১০.১.১ উইলিয়াম মুইর, ওয়াট এবং মার্গোলিয়থের 'গণহত্যা' থিসিসের আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে যৌক্তিক খণ্ডন
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের মধ্যে উইলিয়াম মুইর, মন্টগোমারি ওয়াট এবং ডি.এস. মার্গোলিয়থের মতো পণ্ডিতরা ইসলামের প্রাথমিক যুগের সামরিক অভিযানগুলোকে একটি বিশেষ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল যে, নবি কারীম সা. এর কিছু সামরিক পদক্ষেপ, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু গোত্র বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গৃহীত কঠোর ব্যবস্থাগুলো ছিল তথাকথিত 'গণহত্যা' (Genocide) বা জাতিগত নির্মূল করার প্রচেষ্টা। তবে এই থিসিসটি কেবল ঐতিহাসিকভাবেই ভুল নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (International Relations) এবং যুদ্ধনীতিশাস্ত্রের (Ethics of War) মানদণ্ডে সম্পূর্ণ অসার। এই পণ্ডিতরা সপ্তম শতাব্দীর আরব উপদ্বীপের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজস্ব সাম্রাজ্যবাদী এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রিক মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা গবেষণার নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ওরিয়েন্টালিস্টদের 'গণহত্যা' থিসিসের তাত্ত্বিক ভিত্তি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানিক অসারতা
উইলিয়াম মুইর এবং মার্গোলিয়থের মতো লেখকরা তাদের গবেষণায় দাবি করেছেন যে, ইসলামের প্রসারের সময় কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পুরুষ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল যাতে সেই গোষ্ঠীটি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে তারা 'Ethnic Cleansing' বা জাতিগত নির্মূল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের 'স্টেট সারভাইভাল থিওরি' (State Survival Theory) অনুযায়ী, একটি নবজাত রাষ্ট্র যখন তার অস্তিত্বের সংকটের সম্মুখীন হয়, তখন তার প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কুরাইশ এবং তাদের মিত্রদের ক্রমাগত আক্রমণ এবং বিশ্বাসঘাতকতা ছিল সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি। এই প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা কোনো জাতিগত বিদ্বেষ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি অপরিহার্য কৌশল ছিল।
ওরিয়েন্টালিস্টদের এই থিসিসের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তারা 'গণহত্যা' (Genocide) শব্দটির সংজ্ঞাকে ভুলভাবে প্রয়োগ করেছেন। আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণহত্যা হলো কোনো জাতি, ধর্মীয় বা জাতীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা। কিন্তু নবি কারীম সা. এর সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কখনোই কোনো নির্দিষ্ট বংশ বা জাতিকে নির্মূল করা ছিল না; বরং লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহ দমন এবং রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বন্ধ করা। যারা অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের প্রতি প্রদর্শিত ক্ষমা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, এখানে কোনো 'নির্মূল করার পরিকল্পনা' ছিল না। [1] এর বিপরীতে, প্রকৃত গণহত্যার উদাহরণ ইতিহাসে ভিন্নভাবে বিদ্যমান, যেখানে নিরপরাধ নারী ও শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, যা সীরাতের কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় না।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুইর এবং ওয়াটরা সপ্তম শতাব্দীর গোত্রীয় সংঘাতকে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের (Nation-State) সংঘাত হিসেবে দেখার ভুল করেছেন। তৎকালীন আরবে আনুগত্য ছিল গোত্রভিত্তিক, রাষ্ট্রভিত্তিক নয়। যখন কোনো গোত্র মদিনা রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তা ভঙ্গ করত, তখন তা ছিল আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে 'casus belli' বা যুদ্ধের বৈধ কারণ। সুতরাং, বিশ্বাসঘাতক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিল তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশাসনিক ও সামরিক প্রয়োজনীয়তা, যাকে আধুনিক পরিভাষায় 'Counter-Insurgency' বা বিদ্রোহ দমন অভিযান বলা যেতে পারে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একে 'গণহত্যা'র তকমা দেওয়া কেবলই একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। [2] ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং সামষ্টিক নিরাপত্তার আলোকে খণ্ডন
আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) 'সামষ্টিক নিরাপত্তা' (Collective Security) এবং 'বাফার জোন' (Buffer Zone) তৈরির ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবি কারীম সা. এর সামরিক কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মদিনার চারপাশের অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন যাতে মদিনা রাষ্ট্রের মূল কেন্দ্রটি নিরাপদ থাকে। ওরিয়েন্টালিস্টরা যে হত্যাযজ্ঞের কথা বলেন, তা মূলত ছিল যুদ্ধের ময়দানে সশস্ত্র যোদ্ধাদের মৃত্যু। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা যুদ্ধের একটি স্বাভাবিক অংশ, একে গণহত্যার সাথে তুলনা করা হাস্যকর। বিশেষ করে যখন সেই পদক্ষেপগুলো ছিল প্রতিরোধমূলক আক্রমণ (Pre-emptive Strike), যা রাষ্ট্রকে আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
মুইর এবং Margoliouth-এর দাবি হলো, নির্দিষ্ট কিছু গোত্রের পুরুষদের হত্যা করা হয়েছিল যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রতিশোধ নিতে না পারে। কিন্তু এই যুক্তিটি আসলে তৎকালীন আরবের 'রক্তের বদলা' (Blood Feud) সংস্কৃতির একটি অংশ ছিল। তৎকালীন আরবে কোনো গোত্রের প্রধান বা যোদ্ধাদের পরাজিত করা মানেই ছিল সেই গোত্রের সামরিক সক্ষমতা খর্ব করা। এটি কোনো জাতিগত নির্মূল নয়, বরং শত্রুর যুদ্ধ করার ক্ষমতা নষ্ট করার একটি কৌশল। আধুনিক সামরিক কৌশলে একে বলা হয় 'Center of Gravity' ধ্বংস করা। অর্থাৎ, শত্রুর যে শক্তির ওপর তার পুরো সামরিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে লক্ষ্য করে আঘাত করা। নবি কারীম সা. এর কৌশল ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত, যা কোনোভাবেই ব্যাপক গণহত্যার সংজ্ঞায় পড়ে না। [3] সামষ্টিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মদিনা রাষ্ট্র যখন আরবের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়, তখন তার চারপাশের ছোট ছোট গোত্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত বিদ্রোহ দমনে কঠোরতা প্রদর্শন করা ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। যদি বিশ্বাসঘাতক এবং আক্রমণকারী গোষ্ঠীগুলোকে বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে মদিনা রাষ্ট্রটি তার শৈশবকালেই ধ্বংস হয়ে যেত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের 'রিয়ালিজম' (Realism) তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য শক্তির ভারসাম্য (Balance of Power) রক্ষা করা জরুরি। নবি কারীম সা. এর পদক্ষেপগুলো ছিল এই ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা, যা কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যার আওতায় পড়ে না। [4] যুদ্ধনীতিশাস্ত্র (Ethics of War) এবং ওরিয়েন্টালিস্টদের দ্বিমুখী মানদণ্ড
ওরিয়েন্টালিস্টদের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো তাদের দ্বিমুখী মানদণ্ড। তারা একদিকে নবি কারীম সা. এর সীমিত সামরিক পদক্ষেপকে 'গণহত্যা' বলে অভিহিত করেন, অন্যদিকে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা সংঘটিত কোটি কোটি মানুষের হত্যাযজ্ঞকে 'সভ্যতার বিস্তার' হিসেবে বর্ণনা করেন। যুদ্ধনীতিশাস্ত্রের (Jus in Bello) আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, নবি কারীম সা. যুদ্ধের ক্ষেত্রে যে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, তা তৎকালীন বিশ্বের জন্য ছিল বৈপ্লবিক। নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং উপাসকদের হত্যা না করা, গাছপালা না কাটা এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস না করার নির্দেশগুলো প্রমাণ করে যে, তাঁর লক্ষ্য কখনোই গণহত্যা ছিল না।
প্রকৃত গণহত্যার ভয়াবহতা বুঝতে হলে ইতিহাসের অন্যান্য উদাহরণ দেখা প্রয়োজন। যেমন, ইউরোপের ইতিহাসে ১৬৮৫ সালের 'পবিত্র সন্ত্রাস' (Holy Terror) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাধ্য করা হয়েছিল এবং যারা অস্বীকার করেছে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এই নৃশংসতাকে বর্ণনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা লিখেছেন:
وإرهاب ١٦٨٥ المقدس هذا كان أشنع كثيراً من إرهاب عصر الثورة في ١٧٩٣... وحكم على الذين بصقوا قطع القربان المكرسة بعد مغادرتهم الكنيسة بالحرق أحياء [5] ।
এই ইবারাতটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃত গণহত্যা এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস কেমন হয়। যেখানে সামান্য কারণে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো, সেখানে নবি কারীম সা. এর যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল কেবল সশস্ত্র শত্রুদের পরাজিত করা। ওরিয়েন্টালিস্টরা যখন সীরাতের সীমিত যুদ্ধকে 'গণহত্যা' বলেন, তখন তারা আসলে প্রকৃত গণহত্যার সংজ্ঞাটিকেই খাটো করেন।
একইভাবে, আধুনিক যুগের বিয়াফ্রা যুদ্ধের মতো সংঘাতগুলোতে যে ধরনের অমানবিক গণহত্যা এবং দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার সাথে সীরাতের ঘটনার কোনো মিল নেই। বিয়াফ্রার করুণ পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলা হয়েছে:
فكانت الأطفال تمشي عراة فلا يجدون ما يسترون به سوءاتهم... وقد سقط ثمانون ألفًا من أهل بيافرا قتلى على وجه الأرض من جراء ذلك الصراع المرير الدامي [6] ।
এখানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের নামে শিশুদের অনাহারে মৃত্যু এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এর বিপরীতে, নবি কারীম সা. এর নেতৃত্বে পরিচালিত কোনো অভিযানেই নিরপরাধ শিশুদের অনাহারে রাখা বা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং, মুইর, ওয়াট এবং মার্গোলিয়থের 'গণহত্যা' থিসিসটি কেবল তথ্যের অভাব নয়, বরং একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। [7] উপসংহারমূলক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক সত্যতা
পরিশেষে বলা যায়, উইলিয়াম মুইর, মন্টগোমারি ওয়াট এবং ডি.এস. মার্গোলিয়থের 'গণহত্যা' থিসিসটি একটি তাত্ত্বিক বিভ্রম। তারা সপ্তম শতাব্দীর আরবের গোত্রীয় সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পদক্ষেপগুলোকে আধুনিক যুগের 'জেনোসাইড' বা 'এথনিক ক্লিনজিং'-এর সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, যা ঐতিহাসিকভাবে অসম্ভব। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, মদিনা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য গৃহীত সামরিক পদক্ষেপগুলো ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং তৎকালীন আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ।
নবি কারীম সা. এর যুদ্ধনীতি ছিল অত্যন্ত মানবিক এবং সুশৃঙ্খল। তিনি কেবল সেইসব ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেছিলেন যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং যারা রাষ্ট্রীয় চুক্তির চরম লঙ্ঘন করে মদিনার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। ওরিয়েন্টালিস্টদের এই অভিযোগ যে, পুরুষদের হত্যা করে বংশ নির্মূল করা হয়েছিল, তা কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন এবং দুর্বল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি গল্প। প্রকৃত গবেষণায় দেখা যায়, পরাজিত শত্রুদের প্রতি তাঁর ক্ষমা এবং তাদের সাথে নতুন করে শান্তি চুক্তি স্থাপনের প্রবণতা প্রমাণ করে যে, তাঁর উদ্দেশ্য কখনোই কোনো জাতিকে ধ্বংস করা ছিল না। [8] এই থিসিসের অসারতা আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা দেখি যে, ইসলামের প্রসারের পর সেই একই গোত্রগুলোর মানুষ ইসলামের ছায়াতলে এসে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিল এবং তারা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও আলেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদি লক্ষ্য গণহত্যা হতো, তবে এই পুনর্গঠন এবং সামাজিক সংহতি সম্ভব হতো না। সুতরাং, আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং যুদ্ধনীতিশাস্ত্রের আলোকে মুইর, ওয়াট এবং মার্গোলিয়থের এই দাবিগুলো কেবলই একাডেমিক প্রতারণা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। সীরাতের প্রতিটি পৃষ্ঠা সাক্ষ্য দেয় যে, নবি কারীম সা. এর জীবন ছিল ন্যায়বিচার, দয়া এবং সর্বোচ্চ নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা কোনোভাবেই 'গণহত্যা'র সাথে সম্পর্কিত হতে পারে না। [9]