খণ্ড 83
ফন্ট:100%
থিম:

১৩.৪ কমোডিফিকেশন অফ উইমেন (Commodification of Women): ক্যাপিটালিজমের (Capitalism) এক্সপ্লয়টেশনের বিপরীতে ইসলামি প্রটেকশন

আধুনিক পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় 'কমোডিফিকেশন' বা 'পণ্যকরণ' একটি অত্যন্ত জটিল এবং ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া, যেখানে মানুষের সত্তাকে তার মানবিক গুণাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকে একটি বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত করা হয়। বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে এই পণ্যকরণ প্রক্রিয়াটি চরম রূপ পরিগ্রহ করেছে। পুঁজিবাদ নারীর শরীর, সৌন্দর্য এবং এমনকি তার মাতৃত্বকেও মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় নারীকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তাকে একটি 'অবজেক্ট' বা বস্তুতে পরিণত করা হয়, যার বাজারমূল্য নির্ধারিত হয় তার বাহ্যিক আকর্ষণ এবং ভোগবাদী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। এই ভয়াবহ বাস্তবতার বিপরীতে ইসলামি জীবনদর্শন নারীকে পণ্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এক মহান আমানত এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পুঁজিবাদী পণ্যকরণ এবং নারীর সত্তাগত খণ্ডিতকরণ

পুঁজিবাদী অর্থনীতি মূলত চাহিদাকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করে মুনাফা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় নারীর শরীরকে একটি 'মার্কেট অ্যাসেট' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞাপন শিল্প, ফ্যাশন জগৎ এবং বিনোদন মাধ্যমগুলো সম্মিলিতভাবে নারীর একটি নির্দিষ্ট ইমেজ তৈরি করে, যা পুরুষতান্ত্রিক লালসা এবং বাণিজ্যিক মুনাফার মেলবন্ধন। এখানে নারীর সত্তাকে খণ্ডিত করা হয়; তার বুদ্ধিবৃত্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং নৈতিকতাকে উপেক্ষা করে কেবল তার শারীরিক গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি মূলত নারীর মানবিক মর্যাদাকে খণ্ডিত করে তাকে একটি ভোগ্যপণ্যে পরিণত করে, যাকে পুঁজিবাদী বাজার তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার এবং বর্জন করে।

বিশ্বায়নের এই যুগে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মাধ্যমে এই পণ্যকরণ প্রক্রিয়াটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জগুলো মূলত মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে আক্রমণ করে তাকে ভোগবাদের দিকে ঠেলে দেয়। যখন শিক্ষা এবং সংস্কৃতি কেবল অর্থনৈতিক উপযোগিতার মাপকাঠিতে বিচার করা হয়, তখন নারীর অবস্থান হয়ে দাঁড়ায় কেবল একটি শ্রমশক্তি অথবা একটি আকর্ষণীয় প্রদর্শনী বস্তু। এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে নারীর নিজস্ব পরিচয় বিলীন হয়ে যায় এবং সে হয়ে পড়ে বৈশ্বিক বাজারের একটি অংশ। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্বায়নের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে [1]

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নারীর 'মুক্তি'র কথা বলা হলেও, প্রকৃতপক্ষে তা তাকে আরও গভীর শোষণের দিকে ঠেলে দেয়। তথাকথিত লিবারেল ফেমিনিজম অনেক ক্ষেত্রে নারীর শরীরকে প্রদর্শনের স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলে, যা পরোক্ষভাবে তাকে বাজারের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলে। এই তথাকথিত মুক্তি আসলে নারীর সত্তাকে পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার একটি কৌশল মাত্র। এখানে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলা হলেও, তা মূলত তাকে পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি সস্তা শ্রমশক্তিতে পরিণত করার প্রচেষ্টা। ফলে নারীর প্রকৃত মুক্তি এখানে অনুপস্থিত, বরং সে এক ধরণের অদৃশ্য শেকলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে যেখানে তার মূল্য নির্ধারিত হয় তার বাণিজ্যিক উপযোগিতার দ্বারা [2]

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীর মর্যাদা এবং আমানত হিসেবে মানবসত্তা

ইসলামি শরীয়াহর মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ এবং ইনসানিয়াত। ইসলাম নারীকে কোনো পুরুষের অধীনস্থ পণ্য বা ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য করে না, বরং তাকে একজন স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইসলামি দর্শনে নারী ও পুরুষ উভয়েই আল্লাহর বান্দা এবং তারা উভয়েই পৃথিবীর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করতে আদিষ্ট। নারীর মর্যাদা এখানে তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর নয়, বরং তার তাকওয়া এবং আমলের ওপর নির্ভরশীল। পুঁজিবাদ যেখানে নারীকে 'বস্তু' (Object) হিসেবে দেখে, ইসলাম সেখানে তাকে 'সত্তা' (Subject) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইসলামি শরীয়াহর আলোকে নারীর দায়িত্ব কেবল পারিবারিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক আমানত রক্ষা করার ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অংশীদার। এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীকে পণ্যকরণের হাত থেকে রক্ষা করে তাকে একজন সক্রিয় নাগরিক এবং আধ্যাত্মিক সত্তায় রূপান্তরিত করে। আরবিতে একে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:


تتشارك مع الرجل في الاضطلاع بالأمانة الإنسانية والاجتماعية والسياسية

অর্থাৎ, "নারী পুরুষের সাথে মানবিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক আমানত পালনের ক্ষেত্রে অংশীদার" [3] । এই আমানত বা ট্রাস্টের ধারণাটি অত্যন্ত গভীর; কারণ যখন কোনো কিছুকে 'আমানত' হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন তার সাথে কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন বা পণ্যকরণ সম্ভব হয় না। আমানত রক্ষা করা ইবাদত, আর আমানতকে পণ্য বানানো খিয়ানত।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় নারীর মর্যাদা এতটাই উচ্চ যে, তাকে কেবল গৃহিণী হিসেবে নয়, বরং সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হয়। পুঁজিবাদ নারীকে কেবল তার উপযোগিতার জন্য মূল্যায়ন করে, কিন্তু ইসলাম তাকে তার অস্তিত্বের জন্য মূল্যায়ন করে। এই মর্যাদাবোধ নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তাকে বাজারের কৃত্রিম মানদণ্ডের সামনে মাথা নত করতে বাধা দেয়। যখন একজন নারী বুঝতে পারে যে তার প্রকৃত মূল্য আল্লাহর কাছে তার ঈমানের ওপর নির্ভরশীল, তখন সে পুঁজিবাদী সমাজের চাপিয়ে দেওয়া 'বিউটি স্ট্যান্ডার্ড' বা সৌন্দর্যের কৃত্রিম মাপকাঠির দাসত্ব থেকে মুক্তি পায় [4]

হায়া এবং সহজাত প্রবৃত্তির মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা

পুঁজিবাদ নারীর শরীরকে উন্মুক্ত করে তাকে প্রদর্শনী বস্তুতে পরিণত করার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে। এর বিপরীতে ইসলাম 'হায়া' বা লজ্জাশীলতাকে কেবল একটি পোশাকের বিধান হিসেবে নয়, বরং একটি মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। হায়া হলো মানুষের সেই সহজাত প্রবৃত্তি যা তাকে অশ্লীলতা এবং পণ্যকরণের হাত থেকে রক্ষা করে। এটি নারীর ব্যক্তিত্বকে একটি পবিত্র আবরণে ঢেকে রাখে, যাতে কেবল যোগ্য ব্যক্তিই তার সত্তার গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এই সুরক্ষা ব্যবস্থা নারীকে বাজারের পণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করে তাকে একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

রাসুল সা. এর যুগে নারীদের এই সহজাত প্রবৃত্তি এবং লজ্জাশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। নারীরা তাদের ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় বিষয়ে একে অপরের সাথে এবং রাসুল সা. এর সাথে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে আলোচনা করতেন, কারণ তাদের মাঝে হায়া এবং সম্মানের একটি ভারসাম্য ছিল। সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী:


والمرأة بحكم فطرتها وحيائها تركن إلى المرأة، وسؤالها في مثل هذا من غير تحرج أو استحياء

অর্থাৎ, "নারী তার সহজাত প্রবৃত্তি এবং লজ্জাশীলতার কারণে অন্য নারীর প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং কোনো সংকোচ বা লজ্জা ছাড়াই প্রশ্ন করতে পারে" [5] । এই বর্ণনাটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি ব্যবস্থায় হায়া নারীকে সংকুচিত করে না, বরং তাকে একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করে যেখানে সে তার সত্তাকে বিকৃত না করে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে।

মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন একজন নারী তার শরীরকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন সে সাময়িকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করলেও দীর্ঘমেয়াদে সে এক ধরণের মানসিক শূন্যতা এবং বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়। কারণ সে বুঝতে পারে যে, মানুষ তাকে ভালোবাসছে তার সত্তার জন্য নয়, বরং তার প্রদর্শিত শরীরের জন্য। ইসলামি মোডেস্টি বা পর্দার বিধান এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে মুক্তি দেয়। এটি নারীকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, তার মূল্য তার শরীরের উন্মুক্তকরণে নয়, বরং তার চরিত্রের পবিত্রতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতায়। ফলে সে পুঁজিবাদী সমাজের 'হাইপার-সেক্সুয়ালাইজেশন' এর প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নিজের আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পায় [6]

অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং মোহরানার দর্শন

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে তাকে শোষিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাকে অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তার মর্যাদা বিসর্জন দিতে বাধ্য করা হয়। ইসলাম এই অর্থনৈতিক শোষণের বিপরীতে নারীকে একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলামে নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং মোহরানার বিধান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি নারীর অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের একটি ঘোষণা। মোহরানা হলো নারীর সেই অধিকার যা তাকে বিয়ের পর একটি প্রাথমিক আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে এবং তাকে পণ্যের পরিবর্তে সম্মানের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

মোহরানার দর্শনটি অত্যন্ত গভীর। এটি পুরুষ কর্তৃক নারীর প্রতি ভালোবাসার এবং তার মর্যাদার স্বীকৃতি। পুঁজিবাদী সমাজে যেখানে নারীকে অনেক সময় 'ক্রয়' করার মানসিকতা কাজ করে, সেখানে মোহরানা প্রমাণ করে যে নারী কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নন, বরং তিনি একজন সম্মানী ব্যক্তিত্ব যার অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সীরাতের বিভিন্ন সূত্রে মোহরানার গুরুত্ব এবং এর যথাযথ প্রদানের নির্দেশ পাওয়া যায়, যা নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে।

এছাড়া ইসলামি অর্থনীতিতে নারীর উপার্জনের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। তার স্বামী বা পরিবারের কেউ তার অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ ব্যবহার করতে পারে না। এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাকে পুঁজিবাদী বাজারের প্রলোভন এবং শোষণের হাত থেকে রক্ষা করে। যখন একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত থাকে, তখন সে তার জীবনসঙ্গী বা সমাজকে কেবল আর্থিক প্রয়োজনে বেছে নেয় না, বরং নৈতিক এবং ধর্মীয় মানদণ্ডে বিচার করে। এই ব্যবস্থা নারীকে পণ্যকরণের সেই চক্র থেকে বের করে আনে যেখানে শরীরকে অর্থের বিনিময়ে লেনদেন করা হয়। ফলে নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদা তার মানবিক মর্যাদার পরিপূরক হয়ে ওঠে [7]

কৌশলগত সামাজিক সংহতি বনাম শোষনমূলক উপযোগিতা

পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ অনেক সময় রাজনৈতিক বা কৌশলগত লাভের জন্য নারীর ব্যবহার করে, যা মূলত এক ধরণের উচ্চপর্যায়ের পণ্যকরণ। বিপরীতে, রাসুল সা. এর জীবন থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর বিবাহগুলো ছিল সামাজিক সংহতি, রাজনৈতিক কূটনীতি এবং দ্বীনি দাওয়াতের অংশ। এখানে নারীর অবস্থান ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক; তিনি কেবল একটি মাধ্যম ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একটি পুরো জাতি বা গোত্রকে ইসলামের সাথে সংযুক্ত করার সেতুবন্ধন। এই প্রক্রিয়ায় নারীর মর্যাদা হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, রাসুল সা. এর মারিয়া আল-কিবতিয়া রা. এর সাথে বিবাহ কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, বরং এটি ছিল মিশরের কপ্টদের সাথে একটি গভীর কূটনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্কের সূচনা। রাসুল সা. কপ্টদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন:


استوصوا بالقبط خيرا فإن لي فيهم نسبا وصهرا

অর্থাৎ, "তোমরা কপ্টদের সাথে ভালো ব্যবহার করো, কারণ তাদের সাথে আমার আত্মীয়তা এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে" [8] । এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, ইসলামি ব্যবস্থায় বিবাহ যখন রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে নারীর সম্মান এবং তার বংশের মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। এটি পুঁজিবাদের সেই শোষনমূলক উপযোগিতার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে মানুষকে কেবল লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।

একইভাবে, মায়মুনা বিনতে আল-হারিস রা. এর সাথে রাসুল সা. এর বিবাহ ছিল কুরাইশদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রাসুল সা. এই বিবাহের মাধ্যমে শত্রুদের সাথে হৃদ্যতা স্থাপন এবং সামাজিক সংহতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন [9] । পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যখন কোনো নারীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে প্রায়শই অবজ্ঞা করা হয়। কিন্তু রাসুল সা. এর পদ্ধতিতে নারী ছিলেন সম্মানের কেন্দ্রবিন্দু এবং তাঁর মাধ্যমে পুরো একটি সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই পার্থক্যটিই প্রমাণ করে যে, ইসলামি প্রটেকশন কেবল পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নারীর সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থানের একটি সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা তাকে পণ্যকরণের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোর পথে পরিচালিত করে।

""
১৩.৪ কমোডিফিকেশন অফ উইমেন (Commodification of Women): ক্যাপিটালিজমের (Capitalism) এক্সপ্লয়টেশনের বিপরীতে ইসলামি প্রটেকশন
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১৩.৪ কমোডিফিকেশন অফ উইমেন কুইজ

1 / 5

'কমোডিফিকেশন অফ উইমেন' বলতে কী বোঝায়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...