খণ্ড 89
ফন্ট:100%
থিম:

১.৪.১ প্রাচ্যবিদদের থিসিস থেকে আধুনিক সন্ত্রাসবাদের (Modern Terrorism) ন্যারেটিভ কীভাবে তৈরি হয়?

আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে 'সন্ত্রাসবাদ' (Terrorism) শব্দটি কেবল একটি অপরাধতাত্ত্বিক পরিভাষা নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক অস্ত্র। এই শব্দটির বর্তমান সংজ্ঞায়ন এবং এর প্রয়োগের মূলে রয়েছে দীর্ঘ শতাব্দীর প্রাচ্যবাদী (Orientalist) চিন্তাধারা এবং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের মনস্তাত্ত্বিক কারসাজি। প্রাচ্যবিদরা ঐতিহাসিকভাবে প্রাচ্যের মানুষকে 'অযৌক্তিক', 'আবেগপ্রবণ' এবং 'সহজাতভাবে সহিংস' হিসেবে চিত্রিত করেছেন। এই ভ্রান্ত থিসিসটিই পরবর্তীতে আধুনিক যুগে 'সন্ত্রাসবাদ' নামক একটি ন্যারেটিভ বা আখ্যানে রূপান্তরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে অমুসলিম এবং বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে অপরাধীকরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তথাকথিত 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দটি একটি ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রাষ্ট্রীয় সহিংসতাকে 'আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা' হিসেবে বৈধতা দেয় এবং উপনিবেশিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে 'সন্ত্রাস' হিসেবে চিহ্নিত করে।

উপনিবেশবাদী শাসন এবং প্রতিরোধের অপরাধীকরণ: আলজেরিয়ার উদাহরণ

প্রাচ্যবাদী থিসিসের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্থানীয় প্রতিরোধকে রাজনৈতিক অধিকারের দাবি হিসেবে না দেখে তাকে 'বিশৃঙ্খলা' বা 'সন্ত্রাস' হিসেবে উপস্থাপন করা। যখনই কোনো মুসলিম সমাজ তাদের ভূখণ্ড এবং সংস্কৃতি রক্ষায় সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তখনই পশ্চিমা শক্তিগুলো তাকে 'সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। এর একটি প্রকট উদাহরণ পাওয়া যায় আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে। ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রশাসন আলজেরীয়দের মুক্তি প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে 'তখরীব' (ধ্বংসাত্মক কাজ) এবং 'ইসিয়ান' (নাফরমানি বা বিদ্রোহ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

ফরাসি নথিপত্রে দেখা যায়, তারা আলজেরীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এবং তাদের অনুপ্রেরণা প্রদানকারী আলেমদের অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করার জন্য আইনি বৈধতা তৈরি করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, শেখ আল-হাদ্দাদ এবং তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে ফরাসি প্রশাসনের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ অপরাধমূলক। ফরাসি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে:


فالأول حرض أخوانه في الطريقة على الجهاد. وأما ولداه الاثنان فاجتهدا في إثارة الناس للتخريب والعصيان؛ وتقدما أمام الثائرين للقتال، وأعطيا رأيهما للثائرين من أجل الهجوم على البلدان العامرة بالإفرنج.

[1]

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, 'জিহাদ' বা আত্মরক্ষামূলক সংগ্রামকে ফরাসিরা 'তখরীব' (Sabotage) এবং 'ইসিয়ান' (Disobedience) হিসেবে অনুবাদ করেছে। এই শব্দচয়নটিই ছিল আধুনিক সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভের আদি রূপ। যখন কোনো প্রতিরোধ আন্দোলনকে 'রাজনৈতিক' থেকে 'অপরাধমূলক' ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত করা হয়, তখন সেই আন্দোলনের সমর্থকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সহজ হয়ে যায়। ফরাসি প্রশাসন এই ন্যারেটিভ ব্যবহার করে শেখ আল-হাদ্দাদের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসবাদের লেবেলটি মূলত অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দমনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় [2]

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাচ্যবিদরা একটি মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে প্রাচ্যের মানুষ কেবল ধ্বংস করতে জানে, কিন্তু শাসন করতে পারে না। এই থিসিসটিই পরবর্তীতে আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'War on Terror' বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এখানে প্রতিরোধের উদ্দেশ্য (Liberation) কে গৌণ করে দেওয়া হয় এবং প্রতিরোধের পদ্ধতিকে (Violence) কেন্দ্রবিন্দুতে এনে তাকে 'সন্ত্রাস' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ফলে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা পরিচালিত গণহত্যা এবং দখলদারিত্ব 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' হিসেবে গণ্য হয়, আর তার বিপরীতে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ 'সন্ত্রাসবাদ' হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিরোধক শক্তি (Deterrence) বনাম সন্ত্রাসবাদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবধান

আধুনিক সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, মুসলিম বিশ্বের যেকোনো ধরনের সামরিক প্রস্তুতি বা শক্তির প্রদর্শনকে 'সন্ত্রাসবাদী প্রবণতা' হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অথচ সামরিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'ডিটারেন্স' বা 'প্রতিরোধক শক্তি' (Deterrent Power)। প্রতিরোধক শক্তির মূল লক্ষ্য হত্যা করা নয়, বরং শত্রুকে এই বিশ্বাস করানো যে, আক্রমণ করলে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি প্রাচ্যবাদী ন্যারেটিভটি ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলেছে।

ইসলামিক ইতিহাসের আলোকে দেখলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সা. এর রণকৌশল ছিল সম্পূর্ণ কৌশলগত এবং মনস্তাত্ত্বিক। উমরাতুল কদাহর সময় মক্কার মুশরিকরা যখন মনে করেছিল যে, মদিনার জ্বর এবং অসুস্থতার কারণে মুসলিম বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে, তখন রাসুলুল্লাহ সা. অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাঁর শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। তিনি তাঁর চাদরটি পরিধান করে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর বাহিনীকে এমনভাবে পরিচালিত করলেন যাতে শত্রুপক্ষ মুসলিমদের শক্তির প্রকৃত রূপ দেখতে পায়। এই কৌশলটি ছিল শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় নিশ্চিত করার জন্য, যা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের 'সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার' (Psychological Warfare) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এই প্রসঙ্গে গবেষণাধর্মী আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে:


والإرهاب بالقوة في أحيان كثيرة ليس هدفه القتل والذبح بمقدار ما يهدف إلى إحباط مقاومة العدو. والحركة الإسلامية تستفيد كثيرا من هذا الدرس حين تفت في أعضاد خصومها بما تملكه حقيقة من قوة رادعة لهؤلاء الخصوم.

[3]

এখানে 'ইরহাব' (الإرهاب) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তার আভিধানিক অর্থে, যার অর্থ হলো 'ভীতি প্রদর্শন' বা 'প্রতিরোধক শক্তি তৈরি করা'। রাসুলুল্লাহ সা. এর এই পদ্ধতিটি ছিল একটি 'কুওয়াতুন রাদিআ' (قوة رادعة) বা প্রতিরোধক শক্তি, যা কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়, বরং আক্রমণকারীকে দমনে ব্যবহৃত হয়। তবে আধুনিক প্রাচ্যবাদী ন্যারেটিভ এই 'প্রতিরোধক শক্তি' এবং 'সন্ত্রাসবাদ' এর মধ্যকার পার্থক্যটি বিলুপ্ত করে দিয়েছে। ফলে, যখনই কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তখনই তাকে 'সন্ত্রাসবাদের হুমকি' হিসেবে প্রচার করা হয় [4]

এই মনস্তাত্ত্বিক কারসাজির উদ্দেশ্য হলো মুসলিম বিশ্বকে নিরস্ত্রীকরণ করা। যদি প্রতিরোধক শক্তিকে সন্ত্রাসবাদের সাথে একীভূত করা যায়, তবে মুসলিমরা তাদের আত্মরক্ষার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হবে। প্রাচ্যবিদরা এই থিসিসটি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, ইসলাম এবং শক্তি (Power) একসাথে থাকলে তা অনিবার্যভাবে সন্ত্রাসে রূপ নেয়। অথচ রাসুলুল্লাহ সা. এর জীবন প্রমাণ করে যে, শক্তি যখন ন্যায়ের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়, সন্ত্রাসবাদের নয়। এই বৈপরীত্যটিই আধুনিক সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভের সবচেয়ে বড় প্রতারণা।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং প্রোপাগান্ডা শিল্পের নির্মাণ কৌশল

সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভটি তৈরি করার জন্য যে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো 'রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা' (State Propaganda)। মজার বিষয় হলো, যে পশ্চিমা শক্তিগুলো আজ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা নিজেরাই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং প্রোপাগান্ডা শিল্পের উদ্ভাবক। ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সে যে 'রেন অফ টেরর' (Reign of Terror) বা সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা ছিল আধুনিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি আদি রূপ।

ফরাসি বিপ্লবের সময় 'কমিটি অফ পাবলিক সেফটি' (Committee of Public Safety) নামক একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছিল, যা মূলত একটি 'সন্ত্রাস যন্ত্র' (آلة الإرهاب) হিসেবে কাজ করত। তাদের লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ শত্রুদের নির্মূল করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে একীভূত করা। এই সময়েই প্রথমবারের মতো প্রোপাগান্ডাকে একটি সরকারি শিল্পে পরিণত করা হয়। ফরাসি যুদ্ধমন্ত্রী জান-ব্যাপটিস্ট বুরশোট (Jean-Baptiste Bourchotte) সংবাদপত্রগুলোকে অর্থ প্রদান করতেন যাতে তারা রাষ্ট্রের অনুকূলে খবর প্রচার করে এবং সেনাবাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করে।

ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে বলা হয়েছে:


والآن ولأول مرة أصبحت الدعاية (البروباجندا propaganda) صناعة حكومية (صناعة من صناعات الدولة) تكاد تكون حكراً عليها، فدفع وزير الحرب جان - بابتست بورشوت Jean - Baptiste Bourchotte أموالاً للصحف لتقدم موضوعات عن حالة الأمة وأوصى القائمين عليها بتوزيع نسخ من هذه الصحف في معسكرات الجيش.

[5]

এই রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা ব্যবস্থার মাধ্যমে ফরাসি সরকার সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে, গিলোটিনে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে 'জাতীয় নিরাপত্তা' এবং 'গণতন্ত্র' রক্ষার জন্য। অর্থাৎ, রাষ্ট্র যখন সহিংসতা চালায়, তখন তাকে বলা হয় 'নিরাপত্তা ব্যবস্থা' বা 'বিপ্লবী পদক্ষেপ', কিন্তু যখন সাধারণ মানুষ বা প্রান্তিক গোষ্ঠী তার অধিকারের জন্য সহিংসতা করে, তখন তাকে বলা হয় 'সন্ত্রাসবাদ' [6]

প্রাচ্যবিদরা এই একই প্রোপাগান্ডা মডেলটি প্রাচ্যের মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। তারা পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে আড়াল করে প্রাচ্যের প্রতিরোধকে 'সন্ত্রাস' হিসেবে ব্র্যান্ডিং করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তারা একটি 'ইনফরমেশন ইকো-সিস্টেম' তৈরি করেছেন, যেখানে গণমাধ্যম, একাডেমি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ প্রচার করে। ফলে, বিশ্বজনীন মনে হয় যে সন্ত্রাসবাদ কেবল নির্দিষ্ট কিছু ধর্ম বা অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, অথচ বাস্তব সত্য হলো সন্ত্রাসবাদ একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে ব্যবহার করে।

সংশ্লেষণ: প্রাচ্যবাদী থিসিস থেকে আধুনিক সন্ত্রাসবাদের রূপান্তর

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত বুদ্ধিবৃত্তিক নির্মাণ। এর পর্যায়ক্রমিক বিবর্তন নিম্নরূপ: প্রথমত, প্রাচ্যবিদরা প্রাচ্যের মানুষকে 'সহজাত সহিংস' হিসেবে চিহ্নিত করে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেন। দ্বিতীয়ত, ঔপনিবেশিক শাসকরা এই থিসিস ব্যবহার করে স্থানীয় মুক্তি সংগ্রামকে 'অপরাধ' এবং 'বিদ্রোহ' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন, যেমনটি আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে [7] । তৃতীয়ত, তারা প্রতিরোধক শক্তি (Deterrence) এবং সন্ত্রাসবাদের (Terrorism) মধ্যকার পার্থক্যটি মুছে ফেলে মুসলিমদের সামরিক সক্ষমতাকে হুমকিরূপে উপস্থাপন করেন [8] । এবং চতুর্থত, তারা রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা শিল্পের মাধ্যমে এই মিথ্যা ন্যারেটিভটিকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত করেন, যার মূলে ছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়কার সেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও প্রচারণার কৌশল [9]

এই পুরো প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল 'হেজিমনি' বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। যখন কোনো শক্তি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়, তখন সে ভাষাগত এবং সংজ্ঞায়নের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে। প্রাচ্যবিদরা ঠিক এই কাজটিই করেছেন। তারা 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দটিকে এমন একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার আড়ালে তারা তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ফলে, আধুনিক বিশ্বে 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দটি আর কোনো নিরপেক্ষ শব্দ নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক লেবেল, যা কেবল সেই পক্ষটি ব্যবহার করে যারা সংজ্ঞায়নের ক্ষমতা (Power of Definition) ধারণ করে। এই ন্যারেটিভের ফলে প্রকৃত সন্ত্রাসবাদ—যা রাষ্ট্রীয় স্তরে গণহত্যা, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সাংস্কৃতিক ধ্বংসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—তা আড়ালে চলে যায় এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো বিশ্বমঞ্চে 'সন্ত্রাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়।

""
১.৪.১ প্রাচ্যবিদদের থিসিস থেকে আধুনিক সন্ত্রাসবাদের (Modern Terrorism) ন্যারেটিভ কীভাবে তৈরি হয়?
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১.৪.১ আধুনিক সন্ত্রাসবাদের ন্যারেটিভ কুইজ

1 / 5

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রশাসন আলজেরীয়দের মুক্তি প্রচেষ্টাকে কী আখ্যা দিয়েছিল?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...