খণ্ড 75
ফন্ট:100%
থিম:

১.২.১ মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ (Objectives of Shari'ah): জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি, ধর্ম ও বংশগতির আইনি সুরক্ষা

ইসলামি আইনশাস্ত্র বা শরীয়াহর মূল ভিত্তি কেবল কিছু বিধি-নিষেধের সমষ্টি নয়, বরং এর গভীরে প্রোথিত রয়েছে সুনির্দিষ্ট ও মহত্তম কিছু উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যতাত্ত্বিক কাঠামোকে ইসলামি পরিভাষায় 'মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ' (Maqasid al-Shari'ah) বলা হয়। মাকাসিদ হলো সেই লক্ষ্যসমূহ, যা মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তাঁর বিধানসমূহের অন্তরালে নিহিত রেখেছেন। ইসলামি আইনতত্ত্বের (Jurisprudence) বিবর্তনে মাকাসিদ কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং এটি ইজতিহাদ (Ijtihad) বা আইনি গবেষণার একটি অপরিহার্য মানদণ্ড। মাকাসিদ অনুধাবন করা ছাড়া শরীয়তের প্রকৃত নির্যাস এবং এর প্রয়োগিক তাৎপর্য উপলব্ধি করা অসম্ভব।

মাকাসিদ আশ-শরীয়াহর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের পাঁচটি মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয় বা 'দারুরিয়্যাত' (Daruriyyat)-এর সুরক্ষা প্রদান করা। এই পাঁচটি স্তম্ভ হলো: ধর্ম (Din), জীবন (Nafs), বুদ্ধি (Aql), বংশগতি (Nasl) এবং সম্পদ (Mal)। এই পাঁচটি উপাদানের যেকোনো একটির অবক্ষয় বা বিনাশ ঘটলে মানবসভ্যতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, এগুলো হলো মানুষের মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) এবং সামাজিক নিরাপত্তার (Social Security) মূল ভিত্তি। শরীয়াহর প্রতিটি বিধান—তা ইবাদত হোক বা মুয়ামালাত (লেনদেন)—মূলত এই পাঁচটি উপাদানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই প্রণীত হয়েছে [1]

মাকাসিদ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা যায় যে, শরীয়তের বিধানসমূহ কেবল বাহ্যিক আদেশ নয়, বরং এর একটি অভ্যন্তরীণ দর্শন রয়েছে। ইবনে আশুর (রহ.)-এর মতো প্রথিতযশা পণ্ডিতগণ মাকাসিদকে ইজতিহাদী প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা নতুন নতুন পরিস্থিতির আলোকে শরীয়তের মূল লক্ষ্যগুলোকে পুনর্নির্ধারণ ও ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে [2] । সুতরাং, মাকাসিদ হলো শরীয়তের সেই প্রাণশক্তি, যা একে যুগোপযোগী এবং সর্বজনীন করে তোলে।

১. দ্বীন বা ধর্মের সুরক্ষা (Protection of Religion)

মাকাসিদ আশ-শরীয়াহর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতর এবং মৌলিক লক্ষ্য হলো 'হিফজ আদ-দ্বীন' বা ধর্মের সুরক্ষা। ইসলামি দর্শন অনুযায়ী, মানুষের অস্তিত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো স্রষ্টার ইবাদত এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন অতিবাহিত করা। ধর্ম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং এটি মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। শরীয়াহর প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের বিশ্বাস (Iman) এবং ইবাদতের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে সকল প্রকার বিভ্রান্তি ও আক্রমণ থেকে রক্ষা করা [3]

ধর্মের সুরক্ষাকে দুটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে: অস্তিত্বগত সুরক্ষা এবং চর্চার স্বাধীনতা। অস্তিত্বগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে, শরীয়াহ কুফর, শিরক এবং বিদআত থেকে মানুষের ঈমানকে রক্ষা করার বিধান প্রদান করে। অন্যদিকে, চর্চার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে, শরীয়াহ মানুষের উপাসনা করার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেয়। ইসলামের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই ধর্মের মৌলিক স্তম্ভগুলো বা বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই শরীয়াহ কঠোর আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় নয়, বরং একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবেও ধর্মের অস্তিত্ব রক্ষা করা শরীয়াহর অন্যতম লক্ষ্য [4]

আধুনিক প্রেক্ষাপটে, ধর্মের সুরক্ষা বলতে কেবল উপাসনার অধিকার নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধকেও বোঝায়। অনেক আধুনিকতাবাদী চিন্তাবিদ, যেমন হাসান হুনফী, ধর্মের গায়বি (অদৃশ্য) বা আধ্যাত্মিক দিকগুলোকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, একজন আধুনিক মুসলিম হিসেবে গায়বি বিষয়গুলো অস্বীকার করেও কেবল আচরণের মাধ্যমে মুসলিম হওয়া সম্ভব [5] । তবে মাকাসিদ ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সমাজ বা ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে শরীয়াহর লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। কারণ, ধর্মই হলো সেই চালিকাশক্তি যা মানুষের জীবনকে একটি মহত্তর উদ্দেশ্য প্রদান করে।

২. নফস বা জীবনের সুরক্ষা (Protection of Life)

মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য 'হিফজ আন-নফস' বা জীবনের সুরক্ষা অপরিহার্য। শরীয়াহর দৃষ্টিতে মানুষের জীবন অত্যন্ত পবিত্র এবং এটি আল্লাহর একটি আমানত। কোনো কারণ ছাড়া কোনো মানুষের জীবন হরণ করা কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলা [6] । জীবনের এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শরীয়াহ কিসাস (Retaliation) এবং দিয়াত (Blood money)-এর মতো কঠোর আইনি বিধান প্রদান করেছে, যাতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পায় এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় [7]

জীবনের সুরক্ষা কেবল শারীরিক অস্তিত্ব রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকারকেও অন্তর্ভুক্ত করে। শরীয়াহর বিধানসমূহ এমনভাবে বিন্যস্ত যে, তা মানুষের জীবনকে সকল প্রকার অন্যায় ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করে। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও শরীয়াহ অকারণে প্রাণহানি রোধে কঠোর নীতিমালা প্রদান করেছে। এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব হয়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে বসবাস করতে পারে [8]

রাজনৈতিক ও আইনি দর্শনের প্রেক্ষাপটে, জীবনের সুরক্ষা হলো রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তির ধারণাটি যেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে, শরীয়াহ সেখানে স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি ঐশ্বরিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে জীবনের সুরক্ষাকে স্থাপন করেছে। জীবন রক্ষার এই মাকসাদটি এতটাই শক্তিশালী যে, চরম সংকটের মুহূর্তে (যেমন প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিষিদ্ধ খাবার গ্রহণ) শরীয়াহর মূল নীতিসমূহ শিথিলযোগ্য হয়, যা এর বাস্তবমুখী ও জীবনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ দেয় [9]

৩. আকল বা বুদ্ধির সুরক্ষা (Protection of Intellect)

মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো মানুষের 'আকল' বা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। তাই শরীয়াহর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাকসাদ হলো 'হিফজ আল-আকল' বা বুদ্ধির সুরক্ষা। মানুষের বিচারবুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে বিকৃত বা ধ্বংস করা থেকে রক্ষা করা শরীয়াহর একটি মৌলিক লক্ষ্য। বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয় ঘটায় এমন সকল বিষয়—যেমন মাদকদ্রব্য, মদ্যপান এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদ—শরীয়াহর দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ [10]

বুদ্ধির সুরক্ষা কেবল ক্ষতিকর বস্তু থেকে দূরে থাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জ্ঞান অর্জন এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশেরও একটি প্রক্রিয়া। শরীয়াহ মানুষকে জ্ঞান অন্বেষণে উৎসাহিত করে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নষ্ট হলে মানুষ তার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়ে, যা সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি। সুতরাং, বুদ্ধির সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে হলো মানুষের বিবেক ও বিচারবুদ্ধিকে সচল রাখা, যাতে সে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে [11]

আধুনিক যুগে বুদ্ধির সুরক্ষা বলতে সাইবার অপরাধ, অপপ্রচার (Misinformation) এবং মানসিক বিকৃতি রোধকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। অনেক আধুনিকতাবাদী চিন্তাবিদ বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার নামে শরীয়াহর বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেন। যেমন, হাসান হুনফী-র মতো চিন্তাবিদগণ বুদ্ধিকে শরীয়াহর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে ধর্মীয় ও গায়বি বিষয়গুলোকে কেবল 'প্রতীক' বা 'লোকগাথা' হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন [12] । তবে মাকাসিদ ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বুদ্ধি হলো শরীয়াহ বোঝার হাতিয়ার, বুদ্ধির ঊর্ধ্বে শরীয়াহ নয়। বুদ্ধিকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা।

৪. নাসল বা বংশগতির সুরক্ষা (Protection of Lineage)

একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য 'হিফজ আন-নাসল' বা বংশগতির সুরক্ষা অপরিহার্য। বংশগতির সুরক্ষা বলতে মূলত পরিবার ও প্রজনন ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা করাকে বোঝায়। শরীয়াহ বিবাহিত সম্পর্কের মাধ্যমে বৈধ বংশধারা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং জিনা (ব্যভিচার) ও অন্যান্য অনৈতিক সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে [13] । বংশগতির এই সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হয়, সন্তানের পরিচয় ও অধিকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং পারিবারিক কাঠামো ভেঙে পড়ে [14]

বংশগতির সুরক্ষায় শরীয়াহ কেবল নৈতিকতা নয়, বরং আইনি ও সামাজিক কাঠামোরও ওপর জোর দিয়েছে। উত্তরাধিকার আইন (Inheritance Law), পিতৃত্ব নির্ধারণ (Paternity) এবং সন্তানের লালন-পালনের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শরীয়াহ একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এটি নিশ্চিত করে যে, প্রতিটি শিশু একটি বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হবে, যা তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বংশগতির এই সুরক্ষা মূলত সামাজিক সংহতি ও মানবজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা [15]

আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে পরিবারকে সমাজের মূল একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরীয়াহর মাকসাদ অনুযায়ী, পরিবারের সুরক্ষা মানেই সমাজের সুরক্ষা। যখনই পারিবারিক মূল্যবোধ ও বংশগতির পবিত্রতা হুমকির মুখে পড়ে, তখনই সমাজ তার নৈতিক ভিত্তি হারায়। তাই বংশগতির সুরক্ষা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার শর্ত। শরীয়াহর এই লক্ষ্যটি আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের 'Family Stability' ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে এর ভিত্তিটি কেবল সামাজিক নয়, বরং ঐশ্বরিক ও নৈতিক [16]

৫. মাল বা সম্পদের সুরক্ষা (Protection of Wealth)

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য 'হিফজ আল-মাল' বা সম্পদের সুরক্ষা শরীয়াহর একটি অপরিহার্য মাকসাদ। সম্পদ হলো মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান উপকরণ। শরীয়াহ সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অবৈধ অর্জন ও অপচয় রোধে কঠোর নীতিমালা প্রদান করেছে। সুদ (Riba), জুয়া (Gambling), চুরি এবং প্রতারণার মতো অর্থনৈতিক অপরাধসমূহকে শরীয়াহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে, যাতে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠিত হয় [17]

সম্পদের সুরক্ষা কেবল ব্যক্তিগত মালিকানা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পদ হলো একটি সামাজিক দায়িত্ব। যাকাত ও সদকার মতো বিধানসমূহ সম্পদের পুঞ্জীভূতকরণ রোধ করে এবং সমাজের দরিদ্র ও অবহেলিত শ্রেণির অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে [18] । সম্পদের এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব, যা সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করতে সহায়ক।

আধুনিক আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পদের সুরক্ষা একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আধুনিক সিভিল ল বা দেওয়ানি আইনগুলো শরীয়াহর অর্থনৈতিক নীতিমালার পরিবর্তে ইউরোপীয় বা রোমান আইনের আদলে গঠিত। উদাহরণস্বরূপ, মিশরের সিভিল কোড প্রণয়নের সময় দেখা গেছে যে, এর প্রায় ৮৫% অংশই ইউরোপীয় আইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শরীয়াহর অর্থনৈতিক ও লেনদেন সংক্রান্ত বিধানগুলোকে গৌণ বা তৃতীয় স্তরের উৎস হিসেবে রাখা হয়েছে [19] । এমনকি ডক্টর السنهوري-র মতো আইনবিদগণও স্বীকার করেছেন যে, সিভিল আইনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার নামে শরীয়াহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে উপেক্ষা করা হয়েছে [20] । এটি মাকাসিদ আশ-শরীয়াহর অর্থনৈতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ সম্পদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে শরীয়াহর মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিগুলোর অনুসরণ অপরিহার্য।

""
১.২.১ মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ (Objectives of Shari'ah): জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি, ধর্ম ও বংশগতির আইনি সুরক্ষা
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.২.১ মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ (Objectives of Shari'ah): জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি, ধর্ম ও বংশগতির আইনি সুরক্ষা কুইজ

1 / 5

'মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ' বলতে কী বোঝায়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...