খণ্ড 89
ফন্ট:100%
থিম:

১২.১ 'সিয়ার' (Siyar) বা ইসলামি আন্তর্জাতিক আইনের উৎপত্তি এবং বিকাশ

'সিয়ার' (Siyar) শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক বিশ্লেষণ এবং ইসলামি আইনের পরিমণ্ডলে এর অবস্থান


ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহের ইতিহাসে 'সিয়ার' (Siyar) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরিশীলিত পরিভাষা। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'সিয়ার' শব্দটি আরবি 'সীরাত' (سيرة)-এর বহুবচন, যার অর্থ হচ্ছে পথ, পদ্ধতি, আচরণ, জীবনধারা বা কোনো ব্যক্তির চরিত্র ও কর্মপন্থা। রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবনচরিত ও তাঁর সামরিক অভিযানসমূহকে নির্দেশ করতে প্রাথমিক যুগে 'সীরাত' ও 'মাগাজি' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হতো। তবে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য সভ্যতার সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধির ফলে ফিকহশাস্ত্রের পরিমণ্ডলে এই শব্দটির অর্থগত এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটে। ধ্রুপদী ফিকহবিদদের পরিভাষায়, 'সিয়ার' বলতে এমন এক বিধিবদ্ধ আইনব্যবস্থাকে বোঝায়, যা যুদ্ধ, শান্তি, চুক্তি, কূটনীতি এবং অমুসলিম রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সাথে ইসলামি রাষ্ট্রের সামগ্রিক সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় একেই 'আন্তর্জাতিক আইন' (International Law) বা 'পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল' (Public International Law) হিসেবে অভিহিত করা হয়। ইসলামি আইনশাস্ত্রে সিয়ারের অবস্থান কেবল কিছু নৈতিক উপদেশের সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং এটি শরিয়তের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং বাধ্যতামূলক আইনি শাখা। যেখানে সমকালীন পশ্চিমা আন্তর্জাতিক আইন কেবল সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, সেখানে ইসলামি 'সিয়ার'-এর মূল ভিত্তি হলো ঐশী নির্দেশনা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা। ফলে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামি রাষ্ট্র কেবল রাজনৈতিক স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না, বরং তাকে সিয়ারের সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়।

ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই নিবিড় সংযোগ সম্পর্কে সমকালীন গবেষকগণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোকপাত করেছেন। ইসলামি ফিকহ ও আন্তর্জাতিক আইনের এই আন্তঃসম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, ইসলামি শরিয়তই হলো সেই মূল আইন যা মুসলিমদের সাথে বহির্বিশ্বের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। এই প্রসঙ্গে মূল আরবি ইবারতটি নিম্নরূপ:


"يوجد ترابط بين مجالي الفكر السياسي الإسلامي والعلاقات الدولية، وفي الإسلام الشريعة هي القانون الذي يجمع المسلمين مع غيرهم، والفقه هو الذي يوضح هذه العلاقات"

অর্থাৎ, "ইসলামি রাজনৈতিক চিন্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র দুটির মধ্যে একটি গভীর পারস্পরিক সংযোগ রয়েছে। ইসলামে শরিয়ত হলো এমন একটি আইন যা মুসলিমদের অন্য সবার সাথে একত্রিত ও সম্পর্কিত করে, আর ফিকহ হলো সেই শাস্ত্র যা এই সম্পর্কগুলোকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে।" [1] । এই আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই ইসলামি রাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করে থাকে, যা বিশ্বব্যবস্থায় শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে [2]

ইসলামি আন্তর্জাতিক আইনের উৎসসমূহ: কুরআন, সুন্নাহ এবং প্রাথমিক যুগের চুক্তিভিত্তিক কূটনীতি


ইসলামি আন্তর্জাতিক আইন বা সিয়ারের উৎসগত ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং তা প্রধানত পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র কুরআনে মানবজাতির মৌলিক ঐক্য, পারস্পরিক পরিচিতি এবং ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। কুরআন মাজিদ কেবল যুদ্ধের নিয়মকানুনই নির্ধারণ করেনি, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা, চুক্তির পবিত্রতা রক্ষা (Pacta sunt servanda) এবং শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের সাথেও ন্যায়সঙ্গত আচরণের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে। ইসলামি কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বিশ্বজনীন কল্যাণ এবং সামষ্টিক নিরাপত্তা (Collective Security), যা কুরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত।

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহ এবং তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতা সিয়ারের বিকাশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ সা. কর্তৃক প্রণীত 'মদিনার সনদ' (Mithaq al-Madinah) ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান এবং বহু-পাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তির এক অনন্য দলিল। এই সনদের মাধ্যমে মদিনার মুসলিম, ইহুদি এবং অন্যান্য গোত্রের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামষ্টিক নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে হুদায়বিয়ার সন্ধি (Treaty of Hudaybiyyah)-র মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সা. যে দূরদর্শী কূটনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেছিলেন, তা আন্তর্জাতিক আইনশাস্ত্রে কৌশলগত শান্তিচুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার এক শাশ্বত মডেলে পরিণত হয়েছে। রোম, পারস্য ও আবিসিনিয়ার সম্রাটদের নিকট প্রেরিত কূটনৈতিক পত্রাবলি ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রমাণ।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক আশ্রয় (Political Asylum) এবং নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার (Safe Passage), যা ইসলামি ফিকহে 'আমান' (Aman) নামে পরিচিত। আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের বহু পূর্বে ইসলাম এই মানবিক অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বিষয়ে ফিকহ ও আধুনিক আইনের সামঞ্জস্য তুলে ধরে বলা হয়েছে:


"يتفق القانون الدولي مع الفقه الإسلامي على ضرورة استيفاء الشروط والمعايير الخاصة بوضع طالب الأمان وحق اللجوء السياسي، بحيث يكون اختلال بعض تلك الشروط مانعا"

অর্থাৎ, "আন্তর্জাতিক আইন এবং ইসলামি ফিকহ উভয়ই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও নিরাপত্তা যাচনাকারীর অবস্থান নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত ও মানদণ্ডসমূহ পূরণ করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত পোষণ করে, যাতে এই শর্তগুলোর কোনো একটির অনুপস্থিতি আশ্রয় লাভের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হয়।" [3] । এই আইনি সামঞ্জস্য প্রমাণ করে যে, ইসলামি সিয়ার কেবল একটি ধর্মীয় বিধান ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োগযোগ্য একটি আইনি ব্যবস্থা [4]

প্রাথমিক খিলাফত আমলে 'সিয়ার'-এর প্রায়োগিক বিকাশ এবং দারুল ইসলাম ও দারুল হারব-এর ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন


খিলাফতে রাশেদার আমলে ইসলামি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা যখন আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে রোমান ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের সীমানায় প্রবেশ করে, তখন সিয়ারের প্রায়োগিক প্রয়োগ ও বিকাশ এক নতুন গতি লাভ করে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. সিরিয়া অভিযানে প্রেরণকালে মুসলিম বাহিনীকে যে দশটি ঐতিহাসিক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, তা আধুনিক যুদ্ধকালীন মানবিক আইনের (Jus in bello) মূল ভিত্তি। অসামরিক নাগরিক, নারী, শিশু, বৃদ্ধদের হত্যা না করা, উপাসনালয় ধ্বংস না করা এবং পরিবেশগত ক্ষতিসাধন (যেমন গাছপালা কাটা বা গবাদিপশু অহেতুক হত্যা) নিষিদ্ধ করে তিনি যে আইনি নজির স্থাপন করেছিলেন, তা সমকালীন বিশ্বব্যবস্থায় ছিল অকল্পনীয়। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর আমলে বিজিত অঞ্চলের অমুসলিম প্রজাদের (Dhimmi) অধিকার সুরক্ষায় যে আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়, তা নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার এক অনন্য দলিল।

এই যুগে ফিকহবিদগণ বিশ্ব পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন: 'দারুল ইসলাম' (ইসলামি সার্বভৌমত্বাধীন অঞ্চল), 'দারুল হারব' (শত্রুভাবাপন্ন বা যুদ্ধাবস্থায় থাকা অঞ্চল) এবং 'দারুল আহদ' বা 'দারুল সুলহ' (চুক্তিভুক্ত বা মিত্র অঞ্চল)। এই বিভাজনটি কোনো স্থায়ী ধর্মীয় বিভাজন ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত ও বর্ণনামূলক শ্রেণীকরণ। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি অধিকার ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা। অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার এবং তাদের আইনি মর্যাদা সুরক্ষায় ইসলামি আইন যে উদারতা প্রদর্শন করেছে, তা সমকালীন ঐতিহাসিক দলিলসমূহে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের (জিম্মি) অধিকার এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ধ্রুপদী ফিকহবিদগণ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে ড. আবদুল কারীম যায়দানের বিখ্যাত গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে ফিকহী আলোচনায় বলা হয়েছে:


"الدكتور زيدان، عبدالكريم، أحكام الذميين والمستأمنين في الشريعة الإسلامية"

অর্থাৎ, "ডক্টর আবদুল কারীম যায়দান তাঁর 'আহকামুজ জিম্মিয়্যিন ওয়াল মুস্তামিনিন ফিশ শারিআতিল ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি শরিয়তে জিম্মি ও নিরাপত্তা প্রাপ্তদের বিধানাবলী) গ্রন্থে এই আইনি সুরক্ষার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।" [5] । এই আইনি সুরক্ষার ফলেই ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকগণ তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার পূর্ণ মাত্রায় ভোগ করতে পারত, যা তৎকালীন ইউরোপীয় বা পারস্য সাম্রাজ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল [6]

একটি স্বাধীন শাস্ত্র হিসেবে 'সিয়ার'-এর সংকলন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর


উমাইয়া আমলের শেষভাগ এবং আব্বাসীয় আমলের প্রারম্ভে ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের পদ্ধতিগত সংকলন শুরু হলে 'সিয়ার' একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত আইনি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর পূর্বে সিয়ারের আলোচনাগুলো ফিকহের সাধারণ অধ্যায়সমূহ বা হাদিসের কিতাবুল জিহাদ ও মাগাজির অংশ হিসেবে আলোচিত হতো। কিন্তু সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ফলে সিয়ারকে একটি পৃথক শাস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ঐতিহাসিক রূপান্তরে হিজাজি এবং ইরাকি ফিকহী ধারার অবদান ছিল অপরিসীম।

সিরিয়ার প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আবদুর রহমান আল-আওজায়ি (মৃত্যু: ১৫৭ হিজরি) এবং ইরাকের কুফার প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আবু হানিফা (মৃত্যু: ১৫০ হিজরি) সিয়ারের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট লেকচার ও ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদ আশ-শাইবানি এই ধারাকে আরও বেগবান করেন। তাঁরা সিয়ারের জটিল আইনি মাসআলাগুলোকে সুবিন্যস্তভাবে সংকলন করেন। এই সংকলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামি আন্তর্জাতিক আইন একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে, যা কেবল মুসলিম বিশ্বের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির আইনি ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর ঐতিহাসিক প্রভাব সম্পর্কে আধুনিক গবেষকগণ একমত যে, এই শাস্ত্রীয় বিকাশই বিশ্বকে প্রথম একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক আইনের রূপরেখা প্রদান করেছিল। এই প্রসঙ্গে মجمع الفقه الإسلامي (ইসলামি ফিকহ একাডেমি)-এর জার্নালে উল্লেখ করা হয়েছে:


"ولأهمية هذا الكتاب وأثره في العلاقات الدولية التزمته الدول دستورًا لعلاقاتها الخارجية مدى قرنين من الزمان، واعتبر مؤلفه أبا القانون الدولي"

অর্থাৎ, "এই শাস্ত্রীয় সংকলনের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রসমূহ দীর্ঘ দুই শতাব্দীকাল ধরে একে তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি বা সংবিধান হিসেবে মেনে চলেছিল এবং এর প্রণেতাকে আন্তর্জাতিক আইনের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।" [7] । সিয়ারের এই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রমাণ করে যে, আধুনিক ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার শত শত বছর পূর্বেই মুসলিম ফকিহগণ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন [8]

""
১২.১ 'সিয়ার' (Siyar) বা ইসলামি আন্তর্জাতিক আইনের উৎপত্তি এবং বিকাশ
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১২.১ 'সিয়ার' (Siyar) বা ইসলামি আন্তর্জাতিক আইনের উৎপত্তি এবং বিকাশ কুইজ

1 / 5

'সিয়ার' (Siyar) শব্দটি ইসলামি আইনের কোন শাখার সাথে সম্পর্কিত?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...