খণ্ড 51
ফন্ট:100%
থিম:

পরিশিষ্ট ১৬: মাইনরিটি রাইটস (Minority Rights): জিযয়া ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিক ওরিয়েন্টালিস্টদের (Orientalists) অপপ্রচারের অ্যাকাডেমিক ও ঐতিহাসিক জবাব

পরিশিষ্ট ১৬: মাইনরিটি রাইটস (Minority Rights): জিযয়া ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিক ওরিয়েন্টালিস্টদের (Orientalists) অপপ্রচারের অ্যাকাডেমিক ও ঐতিহাসিক জবাব

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে 'জিযয়া' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ বহুল আলোচিত আইনতাত্ত্বিক বিষয়। আধুনিক ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ এবং ইসলাম-বিদ্বেষী গবেষকগণ জিযয়া ব্যবস্থাকে একটি 'দমনমূলক কর' বা 'মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার হাতিয়ার' হিসেবে উপস্থাপন করে বিশ্বজুড়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে ঐতিহাসিক দলিল, কুরআন ও সুন্নাহর যথাযথ তাফসীর এবং ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, জিযয়া কোনো ধর্মীয় নিপীড়নের মাধ্যম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা চুক্তি এবং নাগরিক অধিকারের একটি বিশেষ রূপ। এই পরিশিষ্টে আমরা ওরিয়েন্টালিস্টদের উত্থাপিত সংশয়গুলোর অ্যাকাডেমিক খণ্ডন এবং জিযয়ার প্রকৃত ঐতিহাসিক ও আইনতাত্ত্বিক স্বরূপ বিশ্লেষণ করব।

জিযয়ার আইনতাত্ত্বিক প্রকৃতি: ধর্মীয় কর বনাম নিরাপত্তা কর

আধুনিক সমালোচকদের প্রধান দাবি হলো, জিযয়া ছিল অমুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি শাস্তিমূলক কর, যা তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ইসলামি আইনতত্ত্ব বা ফিকহ শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, জিযয়া মূলত একটি 'প্রোটেকশন ট্যাক্স' বা নিরাপত্তা কর। ইসলামি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কেবল মুসলিমরা অংশগ্রহণ করত, কারণ জিহাদ একটি ধর্মীয় ইবাদত এবং দায়িত্ব। অন্যদিকে, অমুসলিম নাগরিকরা (ধিম্মীরা) এই সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেত। বিনিময়ে তারা রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করত, যাতে রাষ্ট্র তাদের জীবন, সম্পদ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এটি আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের 'কলেক্টিভ সিকিউরিটি' (Collective Security) ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে যারা সরাসরি সামরিক সেবায় নিয়োজিত নয়, তারা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখে।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, জিযয়া সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো না। এটি কেবল সক্ষম এবং যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন পুরুষদের ওপর প্রযোজ্য ছিল। ইমাম কুরতুবী রহ. এবং অন্যান্য প্রথিতযশা মুফাসসিরগণের মতে, জিযয়া কেবল তাদের কাছ থেকে নেওয়া হতো যারা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করতে সক্ষম। এই বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে একমত বা ইজমা বিদ্যমান। আল-মুফাসসাল গ্রন্থে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

قال القرطبي: "قال علماؤنا: الذي دل عليه القرآن أن الجزية تؤخذ من المقاتلين... وهذا إجماع من العلماء على أن الجزية إنما توضع على ..." [1] উপরোক্ত ইবারত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, সন্ন্যাসী বা অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের কাছ থেকে জিযয়া নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। যদি কোনো অমুসলিম নাগরিক স্বেচ্ছায় ইসলামি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিত, তবে তার কাছ থেকে জিযয়া রহিত করে দেওয়া হতো। এই ঐতিহাসিক সত্যটি ওরিয়েন্টালিস্টরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এড়িয়ে যান, যাতে তারা জিযয়াকে একটি সর্বজনীন নিপীড়ন হিসেবে দেখাতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, এটি ছিল একটি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা, যেখানে নাগরিক দায়িত্বের বিকল্প হিসেবে আর্থিক অবদান নিশ্চিত করা হয়েছিল [2]

'সাগিরুন' (صاغرون) শব্দের রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

ওরিয়েন্টালিস্টদের অন্যতম প্রধান আক্রমণের লক্ষ্য হলো সূরা আত-তাওবাহর ২৯ নম্বর আয়াতের একটি শব্দ—'সাগিরুন' (صاغرون)। তারা দাবি করেন যে, এই শব্দের অর্থ হলো অমুসলিমদেরকে 'লাঞ্ছিত' বা 'অপমানিত' করা। তাদের মতে, জিযয়া আদায়ের সময় অমুসলিমদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যাতে তারা নিজেদের তুচ্ছ মনে করে। তবে ভাষাতাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, 'সাগিরুন' শব্দের অর্থ এখানে ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং এটি ছিল 'রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি আনুগত্য' (Submission to the Law of the Land) প্রকাশ করা। যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিককে সেই রাষ্ট্রের আইন ও সার্বভৌমত্বের সামনে মাথা নত করতে হয়; একে রাজনৈতিক পরিভাষায় 'Political Submission' বলা হয়।

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় জিযয়া প্রদানের মাধ্যমে অমুসলিম নাগরিকরা এই স্বীকৃতি দিত যে, তারা ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়েছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ের অধীনে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এই আনুগত্যের বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার প্রদান করত। ঐতিহাসিক দলিলগুলোতে দেখা যায়, খলিফাদের যুগে জিযয়া আদায়ের সময় কোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হতো না। বরং যদি রাষ্ট্র অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হতো, তবে সংগৃহীত জিযয়া অর্থ তাদের ফেরত দেওয়া হতো। এটি প্রমাণ করে যে, জিযয়া কোনো অপমানজনক কর ছিল না, বরং এটি ছিল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ [3]

মনস্তাত্ত্বিকভাবে, 'সাগিরুন' শব্দটির প্রয়োগ ছিল মূলত সেইসব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। যারা যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য এই আনুগত্যের স্বীকৃতি ছিল একটি রাজনৈতিক বার্তা। সাধারণ শান্তিপ্রিয় অমুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ ছিল কেবল আইনি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, ওরিয়েন্টালিস্টদের 'লাঞ্ছনা' তত্ত্বটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি কেবল শব্দের ভুল ব্যাখ্যা বা উদ্দেশ্যমূলক বিকৃতির ফসল [4]

'দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই' এবং জিযয়ার সামঞ্জস্যতা

একটি প্রচলিত সংশয় হলো, কুরআনের আয়াত "লা ইকরাহা ফিদ-দীন" (দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই) এবং জিযয়া ব্যবস্থার মধ্যে আপাত বৈপরীত্য। সমালোচকদের দাবি, যদি ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা না হয়, তবে কেন অমুসলিমদের ওপর কর চাপিয়ে দেওয়া হবে? এই যুক্তির বিপরীতে ইসলামি আইনতাত্ত্বিকগণ অত্যন্ত যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। প্রথমত, জিযয়া কোনো ধর্মীয় কর নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর। দ্বিতীয়ত, জিযয়া প্রদান করা মানেই এই নয় যে ব্যক্তিকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বরং জিযয়ার মাধ্যমেই অমুসলিমরা তাদের নিজস্ব ধর্ম পালনের আইনি অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা লাভ করে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ইসলামে বিশ্বাসের স্বাধীনতা কতখানি গুরুত্ব পেয়েছে। শেখ মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার রহ. তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মাঝে ছয়টি প্রধান মত রয়েছে। কেউ কেউ একে মানসুখ (রহিত) বলেছেন, তবে অধিকাংশের মতে এটি একটি চিরন্তন মূলনীতি যে, ঈমান কেবল অন্তরের বিষয় এবং তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

الرد على الشبهة الأولى وهي قولهم: {لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ} [5] أن نقول: إن هذه الآية فيها ستة أقوال عند المفسرين: فمنهم من قال: هذه الآية منسوخة، وهو ... [6] সুতরাং, জিযয়া ব্যবস্থা এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। বরং জিযয়া ছিল সেই ব্যবস্থার আইনি কাঠামো, যার মাধ্যমে একজন অমুসলিম নাগরিক তার ধর্ম ত্যাগ না করেই ইসলামি রাষ্ট্রের পূর্ণ নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারত। যদি ইসলামে জবরদস্তি থাকত, তবে জিযয়ার পরিবর্তে সবাইকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হতো। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামি শাসনে অমুসলিমরা তাদের গির্জা, সিনাগগ এবং নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল [7]

আধুনিক নাগরিক অধিকারের সাথে জিযয়া ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, জিযয়া ব্যবস্থাটি বর্তমান যুগের 'ট্যাক্সেশন' (Taxation) এবং 'মিলিটারি সার্ভিস' (Military Service) এর একটি সমন্বিত রূপ ছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে প্রতিটি নাগরিককে কর দিতে হয় এবং অনেক দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা (Conscription) পালন করতে হয়। যারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পায়, তাদের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ ফি বা কর প্রদান করতে হয়। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় জিযয়া ছিল ঠিক তেমনই একটি ব্যবস্থা। মুসলিমরা তাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে জিহাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করত, আর অমুসলিমরা আর্থিক অবদানের মাধ্যমে সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নিত।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, জিযয়া ছিল একটি 'সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট' বা সামাজিক চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় অমুসলিম নাগরিকরা (ধিম্মীরা) রাষ্ট্র থেকে নিম্নোক্ত অধিকারগুলো লাভ করত:

জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা:

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তাদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করত।

ধর্মীয় স্বাধীনতা:

তাদের নিজস্ব ধর্ম পালন এবং উপাসনালয় রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল।

বিচারিক স্বায়ত্তশাসন:

পারিবারিক এবং ধর্মীয় বিষয়ে তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী বিচার পাওয়ার সুযোগ পেত।

সামাজিক নিরাপত্তা:

বৃদ্ধাবস্থায় বা অক্ষম হলে রাষ্ট্র তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিত, এমনকি তারা অমুসলিম হলেও।

ওরিয়েন্টালিস্টরা যখন জিযয়াকে 'নিপীড়ন' বলেন, তারা আসলে এই বিশাল অধিকারের কথা গোপন করেন। আধুনিক যুগের কর ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে জিযয়ার চেয়ে বেশি কঠোর, কারণ এখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রায় সবাই কর দিতে বাধ্য এবং কর না দিলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু জিযয়া ব্যবস্থায় কেবল সক্ষম পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হতো এবং অক্ষমদের জন্য ছিল পূর্ণ অব্যাহতি [8]

ওরিয়েন্টালিস্টদের অপপ্রচারের ব্যবচ্ছেদ ও ঐতিহাসিক সত্য

আধুনিক প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ মূলত মধ্যযুগীয় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ভুল অনুবাদকে ভিত্তি করে জিযয়া সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছেন। তারা ইসলামের স্বর্ণযুগের সেই দলিলগুলো এড়িয়ে যান যেখানে খলিফাদের নির্দেশ ছিল যে, কোনো ধিম্মীর ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে জিযয়া চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো অমুসলিম নাগরিকের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, তবে খলিফারা অনেক সময় তাদের জিযয়া মওকুফ করে দিতেন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বায়তুল মাল) থেকে তাদের ভাতা প্রদান করতেন। এটি কি কোনো নিপীড়নের লক্ষণ, নাকি চরম মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ?

ঐতিহাসিক সত্য এই যে, জিযয়া ব্যবস্থাটি ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এবং ন্যায়সঙ্গত মাইনরিটি রাইটস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। রোমান বা পারসিয়ান সাম্রাজ্যে অমুসলিম বা ভিন্নমতাবলম্বীদের যে অবস্থা ছিল, তার তুলনায় ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমরা অনেক বেশি নিরাপদ ও সম্মানিত ছিল। ওরিয়েন্টালিস্টদের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে একটি 'সহনশূন্য' ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা, যাতে আধুনিক বিশ্বে ইসলামের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পায়। কিন্তু যখন আমরা [9] এবং [10] এর মতো গবেষণাধর্মী উৎসগুলো বিশ্লেষণ করি, তখন দেখা যায় যে জিযয়া ছিল ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের একটি অনন্য দলিল।

পরিশেষে বলা যায় না যে এটি কেবল একটি কর ছিল, বরং এটি ছিল একটি ভূ-রাজনৈতিক কৌশল যা বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার একটি রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল। জিযয়া ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল অমুসলিমদের সুরক্ষা দেওয়া, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। যারা একে 'লাঞ্ছনা' হিসেবে দেখেন, তারা আসলে ইসলামি আইনের গভীরতা এবং এর মানবিক দিকগুলো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা গোপন করেছেন। এই ব্যবস্থার প্রতিটি দিক ছিল যুক্তিগ্রাহ্য, ন্যায়সঙ্গত এবং তৎকালীন সময়ের তুলনায় অত্যন্ত প্রগতিশীল।

""
পরিশিষ্ট ১৬: মাইনরিটি রাইটস (Minority Rights): জিযয়া ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিক ওরিয়েন্টালিস্টদের (Orientalists) অপপ্রচারের অ্যাকাডেমিক ও ঐতিহাসিক জবাব
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

পরিশিষ্ট ১৬: মাইনরিটি রাইটস (Minority Rights): জিযয়া ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিক ওরিয়েন্টালিস্টদের (Orientalists) অপপ্রচারের অ্যাকাডেমিক ও ঐতিহাসিক জবাব কুইজ

1 / 5

পরিশিষ্ট ১৬-এ কোন ব্যবস্থার কথা আলোচিত হয়েছে?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...