খণ্ড 96
ফন্ট:100%
থিম:

১৪.২৩ প্রাচ্যবিদ গ্রেগর শ্যুলারের 'সীরাতের উৎপত্তি' (The Genesis of Islamic Tradition) থিসিসের চ্যাপ্টার-বাই-চ্যাপ্টার ক্রিটিক

বিশ শতকের শেষভাগ এবং একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক সময়ে প্রাচ্যতত্ত্ব বা Orientalism-এর জগতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। প্রথাগত সংশয়বাদী (Skeptical) প্রাচ্যবিদগণ, যেমন গোল্ডজিহার বা শ্যাখট, ইসলামের প্রাথমিক ঐতিহ্য বা সীরাত ও হাদিসকে মূলত একটি কৃত্রিম নির্মাণ হিসেবে গণ্য করতেন। তবে জার্মান প্রাচ্যবিদ গ্রেগর শ্যুলার (Gregor Schoeler) তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ 'The Genesis of Islamic Tradition'-এর মাধ্যমে এই তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শ্যুলারের মূল গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসলামের প্রাথমিক যুগের মৌখিক ঐতিহ্য (Oral Tradition) এবং এর লিখিত রূপান্তরের (Written Codification) মধ্যকার জটিল ও সূক্ষ্ম সম্পর্ক। তিনি প্রথাগত সংশয়বাদকে চ্যালেঞ্জ করে দেখিয়েছেন যে, সীরাত ও হাদিসের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি কেবল লিখিত দলিলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত মৌখিক পরম্পরার ফসল।

শ্যুলারের এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে একটি মৌখিক সংস্কৃতি (Oral Culture) ধীরে ধীরে লিখিত নথির (Written Documents) স্তরে উন্নীত হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় 'সনদ' বা 'ইসম' (Ism/Name) এর ভূমিকা কী ছিল। তাঁর এই থিসিসটি কেবল ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহের বিষয় নয়, বরং এটি ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তনের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। তবে, তাঁর এই চ্যাপ্টার-ভিত্তিক বিশ্লেষণটি মুসলিম স্কলারদের কাছে যেমন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি তাঁর কিছু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর তাত্ত্বিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

মৌখিক ঐতিহ্য ও 'ইসম' (Ism) সংক্রান্ত তাত্ত্বিক কাঠামো ও শ্যুলারের বিশ্লেষণ

শ্যুলারের গবেষণার প্রথম ও প্রধান স্তম্ভ হলো ইসলামের প্রাথমিক যুগের 'মৌখিকতা' (Orality)। তিনি দাবি করেন যে, ইসলামের প্রথম দুই শতাব্দীতে সীরাত ও হাদিস কোনো বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো গল্প ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুশৃঙ্খল মৌখিক কাঠামো। তাঁর মতে, তৎকালীন জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশ ছিল এমন যেখানে তথ্য সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম ছিল স্মৃতিশক্তি এবং মৌখিক উচ্চারণ। শ্যুলার এখানে 'ইসম' বা নামের ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, কোনো একটি বক্তব্য বা ঘটনাকে যখন কোনো সাহাবি বা তাবেয়ীর নামে সম্বন্ধযুক্ত করা হতো, তখন সেটি কেবল একটি পরিচয় ছিল না, বরং তা ছিল সেই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বা 'Authenticity' নিশ্চিত করার একটি মৌখিক হাতিয়ার।

শ্যুলারের এই দৃষ্টিভঙ্গিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি প্রথাগত প্রাচ্যবিদদের সেই ধারণাটিকে খণ্ডন করে, যেখানে মনে করা হতো যে সীরাতের বর্ণনাগুলো কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত। শ্যুলার দেখিয়েছেন যে, মৌখিক পরম্পরাটি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও নিয়মনিষ্ঠ। এই বিষয়ে আলোচনার সময় আমরা দেখতে পাই যে, ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি কীভাবে গড়ে উঠেছিল। যেমনটি বলা হয়েছে:

تطبيق واضح وسلوك نقي وسنة مطهرة، وإذن فالدعوة الإسلامية هي مناط السعادة للناس جميعا
[1]
এই উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, সুন্নাহ ও দাওয়াতের এই বিশুদ্ধতা কেবল লিখিতভাবে নয়, বরং একটি জীবনধারা ও মৌখিক আচরণের মাধ্যমেও সংরক্ষিত ছিল। শ্যুলার তাঁর থিসিসে এই 'সুনাহ' বা আদর্শিক আচরণের মৌখিক সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটিকেই বিশ্লেষণ করেছেন।

তবে শ্যুলারের এই তাত্ত্বিক কাঠামোতে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, তিনি মৌখিক ঐতিহ্যের কাঠামোগত দিকটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এর আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে কিছুটা গৌণ করে ফেলেছেন। তিনি বিষয়টিকে অনেকটা সমাজতাত্ত্বিক বা ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে দেখেছেন, যেখানে ইসলামের 'সীরাত' বা নবি সা.-এর জীবনচরিত কেবল একটি ঐতিহাসিক তথ্য নয়, বরং একটি জীবন্ত ও পবিত্র ঐতিহ্য। শ্যুলার যেখানে মৌখিকতা ও লিখিততার মধ্যকার ব্যবধানকে একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, সেখানে মুসলিম ঐতিহাসিকগণ একে দেখেন একটি অবিচ্ছিন্ন ও সংরক্ষিত ঐশী ও নববী নির্দেশনার ধারা হিসেবে। এই বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনার জন্য আমরা দেখতে পারি যে, জ্ঞানচর্চার এই পদ্ধতিগত কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠেছিল [2]

সনদ ও বর্ণনাকারীদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট: একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ

শ্যুলারের গবেষণার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'সনদ' (Isnad) বা বর্ণনাক্রমের কার্যকারিতা। প্রথাগত প্রাচ্যবিদরা সনদকে কেবল একটি কৃত্রিম পদ্ধতি হিসেবে দেখতেন যা পরবর্তীকালে হাদিস জাল করার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু শ্যুলার একটি ভিন্নধর্মী ও অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সনদ বা বর্ণনাক্রম ছিল মৌখিক ঐতিহ্যের একটি 'Cognitive Anchor' বা জ্ঞানতাত্ত্বিক নোঙর। অর্থাৎ, একজন বর্ণনাকারী যখন তাঁর উস্তাদ বা সাহাবির নাম উল্লেখ করতেন, তখন তা শ্রোতার মনে সেই তথ্যের উৎস সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ধারণা তৈরি করত।

শ্যুলার তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, এই সনদ ব্যবস্থা কেবল একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না, বরং এটি ছিল বর্ণনাকারীদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মর্যাদার অংশ। একজন বর্ণনাকারী যখন তাঁর উস্তাদের নাম উল্লেখ করতেন, তখন তিনি মূলত সেই জ্ঞানের পরম্পরার সাথে নিজেকে সংযুক্ত করছিলেন। তবে শ্যুলারের এই বিশ্লেষণে একটি তাত্ত্বিক ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি সনদের 'তাত্ত্বিক কাঠামো' ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এর 'তাকীদ' বা যাচাইকরণ পদ্ধতির (Jarh wa Ta'dil) গভীরতা ও কঠোরতাকে কিছুটা উপেক্ষা করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের যে সূক্ষ্ম ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছিল, তা শ্যুলারের বিশ্লেষণে কেবল একটি সামাজিক সংযোগ হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সনদ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। যেমনটি আমরা দেখতে পাই:

ثمّ عن: الأوزاعيّ، والثَّوْريّ، وشُعْبة، ومالك، واللَّيث، وابن لَهِيعَة، والحمادين، وطبقتهم
[3]
এই উদ্ধৃতিটি প্রমাণ করে যে, ইমাম মালিক, আওজায়ী এবং শু'বা রহ.-এর মতো মহান ইমামদের মাধ্যমে যে জ্ঞানধারা প্রবাহিত হয়েছে, তা কেবল মৌখিক নয়, বরং একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও শ্রেণীবদ্ধ জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তরবিন্যাস। শ্যুলার এই স্তরবিন্যাসকে 'মৌখিকতা থেকে লিখিততার উত্তরণ' হিসেবে দেখলেও, মুসলিম ঐতিহাসিকদের কাছে এটি ছিল একটি অবিচ্ছিন্ন ও সংরক্ষিত 'ইলম' বা জ্ঞান। শ্যুলারের এই দৃষ্টিভঙ্গিটি মূলত প্রাচ্যবিদদের সেই পুরোনো ধারণাটিকে সংশোধন করলেও, এটি ইসলামের 'ইলমুল হাদিস' বা হাদিস শাস্ত্রের যে কঠোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, তাকে পুরোপুরি ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে [4]

লিখিত রূপান্তর ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তন: শ্যুলারের 'Transition Theory' এর সীমাবদ্ধতা

শ্যুলারের থিসিসের তৃতীয় ও অন্যতম বিতর্কিত অংশ হলো ইসলামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তন। তিনি দাবি করেন যে, এই সময়েই মৌখিক ঐতিহ্যটি লিখিত নথিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করে। তাঁর মতে, এই রূপান্তরটি ছিল একটি 'Evolutionary Process' বা বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া, যেখানে মৌখিক তথ্যগুলো ধীরে ধীরে সংকলিত হয়ে বইয়ের আকারে আসতে থাকে। শ্যুলার এই প্রক্রিয়াটিকে একটি 'Geopolitical Necessity' বা ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, যেখানে বিশাল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতার জন্য লিখিত নথির প্রয়োজন ছিল।

শ্যুলারের এই 'Transition Theory' বা রূপান্তর তত্ত্বটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও এটি কিছু মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। প্রথমত, তিনি লিখিত রূপান্তরের সময়কালকে একটি নির্দিষ্ট বিবর্তনীয় ধারা হিসেবে দেখলেও, ইসলামের ইতিহাসে 'সুনাহ' ও 'সীরাত' এর লিখিত রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি ছিল অনেক বেশি বহুমুখী। অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক ঐতিহ্য এবং লিখিত দলিল একই সাথে সমান্তরালভাবে কাজ করত। শ্যুলার যেখানে একটি 'Shift' বা পরিবর্তনের কথা বলেছেন, সেখানে প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি 'Integration' বা সমন্বয় প্রক্রিয়া।

দ্বিতীয়ত, শ্যুলার লিখিত রূপান্তরের ক্ষেত্রে যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি ইসলামের নিজস্ব 'শিক্ষা পদ্ধতি' বা 'Madrasah System'-এর প্রভাবকে কিছুটা অবমূল্যায়ন করেছেন। ইসলামের জ্ঞানচর্চার এই পদ্ধতিগত উৎকর্ষতা ছিল অত্যন্ত গভীর। যেমনটি বলা হয়েছে:

فالثقافة هي تلك الكتلة نفسها، بما تتضمنها من عادات متجانسة وعبقريات متقاربة، وتقاليد متكاملة وأذواق متناسبة
[5]
এই উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, সংস্কৃতি ও জ্ঞান কেবল একটি বিবর্তনীয় পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি সুসংগত ও সমন্বিত ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। শ্যুলার যেখানে পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন, সেখানে মুসলিম ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি ছিল এই 'সমন্বিত ঐতিহ্য' বা 'Integrated Tradition'। তাঁর এই তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতাটি মূলত প্রাচ্যবিদদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উদ্ভূত, যেখানে তারা ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তনকে কেবল একটি বাহ্যিক বা সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে দেখতে চায়, এর অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক ও পদ্ধতিগত দৃঢ়তাকে নয় [6]

প্রাচ্যবিদ্যায় পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা ও শ্যুলারের গবেষণার সামগ্রিক মূল্যায়ন

গ্রেগর শ্যুলারের 'The Genesis of Islamic Tradition' নিঃসন্দেহে প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি প্রথাগত সংশয়বাদীদের সেই অযৌক্তিক দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, ইসলামের প্রাথমিক ঐতিহ্যগুলো কেবল রাজনৈতিক বা কাল্পনিক উপাখ্যান। শ্যুলার দেখিয়েছেন যে, ইসলামের মৌখিক ঐতিহ্যটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, পদ্ধতিগত এবং এর একটি নিজস্ব জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামো ছিল। তাঁর এই কাজটি প্রাচ্যবিদদের গবেষণার মানদণ্ডকে উন্নত করেছে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশ সম্পর্কে একটি নতুন ও অপেক্ষাকৃত বস্তুনিষ্ঠ ধারণা প্রদান করেছে।

তবে, শ্যুলারের গবেষণার সামগ্রিক পর্যালোচনায় কিছু মৌলিক ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো তাঁর 'Functionalist' বা 'Sociological' দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি ইসলামের সীরাত ও হাদিস চর্চাকে মূলত একটি সামাজিক ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন, যার ফলে এর ধর্মীয় ও পবিত্রতা সংক্রান্ত (Sacredness) দিকটি তাঁর তাত্ত্বিক কাঠামোয় কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। শ্যুলার যেখানে মৌখিকতা থেকে লিখিততার একটি 'বিবর্তন' বা 'Shift' দেখিয়েছেন, সেখানে মুসলিম স্কলারদের দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি 'Preservation' বা সংরক্ষণের নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

পরিশেষে বলা বাহুল্য যে, শ্যুলারের এই গবেষণাটি প্রাচ্যবিদদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও, এটি ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়নি। তাঁর গবেষণার সীমাবদ্ধতাগুলো মূলত প্রাচ্যবিদদের সেই চিরন্তন দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন, যেখানে তারা ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তনকে কেবল বাহ্যিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করতে চায়, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ 'Methodological Rigor' বা পদ্ধতিগত কঠোরতাকে উপেক্ষা করে [7] । শ্যুলারের কাজটিকে একটি সংশোধনীমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত, যা ইসলামের ইতিহাস চর্চায় নতুন আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে, তবে একে চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গ সত্য হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয় [8]

""
১৪.২৩ প্রাচ্যবিদ গ্রেগর শ্যুলারের 'সীরাতের উৎপত্তি' (The Genesis of Islamic Tradition) থিসিসের চ্যাপ্টার-বাই-চ্যাপ্টার ক্রিটিক
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১৪.২৩ প্রাচ্যবিদ গ্রেগর শ্যুলারের 'সীরাতের উৎপত্তি' কুইজ

1 / 5

গ্রেগর শ্যুলারের গবেষণার মূল ফোকাস কী ছিল?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...