খণ্ড 8
ফন্ট:100%
থিম:

৪.৩ আজলাম (ভাগ্যনির্ধারক তীর): হুবল দেবতার সামনে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

৪.৩ আজলাম (ভাগ্যনির্ধারক তীর): হুবল দেবতার সামনে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি কোনো যৌক্তিক বা প্রজ্ঞানির্ভর কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং সেই সময়ের আরব্য উপজাতিগুলোর জীবনযাত্রার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে—তা যুদ্ধ হোক, বাণিজ্য হোক কিংবা দীর্ঘ কোনো সফর—অতীন্দ্রিয় ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রাধান্য ছিল লক্ষণীয়। এই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্যতম প্রধান ও বহুল প্রচলিত রূপ ছিল 'আজলাম' (الأزلام) বা ভাগ্যনির্ধারক তীরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এটি মূলত একটি লটারি বা দৈবলিপির মতো পদ্ধতি, যার মাধ্যমে তারা তাদের ভবিষ্যৎ বা কোনো বিশেষ কাজের বৈধতা যাচাই করার চেষ্টা করত। এই প্রথাটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন আরবের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, যা মূলত হুবল বা অন্যান্য উপাস্য দেবমূর্তির ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হতো।

আজলামের এই প্রথাটি মূলত একটি 'Decision-making mechanism' হিসেবে কাজ করত, যা সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চয়তা এবং অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রাক-ইসলামি আরবের মানুষ বিশ্বাস করত যে, এই তীর বা পাথরগুলো তাদের ভাগ্য বা দেবতাদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে সক্ষম। এই বিশ্বাসের মূলে ছিল একটি গভীর ভ্রান্ত ধারণা যে, মূর্তিপূজ্য দেবতারা মানুষের কর্মের ফলাফল সম্পর্কে অবগত এবং আজলামের মাধ্যমে তাদের সেই গোপন ইচ্ছা বা 'Divine Will' প্রকাশ পায়। এই পদ্ধতিটি তৎকালীন আরবের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করত, কারণ একটি জাতির যুদ্ধ বা বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার পরিবর্তে একটি দৈব লটারির ওপর নির্ভর করা ছিল চরম অবাস্তব ও অসংগত।

আজলামের স্বরূপ ও ভৌত কাঠামো: বৈচিত্র্যময় ও বিভ্রান্তিকর পদ্ধতি

আজলাম বা ভাগ্যনির্ধারক তীরের ভৌত গঠন সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও তফসিরবিদদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়, যা নির্দেশ করে যে এই প্রথাটি বিভিন্ন উপজাতি ও অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রচলিত ছিল। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য ছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে 'হ্যাঁ' বা 'না' অথবা 'অনুমতি' বা 'নিষেধ' নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, আজলাম কেবল একটি নির্দিষ্ট আকৃতির বস্তু ছিল না, বরং এর ব্যবহারিক প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত জটিল ও আচারনিষ্ঠ।

তফসীরবিদ ও ঐতিহাসিকদের মতে, আজলামের গঠনশৈলী নিয়ে একাধিক মতবাদ রয়েছে। ইমাম তাবারী ও অন্যান্য প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা যায় যে, আজলামের প্রকৃতি সম্পর্কে সাঈদ বিন জুবাইর (রা.) এবং মুজাহিদ (রহ.)-এর বর্ণনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাঈদ বিন জুবাইর (রা.)-এর মতে, আজলাম ছিল মূলত সাদা রঙের নুড়ি পাথর। অন্যদিকে, মুজাহিদ (রহ.) এই ধারণাটিকে আরও বিস্তৃত করেছেন এবং বলেছেন যে, এগুলো ছিল এমন কিছু পাথর বা তীরের ওপর লিখিত চিহ্ন বা বার্তা।

الأزلام حصى بيض ، ومن طريق مجاهد قال: حجارة مكتوب عليها [1] এই ভিন্নধর্মী বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আজলামের প্রয়োগ পদ্ধতিটি ছিল বহুমুখী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ছিল কেবল সাদা নুড়ি পাথরের সমষ্টি, যেখানে পাথরের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাথরের ওপর নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন বা শব্দ খোদাই করা থাকত, যা লটারির ফলাফল হিসেবে গণ্য হতো। এছাড়া, কিছু বর্ণনায় দেখা যায় যে, আজলাম মূলত তিনটি বিশেষ ধরনের তীর বা পাত্র (Qidah) নিয়ে গঠিত হতো, যা দিয়ে কোনো কাজের শুভ বা অশুভ দিক নির্ণয় করা হতো।

تتضمن الأزلام عادةً ثلاث قداح تحمل إشارات [2] এই বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিটি প্রমাণ করে যে, আজলাম কোনো সুসংগঠিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বিশৃঙ্খল ও খণ্ডবিখণ্ড প্রথা। এই পদ্ধতির কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা গাণিতিক ভিত্তি ছিল না; বরং এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে একটি মনস্তাত্ত্বিক খেলা, যেখানে মানুষ তার নিজের অনিশ্চয়তা ও ভয়ের প্রতিফলন হিসেবে এই পাথর বা তীরগুলোর ওপর নির্ভর করত। এই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি তৎকালীন আরবের মানুষের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, যার ফলে তারা বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণের পরিবর্তে দৈব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।

ধর্মতাত্ত্বিক ভ্রান্তি ও দেবতাদের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে আজলাম

আজলামের ব্যবহারের পেছনে যে মূল চালিকাশক্তি কাজ করত, তা ছিল একটি গভীর ও ভ্রান্ত ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাস। প্রাক-ইসলামি আরবের মানুষ বিশ্বাস করত যে, তাদের উপাস্য দেবতারা বা মূর্তিরা মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবগত এবং আজলামের মাধ্যমে তারা তাদের ইচ্ছা বা নির্দেশ প্রদান করে। এই বিশ্বাসটি ছিল মূলত 'Divine Will' বা ঐশ্বরিক ইচ্ছার একটি বিকৃত ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা। তারা মনে করত, আজলামের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সরাসরি দেবতাদের পক্ষ থেকে আসা একটি বার্তা।

ঐতিহাসিকদের মতে, জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগের আরবরা আজলামের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করত। তাদের কাছে এটি ছিল দেবতাদের ইচ্ছা বা 'Iradat al-Arbab' প্রকাশের একটি মাধ্যম। তারা বিশ্বাস করত যে, আজলামের মাধ্যমে তারা দেবতাদের অভিপ্রায় বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তাদের জীবন পরিচালনা করতে পারে। এই বিশ্বাসের কারণে তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার আগে আজলামের সাহায্য নেওয়াকে অপরিহার্য মনে করত।

ويظهر مما ذكروه أن أهل الجاهلية كانوا يقيمون في أيامهم وزنا كبيرًا للاستقسام بالأزلام لاعتقادهم أن يحكي إرادة الأرباب ويتحدث عن مشيئتها [3] এই ধর্মতাত্ত্বিক ভ্রান্তিটি মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধকে সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোত্র আজলামের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত, তখন তারা সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের ওপর না নিয়ে বরং দেবতার ওপর চাপিয়ে দিত। এটি ছিল এক ধরণের 'Psychological Escape' বা মনস্তাত্ত্বিক পলায়নবাদ। যদি আজলামের ফলাফল অনুকূল আসত, তবে তারা তাকে দেবতার আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করত; আর যদি প্রতিকূল আসত, তবে তারা তাকে দেবতার আদেশ হিসেবে মেনে নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হতো। এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মধ্যে একটি অন্ধ আনুগত্য তৈরি করেছিল, যা তাদের বাস্তবধর্মী ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিচ্যুত করে রেখেছিল।

তদুপরি, এই বিশ্বাসটি মূর্তিপূজার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তারা মনে করত যে, মূর্তিরা বা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আজলামগুলো অদৃশ্যের (Ghaib) খবর দিতে সক্ষম। এই ধারণাটি ছিল সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক এবং তাত্ত্বিকভাবে ভিত্তিহীন। আজলামের মাধ্যমে তারা যে 'নিশ্চয়তা' খুঁজত, তা ছিল মূলত একটি বিভ্রম মাত্র, যা তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তা ও কুসংস্কারের জালে বন্দি করে রেখেছিল।

সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব: একটি বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া

আজলামের এই প্রথাটি কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি তৎকালীন আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। যুদ্ধের প্রস্তুতি, বাণিজ্যের রুট নির্ধারণ, কিংবা দীর্ঘ কোনো সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আজলামের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। এই পদ্ধতিটি ছিল মূলত একটি 'Unscientific Decision-making Process', যা একটি জাতির সামগ্রিক প্রজ্ঞাকে অবদমিত করে রেখেছিল।

বাণিজ্যিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আজলামের প্রভাব ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একজন বণিক যখন তার মূল্যবান পণ্য নিয়ে মরুভূমির দুর্গম পথে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিত, তখন সে আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি বা ভৌগোলিক পরিস্থিতির পরিবর্তে আজলামের ফলাফলের ওপর নির্ভর করত। একইভাবে, একটি গোত্র যখন অন্য গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিত, তখন তাদের সামরিক কৌশল বা শক্তির তুলনায় আজলামের 'শুভ' বা 'অশুভ' সংকেত ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

كانوا يضربون بها لكل سفر وغزو وتجارة [4] এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া একটি জাতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিত। যুদ্ধের ক্ষেত্রে আজলামের ওপর নির্ভরতা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত বা কৌশলগত পরাজয়ের কারণ হতো। আবার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি অর্থনৈতিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াত। আজলামের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ছিল সম্পূর্ণভাবে আকস্মিক এবং কোনো প্রকার 'Risk Assessment' বা ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ছিল না।

সামাজিকভাবে, আজলামের এই প্রথাটি গোত্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করত। যে গোত্র আজলামের মাধ্যমে 'শুভ' সংকেত পেত, তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠত, যা অনেক সময় অন্য গোত্রগুলোর সাথে সংঘাত ও অস্থিরতা সৃষ্টি করত। এই পদ্ধতিটি মূলত একটি বিশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যেখানে যুক্তির চেয়ে ভাগ্য বা দৈব সংকেতের স্থান ছিল বেশি। আজলামের এই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি প্রাক-ইসলামি আরবের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছিল, কারণ এটি তাদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে একটি লটারির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল।

কুরআনী নিষেধাজ্ঞা ও যৌক্তিকতার উত্তরণ

ইসলামের আগমনের মাধ্যমে আজলামের এই দীর্ঘস্থায়ী ও অবৈজ্ঞানিক প্রথার অবসান ঘটে। পবিত্র কুরআন আজলামের মাধ্যমে ভাগ্যনির্ধারণ করার এই পদ্ধতিকে সরাসরি 'ফিসক' বা পাপাচার ও অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সূরা আল-মায়িদাহ-তে আল্লাহ তাআলা এই প্রথার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে মানুষের ভ্রান্ত ও পাপাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ [5] কুরআনের এই ঘোষণাটি ছিল তৎকালীন আরবের মানুষের জন্য একটি বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লব। আজলামের মাধ্যমে ভাগ্য খোঁজার যে প্রথাটি তারা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করত, কুরআন তাকে 'ফিসক' বা ধর্মের সীমানা লঙ্ঘনকারী হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে সরাসরি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করতে শেখানো এবং একই সাথে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ প্রদর্শন করা।

কুরআনের এই নির্দেশনার মাধ্যমে আজলামের মাধ্যমে ভাগ্যনির্ধারণের যে অবৈজ্ঞানিক ও লটারি সদৃশ পদ্ধতি ছিল, তার অবসান ঘটে। মানুষ বুঝতে শেখে যে, ভাগ্য কোনো পাথরের টুকরো বা তীরের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না, বরং তা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন এবং মানুষের কর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজলামের এই পতন কেবল একটি প্রথার অবসান ছিল না, বরং এটি ছিল আরবের মানুষের চিন্তাধারার একটি আমূল পরিবর্তন—যেখানে কুসংস্কারের অন্ধকার কাটিয়ে যুক্তিবোধ ও ঐশ্বরিক নির্দেশনার সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

""
৪.৩ আজলাম (ভাগ্যনির্ধারক তীর): হুবল দেবতার সামনে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৪.৩ আজলাম (ভাগ্যনির্ধারক তীর): হুবল দেবতার সামনে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কুইজ

1 / 5

প্রাক-ইসলামি যুগে ভাগ্যনির্ধারক তীরকে কী বলা হতো?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...