অধ্যায় ১০: সাহাবিদের আত্মদানের প্রভাব ও পরবর্তী ইতিহাস
ইসলামের ইতিহাসের সূচনাপর্বে মক্কার মরু-প্রান্তরে যে ঈমানী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচার মাত্র ছিল না; বরং তা ছিল তৎকালীন বিশ্বব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো এবং মানবিয় মনস্তত্ত্বের আমূল পরিবর্তনের এক মহাবিপ্লব। এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল রাসুলুল্লাহ সা. এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের রা. নিঃশর্ত আনুগত্য এবং তাঁদের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ। মক্কার কুরাইশদের অমানুষিক নির্যাতন, সামাজিক বয়কট এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মুখে সাহাবিগণ যে অবিচলতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা পরবর্তীকালের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বিশ্ব-ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। এই অধ্যায়ে আমরা সাহাবিদের সেই আত্মদানের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং তৎকালীন আরবের সমাজকাঠামোয় তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে এক গভীর ও পদ্ধতিগত আলোচনা করব।
মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা ও পরকালীন জবাবদিহিতার অনুভূতি
মক্কার চরম প্রতিকূল পরিবেশে সাহাবায়ে কেরামের রা. অবিচল থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা এবং গভীর পরকালীন জবাবদিহিতার অনুভূতি। সমকালীন আরবের ভোগবাদী ও ইহজাগতিক সমাজব্যবস্থার বিপরীতে ইসলাম তাঁদের সামনে এক চিরন্তন ও শাশ্বত পরকালীন জীবনের ধারণা পেশ করেছিল। সাহাবিগণ অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানবজাতির মুক্তির যে গুরুদায়িত্ব তাঁদের কাঁধে অর্পণ করা হয়েছে, তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই দায়িত্ব এড়ানোর পরিণতি ইহকালীন কষ্টের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। সমকালীন সীরাত গবেষকগণ এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে "الشعور بالمسؤولية" বা দায়িত্ববোধের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মূল আরবি গ্রন্থে এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে:
অনুবাদ:
"সাহাবিগণ তাঁদের কাঁধে অর্পিত মানবজাতির এই বিশাল ও মহান দায়িত্বের ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তাঁরা জানতেন যে, কোনো অবস্থাতেই এই দায়িত্ব থেকে বিমুখ বা বিচ্যুত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এই দায়িত্ব পালন থেকে পালিয়ে যাওয়ার যে পরিণতি, তা তাঁদের ওপর চলমান নির্যাতনের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতিকর ও ভয়াবহ।" [1] এই গভীর দায়িত্ববোধের পাশাপাশি তাঁদের অন্তরে ছিল পরকালের প্রতি অবিচল বিশ্বাস (الإيمان بالآخرة)। তাঁরা জানতেন যে, পার্থিব জীবনের সুখ-দুঃখ অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী এবং আল্লাহর দরবারে প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাসের কারণে দুনিয়ার সমস্ত নির্যাতন তাঁদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়েছিল। তাঁরা পার্থিব আরাম-আয়েশের চেয়ে আকিদা ও বিশ্বাসকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সমকালীন গবেষণায়:
অনুবাদ:
"তাঁরা পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং দুনিয়ার নেয়ামতের ওপর আকিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা তাঁদের ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন ও স্বদেশ ত্যাগ করে নিজেদের দ্বীন রক্ষার্থে হিজরত করেছিলেন।" [2] এই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর সাহাবিদের এমন এক ইস্পাতকঠিন চরিত্রে পরিণত করেছিল, যা তৎকালীন আরবের কোনো শক্তির পক্ষেই দমন করা সম্ভব ছিল না। পার্থিব জীবনের তুচ্ছতা এবং পরকালীন জীবনের বিশালতা তাঁদের সামনে এমনভাবে উন্মোচিত হয়েছিল যে, মৃত্যুর ভয় তাঁদের অন্তর থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
ঐশী বাণীর মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন ও কুরআনের ভূমিকা
সাহাবায়ে কেরামের রা. এই আত্মত্যাগের পথকে মসৃণ ও সুদৃঢ় করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল প্রতিনিয়ত অবতীর্ণ হওয়া ঐশী বাণী বা আল-কুরআন। মক্কী জীবনের সেই অন্ধকার ও শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলোতে যখনই সাহাবিগণ চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হতেন, তখনই কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহ তাঁদের সান্ত্বনা, প্রেরণা এবং ভবিষ্যতের বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে নাজিল হতো। কুরআন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা করেনি, বরং পূর্ববর্তী নবি ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর নেমে আসা পরীক্ষার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে সাহাবিদের মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন করেছিল।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের পরীক্ষার চিত্র তুলে ধরে ইরশাদ করেন:
অনুবাদ:
"তোমরা কি মনে কর যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? তাদের ওপর এসেছিল দুঃখ-কষ্ট ও বিপর্যয় এবং তারা এমনভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তাঁর সঙ্গী মুমিনগণ বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?’ জেনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।" [3] একইভাবে সূরা আল-আনকাবূতের প্রারম্ভিক আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা ঈমানের দাবির সাথে পরীক্ষার অনিবার্যতার কথা ঘোষণা করেন, যা সাহাবিদের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করে:
অনুবাদ:
"আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা মিথ্যাবাদী।" [4] এই আয়াতগুলো সাহাবিদের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিয়েছিল যে, ঈমানের পথে পরীক্ষা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ঐশী নিয়ম (سنة الله)। এই ঐশী বাণীর স্পর্শে সাহাবিগণ নিজেদের মক্কার সংকীর্ণ উপত্যকা থেকে এক ভিন্ন জগতে আবিষ্কার করতেন, যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের চিরন্তন নেয়ামত তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল। কুরআনের এই মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি তাঁদের সমস্ত জাগতিক কষ্টকে কর্পূরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিল।
ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী ও বিজয়ের সুসংবাদ
মক্কার দুর্বল ও নির্যাতিত মুসলমানদের সামনে রাসুলুল্লাহ সা. কেবল পরকালের পুরস্কারের কথাই বলেননি, বরং তিনি তাঁদের সামনে এক উজ্জ্বল ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যতের চিত্রও তুলে ধরেছিলেন। তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি—রোমান (বাইজান্টাইন) ও পারস্য (সাসানীয়) সাম্রাজ্যের পতন এবং আরবের বুকে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের স্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণী রাসুলুল্লাহ সা. এবং আল-কুরআন অত্যন্ত জোরালোভাবে ঘোষণা করেছিল। এই সুসংবাদগুলো সাহাবিদের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছিল এবং তাঁদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতাকে শাণিত করেছিল।
যখন মুসলমানরা মক্কায় চরম অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত, তখন পারস্য ও রোমের মধ্যকার যুদ্ধে পারসিকদের বিজয়ে মক্কার মুশরিকরা আনন্দিত হয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা সূরা আর-রূমে রোমানদের ভবিষ্যৎ বিজয়ের পাশাপাশি মুসলমানদের এক মহা বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন:
অনুবাদ:
"রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায়। কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে আল্লাহর সাহায্যে।" [5] রাসুলুল্লাহ সা. নিজেও বিভিন্ন সময়ে সাহাবিদের এই রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিজয়ের সুসংবাদ দিতেন। হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত রা. যখন মক্কার কাফেরদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কাবাঘরের ছায়ায় বিশ্রামরত রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে অভিযোগ করলেন এবং আল্লাহর সাহায্য চাইলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর লাল হয়ে যাওয়া মুখমণ্ডল নিয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন:
অনুবাদ:
"আল্লাহ অবশ্যই এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করবেন, এমনকি একজন আরোহী সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না এবং তার মেষের ওপর নেকড়ের ভয় ছাড়া আর কোনো ভয় থাকবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়ো করছ।" [6] এই ভবিষ্যৎবাণীগুলো কেবল আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা ছিল না, বরং এগুলো ছিল বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সত্য। মক্কার মুশরিকরা যখন মুসলমানদের এই অবস্থা দেখত, তখন তারা উপহাস করে বলত, "ঐ দেখ, পৃথিবীর রাজারা যাচ্ছে, যারা পারস্য ও রোম জয় করবে!" [7] । কিন্তু সাহাবিগণ এই উপহাসের বিপরীতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
আদর্শিক রূপান্তর ও আরবের চিরাচরিত সমাজকাঠামোয় আঘাত
সাহাবায়ে কেরামের রা. এই আত্মত্যাগ ও অবিচলতা আরবের হাজার বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সমাজকাঠামোয় এক প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিল। প্রাক-ইসলামি আরবের সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল রক্তসম্পর্ক, গোত্রীয় আভিজাত্য এবং 'আসাবিয়্যাহ' বা গোত্রীয় অন্ধ সংহতির ওপর। সেখানে ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারিত হতো তার বংশ ও গোত্রের মাধ্যমে। কিন্তু ইসলামের আগমন এবং সাহাবিদের আত্মত্যাগ এই চিরাচরিত প্রথাকে সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দেয়। সাহাবিগণ ইসলামের আকিদাকে রক্ষা করার জন্য নিজের গোত্র, পরিবার এবং রক্তের সম্পর্ককে ছিন্ন করতে দ্বিধাবোধ করেননি।
আরবের এই সমাজকাঠামো ভাঙার ঐতিহাসিক বিবরণ দিতে গিয়ে সমকালীন গবেষকগণ উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবিগণ যখন ইসলামের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ ত্যাগ করে হিজরত করেছিলেন, তখন তা ছিল আরবের গোত্রীয় ব্যবস্থার মুখে এক চরম চড়। শেখ আলি আল-কারনী তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:
অনুবাদ:
"তাঁরা নিজেদের সম্পদ, গোত্র ও স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বীন নিয়ে হিজরত করেছিলেন।" [8] এই ত্যাগ কেবল ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না, বরং এটি ছিল আরবের চিরাচরিত সামাজিক চুক্তির অবসান। একজন আরব নাগরিকের জন্য তার গোত্র ত্যাগ করা ছিল সামাজিক আত্মহত্যার শামিল। কিন্তু সাহাবিগণ আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে এই সামাজিক ঝুঁকি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। শেখ সাদ আল-বুরাইক তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ সা. এর নির্দেশের সামনে নিজেদের সমস্ত সামাজিক ও গোত্রীয় সুবিধাকে বিসর্জন দিয়েছিলেন:
অনুবাদ:
"সেই সাহাবি কোরবানি দিয়েছিলেন এবং তাঁর রাসুলের সা. নির্দেশে সাড়া দিয়েছিলেন। তিনি এ কথা বলেননি যে, ‘আমি আপনার দিকে হিজরত করছি আর আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন’... বরং তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে, আল্লাহ তাঁর নবির সাথে আছেন।" [9] এই আদর্শিক রূপান্তরের ফলে আরবের বুকে এক নতুন ভ্রাতৃত্বের জন্ম হয়, যা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। মক্কার কুরাইশ বংশের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এবং আবিসিনিয়ার ক্রীতদাস হযরত বিলাল রা. কিংবা পারস্যের হযরত সালমান রা. একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সামাজিক সমতা ও আদর্শিক ঐক্য আরবের প্রাচীন আভিজাত্যবাদী সমাজকাঠামোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ বুঝতে পেরেছিল যে, তরবারি দিয়ে এই নতুন আদর্শিক সমাজকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এর ভিত্তি কোনো পার্থিব স্বার্থের ওপর নয়, বরং এক মহান ঐশী বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত [10] । সাহাবিদের এই আত্মত্যাগ আরবের সামাজিক মনস্তত্ত্বে এক স্থায়ী পরিবর্তন এনেছিল, যা পরবর্তীকালে একটি সুসংহত ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের পথকে উন্মুক্ত করেছিল।