খণ্ড 78
ফন্ট:100%
থিম:

অধ্যায় ১০: সন্ধিবিদ্যা, প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডা এবং আন্তর্জাতিক আইন (Treaty-making, Pacta Sunt Servanda, and International Law - Siyar)

মানব সভ্যতার ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত নিরসনে আইনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে 'আন্তর্জাতিক আইন' (International Law) বলা হয়, ইসলামের উচ্চতর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আইনি কাঠামোয় তাকে 'সিয়ার' (Siyar) হিসেবে অভিহিত করা হয়। সিয়ার কেবল যুদ্ধের নিয়মাবলি নয়, বরং এটি শান্তি ও যুদ্ধের উভয় অবস্থায় রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক আচরণ, চুক্তি রক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি সুসংহত ও নৈতিক বিধান। ইসলামের এই আন্তর্জাতিক আইন বা সিয়ারের মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা এবং ঐশ্বরিক দায়বদ্ধতা, যা আধুনিক প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডা (Pacta Sunt Servanda) বা 'চুক্তি অবশ্যই পালনীয়'—এই নীতিমালার চেয়েও অনেক বেশি গভীর ও আধ্যাত্মিক।

সিয়ারের দার্শনিক ভিত্তি ও প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডার ঐশ্বরিক স্বরূপ

আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো 'প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডা' (Pacta Sunt Servanda), যার অর্থ হলো সম্পাদিত চুক্তি বা সন্ধি অবশ্যই পালন করতে হবে। তবে পশ্চিমা আইনি দর্শনে এই নীতিটি মূলত একটি রাজনৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। পক্ষান্তরে, ইসলামি সিয়ারে চুক্তির প্রতি আনুগত্য কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য ইবাদত এবং মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। একজন মুসলিম বা একটি ইসলামি রাষ্ট্র যখন কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তখন সেই চুক্তিটি কেবল মানুষের সাথে নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহর সাথে সম্পাদিত একটি অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য হয়।

পবিত্র কুরআনে চুক্তির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং বারবার নির্দেশিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كانَ مَسْؤُلًا
ইসরা: ৩৪">[1] । এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রতিটি চুক্তি বা অঙ্গীকারের জন্য মানুষকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। অর্থাৎ, চুক্তির লঙ্ঘন কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর পাপ। আল্লাহ তাআলা আরও নির্দেশ দিয়েছেন:
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذا عاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الْأَيْمانَ بَعْدَ تَوْكِيدِها وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ ما تَفْعَلُونَ
[2] । এখানে আল্লাহ নিজেই চুক্তির গ্যারান্টার বা জামিনদার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন, যা চুক্তির গুরুত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে [3]

ইসলামি আইনবিদদের মতে, চুক্তির প্রতি এই অবিচলতা কেবল যুদ্ধের সময় বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নয়, বরং শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থায়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। যারা চুক্তি ভঙ্গ করে, তাদের সম্পর্কে কুরআনে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন:

الَّذِينَ عاهَدْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ يَنْقُضُونَ عَهْدَهُمْ فِي كُلِّ مَرَّةٍ وَهُمْ لا يَتَّقُونَ
[4] । এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে, বারবার চুক্তি ভঙ্গ করা এবং আল্লাহর ভয় না রাখা মূলত মানবতা ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হওয়ার লক্ষণ [5] । সুতরাং, ইসলামের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হলো 'আমানত' বা বিশ্বস্ততা, যা আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে প্রায়শই অনুপস্থিত থাকে।

ঐতিহাসিক প্রয়োগ: হুদায়বিয়ার সন্ধি ও চুক্তির নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব

ইসলামি সিয়ারের প্রয়োগিক শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও তাঁর গৃহীত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। হুদায়বিয়ার সন্ধি (Treaty of Hudaybiyyah) ছিল ইসলামের ইতিহাসে চুক্তির প্রতি আনুগত্যের এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। এই সন্ধির শর্তাবলি আপাতদৃষ্টিতে মুসলিমদের জন্য প্রতিকূল মনে হলেও, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন।

এই সন্ধির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্ত ছিল যখন আবু জান্দাল বিন সুহাইল বিন আমর, যিনি মক্কার কুরাইশদের পক্ষ থেকে চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর পুত্র হিসেবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। আবু জান্দালের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়; তিনি কুরাইশদের অত্যাচারের শিকার হয়ে মক্কার সীমানা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। সন্ধির শর্ত অনুযায়ী, মক্কার কোনো ব্যক্তি যদি মদিনায় আশ্রয় নিতে চায়, তবে তাকে কুরাইশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্রুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুক্তির প্রতি অবিচল থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি আবু জান্দালকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:

«يا أبا جندل اصبر واحتسب فإن الله جاعل لك ولمن معك من المستضعفين فرجا ومخرجا، إنا قد عقدنا بيننا وبين القوم صلحا، وأعطيناهم على ذلك وأعطونا عهد الله، وإنا لا نغدر بهم»
[6]
অনুবাদ: "হে আবু জান্দাল! ধৈর্য ধারণ করো এবং সওয়াবের আশা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার এবং তোমার সাথে থাকা দুর্বলদের জন্য মুক্তির পথ তৈরি করে দেবেন। আমরা এই সম্প্রদায়ের সাথে একটি সন্ধি করেছি এবং এর বিনিময়ে আমরা আল্লাহর অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি; আমরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।"

এই ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল একটি মহৎ নৈতিক শিক্ষা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রমাণ করেছিলেন যে, এমনকি চরম ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ক্ষতির সম্মুখীন হলেও একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সন্ধি ভঙ্গ করা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইসলামি রাষ্ট্র কেবল শক্তির দাপটে নয়, বরং চুক্তির প্রতি অবিচলতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় [7]

অনুরূপভাবে, হুজায়ফা বিন আল-ইয়ামান রা. এবং তাঁর পিতার ঘটনাটি চুক্তির প্রতি ইসলামের কঠোরতা ও নিষ্ঠার আরেকটি প্রমাণ। কুরাইশদের হাতে বন্দি হওয়ার পর তারা একটি অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা মদিনায় ফিরে যাবে কিন্তু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। যখন তারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে বিষয়টি জানালেন, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নির্দেশ দিলেন:

«انصرفا، نفي لهم بعهدهم ونستعين الله عليهم»
[8]
অনুবাদ: "তোমরা ফিরে যাও, আমরা তাদের দেওয়া অঙ্গীকার পূর্ণ করব এবং তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করব।" এই ঘটনাটি নিশ্চিত করে যে, শত্রুর সাথে করা চুক্তিও মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক [9]

কূটনৈতিক সুরক্ষা ও দূতদের মর্যাদা (Diplomatic Immunity)

আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনে 'ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি' বা কূটনৈতিক সুরক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। ইসলামি সিয়ারে এই ধারণাটি শত শত বছর আগে অত্যন্ত সুসংহতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শত্রুপক্ষের দূত বা বার্তাবাহকদের নিরাপত্তা প্রদান করা একটি অপরিহার্য আইনি বাধ্যবাধকতা। এমনকি যদি সেই দূত অত্যন্ত অবমাননাকর বা উস্কানিমূলক বার্তা নিয়ে আসে, তবুও তাঁর জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের মৌলিক নীতি।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায় পারস্য সম্রাট কিসরা (Khusrau) এর ক্ষেত্রে। হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের দাওয়াত ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দূত প্রেরণ করেছিলেন। কিসরা যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রটি অত্যন্ত অবজ্ঞার সাথে ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁকে বন্দী করার নির্দেশ দেন, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ধৈর্য ও মর্যাদার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। কিসরার পাঠানো দূতদ্বয় যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি তাঁদের বন্দী না করে বরং তাঁদের নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে বিদায় দেন। এটি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক শত্রুতা থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রমণ করা ইসলামি সিয়ারের পরিপন্থী [10]

একইভাবে, মিথ্যাবাদী মুসায়লিমা আল-কাজ্জাবের দূতদের ক্ষেত্রেও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ ছিল বিস্ময়কর। মুসায়লিমা যখন অত্যন্ত উদ্ধত ও অবমাননাকর বার্তা পাঠিয়েছিল, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্রোধ হওয়া স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেছিলেন:

«أما والله لولا أن الرسل لا تقتل لضربت أعناقكما»
[11]
অনুবাদ: "আল্লাহর কসম! যদি দূতদের হত্যা করা নিষিদ্ধ না হতো, তবে আমি তোমাদের শিরশ্ছেদ করতাম।"
এই উক্তিটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, দূতদের হত্যা করা ইসলামি আইনে নিষিদ্ধ। এটি কেবল একটি শিষ্টাচার নয়, বরং এটি একটি সুসংহত আইনি নীতি যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক 'ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস'-এর চেয়েও অনেক বেশি প্রাচীন ও কার্যকর [12]

ইসলামি সিয়ার বনাম পশ্চিমা আন্তর্জাতিক আইন: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

আধুনিক পশ্চিমা আন্তর্জাতিক আইন বা 'পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল' (Public International Law) মূলত ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে এবং ঔপনিবেশিক স্বার্থ রক্ষায় বিকশিত হয়েছে। পশ্চিমা আইনবিদদের অনেক চিন্তাধারা ছিল বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক। উদাহরণস্বরূপ, উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা আইনবিদরা পৃথিবীকে 'সভ্য' (Civilized), 'অর্ধ-সভ্য' (Semi-civilized) এবং 'অসভ্য' (Uncivilized)—এই তিন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। তাদের মতে, সভ্য জাতিগুলোর পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার থাকলেও অসভ্য বা আদিম জাতিগুলোর কোনো আইনি সুরক্ষা ছিল না [13]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অব নেশনস (League of Nations) গঠিত হলেও তা মূলত বিজয়ী মিত্রশক্তিদের স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্বল জাতিগুলোর ওপর 'ম্যান্ডেট' (Mandate) বা 'প্রটেক্টরেট' (Protectorate) ব্যবস্থার মাধ্যমে উপনিবেশ স্থাপনের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পশ্চিমা আন্তর্জাতিক আইন প্রায়শই কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এটি জাতিসমূহের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ এর মূল ভিত্তি ছিল নৈতিকতা নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ [14]

এর বিপরীতে, ইসলামি সিয়ার বা আন্তর্জাতিক আইন কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা জাতিগত স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। এটি একটি সার্বজনীন ও নৈতিক কাঠামো, যা সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ইসলামি সিয়ারে কোনো জাতিকে 'অসভ্য' বলে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই; বরং প্রতিটি জাতির সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, চুক্তি রক্ষা এবং কূটনৈতিক মর্যাদার বিষয়টি বাধ্যতামূলক। ইমাম মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-শায়বানী (রহ.)-এর মতো প্রখ্যাত আইনবিদরা বহু শতাব্দী আগেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত উন্নত ও বাস্তবমুখী [15] । ইসলামি সিয়ারের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যা আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের বহু সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে একটি আদর্শিক ও নৈতিক ভিত্তি প্রদান করে [16]

""
অধ্যায় ১০: সন্ধিবিদ্যা, প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডা এবং আন্তর্জাতিক আইন (Treaty-making, Pacta Sunt Servanda, and International Law - Siyar)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

অধ্যায় ১০: সন্ধিবিদ্যা, প্যাক্টা সুন্ট সারভান্ডা এবং আন্তর্জাতিক আইন (Treaty-making, Pacta Sunt Servanda, and International Law - Siyar) কুইজ

1 / 5

ইসলামি আন্তর্জাতিক আইন বা সিয়ারের মূল ভিত্তি কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...