খণ্ড 92
ফন্ট:100%
থিম:

অধ্যায় ৬: ইসলামোফোবিয়ার জিনিয়ালজি এবং মিডিয়া হেজিমনি (Genealogy of Islamophobia and Media Hegemony)

ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-বিদ্বেষ কোনো আকস্মিক সামাজিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফসল। একে সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় 'জিনিয়ালজি' বা বংশগতিবিদ্যার আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে নির্মিত একটি কৃত্রিম ভীতি। এই ভীতি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘাত নয়, বরং এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসমষ্টির প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে তাদের প্রান্তিককরণের চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'মিডিয়া হেজিমনি' বা গণমাধ্যমের আধিপত্য, যা তথ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত স্বরূপকে আড়াল করে একটি বিকৃত প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করে।

ইসলামোফোবিয়ার তাত্ত্বিক কাঠামো এবং আধুনিক জাতীয়তাবাদের সংঘাত

ইসলামোফোবিয়ার মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ধরণের মনস্তাত্ত্বিক নির্মাণে, যেখানে ইসলামকে একটি ধর্ম হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আধুনিক যুগে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে যখন পশ্চিমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রগুলোতে 'জাতীয়তাবাদ' বা 'ন্যাশনালিজম'-কে একটি সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই জাতীয়তাবাদী চেতনা যখন ইসলামের বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববাদের সাথে সংঘাত করে, তখন তা ইসলামোফোবিয়ার জন্ম দেয়। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা যায়, জাতীয়তাবাদকে প্রায়শই ইসলামের বিপরীত মেরুতে স্থাপন করা হয়, যা মুসলিম পরিচয়কে 'বিদেশি' বা 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে।


وذلك هو داء العصر الحديث حتى في الجامعات العلمية حيث تظهر فكرة القومية كعنصر مضاد للإسلام.

উপরোক্ত ইবারতটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, আধুনিক যুগের একটি প্রধান ব্যাধি হলো বৈজ্ঞানিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও জাতীয়তাবাদের ধারণাকে ইসলামের বিরোধী উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করা [1] । এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম; এখানে ধর্মীয় বিতর্কের চেয়ে জাতিগত এবং রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বেশি প্রাধান্য পায়। যখন কোনো সমাজ তার নিজস্ব জাতীয় পরিচয়কে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তখন ইসলামের 'উম্মাহ' বা বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ধারণাটি তাদের কাছে একটি ভূ-রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ফলে, এই ভীতিকে পুঁজি করে ইসলামোফোবিয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়, যা সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে গেঁথে দেওয়া হয়।

এই কাঠামোগত বিদ্বেষের পেছনে কাজ করে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা। ইসলামোফোবিয়া কেবল অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় না, বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে সচেতনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যায়। যখন ইসলামের সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাম্যবাদী আদর্শ প্রচলিত পুঁজিবাদী বা জাতিবাদী কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই আদর্শকে 'চরমপন্থা' বা 'সহনশূন্যতা' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই সংজ্ঞায়নের প্রক্রিয়াই হলো ইসলামোফোবিয়ার জিনিয়ালজি, যা সত্যকে বিকৃত করে একটি কৃত্রিম বাস্তবতাকে প্রতিষ্ঠিত করে। [2]

মিডিয়া হেজিমনি: তথ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যারেটিভ নির্মাণ

মিডিয়া হেজিমনি বা গণমাধ্যমের আধিপত্য হলো ইসলামোফোবিয়া বিস্তারের প্রধান ইঞ্জিন। আধুনিক যুগে তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা যার হাতে থাকে, সে-ই বাস্তবতাকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষমতা পায়। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘকাল ধরে ইসলামের একটি নির্দিষ্ট 'ফ্রেম' তৈরি করেছে, যেখানে ইসলামের আধ্যাত্মিকতা, শান্তি এবং মানবিকতার দিকগুলো উপেক্ষিত থাকে এবং কেবল সংঘাতময় ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করা হয় যে, ইসলাম এবং আধুনিকতা পরস্পরবিরোধী।

গণমাধ্যমের এই আধিপত্যের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ আমরা দেখতে পাই যখন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো প্রভাবশালী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়। মিশরের সংবাদপত্রের ইতিহাসে 'আল-মুয়ায়্যিদ' (المؤيد) পত্রিকার সাথে যে সংঘাত হয়েছিল, তা মিডিয়া হেজিমমনির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় 'আন-নিল' (النيل) নামক একটি পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেবল এই উদ্দেশ্যে যে, যেন 'আল-মুয়ায়্যিদ'-এর প্রভাব হ্রাস করা যায় এবং জনমতকে ভিন্ন দিকে চালিত করা যায়।


ومما قام في طريق "المؤيد" من عقباتٍ أن استدعي المرحوم حسن باشا حسني، من الأستانة لينشأ صحيفةً تقوم مقام "المؤيد" لدى الرأي العام، كي يتقلص بها ظل "المؤيد" وتفقد رواجها وشهرتها.

এই ইবারতটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে একটি প্রভাবশালী ইসলামিক ন্যারেটিভকে মুছে ফেলার জন্য কৃত্রিমভাবে বিকল্প মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয় [3] । যদিও 'আল-মুয়ায়্যিদ' তার অবস্থান ধরে রেখেছিল এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য হয়েছিল, তবুও এই প্রচেষ্টাটি দেখায় যে, ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলো কীভাবে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে সত্যের কণ্ঠরোধ করতে চায়। বর্তমান যুগে এই কৌশলটি আরও উন্নত হয়েছে; এখন কেবল পত্রিকা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম এবং গ্লোবাল নিউজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়াকে একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। [4]

মিডিয়া হেজিমমনির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর 'সাইলেন্সিং' বা নীরব করার ক্ষমতা। যখন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, যেমন—মানুষের প্রতি দয়া, ন্যায়বিচার এবং পরোপকার নিয়ে আলোচনা হয়, তখন তা মূলধারার মিডিয়াতে স্থান পায় না। বিপরীতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ভুল ব্যাখ্যাকে বৈশ্বিক শিরোনাম করা হয়। এই অসম উপস্থাপনাটি একটি 'কগনিটিভ বায়াস' বা জ্ঞানীয় পক্ষপাত তৈরি করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ জানার সুযোগ পায় না এবং তারা গণমাধ্যমের তৈরি করা কৃত্রিম ভয়ের বশবর্তী হয়ে পড়ে।

জ্ঞানতাত্ত্বিক সংঘাত: বস্তুবাদী সভ্যতা বনাম আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান

ইসলামোফোবিয়ার একটি গভীরতর কারণ হলো জ্ঞানতাত্ত্বিক বা এপিস্টেমোলজিক্যাল সংঘাত। আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা মূলত বস্তুবাদী বিজ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণকে সত্য বলে স্বীকার করে। অন্যদিকে, ইসলাম একটি সমন্বিত জ্ঞানতত্ত্ব প্রদান করে, যেখানে বস্তুগত বিজ্ঞানের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান বা 'ইলম-ই-রূহ' (علوم الروح)-এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই দুই বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত যখন ঘটে, তখন বস্তুবাদী সভ্যতা আধ্যাত্মিকতাকে 'অন্ধবিশ্বাস' বা 'অযৌক্তিক' বলে আখ্যায়িত করে, যা পরোক্ষভাবে ইসলামোফোবিয়ার পথ প্রশস্ত করে।

ইসলামের শিক্ষা কেবল বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি অন্তরের অন্তর্দৃষ্টি বা 'ফؤاد' (হৃদয়)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে। আধুনিক বিজ্ঞান কেবল শ্রবণ এবং দর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি সভ্যতা গড়ে তুলেছে, যাকে 'সভ্যতা শ্রবণ ও দর্শন' (حضارة السمع والبصر) বলা যেতে পারে। কিন্তু ইসলাম এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মানুষের আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের কথা বলে।


فلتنـزوي حضارة السمع والبصر فإن نهايتها حثالة يتأفف منها القائمون على شأن النظافة في المدن الحديثة، ولتسمو علوم الروح، فإنها كلم طيب يصعد إلى الله مع الملائكة.

এই ইবারতটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল বস্তুবাদী ইন্দ্রিয়নির্ভর সভ্যতার পরিণতি হবে তুচ্ছ এবং মূল্যহীন, পক্ষান্তরে আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান হবে চিরস্থায়ী এবং পবিত্র [5] । ইসলামোফোবিয়ার প্রবক্তারা এই আধ্যাত্মিকতাকে দুর্বলতা বা মধ্যযুগীয় চিন্তা হিসেবে উপস্থাপন করে। তারা দাবি করে যে, ইসলাম আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, ইসলাম শুরু থেকেই শ্রবণ, দর্শন এবং হৃদয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে সত্য অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্দেহ ও অনুমানের পরিবর্তে নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। [6]

এই জ্ঞানতাত্ত্বিক সংঘাতটি যখন রাজনৈতিক রূপ নেয়, তখন তা 'সভ্য বনাম অসভ্য' (Civilized vs Uncivilized) এই দ্বান্দ্বিকতায় রূপ নেয়। বস্তুবাদী হেজিমনি নিজেদেরকে 'সভ্য' এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধসম্পন্ন মুসলিম সমাজকে 'পশ্চাৎপদ' হিসেবে চিহ্নিত করে। এই লেবেলিং-ই হলো ইসলামোফোবিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি। যখন একজন মানুষকে তার বিশ্বাসের কারণে 'অযৌক্তিক' বা 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের বৈষম্যকে যৌক্তিক বলে প্রচার করা সহজ হয়।

বিশ্বজনীন আহ্বান বনাম সংকীর্ণ ভীতি: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাসুলুল্লাহ সা.-এর দাওয়াত ছিল শুরু থেকেই বিশ্বজনীন (Universal)। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি, গোষ্ঠী বা ভূখণ্ডের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। এই বিশ্বজনীনতা বা 'আলামিয়াহ' (عالمية) ইসলামের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য, যা মানবজাতির সামগ্রিক মুক্তির কথা বলে। তবে এই বিশ্বজনীন আদর্শটিই অনেক সময় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর কাছে হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হয়, কারণ এটি জাতীয় সীমানা এবং জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের দেয়াল ভেঙে দেয়।

পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর কর্মপদ্ধতিতে এই বিশ্বজনীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়। মক্কী জীবনের শুরু থেকেই তিনি এই দাওয়াতকে বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন।


إن النصوص في القرآن الكريم تفيد مسألتين فيما يتعلق بعالمية الدعوة. المسألة الأولى: إن الرسول صلى الله عليه وسلم وهو ما زال في مكة أمر بتبليغ الدعوة عالميا. المسألة الثانية: إن القرآن نص في آيات عدة على أن الرسول صلى الله عليه وسلم للعالمين نذيرا.

এই ইবারতটি নিশ্চিত করে যে, ইসলামের দাওয়াত কেবল আরবদের জন্য ছিল না, বরং তা সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি সতর্কবাণী এবং রহমত [7] । যখন এই বিশ্বজনীন আদর্শটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন এটি বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। মিডিয়া হেজিমনি এই 'বিশ্বজনীন আহ্বান'-কে 'সাম্রাজ্যবাদ' বা 'আগ্রাসন' হিসেবে চিত্রিত করে। তারা ইসলামের শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাকে আড়াল করে একে একটি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে প্রচার করে, যা ইসলামোফোবিয়ার একটি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার।

ইসলামের এই বিশ্বজনীনতা কেবল ভৌগোলিক বিস্তারের কথা বলে না, বরং এটি মানুষের অন্তরের মুক্তি এবং আল্লাহর একত্বের (তৌহিদ) কথা বলে। এই তৌহিদ মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে কেবল এক আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে যায়। এই মুক্তি যখন মানুষকে সাহসী এবং আত্মমর্যাদাশীল করে তোলে, তখন তা স্বৈরাচারী এবং হেজিমোনিক শক্তির জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। ফলে, তারা মিডিয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামের এই মুক্তিদায়ী চরিত্রকে বিকৃত করে এবং একে 'চরমপন্থা'র সাথে যুক্ত করে। [8]

পরিশেষে, ইসলামোফোবিয়ার জিনিয়ালজি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগত প্রক্রিয়ার অংশ। মিডিয়া হেজিমনি, বস্তুবাদী জ্ঞানতত্ত্ব এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণে একটি কৃত্রিম ভীতি তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ইসলামের বিশ্বজনীন সত্যকে আড়াল করা এবং মুসলিম উম্মাহকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। এই যুদ্ধের মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় হলো ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি এবং এর বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক উপায়ে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা।

""
অধ্যায় ৬: ইসলামোফোবিয়ার জিনিয়ালজি এবং মিডিয়া হেজিমনি (Genealogy of Islamophobia and Media Hegemony)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

অধ্যায় ৬: ইসলামোফোবিয়ার জিনিয়ালজি এবং মিডিয়া হেজিমনি কুইজ

1 / 5

মিডিয়া হেজিমনি কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...