খণ্ড 84
ফন্ট:100%
থিম:

১১.৩ পরিত্যক্ত শিশু (Foundling/Laqeet): রাস্তার কুড়ানো শিশুর রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন এবং নাগরিক অধিকার প্রদান

মানব সভ্যতার ইতিহাসে 'লাকীত' বা পরিত্যক্ত শিশু (Foundling) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল সামাজিক ও আইনি বিষয়। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে বা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে পরিত্যক্ত শিশুদের সামাজিক মর্যাদা ছিল অত্যন্ত নগণ্য; অনেক ক্ষেত্রে তাদের অস্তিত্বের সংকট ছিল চরম এবং তাদের জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। তবে ইসলামের আগমনের পর এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ইসলাম কেবল একটি ধর্মীয় জীবনবিধান হিসেবে আসেনি, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও আইনি কাঠামো প্রদান করেছে, যেখানে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। পরিত্যক্ত শিশু বা 'লাকীত' হলো সেই শিশু, যার কোনো পরিচিত অভিভাবক বা বংশীয় পরিচয় (Nasab) নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে, এই শিশুদের অভিভাবকত্ব বা 'বেলায়েত' (Guardianship) সরাসরি রাষ্ট্রের বা বায়তুল মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) ওপর ন্যস্ত হয়।

একটি শিশুর জন্য তার বংশীয় পরিচয় বা 'নাসাব' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তার আইনি অধিকার, উত্তরাধিকার এবং সামাজিক অবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। পরিত্যক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এই 'নাসাব' বা বংশীয় পরিচয় অনুপস্থিত থাকায় তারা একটি আইনি শূন্যতার (Legal Vacuum) সম্মুখীন হয়। এই শূন্যতা পূরণে ইসলাম একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে, যেখানে রাষ্ট্র কেবল তাদের আশ্রয়ই দেয় না, বরং তাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র একটি 'প্যারেন্টাল ফিকেশন' (Parental Fiction) বা আইনি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে, যাতে শিশুটি তার জীবনের প্রতিটি স্তরে—শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আইনি সুরক্ষা—অবিচ্ছিন্নভাবে লাভ করতে পারে।

১. লাকীত বা পরিত্যক্ত শিশুর আইনি অবস্থান ও বংশীয় পরিচয়ের সংকট

ইসলামি আইনশাস্ত্রের (Fiqh) আলোকে পরিত্যক্ত শিশুর প্রধানতম সমস্যা হলো তার বংশীয় পরিচয় বা 'নাসাব' নিশ্চিত করা। প্রাক-ইসলামি যুগে বংশীয় পরিচয়হীন শিশুদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে রাখা হতো। কিন্তু ইসলাম এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ইসলাম ঘোষণা করে যে, কোনো শিশু জন্মগতভাবে অপরাধী নয় এবং তার বংশীয় পরিচয় না থাকা তার নাগরিক অধিকার প্রাপ্তির পথে অন্তরায় হতে পারে না। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাষ্ট্রকে এখানে অত্যন্ত সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হয়।

পরিত্যক্ত শিশুর ক্ষেত্রে বংশীয় পরিচয় বা 'নাসাব' সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইসলামি রাষ্ট্র একটি বিশেষ আইনি কাঠামো অনুসরণ করে। যখন কোনো শিশু রাস্তার ধারে বা জনসমক্ষে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তখন রাষ্ট্র তাকে কেবল একটি আশ্রয়কেন্দ্র বা অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেয় না, বরং তার আইনি সত্তা (Legal Identity) নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে এমন একটি সামাজিক পরিবেশে অন্তর্ভুক্ত করা যেখানে তার অস্তিত্বের সংকট দূর হয়। এই সামাজিক সংহতির প্রক্রিয়াটি কেবল দয়া বা করুণার বিষয় নয়, বরং এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, পরিত্যক্ত শিশুর অভিভাবকত্ব বা 'বেলায়েত' প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র একটি 'ওয়াকিল' (Wakil) বা প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। এই প্রতিনিধি বা ওয়াকিল শিশুর যাবতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দায়বদ্ধ থাকে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন অভিভাবকহীন শিশুর পক্ষে তার নিজস্ব সম্পত্তি বা অধিকার রক্ষা করা অসম্ভব। এখানে 'ওয়াকালাহ' বা প্রতিনিধিত্বের ধারণাটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করে।


"هي نيابة ذي حق غير ذي إمرة ولا عبادة لغيره في غير مشروطة بموته"
[1]

উপরোক্ত ইবারতটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, 'ওয়াকালাহ' বা প্রতিনিধিত্ব হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন অধিকারীর পক্ষে অন্য একজন প্রতিনিধি কাজ করেন। পরিত্যক্ত শিশুর ক্ষেত্রে, যেহেতু তার নিজস্ব কোনো 'ইমরাহ' বা কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা নেই, তাই রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি তার অধিকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন [2] । এটি নিশ্চিত করে যে, শিশুটি আইনিভাবে 'অদৃশ্য' বা 'নিরাশ্রয়' নয়, বরং সে একজন অধিকারধারী ব্যক্তি যার পক্ষে রাষ্ট্র প্রতিনিধিত্ব করছে।

২. আইনি প্রতিনিধিত্ব (Wakalah) ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা

পরিত্যক্ত শিশুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে 'ওয়াকালাহ' বা আইনি প্রতিনিধিত্বের ধারণাটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। একজন পরিত্যক্ত শিশুর নিজস্ব কোনো অভিভাবক বা 'ওয়ালি' না থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনি চুক্তি করা, সম্পত্তি অর্জন করা বা আদালতে মামলা করার ক্ষমতা থাকে না। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি তার 'ওয়াকিল' হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিনিধিত্ব কেবল সাময়িক নয়, বরং এটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

ইসলামি বিচারব্যবস্থায় 'ওয়াকালাহ' বা প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিজে উপস্থিত হওয়া বা নিজের দাবি পেশ করা সম্ভব হয় না, তখন প্রতিনিধি নিয়োগের বিধান অত্যন্ত সুসংহত। পরিত্যক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এই বিধানটি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে। যদি কোনো পরিত্যক্ত শিশু উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো সম্পত্তি পায় বা তার নামে কোনো সম্পদ অর্জিত হয়, তবে সেই সম্পদ রক্ষা করার জন্য একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত 'ওয়াকিল' নিয়োগ করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

আইনি লড়াই বা বিবাদের ক্ষেত্রেও এই প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন পরিত্যক্ত শিশু যখন তার অধিকার আদায়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার পক্ষে একজন প্রতিনিধি বা উকিল থাকা আবশ্যক। এই বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি অংশ।


"الوكالة لها أوجه عدة، يهمنا في هذا المقام ما يتعلق بالخصومات أي التقاضي والمشهور في المذهب المالكي أن التوكيل حق مشروع للطالب والمطلوب"
[3]

উক্ত ইবারত অনুযায়ী, 'ওয়াকালাহ' বা প্রতিনিধিত্বের বিভিন্ন দিক রয়েছে, যার মধ্যে বিবাদ বা মামলা (Litigation) সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতানুসারে, দাবিদার বা বিবাদী—উভয় পক্ষের জন্যই প্রতিনিধিত্ব বা 'তাউকীল' একটি বৈধ অধিকার [4] । পরিত্যক্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই 'তাউকীল' বা প্রতিনিধিত্বের অধিকারটি রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়, যাতে শিশুটি তার আইনি লড়াইয়ে একা হয়ে না পড়ে।

প্রতিনিধিত্বের এই প্রক্রিয়াটি কেবল আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিশুর সামাজিক মর্যাদা রক্ষার একটি মাধ্যম। একজন প্রতিনিধি বা উকিল হিসেবে কাজ করার সময় রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন কাউকে নিয়োগ করা যিনি শিশুর স্বার্থের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এটি নিশ্চিত করে যে, শিশুটি তার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে—তা শিক্ষা হোক বা বিবাহ—আইনিভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

৩. মৌলিক নাগরিক অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন পরিত্যক্ত শিশু কেবল একজন আশ্রয়প্রার্থী নয়, বরং সে রাষ্ট্রের একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক। ইসলামে নাগরিক অধিকারের ধারণাটি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি কোনো ব্যক্তির বংশীয় পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। একজন পরিত্যক্ত শিশু যখন রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে বড় হয়, তখন তার অধিকারগুলো রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। এর মধ্যে রয়েছে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, শিক্ষার অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার।

পরিত্যক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে সম্পদের অধিকার (Property Rights) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অনেক সময় দেখা যায়, পরিত্যক্ত শিশুদের নামে কোনো সম্পদ বা উত্তরাধিকার থাকে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। রাষ্ট্র এই সম্পদগুলো রক্ষা করার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একজন পরিত্যক্ত শিশুর সম্পদ যেন কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় তদারকি এবং আইনি প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।

নাগরিক অধিকারের এই ব্যাপকতা কেবল সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ব্যক্তির সত্তা ও মর্যাদার সাথেও জড়িত। একজন পরিত্যক্ত শিশু রাষ্ট্রের চোখে একজন স্বাধীন সত্তা। তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং তার মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।


"وهذه الحقوق هي الحرية الكاملة في أشخاصهم وفي ممتلكاتهم: حرية الصحافة حق المحاكمة بناء على نص صريح في القانون، وحق كل إنسان في اعتناق العقيدة التي يرتضيها دون إزعاج."

উপরোক্ত ইবারতটি নির্দেশ করে যে, নাগরিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যক্তির সত্তা ও সম্পদের ওপর পূর্ণ স্বাধীনতা। এর মধ্যে রয়েছে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার এবং নিজের বিশ্বাস বা আকীদা পালনের অধিকার, যা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই চর্চা করা সম্ভব। পরিত্যক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এই নীতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে, তাদের সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তারা রাষ্ট্রের একজন স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বা Social Integration নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিত্যক্ত শিশুদের মধ্যে একটি আত্মবিশ্বাসী নাগরিক মনস্তত্ত্ব গড়ে তোলে। যখন একটি শিশু বুঝতে পারে যে রাষ্ট্র তার অভিভাবক এবং তার অধিকারগুলো আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত, তখন তার মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ বা অপরাধপ্রবণতা তৈরির সুযোগ কমে যায়। এটি একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।

৪. রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন ও সামাজিক সংহতি: একটি ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

পরিত্যক্ত শিশুদের পুনর্বাসন কেবল একটি মানবিক কাজ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সংহতির (Social Cohesion) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি রাষ্ট্র যখন তার সবচেয়ে অসহায় নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই সমাজে অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক বিভাজন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। পরিত্যক্ত শিশুদের যথাযথ পুনর্বাসন এবং তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে।

রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় 'বায়তুল মাল' বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। পরিত্যক্ত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এই কোষাগার থেকে করা হয়। এটি একটি 'কালেক্টিভ সিকিউরিটি' বা সামষ্টিক নিরাপত্তার ধারণা, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যখন রাষ্ট্র পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য একটি সুসংগঠিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তখন তা মূলত রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, একটি শক্তিশালী ও সংহতিপূর্ণ সমাজ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি করে। পরিত্যক্ত শিশুদের সফলভাবে মূলধারার সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে। এটি কেবল একটি সামাজিক উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

পরিশেষে, পরিত্যক্ত শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটি ইসলামের একটি অনন্য অবদান। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম কেবল আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ দেখায় না, বরং একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রদান করে। রাষ্ট্র যখন তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে, তখন 'লাকীত' বা পরিত্যক্ত শিশুটি আর সমাজের বোঝা থাকে না, বরং সে হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের একজন গর্বিত ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।

""
১১.৩ পরিত্যক্ত শিশু (Foundling/Laqeet): রাস্তার কুড়ানো শিশুর রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন এবং নাগরিক অধিকার প্রদান
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১১.৩ পরিত্যক্ত শিশু (Foundling/Laqeet): রাস্তার কুড়ানো শিশুর রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন এবং নাগরিক অধিকার প্রদান কুইজ

1 / 5

ইসলামি আইনে পরিত্যক্ত শিশু বা 'লাকীত'-এর অভিভাবকত্ব কার ওপর ন্যস্ত হয়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...