমান। প্রথাগত নাস্তিক্যবাদ ছিল মূলত একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা দার্শনিক সংশয়বাদ, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নব্য-নাস্তিক্যবাদ এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে একটি 'মিজিলিয়া' বা আধ্যাত্মিক মিলিশিয়াতে পরিণত হয়েছে, যা ধর্মতত্ত্বের বিরুদ্ধে এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই রূপান্তরটি কেবল বিশ্বাসের অভাব নয়, বরং বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক ধরণের চরম বিদ্বেষ বা অ্যান্টি-থেইজমের বহিঃপ্রকাশ।

আরবি উৎসসমূহে এই পার্থক্যটিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন, সমসাময়িক চিন্তাধারার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে,

بين الإلحاد القديم والإلحاد الحديث فرقًا ظاهرًا
অর্থাৎ, "প্রাচীন নাস্তিক্যবাদ এবং আধুনিক নাস্তিক্যবাদের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান" [1] । এই পার্থক্যটি মূলত দৃষ্টিভঙ্গির আগ্রাসনের মধ্যে নিহিত। নব্য-নাস্তিকরা ধর্মকে কেবল ভুল মনে করে না, বরং তারা মনে করে ধর্ম একটি ক্ষতিকর বিষ, যা সমাজ ও মনস্তত্ত্বকে পঙ্গু করে দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা যুক্তির চেয়ে উপহাস এবং আক্রমণাত্মক ভাষাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

এই আন্দোলনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত প্রচারণার রূপ নিয়েছে। একে অনেক ক্ষেত্রে 'নাস্তিক্যবাদ মিলিশিয়া' হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর লক্ষ্য কেবল সত্য অনুসন্ধান নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসীদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পর্যুদস্ত করা। এই প্রক্রিয়ায় তারা বিজ্ঞানের মোড়ক ব্যবহার করে এমন সব দাবি উপস্থাপন করে, যা আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিক মনে হলেও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তা কেবল একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্যারাডাইমের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ [2] । ফলে, নব্য-নাস্তিক্যবাদ একটি দার্শনিক অবস্থান থেকে সরে এসে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে।

রিচার্ড ডকিন্স ও স্যাম হ্যারিসদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ ও বিজ্ঞানবাদের দম্ভ

নব্য-নাস্তিক্যবাদের প্রধান প্রবক্তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের চিন্তাধারার মূলে রয়েছে এক ধরণের 'ইপিজটেমিক অ্যারোগেন্স' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক দম্ভ। রিচার্ড ডকিন্স তার 'দ্য গড ডিলুশন' গ্রন্থে স্রষ্টাকে একটি 'ডিলুশন' বা বিভ্রম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোটি এমনভাবে গঠিত যে, তিনি জৈবিক বিবর্তনবাদকে কেবল একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববীক্ষা (Worldview) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই বিজ্ঞানবাদ বা 'Scientism' তাকে এই বিশ্বাস প্রদান করেছে যে, যা কিছু পরিমাপযোগ্য নয়, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা, যেখানে ব্যক্তি তার বুদ্ধিবৃত্তিক অহংকারের কারণে অতিপ্রাকৃত বা মেটাফিজিক্যাল সত্যকে অস্বীকার করে।

স্যাম হ্যারিসের ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটি আরও প্রকট, কারণ তিনি নাস্তিক্যবাদকে নৈতিকতার সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস কেবল ভুল নয়, বরং তা বিপজ্জনক। এই ধরণের চিন্তাধারা মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা কৌশল, যেখানে ব্যক্তি নিজের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য অন্যের বিশ্বাসকে 'অন্ধ আনুগত্য' হিসেবে চিহ্নিত করে। এই মানসিকতা আধুনিক যুগের এক ধরণের আধ্যাত্মিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আরবি গবেষণায় একে

من أدواء العصر الحديث: الإلحاد، أدواته، وكيف نواجهه؟
অর্থাৎ, "আধুনিক যুগের ব্যাধিগুলোর মধ্যে একটি হলো নাস্তিক্যবাদ, এর হাতিয়ারসমূহ এবং কীভাবে আমরা এর মোকাবিলা করব" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে [3]

এই মনস্তাত্ত্বিক দম্ভের পেছনে কাজ করে একটি গভীর শূন্যতা। যখন একজন মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং মহাবিশ্বকে কেবল অন্ধ দৈবঘটনার ফল হিসেবে দেখে, তখন সে অস্তিত্বের উদ্দেশ্য এবং জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই শূন্যতা ঢাকতে তারা বিজ্ঞানকে একটি ধর্মের মতো ব্যবহার করে, যেখানে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তারা নিজেদের আধ্যাত্মিক তৃপ্তি খোঁজে। তাদের এই অ্যান্টি-থেইজম আসলে বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং এটি তাদের নিজস্ব অহংকারের এক ধরণের বহিঃপ্রকাশ, যা তাদের সত্যের সামনে নতি স্বীকার করতে বাধা দেয় [4]

নব্য-নাস্তিক্যবাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ইসলামি সমাজব্যবস্থায় এর অনুপ্রবেশ

নব্য-নাস্তিক্যবাদ কেবল পশ্চিমা বিশ্বের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে মুসলিম দেশগুলোতে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের প্রসার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই মতাদর্শটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে। এই অনুপ্রবেশটি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। পশ্চিমা মিডিয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞানবাদের এমন একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ধর্ম এবং বিজ্ঞানকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখানো হয়।

বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর ক্ষেত্রে এই আক্রমণটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আরবি ভাষায় একে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে:

الإلحاد الجديد يخترق حصون الإسلام
অর্থাৎ, "নব্য-নাস্তিক্যবাদ ইসলামের দুর্গসমূহ ভেদ করে প্রবেশ করছে" [5] । এখানে 'দুর্গ' বলতে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যগত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ঈমানি দৃঢ়তাকে বোঝানো হয়েছে। যখন একজন তরুণ তার নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কেবল পশ্চিমা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়, তখন সে খুব সহজেই এই নব্য-নাস্তিক্যবাদের ফাঁদে পড়ে।

এই অনুপ্রবেশের মনস্তাত্ত্বিক কৌশলটি হলো 'কগনিটিভ ডিসোনেন্স' বা জ্ঞানীয় অসঙ্গতি তৈরি করা। নব্য-নাস্তিকরা এমন কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্যের খণ্ডিত অংশ উপস্থাপন করে, যা আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়। এর ফলে বিশ্বাসীর মনে এক ধরণের দ্বিধা তৈরি হয়। এই দ্বিধাকে পুঁজি করে তারা দাবি করে যে, ধর্ম কেবল অজ্ঞতার ফসল। এই প্রক্রিয়াটি একটি পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মতো, যার লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং তরুণদের মধ্যে এক ধরণের অস্তিত্ববাদী সংকট (Existential Crisis) তৈরি করা [6]

নাস্তিক্যবাদের আদি উৎস ও নব্য-নাস্তিক্যবাদের সাথে তার সংযোগ

নব্য-নাস্তিক্যবাদকে কেবল আধুনিক যুগের সৃষ্টি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মূল মনস্তাত্ত্বিক এবং আধ্যাত্মিক শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। ইসলামি চিন্তাধারায় নাস্তিক্যবাদ বা সত্য অস্বীকার করার প্রবণতাকে ইবলিসের আদি অবাধ্যতার সাথে তুলনা করা হয়। ইবলিসের পতনের মূল কারণ ছিল তার অহংকার এবং নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করার প্রবণতা। নব্য-নাস্তিকদের 'বিজ্ঞানবাদ' এবং 'বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব'র দাবিটি মূলত সেই আদি অহংকারেরই একটি আধুনিক সংস্করণ।

আরবি উৎসে এই সংযোগটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:

فإبليس مال وجار واعترض وسلك طريق الغواية في مواجهة الحق عندما أمره الله
অর্থাৎ, "ইবলিস সত্যের মুখোমুখি হয়ে বিচ্যুত হয়েছিল, সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং পথভ্রষ্টতার পথ অবলম্বন করেছিল যখন আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন" [7] । নব্য-নাস্তিকদের অ্যান্টি-থেইজম ঠিক একইভাবে সত্যের মুখোমুখি হয়ে তা অস্বীকার করার এবং নিজের যুক্তিকে সর্বোচ্চ সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি চেষ্টা। তারা মনে করে যে, তাদের সীমিত মানবিয় বুদ্ধি মহাবিশ্বের অসীম স্রষ্টার পরিকল্পনাকে বিচার করার জন্য যথেষ্ট, যা মূলত একটি চরম মূর্খতা।

এছাড়া, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বাতেনি বা ভ্রান্ত মতবাদের মাধ্যমেও নাস্তিক্যবাদের বীজ বপন করা হয়েছে। যেমন, মাজাল্লাতুল মানার-এর বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং বাতেনি চিন্তাধারার মাধ্যমে কীভাবে মানুষের ঈমানকে নড়বড়ে করে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে [8] । নব্য-নাস্তিক্যবাদ এই প্রাচীন কৌশলগুলোরই একটি আধুনিক ও ডিজিটাল রূপ। তারা এখন আর গোপনে কাজ করে না, বরং প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্রষ্টাকে অস্বীকার করে এবং বিশ্বাসীদের উপহাস করে। তবে তাদের এই বাহ্যিক দম্ভের অন্তরালে রয়েছে এক গভীর অনিশ্চয়তা এবং সত্যের প্রতি চরম ভীতি, যা তাদের কেবল বস্তুবাদী যুক্তির পেছনে ছুটতে বাধ্য করে [9]

""
১.৫ নিউ-অ্যাথেইজম (New Atheism) বা নব্য-নাস্তিক্যবাদ: রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিসদের অ্যান্টি-থেইজমের (Anti-theism) মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.৫ নিউ-অ্যাথেইজম কুইজ

1 / 5

নিউ-অ্যাথেইজম বা নব্য-নাস্তিক্যবাদ প্রথাগত নাস্তিক্যবাদ থেকে কীভাবে ভিন্ন?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...