খণ্ড 60
ফন্ট:100%
থিম:

৯.৭ খাওয়ারেজদের (Kharijites) উদ্ভব: রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম (Religious Extremism) এবং টেররিজম (Terrorism)

৯.৭ খাওয়ারেজদের (Kharijites) উদ্ভব: রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম (Religious Extremism) এবং টেররিজম (Terrorism)

ইসলামি ইতিহাসের রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাসে 'খাওয়ারেজ' বা 'খারেজি' (Kharijites) একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অধ্যায়। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দল বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সংগঠিত 'রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম' (Religious Extremism) বা ধর্মীয় চরমপন্থা এবং 'টেররিজম' (Terrorism) বা সন্ত্রাসবাদের একটি প্রাথমিক ও ভয়াবহ রূপ। এই গোষ্ঠীটি ইসলামের মূলধারার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি উগ্র ও মৌলবাদী আদর্শের জন্ম দিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী আঘাত হেনেছিল। তাদের এই উত্থানের মূলে ছিল কঠোর আক্ষরিকতাবাদ (Literalism), রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং 'তাকফির' (Takfir) বা অন্য মুসলিমদের কাফের ঘোষণা করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সিফফিনের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

খাওয়ারেজদের উদ্ভব কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল তৎকালীন ইসলামের ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitics) অস্থিরতা এবং উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। চতুর্থ খলিফা আলি রা. এবং সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান রা.-এর মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত, যা 'সিফফিনের যুদ্ধ' নামে পরিচিত, ছিল এই চরমপন্থা সৃষ্টির মূল ভিত্তি। এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামানোর জন্য 'তাহকিম' বা সালিশি প্রক্রিয়ার (Arbitration) প্রস্তাব আসে, তখনই এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বীজ রোপিত হয়।

তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিফফিনের যুদ্ধের পর যখন রক্তপাত বন্ধ করার জন্য এবং উম্মাহর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সালিশি বা 'তাহকিম' গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা মনে করেছিল যে, মানুষের দ্বারা বিচার বা সালিশি করা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তাদের এই উগ্র স্লোগান ছিল: "লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ" (লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ - অর্থাৎ, আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য কোনো বিধান কার্যকর নয়)। এই স্লোগানটি আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মনে হলেও, এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত খিলাফত ও নেতৃত্বের বৈধতাকে অস্বীকার করা।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই গোষ্ঠীর উত্থান সম্পর্কে দুটি প্রধান মতবাদ রয়েছে। কিছু মতানুসারে, তারা আলি রা.-এর শাসনামলে তালহা ও যুবাইর রা.-এর বিদ্রোহের সময় থেকেই উঁকি দিচ্ছিল [1] । তবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও গবেষণাধর্মী মতানুসারে, তারা মূলত আলি রা.-এর সেনাবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল যখন তারা সালিশি প্রক্রিয়ার (Tahkim) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেখে।

أنهم نشأوا في عهد علي رضي الله عنه حين خرج عليه طلحة والزبير، كما يزعم بعض علماء الإباضية. أو حين خرج الخوارج من المحكمة عن جيشه كما هو الراجح. أنهم ظهروا في ... [2] এই বিচ্ছেদটি কেবল একটি সামরিক বিচ্ছিন্নতা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি আদর্শিক বিচ্যুতি। তারা রাজনৈতিক সমঝোতা বা ডিপ্লোম্যাসি (Diplomacy) এবং বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে একটি কাল্পনিক ও চরমপন্থী আদর্শিক কাঠামোর প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠে। এই মানসিকতাটিই পরবর্তীতে তাদের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

তাত্ত্বিক বিচ্যুতি: আক্ষরিকতাবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থা (Religious Extremism)

খাওয়ারেজদের আদর্শিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং তা ছিল মূলত 'জামুদ' বা কঠোর আক্ষরিকতাবাদের (Rigid Literalism) ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা কুরআনের আয়াতসমূহকে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করত, যেখানে কোনো প্রকার প্রেক্ষাপট (Context) বা তাত্ত্বিক গভীরতা (Nuance) ছিল না। এই সংকীর্ণতা তাদের ধর্মীয় চরমপন্থার (Religious Extremism) দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তারা কুরআনের আয়াতগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করত যা তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক ছিল।

তাদের এই চরমপন্থার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল 'তাকফির' (Takfir) বা কোনো মুসলিমকে কাফের বা অবিশ্বাসী ঘোষণা করার প্রবণতা। তারা মনে করত, যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট পাপ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত। এই ধারণাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল কারণ এটি মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা রক্তপাতকে বৈধতা প্রদান করে। তারা কেবল নিজেদের আদর্শের অনুসারীদেরই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গণ্য করত এবং বাকিদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করত।

তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের এই অন্ধ আক্ষরিকতাবাদের কারণে তারা সুন্নাহ বা হাদিসের গুরুত্বকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছিল। যখন কোনো হাদিস কুরআনের তাদের সংকীর্ণ ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক হতো, তখন তারা হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করত অথবা সেটিকে বাতিল (Abrogate) বলে গণ্য করত।

ولقد كان من أثر جمود الخوارج عند ظواهر النصوص القرآنية. أنهم لم يلتفتوا إلى ما جاء من الأحاديث النبوية ناسخاً لبعض آيات الكتاب. [3] এই 'জামুদ' বা কাঠিন্য তাদের চিন্তাশক্তিকে স্থবির করে দিয়েছিল। তারা ইসলামের একটি গতিশীল ও জীবনমুখী ধর্ম হিসেবে পরিবর্তে একে একটি কঠোর ও দণ্ডমূলক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে চেয়েছিল। এই মানসিকতাটিই আধুনিক যুগের উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর (Extremist groups) মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যারা ধর্মীয় পাঠ্যকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

রাজনৈতিক বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদের (Terrorism) উন্মেষ

খাওয়ারেজদের রাজনৈতিক দর্শন ছিল মূলত 'বিদ্রোহী' (Rebellious) এবং 'অস্থিতিশীলকারী' (Destabilizing)। তারা কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্য পোষণ করত না, বরং তারা প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিল। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইনসারজেন্সি' (Insurgency) বা সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং 'টেররিজম' (Terrorism) হিসেবে অভিহিত করা যায়। তারা সাধারণ মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করতে এবং রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করতে দ্বিধা করত না।

তাদের এই উগ্রপন্থার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাদের নামকরণের ইতিহাস। তারা নিজেদের 'হারুরিয়া' (Haruriyyah) নামে অভিহিত করত, কারণ তারা হারুরা নামক স্থানে একত্রিত হয়ে তাদের বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছিল [4] । এই নামকরণটি তাদের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ইঙ্গিত দেয়, যা মূলত মূলধারার মুসলিম সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতাকে প্রকাশ করে।

খাওয়ারেজদের এই সন্ত্রাসবাদী প্রবণতা কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পদ্ধতিগত কৌশল। তারা বিশ্বাস করত যে, উম্মাহর শুদ্ধিকরণের জন্য রক্তপাত অপরিহার্য। এই 'রক্তক্ষয়ী শুদ্ধিকরণ' (Bloody Purification) এর ধারণাটি তাদের আদর্শের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা মনে করত, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক জটিলতা বা ভুল সিদ্ধান্তগুলো কেবল সহিংসতা ও যুদ্ধের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

তাদের এই উগ্রবাদী আচরণের ফলে তৎকালীন খিলাফতকে কেবল বহিঃশত্রুর মোকাবিলা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও constant (নিরন্তর) যুদ্ধ চালাতে হয়েছিল। এটি উম্মাহর শক্তি ও সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

খাওয়ারেজদের উদ্ভব এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও, তাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো সর্বসম্মত। আবু আল-হাসান আল-আশ'আরির মতো প্রখ্যাত পণ্ডিতগণও এই মত পোষণ করেছেন যে, এই গোষ্ঠীটি মূলত চতুর্থ খলিফা আলি রা.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী একটি দল ছিল [5]

নিচে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি তুলনামূলক ও বিশ্লেষণাত্মক সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:

রাজনৈতিক অবস্থান:

তারা বিদ্যমান খিলাফত ও নেতৃত্বের বৈধতাকে অস্বীকার করত এবং 'তাহকিম' বা কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সশস্ত্র বিদ্রোহকে প্রাধান্য দিত।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি:

তারা কুরআনের আক্ষরিক ও সংকীর্ণ ব্যাখ্যার (Literalism) ওপর ভিত্তি করে একটি উগ্রবাদী ধর্মতত্ত্ব তৈরি করেছিল, যা হাদিসের গুরুত্বকে খাটো করে দিত।

সামাজিক প্রভাব:

'তাকফির' বা মুসলিমদের কাফের ঘোষণার মাধ্যমে তারা মুসলিম সমাজের মধ্যে বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল।

সন্ত্রাসবাদী পদ্ধতি:

তারা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতা, রক্তপাত এবং আকস্মিক আক্রমণকে একটি বৈধ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, খাওয়ারেজদের এই উত্থানটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে একটি 'প্যারাডাইম শিফট' (Paradigm Shift)। এটি প্রমাণ করেছিল যে, ধর্মীয় আবেগকে যখন রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ভুল তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উসকে দেওয়া হয়, তখন তা কতটা ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে। তাদের এই 'রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম' বা ধর্মীয় চরমপন্থা কেবল তৎকালীন সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি একটি চিরস্থায়ী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমস্যা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, খাওয়ারেজদের উত্থানটি ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক সংকটের ধর্মীয় রূপান্তর। সিফফিনের যুদ্ধের পর যখন উম্মাহর মধ্যে একটি সমঝোতার প্রয়োজন ছিল, তখন এই গোষ্ঠীটি সমঝোতার পরিবর্তে বিভাজন ও সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছিল। তাদের এই পথটি ছিল উম্মাহর জন্য একটি গভীর ক্ষত, যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রতিটি যুগের মুসলিম ও গবেষকের জন্য অপরিহার্য।

""
৯.৭ খাওয়ারেজদের (Kharijites) উদ্ভব: রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম (Religious Extremism) এবং টেররিজম (Terrorism)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৯.৭ খাওয়ারেজদের (Kharijites) উদ্ভব: রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম (Religious Extremism) এবং টেররিজম (Terrorism) কুইজ

1 / 5

খাওয়ারেজদের (Kharijites) উদ্ভব ইসলামী ইতিহাসে কোন চিন্তাধারার প্রথম প্রকাশ?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...