খণ্ড 89
ফন্ট:100%
থিম:

৪.১ 'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) বা যুদ্ধ পরিচালনার আইন: ইসলামি কাঠামোর শ্রেষ্ঠত্ব

আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় যুদ্ধসংক্রান্ত আইনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—'জাস আদ বেলুম' (Jus ad Bellum) বা যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আইনগত যৌক্তিকতা এবং 'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) বা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর আচরণ, সীমা ও নৈতিক দায়িত্ব নির্ধারণকারী আইন। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাসে যখন বিজয়ী শক্তির সীমাহীন বর্বরতা, নির্বিচার লুণ্ঠন, নারী ও শিশুদের দাসত্বে বাধ্যকরণ এবং পরাজিতদের অঙ্গচ্ছেদ বা 'মুসলাহ' করা একটি সাধারণ সামাজিক ও সামরিক নিয়ম হিসেবে স্বীকৃত ছিল, তখন সপ্তম শতকের শুরুতে রাসুলুল্লাহ সা. মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত ও প্রাতিষ্ঠানিক যুদ্ধকালীন আচরণবিধি বা 'রুলস অফ এনগেজমেন্ট' প্রণয়ন করেন। ইসলামি আইনশাস্ত্রের (Feqh) এই অনন্য ধারাটি কেবল যুদ্ধকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই নিয়ন্ত্রণ করেনি, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের চরম উত্তেজনার মধ্যেও মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সত্তাকে জাগ্রত রাখার এক অভূতপূর্ব ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে।

'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) এর তাত্ত্বিক রূপরেখা এবং ইসলামি দর্শনের সাথে এর সংযোগ

আধুনিক আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (International Humanitarian Law) মূলত যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সামরিক প্রয়োজনীয়তা (Military Necessity) এবং মানবিকতার (Humanity) মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। তবে ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা দর্শনে এই ভারসাম্য বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হলো পারস্পরিক চুক্তি বা প্রতিশোধের ভয়। পক্ষান্তরে, ইসলামি যুদ্ধদর্শনে 'জাস ইন বেলো' কেবল কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা বৈষয়িক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি সরাসরি মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং পরকালীন জবাবদিহিতার সাথে যুক্ত। রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধকালীন নির্দেশনাগুলো কোনো সাময়িক কৌশলগত সমঝোতা ছিল না, বরং তা ছিল ঐশী ওহির আলোকে নির্ধারিত চিরন্তন নৈতিক নীতিমালা।

ইসলামি যুদ্ধ আইনের এই অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গবেষক হুমাইদ আস-সাগির তাঁর গবেষণগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল চরম শত্রুর বিরুদ্ধেও পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং যেকোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা। তিনি লিখেছেন:

"وبناءا على ذلك، فإن من أعظم خصائص الحروب النبوية: العدل والبعد عن الظلم والجزر بجميع أشكاله وأنواعه، فكان عليه السلام يراعي حقوق الآخرين ولو كانوا كفارا"

অর্থাৎ, "এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, নববী যুদ্ধসমূহের অন্যতম মহান বৈশিষ্ট্য ছিল: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের জুলুম ও বর্বরতা থেকে দূরে থাকা। রাসুলুল্লাহ সা. সর্বদা অপরের অধিকারের প্রতি লক্ষ রাখতেন, এমনকি তারা কাফের বা অবিশ্বাসী হলেও।" [1]

এই তাত্ত্বিক কাঠামোটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামি যুদ্ধনীতিতে শত্রুর প্রতি মানবিক আচরণ কোনো দুর্বলতা নয়, বরং তা ইমানের অন্যতম দাবি। পশ্চিমা যুদ্ধদর্শনে যেখানে 'শত্রু'কে সম্পূর্ণ মানবিক অধিকারবঞ্চিত এক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা রয়েছে, সেখানে ইসলাম যুদ্ধাবস্থাতেও শত্রুর মৌলিক মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। আল-গাজালির 'ফিকহুস সীরাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যুদ্ধের চরম মুহূর্তেও সাহাবিদের অন্তরে এই বিশ্বাস প্রোথিত ছিল যে, তারা কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা পার্থিব লালসা চরিতার্থ করার জন্য লড়াই করছেন না, বরং আল্লাহর জমিনে ফিতনা দূর করার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন [2] । এই আধ্যাত্মিক সংযোগই ইসলামি 'জাস ইন বেলো'কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কার্যকর ও মানবিক যুদ্ধ আইনে পরিণত করেছে।

যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও আধ্যাত্মিক-নৈতিক নিয়ন্ত্রণ

ইসলামে যুদ্ধের অনুমতি কেবল তখনই দেওয়া হয় যখন শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্য সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা যাতে কোনোভাবেই পাশবিক তাণ্ডবে রূপ না নেয়, সেজন্য ইসলামি শরিয়ত যুদ্ধ পরিচালনার ওপর কঠোর আধ্যাত্মিক ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ইসলামি যুদ্ধ আইনের মূল লক্ষ্য হলো আগ্রাসন প্রতিরোধ করা এবং দুর্বলদের রক্ষা করা, কোনো ভূখণ্ড দখল বা সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বিস্তার নয়। হুমাইদ আস-সাগির তাঁর গ্রন্থে জিহাদের এই লক্ষ্যকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:

"إن من أهداف الجهاد في الإسلام دفع عدوان الكافرين المعتدين كأن يعتدي الكفار على فئة مسلمة مستضعفة أو أن يعتدوا على ديار المسلمين"

অর্থাৎ, "ইসলামে জিহাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো আক্রমণকারী কাফেরদের আগ্রাসন প্রতিহত করা; যেমন কাফেররা যখন কোনো দুর্বল মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালায় কিংবা মুসলিমদের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে।" [3]

এই আত্মরক্ষামূলক ও প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধনীতির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। রাসুলুল্লাহ সা. যখনই কোনো সামরিক অভিযান প্রেরণ করতেন, তখন সেনাপতি ও সৈন্যদের উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক নসিহত প্রদান করতেন, তা ছিল আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধির এক অনন্য দলিল। উহুদ যুদ্ধের কঠিনতম পরিস্থিতিতে, যখন রাসুলুল্লাহ সা. নিজে গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তাঁর দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছিল এবং তাঁর প্রিয় চাচা হামজা রা. কে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁর লাশ বিকৃত (মুসলাহ) করা হয়েছিল, তখনও রাসুলুল্লাহ সা. প্রতিশোধের আগুনে অন্ধ হয়ে যুদ্ধনীতির সীমা লঙ্ঘন করেননি [4] । বরং তিনি সাহাবিদের নিয়ে আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে যে প্রার্থনা করেছিলেন, তা তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চতা ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণের এক অনুপম দৃষ্টান্ত:

"اللهم! لك الحمد كلّه. اللهم! لا قابض لما بسطت ولا باسط لما قبضت... اللهم! قاتل الكفرة الذين يكذّبون رسلك، ويصدون عن سبيلك، واجعل عليهم رجزك وعذابك"

অর্থাৎ, "হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রসারিত করেন তা সংকুচিত করার কেউ নেই, আর আপনি যা সংকুচিত করেন তা প্রসারিত করার কেউ নেই... হে আল্লাহ! আপনি সেই কাফেরদের পাকড়াও করুন যারা আপনার রাসুলদের অস্বীকার করে এবং আপনার পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয়।" [5]

এই প্রার্থনা প্রমাণ করে যে, চরমতম ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সংকটেও রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেখানে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ, জাতিগত বিদ্বেষ বা বর্বর প্রতিশোধস্পৃহার স্থান ছিল না। হুমাইদ আস-সাগির আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধগুলোর এই ঐশী ও নৈতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রাচীন ও আধুনিককালের সমস্ত যুদ্ধ থেকে একে সম্পূর্ণ পৃথক ও অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছে [6] । এই আধ্যাত্মিক নিয়ন্ত্রণই মুসলিম বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে এক অনুশাসিত ও সুশৃঙ্খল শক্তিতে পরিণত করেছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিকতা ও শত্রুর অধিকার রক্ষা: রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধকালীন আচরণবিধি

যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তি সবচেয়ে বেশি জাগ্রত হয়। এই চরম মুহূর্তেও রাসুলুল্লাহ সা. শত্রুপক্ষের অসামরিক নাগরিক, নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং ধর্মীয় উপাসনাকারীদের অধিকার সুরক্ষায় যে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তা আধুনিক মানবিক আইনের মূল ভিত্তি। ইসলামি যুদ্ধ আইনে 'কম্ব্যাট্যান্ট' (Combatant - যারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত) এবং 'নন-কম্ব্যাট্যান্ট' (Non-combatant - যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি) এর মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ও অলঙ্ঘনীয় পার্থক্য রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধকালীন আচরণবিধির অন্যতম প্রধান দিক ছিল শত্রুর মৃতদেহের বিকৃতি বা 'মুসলাহ' করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা। উহুদ যুদ্ধে কাফেরদের পক্ষ থেকে হামজা রা. সহ অন্যান্য শহীদ সাহাবিদের নাক-কান কেটে নেওয়ার মতো জঘন্য বর্বরতা প্রদর্শন করা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সা. মুসলিমদের জন্য অনুরূপ প্রতিশোধ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেন। হুমাইদ আস-সাগির তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল শত্রুর মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা, এমনকি তারা যদি ঘোরতর শত্রুও হয় [7]

এছাড়া, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস না করা, ফলবান বৃক্ষ কর্তন না করা, শস্যক্ষেত নষ্ট না করা এবং পানির উৎসে বিষ প্রয়োগ না করার মতো পরিবেশগত মানবিক আইনও রাসুলুল্লাহ সা. প্রবর্তন করেছিলেন। আল-গাজালির 'ফিকহুস সীরাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. এর এই কঠোর নৈতিক ও মানবিক নির্দেশনার কারণেই সাহাবিগণ যুদ্ধের ময়দানেও নিজেদের প্রবৃত্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হতেন। উদাহরণস্বরূপ, আমর ইবনুল জামুহ রা. এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ রা. এর মতো সাহাবিদের শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বীরত্ব ছিল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত, কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে নয় [8] । রাসুলুল্লাহ সা. এর এই মানবিক আচরণবিধি কেবল তাত্ত্বিক ছিল না, বরং প্রতিটি যুদ্ধে সাহাবিগণ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন, যা শত্রুপক্ষের হৃদয় জয় করতে এবং ইসলামি দাওয়াতের পথ সুগম করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।

ইসলামি যুদ্ধ আইনের শ্রেষ্ঠত্ব: একটি ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যায়ন

আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, যুদ্ধ কেবল প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করার নাম নয়, বরং এটি মূলত একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উপায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সা. এর প্রবর্তিত 'জাস ইন বেলো' বা যুদ্ধ পরিচালনার আইন কেবল নৈতিকভাবেই শ্রেষ্ঠ ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত মাস্টারপিস। যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিমদের এই কঠোর নৈতিক শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণ শত্রুপক্ষের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরাজিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

ইসলামি যুদ্ধ আইনের এই কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে 'মাউসুয়াতুল গাজাওয়াতুল কুবরা' (মহাসমর বিশ্বকোষ) গ্রন্থে অত্যন্ত চমৎকার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুসলিমদের সামরিক শক্তির মূল উৎস ছিল তাদের বিশুদ্ধ ইমানি আকিদা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের নৈতিক স্পষ্টতা। গ্রন্থে বলা হয়েছে:

"لأن أهم حوافز القوة القتالية لدى المسلمين إنما كان قوة عقيدة الإِسلام"

অর্থাৎ, "কেননা মুসলিমদের যুদ্ধকালীন শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি ছিল ইসলামের আকিদা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা।" [9]

এই নৈতিক ও আকিদাগত দৃঢ়তার কারণেই মুসলিম বাহিনী যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও তাদের শৃঙ্খলা হারাত না। উহুদ এবং হুনাইনের যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী সাময়িক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সা. এর অবিচল নেতৃত্ব এবং সাহাবিদের নৈতিক দৃঢ়তাই সেই বিপর্যয়কে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপান্তরিত করেছিল। হুনাইনের যুদ্ধে যখন প্রাথমিক ধাক্কায় সাধারণ সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সা. এবং তাঁর সাথে থাকা মাত্র একশত খাঁটি সাহাবির অবিচল অবস্থান ও নৈতিক বীরত্বই পুরো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল [10]

ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, রাসুলুল্লাহ সা. এর মানবিক যুদ্ধনীতি বিজিত অঞ্চলের জনগণের সাথে মুসলিমদের এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সেতু বন্ধন তৈরি করত। রোমান বা পারসিয়ান সাম্রাজ্যের মতো বিজয়ী শক্তিগুলো যেখানে বিজিত অঞ্চলে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিত এবং লুণ্ঠন চালাত, সেখানে মুসলিমদের ন্যায়বিচার, বন্দীদের প্রতি সদয় আচরণ এবং জান-মালের নিরাপত্তা প্রদান বিজিত অঞ্চলের মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করত। হুমাইদ আস-সাগির যেমনটি দেখিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ সা. এর যুদ্ধগুলোর মূল লক্ষ্যই ছিল মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং জুলুমের অবসান ঘটানো [11] । ফলে, ইসলামি যুদ্ধ আইন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের বর্বরতাকেই হ্রাস করেনি, বরং তা দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। এই নৈতিক ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই ইসলাম অতি দ্রুত তৎকালীন বিশ্বের বুকে এক অপরাজেয় সভ্যতায় পরিণত হতে পেরেছিল।

""
৪.১ 'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) বা যুদ্ধ পরিচালনার আইন: ইসলামি কাঠামোর শ্রেষ্ঠত্ব
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৪.১ 'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) বা যুদ্ধ পরিচালনার আইন: ইসলামি কাঠামোর শ্রেষ্ঠত্ব কুইজ

1 / 5

'জাস ইন বেলো' (Jus in Bello) বলতে কী বোঝায়?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...