১১.২ সায়েন্টিজম (Scientism) এবং মুজিযা ডিনায়েল: রিচার্ড ডকিন্স ও নিউ-অ্যাথিজমের (New Atheism) আর্গুমেন্ট ব্যবচ্ছেদ
একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও দার্শনিক প্রেক্ষাপটে আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানবসভ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিলেও, এর সমান্তরালে একটি গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই সংকটটি মূলত 'সায়েন্টিজম' বা বিজ্ঞানবাদের উত্থান, যা বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে একটি সর্বগ্রাসী মতাদর্শে রূপান্তরিত হয়েছে। সায়েন্টিজম কেবল একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি দার্শনিক অবস্থান যা দাবি করে যে, কেবল অভিজ্ঞতাবাদী (Empirical) এবং পরিমাপযোগ্য তথ্যই সত্যের একমাত্র উৎস। এই চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গিটি যখন আধ্যাত্মিকতা, অধিবিদ্যা (Metaphysics) এবং বিশেষ করে 'মুজিযা' বা অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হয়, তখন একটি তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। নিউ-অ্যাথিজম বা নব্য-নাস্তিক্যবাদের প্রবক্তারা, বিশেষ করে রিচার্ড ডকিন্স, এই সায়েন্টিজমকে একটি তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ এবং মুজিযাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন।
এই তাত্ত্বিক লড়াইটি কেবল ধর্ম ও বিজ্ঞানের লড়াই নয়, বরং এটি সত্যের স্বরূপ নির্ধারণের লড়াই। একদিকে রয়েছে সেই সত্তার অস্তিত্ব ও তাঁর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, যা মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মাবলির ঊর্ধ্বে; অন্যদিকে রয়েছে সেই বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যা কেবল দৃশ্যমান ও প্রমাণযোগ্যকেই বাস্তবতা বলে স্বীকার করে। এই প্রবন্ধে আমরা রিচার্ড ডকিন্স ও নিউ-অ্যাথিজমের যুক্তিবাদকে ব্যবচ্ছেদ করব এবং দেখব কীভাবে সায়েন্টিজম মুজিযাকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে একটি লজিক্যাল ফ্যালাসি বা যুক্তিবাদী ভ্রান্তি হিসেবে কাজ করে।
সায়েন্টিজম বনাম বিজ্ঞান: একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক ও দার্শনিক ব্যবচ্ছেদ
প্রথমে আমাদের বিজ্ঞান (Science) এবং সায়েন্টিজম (Scientism)-এর মধ্যকার সূক্ষ্ম অথচ মৌলিক পার্থক্যটি অনুধাবন করা অপরিহার্য। বিজ্ঞান হলো একটি পদ্ধতিগত অনুসন্ধান, যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে মহাবিশ্বের কার্যকারণ সম্পর্ক (Causality) ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। বিজ্ঞান সর্বদা সংশয়বাদী এবং এটি নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে নিজেকে সংশোধন করতে প্রস্তুত। কিন্তু সায়েন্টিজম হলো একটি 'ডগমা' বা অন্ধ বিশ্বাস, যা দাবি করে যে, যা বিজ্ঞানের আওতায় আনা সম্ভব নয়, তার অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। এটি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক ঔদ্ধত্য (Epistemological Arrogance), যা মানুষের উপলব্ধির সীমানাকেই মহাবিশ্বের সীমানা বলে ধরে নেয়।
সায়েন্টিজম মূলত 'বস্তুবাদী লঘুকরণবাদ' (Materialistic Reductionism)-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এর মূল বক্তব্য হলো, মানুষের চেতনা, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা—সবই মূলত জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া বা নিউরোলজিক্যাল প্রক্রিয়ার ফল। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি যখন মুজিযার মতো ঘটনাগুলোকে বিচার করতে আসে, তখন এটি একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। কারণ, মুজিযা হলো এমন একটি ঘটনা যা প্রাকৃতিক নিয়মের 'লঙ্ঘন' নয়, বরং প্রাকৃতিক নিয়মের 'সৃষ্টিকর্তার' দ্বারা একটি বিশেষ মুহূর্তে নিয়মের সাময়িক স্থগিতকরণ। সায়েন্টিজম এই উচ্চতর সত্যকে গ্রহণ করতে অক্ষম কারণ এর মাপকাঠিটি কেবল বস্তুগত জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে এই প্রবণতাকে একটি পবিত্রতার অবমাননা হিসেবে দেখা যেতে পারে। যেভাবে ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র স্থান বা বিধানের অবমাননা করা হয়েছে, তেমনি সায়েন্টিজম আজ মানুষের আধ্যাত্মিক ও অতিপ্রাকৃত উপলব্ধির পবিত্রতাকে আক্রমণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে বলা যেতে পারে যে, আধুনিক বস্তুবাদী চিন্তাধারা যেন সেই প্রাচীন অস্থিরতারই একটি আধুনিক সংস্করণ, যেখানে বলা হয়েছিল:
الْيَوْمَ تُسْتَحَلّ الْحُرْمَةُ!। অর্থাৎ, আজ সত্যের ও আধ্যাত্মিকতার যে পবিত্রতা ছিল, সায়েন্টিজম তাকে লঘুকরণ ও উপহাসের মাধ্যমে লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে।
রিচার্ড ডকিন্স এবং নিউ-অ্যাথিজমের আর্গুমেন্ট: সম্ভাব্যতা ও লজিক্যাল ফ্যালাসি
রিচার্ড ডকিন্স তাঁর 'দ্য গড ডিলিউশন' (The God Delusion) গ্রন্থে মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনাকে অস্বীকার করার জন্য মূলত 'সম্ভাব্যতা তত্ত্ব' (Probability Theory) ব্যবহার করেছেন। তাঁর যুক্তি হলো, কোনো ঘটনা যদি বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থী হয়, তবে সেই ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা (Probability) অত্যন্ত ক্ষীণ বা শূন্যের কাছাকাছি। ডকিন্সের মতে, একটি মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনা ঘটা এতটাই অসম্ভব যে, তা মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি মূলত 'বেয়েশিয়ান প্রোবাবিলিটি' (Bayesian Probability)-র একটি অপপ্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যেখানে তিনি পূর্বনির্ধারিত একটি বস্তুবাদী মডেলের ভিত্তিতে অলৌকিকতাকে 'অসম্ভব' বলে ঘোষণা করেন।
তবে ডকিন্সের এই যুক্তিতে একটি মারাত্মক 'লজিক্যাল ফ্যালাসি' বা যুক্তিবাদী ত্রুটি রয়েছে। তিনি সম্ভাব্যতাকে (Probability) সত্যের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করছেন, অথচ সম্ভাব্যতা হলো মানুষের অজ্ঞতার একটি পরিমাপ মাত্র। কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম মানেই এই নয় যে, সেই ঘটনাটি ঘটা অসম্ভব। বিশেষ করে, যখন আমরা একজন সর্বশক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করি, তখন তাঁর ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক সম্ভাব্যতা বা প্রাকৃতিক নিয়মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। ডকিন্স এখানে একটি 'সার্কুলার রিজনিং' (Circular Reasoning) বা চক্রাকার যুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন; তিনি আগে থেকেই ধরে নিয়েছেন যে মহাবিশ্ব কেবল বস্তুবাদী নিয়ম দ্বারা পরিচালিত, আর গৃহীত ধারণা থেকেই তিনি মুজিযাকে অসম্ভব বলে প্রমাণ করতে চাইছেন।
নিউ-অ্যাথিজমের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানটি মূলত একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংকীর্ণতা। তারা মুজিযাকে একটি 'অস্বাভাবিক ঘটনা' (Anomaly) হিসেবে দেখে, কিন্তু তারা এটি বুঝতে ব্যর্থ হয় যে, মুজিযা হলো একটি 'চিহ্ন' (Sign)। মুজিযা কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং এটি নবি সা.-এর সত্যতার একটি ঐশ্বরিক প্রমাণ। এই বিষয়ে ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। নবিগণের মাধ্যমে যে সত্যের প্রকাশ ঘটে, তা কেবল যুক্তির নয়, বরং তা হলো
والبيان والنبيين। অর্থাৎ, নবিগণের বাণীর স্পষ্টতা এবং তাঁদের মুজিযা হলো সত্যের এক অবিচ্ছেদ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ, যা কেবল গাণিতিক সম্ভাব্যতা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়।
মুজিযা এবং ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের স্বরূপ: বস্তুবাদের সীমাবদ্ধতা
মুজিযা বা অলৌকিকতা সম্পর্কে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রধান ত্রুটি হলো তারা 'প্রাকৃতিক নিয়ম' (Natural Law) এবং 'ঐশ্বরিক কর্তৃত্ব' (Divine Authority)-এর মধ্যকার সম্পর্কটি বুঝতে পারে না। আধুনিক বিজ্ঞান মনে করে যে, মহাবিশ্বের নিয়মগুলো অপরিবর্তনীয় এবং স্বয়ংসম্পৃক্ত। কিন্তু ইসলামি আকীদা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক নিয়মগুলো হলো স্রষ্টার দ্বারা আরোপিত একটি শৃঙ্খলা, যা তিনি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তন বা স্থগিত করতে পারেন। মুজিযা হলো সেই ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের একটি বহিঃপ্রকাশ, যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং স্রষ্টার অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়।
যখন কোনো নবি সা. মুজিযা প্রদর্শন করেন, তখন সেটি কোনো জাদুকরী কারসাজি নয়, বরং এটি একটি 'অধিবিদ্যামূলক বাস্তবতা' (Metaphysical Reality)। উদাহরণস্বরূপ, সমুদ্রের বুক চিরে পথ তৈরি হওয়া বা চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে হলেও, তা সেই নিয়মের স্রষ্টার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। সায়েন্টিজম এই ঘটনাগুলোকে 'অস্বাভাবিক' বলে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু তারা ভুলে যায় যে, নিয়মটি যে সত্তা তৈরি করেছেন, সেই সত্তার কাছে নিয়মটি কোনো চিরস্থায়ী বা স্বাধীন সত্তা নয়। বস্তুবাদী লঘুকরণবাদ এখানে একটি বড় ধরনের জ্ঞানতাত্ত্বিক দেউলিয়াত্ব প্রদর্শন করে, কারণ তারা 'কার্যকারণ' (Causality) সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা পোষণ করে। তারা মনে করে কার্যকারণ কেবল বস্তুগত জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, অথচ ইসলামি দর্শন অনুযায়ী, 'প্রথম কারণ' (First Cause) বা স্রষ্টা নিজেই সমস্ত কার্যকারণ সম্পর্কের উৎস।
মুজিযা এবং নবিগণের বাণীর এই গভীরতা ও স্পষ্টতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিকদের বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও, মূল সত্যটি হলো মুজিযা হলো সত্যের একটি দৃশ্যমান ও অকাট্য দলিল। এই দলিলটি কেবল মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, বরং এটি মানুষের অন্তরের বিশ্বাসের (Iman) সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। নিউ-অ্যাথিস্টরা যখন মুজিযাকে কেবল একটি 'অসম্ভব ঘটনা' হিসেবে দেখেন, তখন তারা আসলে সত্যের সেই গভীর ও বহুমাত্রিক স্তরটিকে অস্বীকার করেন যা মানুষের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।
নিউ-অ্যাথিজমের মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিউ-অ্যাথিজমের এই আক্রমণাত্মক ও সায়েন্টিস্টিক অবস্থানটি কেবল একটি দার্শনিক বিতর্ক নয়, এর পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিদ্যমান। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য 'ধর্মনিরপেক্ষতা' এবং 'বিজ্ঞানবাদ'-কে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যখন ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা মানুষের চিন্তার জগতে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে, তখন সায়েন্টিজমকে একটি 'যৌক্তিক ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে সেই প্রভাবকে প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়। এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক Hegemony বা আধিপত্য বিস্তারের কৌশল, যেখানে ধর্মকে 'অন্ধবিশ্বাস' এবং বিজ্ঞানকে 'একমাত্র মুক্তিদাতা' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখলে, নিউ-অ্যাথিজম একটি ধরণের 'অস্তিত্ববাদী নিরাপত্তাহীনতা' (Existential Insecurity) থেকে উদ্ভূত হতে পারে। মহাবিশ্বের বিশালতা এবং মানুষের ক্ষুদ্রতা যখন মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়, তখন একটি সম্পূর্ণ বস্তুবাদী ও যান্ত্রিক বিশ্বদর্শন মানুষকে একটি অর্থহীন (Meaningless) জগতের দিকে ঠেলে দেয়। এই অর্থহীনতা থেকে মুক্তি পেতে এবং মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সায়েন্টিজম একটি কৃত্রিম নিশ্চয়তা প্রদান করে। এটি মানুষকে বিশ্বাস করতে শেখায় যে, যা কিছু পরিমাপ করা যায় না, তার কোনো গুরুত্ব নেই।
এই প্রেক্ষাপটে, রিচার্ড ডকিন্স বা স্যাম হ্যারিসের মতো ব্যক্তিত্বরা কেবল বিজ্ঞানীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, বরং তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করছেন যা আধ্যাত্মিকতাকে প্রান্তিক করতে চায়। তারা মুজিযাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে মূলত সেই ঐশ্বরিক কর্তৃত্বকেও অস্বীকার করতে চায়, যা মানুষের নৈতিকতা ও জীবনের উদ্দেশ্যের মূল উৎস। সুতরাং, সায়েন্টিজম বনাম মুজিযা বিতর্কটি আসলে মানুষের স্বাধীনতা এবং আধ্যাত্মিক সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আধুনিকতার এই বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও সুসংহত দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর প্রয়োজন। সায়েন্টিজম যে গাণিতিক ও বস্তুগত সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আবদ্ধ, তা অনুধাবন করা এবং মুজিযাকে একটি উচ্চতর সত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হলো বর্তমান সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা। সত্যের এই লড়াইয়ে কেবল যুক্তি নয়, বরং সত্যের সেই চিরন্তন ও অকাট্য প্রকাশই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে, যা নবিগণের মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।