খণ্ড 97
ফন্ট:100%
থিম:

অধ্যায় ৬: আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রহ.) [মৃ. ৩১০ হি.] - সায়েন্টিফিক হিস্টোরিওগ্রাফি (Al-Tabari: Scientific Historiography and Encyclopedic Synthesis)

ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের ইতিহাসে আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রহ.) একটি অবিসংবাদিত মহীরুহ। তিনি কেবল একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এমন একজন জ্ঞানতাত্ত্বিক স্থপতি, যিনি বিশৃঙ্খল ও বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যকে একটি সুসংগত, বৈজ্ঞানিক ও এনসাইক্লোপেডিক কাঠামো প্রদান করেছিলেন। তাঁর রচিত 'তারিখ আল-রুসুল ওয়াল মুলুক' (Tarikh al-Rusul wa al-Muluk) কেবল একটি কালানুক্রমিক বিবরণী নয়, বরং এটি মধ্যযুগীয় মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মহাজাগতিক চিন্তাধারার এক বিশাল মহাকাব্য। তাবারী (রহ.)-এর হিস্টোরিওগ্রাফি বা ইতিহাস রচনার পদ্ধতি ছিল সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদদের জন্য একটি মানদণ্ড, যেখানে তিনি হাদিস শাস্ত্রের কঠোর যাচাইকরণ পদ্ধতিকে (Critical Methodology) ইতিহাসের বর্ণনার সাথে একীভূত করেছিলেন।

তাবারী (রহ.)-এর ঐতিহাসিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল তথ্যের বিশুদ্ধতা এবং বর্ণনার উৎস বা 'ইসনাদ' (Isnad)-এর প্রতি অবিচল আনুগত্য। তিনি ইতিহাসকে কেবল রাজা-বাদশাহদের কাহিনী হিসেবে দেখেননি, বরং একে মহাজাগতিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মানব সভ্যতার বিবর্তনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের একটি 'সায়েন্টিফিক ফ্রেমওয়ার্ক' বা বৈজ্ঞানিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুসলিম ও পশ্চিমা উভয় বিশ্বের ঐতিহাসিক গবেষণায় গভীর প্রভাব ফেলে।

ঐতিহাসিক জ্ঞানতত্ত্বের বিবর্তন ও তাবারীর পদ্ধতিগত বৈপ্লবিকতা

ইসলামি ইতিহাস রচনার ধারাটি যখন প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিল, তখন তা ছিল মূলত মৌখিক বর্ণনা এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এই জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তাবারী (রহ.)-এর আবির্ভাবের সময় ইতিহাস লিখন পদ্ধতিটি ছিল মূলত প্রাথমিক ও গুণগত (Qualitative), যেখানে ঘটনার গুরুত্বের ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো কিন্তু পদ্ধতিগত কঠোরতার অভাব ছিল। তাবারী (রহ.) এই ধারাটিকে একটি সুসংগত ও পদ্ধতিগত রূপ দান করেন।

তাবারী (রহ.)-এর পদ্ধতিগত বৈপ্লবিকতা মূলত তাঁর তথ্য সংগ্রহের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিহিত। তিনি ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কেবল ঘটনা বর্ণনা করেননি, বরং সেই ঘটনার বর্ণনার উৎস বা 'রওয়ায়াত' (Narration)-এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য হাদিস শাস্ত্রের কঠোর নীতিসমূহ প্রয়োগ করেছিলেন। তাঁর এই পদ্ধতিটি ছিল তৎকালীন সময়ের জন্য অত্যন্ত উন্নত ও বৈজ্ঞানিক। তিনি ইতিহাসকে একটি স্বতন্ত্র ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তাবারীর এই পদ্ধতিগত বিবর্তন সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোগত রূপরেখা প্রদান করেছিলেন। তাঁর কাজ ছিল মূলত সেই সময়ের বিচ্ছিন্ন ও প্রাথমিক পর্যায়ের জ্ঞানকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পদ্ধতিগত বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করা।

بدأت تدوين العلوم عامة، وكتابة التاريخ خاصة في منتصف القرن الثاني الهجري كما سبق، وكانت بشكل ابتدائي وكيفي، ثم اتجهت العلوم إلى...

[1]

তাবারী (রহ.)-এর এই বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি কেবল তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি ইতিহাসের বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি 'ক্রিটিক্যাল ফিল্টার' বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া তৈরি করেছিলেন। তিনি ইতিহাসবিদ এবং মুহাদ্দিস (Hadith Scholar)-এর মধ্যকার সীমারেখাটি এমনভাবে সমন্বয় করেছিলেন যে, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কোনো বর্ণনার সত্যতা নিয়ে সংশয় থাকলে তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। এই পদ্ধতিটিই তাঁকে সাধারণ একজন ইতিহাসবিদ থেকে একজন 'সায়েন্টিফিক হিস্টোরিয়ান' হিসেবে উচ্চাসনে আসীন করেছে।

نستطيع أن نقول: إن الإمام الطبري رحمه الله (وهو المحدّث والمؤرخ) فتح الباب على مصراعيه لنقد الرواية التاريخية

[2]

কালানুক্রমিক ধারণা ও মহাজাগতিক প্রেক্ষাপট

তাবারী (রহ.)-এর ইতিহাস রচনার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর মহাজাগতিক ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি ইতিহাসকে কেবল মানুষের কর্মকাণ্ডের সমষ্টি হিসেবে দেখেননি, বরং একে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং সময়ের প্রবাহের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর 'তারিখ আল-রুসুল ওয়াল মুলুক'-এর সূচনাতেই তিনি সময়ের প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের আদি অবস্থা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর কাছে ইতিহাস ছিল একটি 'ইউনিভার্সাল হিস্টোরি' বা বিশ্বজনীন ইতিহাস।

তাবারী (রহ.)-এর ঐতিহাসিক কাঠামোটি শুরু হয় সৃষ্টির আদি মুহূর্ত থেকে। তিনি সময়ের ধারণা (Concept of Time) এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বকে ইতিহাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মতে, ইতিহাস হলো সময়ের একটি ধারাবাহিক প্রবাহ, যা সৃষ্টির শুরু থেকে মানব সভ্যতার প্রতিটি পর্যায়কে ধারণ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে কেবল একজন রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ থেকে একজন দার্শনিক ইতিহাসবিদে রূপান্তরিত করেছে।

তাঁর গ্রন্থে সময়ের ব্যাপ্তি এবং মহাজাগতিক ক্রমধারা নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তা তাঁর বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক গভীরতার পরিচায়ক। তিনি সময়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের একটি গাণিতিক ও যৌক্তিক বিন্যাস করার চেষ্টা করেছেন।

القول في الزمان ما هو. -القول في كم قدر جميع الزمان من ابتدائه إلى انتهائه واوله إلى آخره

[3]

তাবারীর এই মহাজাগতিক প্রেক্ষাপট ইতিহাসের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলিকে একটি বৃহত্তর অর্থ প্রদান করে। যখন তিনি কোনো সাম্রাজ্যের উত্থান বা পতন বর্ণনা করেন, তখন তিনি তা কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখেন না, বরং তা মহাজাগতিক নিয়মের একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি তাঁর ইতিহাস রচনায় এক ধরণের 'মেটা-হিস্টোরিক্যাল' (Meta-historical) মাত্রা যোগ করেছে, যা সমসাময়িক অন্য কোনো ইতিহাসবিদের মধ্যে দেখা যায় না।

বর্ণনা ও যাচাইকরণ পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

তাবারী (রহ.)-এর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো তাঁর 'নকদ' (Naqd) বা সমালোচনা পদ্ধতি। তিনি ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কোনো বর্ণনার সত্যতা নিশ্চিত করতে 'ইসনাদ' বা বর্ণনাকারীদের পরম্পরাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতেন। তিনি জানতেন যে, ইতিহাস রচনায় ভুল তথ্য বা জাল বর্ণনা প্রবেশ করলে তা পুরো ইতিহাসকে কলুষিত করতে পারে। তাই তিনি মুহাদ্দিসদের মতো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি বর্ণনার উৎস যাচাই করতেন।

তাবারীর এই পদ্ধতিটি ছিল মূলত একটি 'সায়েন্টিফিক ভেরিফিকেশন প্রসেস'। তিনি যখন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করতেন, তখন তিনি কেবল ঘটনাটি বলতেন না, বরং সেই ঘটনার বর্ণনাকারী কারা এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা কেমন, তাও উল্লেখ করতেন। এটি ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একটি 'অ্যাবজেক্টিভ' বা বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড তৈরি করেছিল। তাঁর এই পদ্ধতিটি ইতিহাসকে মিথ বা উপকথা থেকে আলাদা করে একটি প্রামাণ্য বিজ্ঞানে পরিণত করেছে।

তাবারীর এই পদ্ধতিগত কঠোরতা তাঁকে একজন মুহাদ্দিস এবং ইতিহাসবিদের এক অনন্য সমন্বয়ে পরিণত করেছিল। তিনি ইতিহাসের বর্ণনার ক্ষেত্রে যে দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তা মূলত ঐতিহাসিক বর্ণনার সমালোচনা বা 'নকদ'-এর পথ প্রশস্ত করেছিল।

فتح الباب على مصراعيه لنقد الرواية التاريخية وذلك لسببين: (١) التأريخ العربي والمؤرخون

[4]

তাবারীর এই পদ্ধতিগত শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাঁর নিজস্ব কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি পরবর্তী প্রজন্মের ইতিহাসবিদদের জন্য একটি 'মেথডলজিক্যাল ব্লুপ্রিন্ট' হিসেবে কাজ করেছে। তিনি শিখিয়েছেন যে, ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি একটি কঠোর গবেষণাধর্মী প্রক্রিয়া। তাঁর এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ইতিহাসের জগতে অমরত্ব দান করেছে।

এনসাইক্লোপেডিক সংশ্লেষণ ও পাণ্ডুলিপিগত ঐতিহ্য

তাবারী (রহ.)-এর ইতিহাস রচনার বিশালতা এবং এর ব্যাপকতা বিস্ময়কর। তাঁর কাজগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস নয়, বরং এটি ছিল সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসের একটি এনসাইক্লোপেডিক সংকলন। তিনি বিভিন্ন উৎস, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির তথ্যকে একত্রিত করে একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি করেছিলেন। তাঁর এই 'এনসাইক্লোপেডিক সিন্থেসিস' বা এনসাইক্লোপেডিক সংশ্লেষণ পদ্ধতি তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সংরক্ষণ ও প্রচারের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যযুগে তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে মুদ্রিত ও সংরক্ষিত হয়েছে। তাঁর কাজের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, আধুনিক যুগেও তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন সংস্করণ অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

তাঁর গ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য সংস্করণ সম্পর্কে জানা যায় যে, এটি কায়রোতে আল-মাতবাআ আল-হুসাইনিয়া (Al-Matba'a al-Husayniyya) কর্তৃক মুদ্রিত হয়েছিল। এই প্রকাশনাটি তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আধুনিক যুগেও অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করেছে।

قامت المطبعة الحسينية بالقاهرة بطبع تاريخ الطبري عن النسخة الأوربية، وبإشراف يُوسُف بك حنفي، ومحمد أفندي عبد اللطيف الخطيب سنة 1326 هـ، وجاءت في ثلاثة عشر ...

[5]

তাবারীর এই বিশাল কাজটি কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং তথ্যের একটি সুশৃঙ্খল বিন্যাস। তিনি যেভাবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রকে একটি সুসংগত ধারায় সাজিয়েছেন, তা তাঁকে একজন দক্ষ 'এডিটর' এবং 'সিন্থেসাইজার' হিসেবে প্রমাণ করে। তাঁর এই কাজের মাধ্যমেই ইসলামের ইতিহাস একটি সুসংহত ও বৈজ্ঞানিক রূপ লাভ করেছে, যা আজও গবেষকদের কাছে একটি অপরিহার্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

""
অধ্যায় ৬: আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রহ.) [মৃ. ৩১০ হি.] - সায়েন্টিফিক হিস্টোরিওগ্রাফি (Al-Tabari: Scientific Historiography and Encyclopedic Synthesis)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

অধ্যায় ৬: আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রহ.) - সায়েন্টিফিক হিস্টোরিওগ্রাফি কুইজ

1 / 5

ইমাম তাবারী (রহ.)-এর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থটির নাম কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...