খণ্ড 95
ফন্ট:100%
থিম:

১২.৫৯ গ্লোবাল সিটিজেনশিপ (Global Citizenship): জাত্যভিমান (Asabiyyah) ত্যাগ করে বিশ্বনাগরিক হিসেবে মুসলিমদের রেস্পন্সিবিলিটি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং গোত্রীয় সংহতির নামে যে অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, ইসলাম তার আগমনে সেই সংকীর্ণ দেয়ালগুলো ভেঙে এক বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্বের কথা ঘোষণা করেছে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে আমরা 'গ্লোবাল সিটিজেনশিপ' বা 'বিশ্বনাগরিকত্ব' বলে অভিহিত করি, তার মূল ভিত্তি ইসলামে চৌদ্দশ বছর আগেই স্থাপিত হয়েছিল। ইসলাম কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন যা মানুষকে তার ভৌগোলিক সীমানা, জাতিগত পরিচয় এবং ভাষাগত সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে এক মহান মানবিয় পরিবারের সদস্য হিসেবে ভাবতে শেখায়। এই বিশ্বনাগরিকত্বের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো 'আসাবিয়্যাহ' (Asabiyyah) বা অন্ধ জাত্যভিমান, যা মানুষকে সত্যের পরিবর্তে বংশীয় বা জাতীয় গৌরবের প্রতি অন্ধ আনুগত্য করতে প্ররোচিত করে।

ইসলামি ইতিহাসের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সা. এর আগমনের পূর্বে আরব সমাজ চরম মাত্রায় আসাবিয়্যাহর কবলে ছিল। সেখানে ব্যক্তির মূল্য নির্ধারিত হতো তার গোত্রের শক্তির ওপর ভিত্তি করে, সত্য বা ন্যায়ের ওপর নয়। ইসলাম এই আদিম ও সংকীর্ণ মনস্তত্ত্বকে নির্মূল করে 'তাকওয়া' বা খোদাভীতি এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বকে মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই রূপান্তরটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, যা আরবের বিচ্ছিন্ন গোত্রগুলোকে একটি একক, সুসংগঠিত এবং বিশ্বজনীন উম্মাহতে পরিণত করেছিল। এই উম্মাহর ধারণাটিই মূলত আধুনিক গ্লোবাল সিটিজেনশিপের একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সংস্করণ, যেখানে নাগরিকত্বের ভিত্তি কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড নয়, বরং অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানবতা।

আসাবিয়্যাহর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ইসলামের বর্জনীয়তা

আসাবিয়্যাহ বা জাত্যভিমান হলো এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব গোষ্ঠী, জাতি বা বংশের প্রতি এমন এক অন্ধ আনুগত্য পোষণ করে যে, তা তাকে ন্যায়-অন্যায় বিচার করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি 'ইন-গ্রুপ' (In-group) এবং 'আউট-গ্রুপ' (Out-group) বিভাজন তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। ইসলাম এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ বা গোত্রীয় শ্রেষ্ঠত্ববাদকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসুলুল্লাহ সা. এর শিক্ষা ছিল স্পষ্ট যে, কোনো আরব অনারবের ওপর এবং কোনো সাদা চামড়ার মানুষ কালো চামড়ার মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠ নয়, কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন সম্ভব।

এই জাত্যভিমান ত্যাগের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে আধুনিক গবেষকরা ইসলামের সাথে জাতীয়তাবাদ ও গোত্রীয়তার দ্বন্দ্বকে বিশ্লেষণ করেছেন। মওসুয়াতুর রদ্দ-এর এক আলোচনায় এই বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:


الوطنية والقومية والعصبية والإسلام مجلة المنار - (ج 189 / ص 1) المجلد 33 العدد 3 محرم 1352 مايو 1933 الوطنية والقومية والعصبية والإسلام ( س1-6 )

[1]

উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, আল-মানার ম্যাগাজিনের মতো প্রভাবশালী প্রকাশনাগুলোতে জাতীয়তাবাদ (Nationalism), জাতিগত পরিচয় (Ethnic Identity) এবং আসাবিয়্যাহর সাথে ইসলামের সামঞ্জস্যতা নিয়ে গভীর তাত্ত্বিক বিতর্ক হয়েছে। এখানে মূল প্রশ্নটি ছিল—একজন মুসলিম কি একই সাথে তার জাতীয় পরিচয় ধরে রেখে ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে পারে? ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে, দেশপ্রেম বা নিজ ভূখণ্ডের প্রতি ভালোবাসা দোষের নয়, তবে যখন সেই ভালোবাসা অন্য জাতির প্রতি ঘৃণা বা শ্রেষ্ঠত্ববোধে পরিণত হয়, তখনই তা 'আসাবিয়্যাহ'তে রূপ নেয় এবং ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।

মনস্তাত্ত্বিকভাবে, আসাবিয়্যাহ মানুষকে একটি কৃত্রিম নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখে, যা তাকে প্রকৃত সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যখন একজন মানুষ নিজেকে কেবল একটি নির্দিষ্ট জাতির সদস্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তখন সে বিশ্বমানবতার বৃহত্তর সংকটের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই মানসিক সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে ফেলে মানুষকে 'খলিফাতুল্লাহ' বা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পুরো পৃথিবীর প্রতি দায়িত্বশীল হতে আহ্বান করে। এই দায়িত্ববোধই একজন মুসলিমকে কেবল একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিক নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির একজন সচেতন অভিভাবক বা বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।

আধুনিক জাতীয়তাবাদ বনাম ইসলামি বিশ্বজনীনতা (Universalism)

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে 'ন্যাশনাল সিটিজেনশিপ' বা জাতীয় নাগরিকত্ব একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ইসলামি বিশ্বজনীনতা বা ইউনিভার্সালিজম এই কাঠামোর ঊর্ধ্বে এক নৈতিক নাগরিকত্বের কথা বলে। বর্তমান যুগে আমরা দেখি যে, জাতীয়তাবাদের চরম রূপ (Ultra-nationalism) বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, বর্ণবাদ এবং জাতিগত নিধনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের দায়িত্ব হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ মডেল উপস্থাপন করা, যেখানে জাতীয় আনুগত্য এবং বিশ্বজনীন মানবতাবাদের মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

জাতীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকত্বের মধ্যকার ব্যবধান এবং এর প্রভাব সম্পর্কে মওসুয়াতুর রদ্দ-এ উল্লেখ করা হয়েছে:


السلطة الوطنية المسافة بين ضم السين وفتحها! مجلد 49-83 · الوطنية والقومية والعصبية والإسلام ... المواطنة، وما دام المواطنون في الدولة الواحدة لا ...

[2]

এই আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নাগরিকত্ব (Citizenship/المواطنة) এবং জাতীয় ক্ষমতা (National Authority) এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে। যখন নাগরিকত্ব কেবল আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সেখানে নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ঘটে, তখন তা কেবল রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করে, মানবিয় স্বার্থ নয়। একজন মুসলিম বিশ্বনাগরিক হিসেবে তার প্রাথমিক আনুগত্য আল্লাহর প্রতি এবং তার দ্বিতীয় আনুগত্য মানবজাতির কল্যাণের প্রতি। ফলে, রাষ্ট্রীয় সীমানা তাকে অন্য কোনো অসহায় মানুষের প্রতি তার নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে না। এটিই হলো ইসলামি ডিপ্লোম্যাসি এবং গ্লোবাল সিটিজেনশিপের মূল কথা।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্ব 'কালেক্টিভ সিকিউরিটি' বা যৌথ নিরাপত্তার কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তা শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার। বিপরীতে, ইসলামি বিশ্বজনীনতা একটি প্রকৃত 'কালেক্টিভ রেসপন্সিবিলিটি' বা যৌথ দায়িত্ববোধের কথা বলে। এখানে মুসলিমদের রেস্পন্সিবিলিটি হলো কেবল মুসলিম উম্মাহর কথা ভাবা নয়, বরং পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে যেখানেই অবিচার হবে, সেখানে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। এই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিমদের একটি বৈশ্বিক নৈতিক নেতৃত্বের আসনে বসায়, যা কোনো সামরিক শক্তির ওপর নয়, বরং চারিত্রিক উৎকর্ষ এবং ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রকৃত সভ্যতা এবং মানবিয় মর্যাদার সুরক্ষা

বিশ্বনাগরিক হিসেবে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো একটি 'প্রকৃত সভ্যতা' (True Civilization) গড়ে তোলা। আধুনিক সভ্যতা অনেক ক্ষেত্রে কেবল বস্তুগত উন্নতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং অর্থনৈতিক জিডিপির ওপর ভিত্তি করে সংজ্ঞায়িত হয়। কিন্তু ইসলামি দর্শনে সভ্যতার মাপকাঠি হলো মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। বস্তুগত সমৃদ্ধি যদি মানুষের মধ্যে অহংকার এবং অন্য জাতির প্রতি অবজ্ঞা তৈরি করে, তবে তা সভ্যতা নয়, বরং তা একটি সাংস্কৃতিক পতন।

প্রকৃত সভ্যতার সংজ্ঞা এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে:


إن المدنية الحقة لا تكون بالكلام فقط، ولا يمكن أن تطبق إلا بواسطة أناس مجربين يميزون بين احترام الإنسان ومصالحهم.

এই ইবারাতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে বলা হয়েছে যে, "প্রকৃত সভ্যতা কেবল কথায় নয়, বরং তা বাস্তবায়িত হয় সেইসব মানুষের মাধ্যমে যারা মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।" বিশ্বনাগরিক হিসেবে একজন মুসলিমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তার ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক মানবজাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করা। যখন একজন মুসলিম তার স্বার্থের চেয়ে অন্য মানুষের অধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখনই সে প্রকৃত ইসলামি সভ্যতার প্রতিনিধি হয়ে ওঠে।

এই মানবিয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি কেবল মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অমুসলিমদের প্রতিও সমানভাবে প্রযোজ্য। ইসলামি ইতিহাসে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সা. এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম রা. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে যে সহনশীলতা এবং ন্যায়বিচার প্রদর্শন করেছিলেন, তা ছিল গ্লোবাল সিটিজেনশিপের এক অনন্য উদাহরণ। মদিনার সনদ ছিল সেই সময়ের প্রথম লিখিত সংবিধান, যা বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষকে একটি একক রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে নাগরিক অধিকার প্রদান করেছিল। এই ঐতিহাসিক মডেলটি বর্তমান বিশ্বের বহুজাতি ও বহুজাতিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি আদর্শ হতে পারে, যেখানে ধর্মীয় ভিন্নতা সত্ত্বেও নাগরিক অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা হয়।

সভ্যতার সংলাপ (Dialogue of Civilizations) এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতি

বিশ্বনাগরিক হিসেবে মুসলিমদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো বিভিন্ন সভ্যতা এবং সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। বর্তমান বিশ্বে 'ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশন' বা সভ্যতার সংঘাতের যে তত্ত্ব প্রচলিত, ইসলাম তার বিপরীতে 'ডায়ালগ অফ সিভিলাইজেশন' বা সভ্যতার সংলাপের কথা বলে। বিভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং রীতিনীতির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সংঘাতের কারণ হিসেবে না দেখে বরং বৈচিত্র্য হিসেবে গ্রহণ করাই হলো ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি।

সভ্যতার সংলাপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে 'হাওয়ারুল হাদারাত' গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে:


وقد ذهب بعض الباحثين إلى أن الحوار لا يكون إلا بين أهل الحضارات والثقافات المختلفة، ولا يكون بهذا الاسم بين أهل الحضارة والثقافة الواحدة

[3]

এই উদ্ধৃতিটি স্পষ্ট করে যে, সংলাপের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে যখন তা ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা এবং সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংঘটিত হয়। একজন মুসলিম বিশ্বনাগরিক হিসেবে যখন অন্য কোনো সংস্কৃতির মানুষের সাথে সংলাপে বসে, তখন তার উদ্দেশ্য কেবল নিজের ধর্ম প্রচার করা নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা এবং সাধারণ মানবিয় মূল্যবোধগুলো খুঁজে বের করা। এই সংলাপের মাধ্যমে জাত্যভিমান বা আসাবিয়্যাহর দেয়ালগুলো ভেঙে ফেলা সম্ভব।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ইসলামোফোবিয়া এবং চরমপন্থা উভয় পক্ষ থেকে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে, সেখানে মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত শান্তিকামী এবং বিশ্বজনীন রূপটি তুলে ধরা। এটি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব নয়, বরং আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব। যখন একজন মুসলিম বিশ্বনাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে, তখন বিশ্ববাসী বুঝতে পারবে যে ইসলাম কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ধর্ম নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি রহমত।

পরিশেষে, গ্লোবাল সিটিজেনশিপের এই ধারণাটি মুসলিমদের জন্য একটি নৈতিক আহ্বান। আসাবিয়্যাহর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে আলোর পথে চলা, যেখানে জাতি, বর্ণ এবং ভাষার ভেদাভেদ থাকবে না, কেবল থাকবে সত্য এবং ন্যায়ের প্রতি আনুগত্য। এই রূপান্তরটিই পারে পৃথিবীকে একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য স্থানে পরিণত করতে। মুসলিমদের এই রেস্পন্সিবিলিটি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ নয়, বরং এটি একটি সমষ্টিগত সামাজিক ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানবজাতির মুক্তি নিশ্চিত করে।

""
১২.৫৯ গ্লোবাল সিটিজেনশিপ (Global Citizenship): জাত্যভিমান (Asabiyyah) ত্যাগ করে বিশ্বনাগরিক হিসেবে মুসলিমদের রেস্পন্সিবিলিটি
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১২.৫৯ গ্লোবাল সিটিজেনশিপ (Global Citizenship): জাত্যভিমান (Asabiyyah) ত্যাগ করে বিশ্বনাগরিক হিসেবে মুসলিমদের রেস্পন্সিবিলিটি কুইজ

1 / 5

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে 'গ্লোবাল সিটিজেনশিপ' বা বিশ্বনাগরিকত্বের পথে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক অন্তরায় কোনটি?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...