প্রাক-ইসলামি আরব জাহিলিয়াত ও আধুনিক যুগের অপরাধতত্ত্ব: একটি ঐতিহাসিক পটভূমি
অপরাধ ও অপরাধতত্ত্বের (Criminology) ইতিহাস মানব সভ্যতার সমান্তরালেই প্রবহমান। প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে, যা জাহিলিয়াত যুগ নামে পরিচিত, অপরাধ দমনের কোনো সুসংহত রাষ্ট্রীয় বা আইনি কাঠামো ছিল না। তৎকালীন সমাজব্যবস্থা ছিল গোত্রীয় সংহতি (Asabiyyah) এবং প্রথাগত রীতিনীতির ওপর নির্ভরশীল। জাহিলি আরবে অপরাধের ধারণাটি মূলত গোত্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক প্রথা, বৈবাহিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সম্পত্তির অধিকার হরণের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে অপরাধের বিস্তার ঘটত [1] । তৎকালীন আরবে অপরাধের শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত (تعزير), জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ প্রদান, কারাদণ্ড, সমাজ বা গোত্র থেকে বহিষ্কার (طرد/خلع) এবং চরম অপরাধের ক্ষেত্রে জীবননাশের বদলে জীবননাশ বা কিসাস (القصاص) প্রচলিত ছিল [2] ।
জাহিলি আরবের অপরাধ দণ্ডবিধির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল এর প্রয়োগের অসমতা এবং সীমাহীন নিষ্ঠুরতা। কোনো প্রভাবশালী গোত্রের সদস্য অপরাধ করলে সে পার পেয়ে যেত, পক্ষান্তরে দুর্বল গোত্রের ওপর নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে তারা "রক্তের বদলে রক্ত" (الدم لا يغسل إلا بالدم) নীতি অনুসরণ করলেও, প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিক বা ন্যায়ানুগ সীমা বজায় রাখত না। যদি কোনো নিচু শ্রেণির ব্যক্তি কোনো উচ্চ বংশীয় ব্যক্তিকে হত্যা করত, তবে নিহতের গোত্র কেবল হত্যাকারীকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হতো না; বরং হত্যাকারীর গোত্রের একাধিক নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি তুলত [3] । এই অন্যায় ও ভারসাম্যহীন প্রতিশোধপ্রথার কারণে গোত্রে গোত্রে বছরের পর বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগে থাকত।
ইসলামি শরিয়াহর আগমন এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটায়। পবিত্র কুরআন প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতি নির্ধারণ করে দেয়। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِঅনুবাদ: "আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততটুকুই শাস্তি দাও যতটুকু অন্যায় তোমাদের সাথে করা হয়েছে।" [4] । অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُঅনুবাদ: "আর যে ব্যক্তি ততটুকুই প্রতিশোধ গ্রহণ করে যতটুকু তার ওপর অন্যায় করা হয়েছে, অতঃপর তার ওপর পুনরায় সীমালঙ্ঘন করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন।" [5] । রাসুলুল্লাহ সা. মদিনা রাষ্ট্রে এই ঐশ্বরিক আইনের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে জাহিলি যুগের গোত্রীয় বৈষম্য ও সীমাহীন প্রতিশোধের সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করেন এবং একটি সুসংহত সামষ্টিক নিরাপত্তা (Collective Security) নিশ্চিত করেন।
ইসলামি ফৌজদারি আইন বনাম মানব রচিত আইন: উৎস ও দর্শনগত বৈসাদৃশ্য
ইসলামি ফৌজদারি আইন (Islamic Criminal Law) এবং আধুনিক মানব রচিত বা ধর্মনিরপেক্ষ আইনের (Positive Law) মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক পার্থক্যটি নিহিত রয়েছে এদের উৎস এবং আইনি দর্শনের (Legal Philosophy) মধ্যে। আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ আইন মূলত রোমান আইন (Roman Law) এবং ইউরোপীয় আইনি ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা মানুষের অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল [6] । পক্ষান্তরে, ইসলামি শরিয়াহর উৎস হলো ওহি বা ঐশ্বরিক নির্দেশনা, যা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াসের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত [7] ।
বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ আইনের অনুপ্রবেশ ঘটে। মিশরের সিভিল কোড প্রণয়নের সময় ড. আবদুর রাজ্জাক সানহুরি ইসলামি শরিয়াহর কিছু বিধানকে রোমান আইনের কাঠামোর সাথে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছিলেন [8] । কিন্তু পশ্চিমা আইনবিদ এবং প্রাচ্যবিদগণ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, রোমান আইন এবং ইসলামি শরিয়াহর দর্শন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ ফিটজজেরাল্ড (Fitz Gerald) ১৯৫১ সালে তাঁর এক প্রবন্ধে লিখেছেন:
الواقع أن النظامين -الرومي والإسلامي- متضادان إلى حد لا يمكن معه التوفيق بينهما فيما يتعلق بالمسائل الأساسيةঅনুবাদ: "বাস্তবতা হলো, রোমান এবং ইসলামি—এই দুই আইনি ব্যবস্থা মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এতটাই বিপরীতমুখী যে, এদের মধ্যে কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব নয়।" [9] । তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামি আইন হলো আল্লাহর আইন, যেখানে কোনো শাসকের নিজস্ব আইন তৈরির সার্বভৌম ক্ষমতা নেই এবং জনগণের ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই যদি না তা শরিয়াহর সাধারণ ঐকমত্যের (ইজমা) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ইতালীয় প্রাচ্যবিদ নালিনো (Nallino) এই দর্শনগত পার্থক্যের ওপর আলোকপাত করে বলেন যে, মুসলমানগণ আইনশাস্ত্রকে (Fiqh) পার্থিব কোনো বস্তুগত বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং একে দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করেছে [10] । ইসলামি ফৌজদারি আইনে অপরাধকে কেবল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত কোনো কাজ হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে আল্লাহর সীমানা (হুদুদুল্লাহ) লঙ্ঘন এবং আধ্যাত্মিক অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইসলামি আইনে অপরাধকে ইতিবাচক (Positive) এবং নেতিবাচক (Negative) দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ইতিবাচক অপরাধ হলো নিষিদ্ধ কোনো কাজ করা (যেমন চুরি বা ব্যভিচার), আর নেতিবাচক অপরাধ হলো কোনো আদেশকৃত কাজ থেকে বিরত থাকা, যেমন সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা বা জাকাত আদায় না করা [11] । এই সামগ্রিক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মনিরপেক্ষ আইনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ এবং অপরাধ দমনের পঞ্চ-স্তম্ভ
ইসলামি শরিয়াহ আইনের প্রয়োগ কেবল অপরাধের পর শাস্তি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের উৎসমূল বন্ধ করা। ইসলামি আইনশাস্ত্রের এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যকে "মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ" (Objectives of Shariah) বলা হয়। মাকাসিদ আশ-শারিয়াহর মূল লক্ষ্য হলো মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সাধন এবং ক্ষতি দূরীকরণ (تحقيق مصالح الخلق ودفع المفاسد عنهم) [12] । অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহ পাঁচটি মৌলিক অধিকার বা স্তম্ভ সংরক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে, যা "জরুরিয়াতে খামসাহ" (Five Essentials) নামে পরিচিত। এই পাঁচটি স্তম্ভ হলো: দ্বীন বা আদর্শ রক্ষা, জীবন রক্ষা, বুদ্ধিমত্তা বা বিবেক রক্ষা, বংশধারা বা নৈতিকতা রক্ষা এবং সম্পদ রক্ষা [13] ।
এই পঞ্চ-স্তম্ভের প্রতিটি সংরক্ষণের জন্য ইসলামি ফৌজদারি আইনে সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য কিসাস বা সমতাভিত্তিক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে; মানুষের বিবেক ও বুদ্ধিমত্তা রক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে; বংশধারা ও পারিবারিক পবিত্রতা রক্ষার জন্য ব্যভিচার ও অপবাদের শাস্তি (হদ) নির্ধারণ করা হয়েছে; এবং মানুষের সম্পদ রক্ষার জন্য চুরির শাস্তির বিধান করা হয়েছে [14] ।
তুলনামূলক ক্রিমিনোলজির দৃষ্টিতে, আধুনিক আইন কেবল অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহ অপরাধ সংঘটনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো আগে দূর করে। যেমন, চুরির শাস্তি প্রয়োগ করার আগে ইসলাম রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয় যেন প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) নিশ্চিত করা হয়। অভাবের তাড়নায় কেউ চুরি করলে তার ওপর হদ বা হাত কাটার শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না। অপরাধ দমনের এই সামগ্রিক ও প্রতিরোধমূলক (Preventive) দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামি শরিয়াহকে পৃথিবীর সবচেয়ে কার্যকর অপরাধ দমনকারী আইনি ব্যবস্থায় পরিণত করেছে [15] ।
অপরাধ দমনে ইসলামি দণ্ডবিধির কার্যকারিতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ইসলামি দণ্ডবিধির কার্যকারিতা এবং এর অপরাধ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Crime Prevention Rate) আধুনিক ক্রিমিনোলজির গবেষকদের জন্য একটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়। ইসলামি ফৌজদারি আইনে শাস্তিকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: হুদুদ (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অপরিবর্তনীয় শাস্তি), কিসাস (সমতাভিত্তিক শাস্তি) এবং তা'জির (বিচারক বা রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত সংশোধনমূলক শাস্তি) [16] । এই শাস্তিগুলোর মূল মনস্তাত্ত্বিক লক্ষ্য হলো অপরাধীর মনে এবং সমাজে এক ধরনের তীব্র ভীতি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা (الزجر والردع), যাতে কেউ অপরাধ করার সাহস না পায় [17] ।
আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ আইনব্যবস্থায় অপরাধের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শাস্তির দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীদের সংশোধনের নামে লঘু দণ্ড প্রদান। উদাহরণস্বরূপ, অবৈধ যৌন সম্পর্ক বা ব্যভিচারের ক্ষেত্রে আধুনিক আইন এবং ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ আইনে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যভিচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্যই করা হয় না, যা পারিবারিক ভাঙন, অবৈধ সন্তান এবং সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটায়। পক্ষান্তরে, ইসলামি শরিয়াহ বংশধারা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ব্যভিচারের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করেছে, যা সমাজে এই অপরাধের হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে [18] ।
ইসলামি আইনের আরেকটি অনন্য দিক হলো অপরাধের গোপনীয়তা বা অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান (التستر على الجريمة)। ইসলামি সমাজে অপরাধীকে আড়াল করা বা অপরাধের তথ্য গোপন করাকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অপরাধীদের সামাজিক আশ্রয় পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় [19] । তদুপরি, হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান কেবল প্রতিশোধের স্পৃহাকেই দমন করে না, বরং তা হত্যাকারীর মনে এই ভয় তৈরি করে যে, অন্যের জীবন হরণ করলে নিজের জীবনও হারাতে হবে। এই মনস্তাত্ত্বিক ভীতিই সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যেমনটি প্রাক-ইসলামি আরবের বিশৃঙ্খল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইসলামি কিসাস আইন সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল [20] ।
একইভাবে, ইসলামি আইনে অপরাধের উদ্দেশ্য এবং অপরাধের ধরনকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন, নরহত্যাকে ইচ্ছাকৃত হত্যা (قتل العمد), ভুলবশত হত্যা (قتل الخطأ) এবং আধা-ইচ্ছাকৃত হত্যা (قتل شبيه العمد) ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির তারতম্য করা হয়েছে [21] । অপরাধের এই শ্রেণিবিন্যাস এবং অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব রোধে ইসলামি আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলেই ঐতিহাসিকভাবে যেসব অঞ্চলে শরিয়াহ আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, সেখানে অপরাধের হার আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের কম ছিল [22] । তুলনামূলক ক্রিমিনোলজির এই বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, কেবল বাহ্যিক বলপ্রয়োগ নয়, বরং মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং সামাজিক নৈতিকতার সমন্বয়ে গঠিত ইসলামি শরিয়াহ আইনই অপরাধ দমনে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও কার্যকর মডেল।