খণ্ড 38
ফন্ট:100%
থিম:

অধ্যায় ৩: বির মাউনা: আরবের ইতিহাসে কলঙ্কিত বিশ্বাসঘাতকতা (Bi'r Ma'una: The Infamous Betrayal in Arab History)

অধ্যায় ৩: বীর মাউনা: আরবের ইতিহাসে কলঙ্কিত বিশ্বাসঘাতকতা (Bi'r Ma'una: The Infamous Betrayal in Arab History)

উহুদ যুদ্ধের পরবর্তী নাজুক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। উহুদের ময়দানে মুসলিম বাহিনীর আংশিক বিপর্যয় এবং তার পরপরই বনু আসাদ ও বনু লাহইয়ানের মতো শত্রুভাবাপন্ন গোত্রগুলোর উত্থান মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য এক বহুমুখী নিরাপত্তা সংকট (Multi-dimensional Security Crisis) তৈরি করে। এই নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আরবের বিভিন্ন গোত্র মদিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ইসলামের ইতিহাসে হিজরি চতুর্থ সালের সফর মাসে সংঘটিত ‘বীর মাউনা’ (Bi'r Ma'una) বা মাউনা কূপের ট্র্যাজেডি কেবল একটি সামরিক বিপর্যয় ছিল না, বরং এটি ছিল আরবের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক প্রথা ও ‘জিওয়ার’ (নিরাপত্তা গ্যারান্টি)-এর নীতিকে পদদলিত করে সংঘটিত একটি কলঙ্কিত ও বর্বরোচিত বিশ্বাসঘাতকতা। এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, যার প্রভাব মদিনার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল [1]

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উহুদ-উত্তর ভূরাজনৈতিক সংকট

উহুদ যুদ্ধের পর মদিনা রাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আরবের বেদুইন গোত্রগুলোর চোখে কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছিল। মদিনার এই আপাত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরবের বিভিন্ন প্রান্তের শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সমসাময়িক ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে এই সময়কালকে মুসলমানদের জন্য এক চরম বিপর্যয়কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে:

«المسلمون من كوارث متلاحقة خلال الأشهر القلائل التي تلت نكبة أُحد»

অর্থাৎ, "উহুদের বিপর্যয়ের পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে মুসলমানরা একের পর এক ধারাবাহিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন" [2] । এই ধারাবাহিক সংকটের অন্যতম প্রধান দুটি স্তম্ভ ছিল ‘রাজী’র ঘটনা’ (Expedition of Raji) এবং ‘বীর মাউনার ট্র্যাজেডি’। এই দুটি ঘটনাই ছিল চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও কূটনৈতিক প্রতারণার নিকৃষ্টতম উদাহরণ।

মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও গোত্রীয় কূটনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল আরবের বিভিন্ন গোত্রের সাথে শান্তি চুক্তি স্থাপন এবং ইসলামের দাওয়াতকে উপদ্বীপের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু উহুদ যুদ্ধের পর মদিনার সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং মদিনার প্রভাবকে খর্ব করার জন্য আরবের মুশরিক গোত্রগুলো একযোগে তৎপর হয়ে ওঠে। এই ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই নজদের প্রভাবশালী গোত্র বনু আমিরের নেতা আবু বারা আমের ইবনে মালিক মদিনায় আগমন করেন। তাঁর এই আগমন মদিনার কূটনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও জটিল অধ্যায়ের সূচনা করে, যা শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয় [3]

আবু বারা-র আগমন এবং কূটনৈতিক নিরাপত্তা চুক্তি (The Covenant of Jiwar)

হিজরি চতুর্থ সালের সফর মাসে বনু আমির গোত্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব আবু বারা আমের ইবনে মালিক, যিনি আরবে তাঁর বীরত্ব ও যুদ্ধকৌশলের জন্য ‘মুলাইবুল আসিন্না’ (বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারী) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন, মদিনায় রাসুলুল্লাহ সা.-এর দরবারে উপস্থিত হন। রাসুলুল্লাহ সা. তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং পবিত্র কুরআনের বাণী শোনান। আবু বারা ইসলাম গ্রহণ না করলেও ইসলামের প্রতি কোনো বৈরিতা প্রদর্শন করেননি। বরং তিনি এক চতুর কূটনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলেন যে, যদি তিনি নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাঁর সাহাবিদের একটি দল প্রেরণ করেন, তবে নজদবাসী ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে এবং তা গ্রহণ করতে পারে [4]

রাসুলুল্লাহ সা. নজদ অঞ্চলের মানুষের চরম শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার স্বভাব সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন। তাই তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে তাঁর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমি নজদবাসীদের পক্ষ থেকে আমার সাহাবিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।" এর জবাবে আবু বারা আরবের ঐতিহ্যবাহী ‘জিওয়ার’ বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমি তাদের নিরাপত্তার জিম্মাদার (ضامن)। আপনি তাদের প্রেরণ করুন, নজদের কোনো গোত্রই তাদের স্পর্শ করার সাহস করবে না।" আরবের তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ‘জিওয়ার’ বা নিরাপত্তা চুক্তি ছিল অত্যন্ত পবিত্র এবং কোনো গোত্রপ্রধানের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাকে সমগ্র আরবে চরম অপমানজনক ও কাপুরুষোচিত কাজ বলে মনে করা হতো। এই কূটনৈতিক ও সামাজিক গ্যারান্টির ওপর ভিত্তি করে এবং ইসলামের দাওয়াত প্রসারের মহান উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সা. নজদে একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণে সম্মত হন [5]

বীর মাউনার পথে ‘কুররা’ বা কুরআনের হাফেজদের মিশন

রাসুলুল্লাহ সা. নজদ অঞ্চলের উদ্দেশ্যে মদিনার শ্রেষ্ঠতম সন্তানদের মধ্য থেকে সত্তরজন (৭০) সাহাবির একটি দল গঠন করেন। এই দলটি সাধারণ কোনো সামরিক বাহিনী ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি দল। ইতিহাসে তাঁরা ‘কুররা’ (قراء) বা পবিত্র কুরআনের সুদক্ষ পাঠক ও হাফেজ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁরা দিনের বেলা কাঠ কেটে তা বিক্রি করে মদিনার দরিদ্র ও সুফফাবাসীদের আহারের ব্যবস্থা করতেন এবং রাতের বেলা গভীর ইবাদত ও কুরআন অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকতেন। এই মহান দলের নেতৃত্ব প্রদান করা হয় আনসারি সাহাবি আল-মুনযির ইবনে আমর রা.-এর ওপর, যিনি তাঁর অসীম সাহসিকতা ও শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্য ‘আল-আ’নাক লিয়ামূতা’ (মৃত্যুর দিকে ধাবমান ব্যক্তি) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন [6]

এই প্রতিনিধি দলটি মদিনা থেকে যাত্রা শুরু করে নজদ ও বনু আমির গোত্রের সীমানার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ‘বীর মাউনা’ বা মাউনা নামক একটি কূপের নিকটে গিয়ে পৌঁছায়। সমসাময়িক সীরাত গ্রন্থে এই যাত্রার বিবরণ এভাবে এসেছে:

«وصول الصحابة رضي الله عنهم إلى بئر معونة»

অর্থাৎ, "সাহাবিগণ রা. বীর মাউনা নামক স্থানে গিয়ে উপনীত হন" [7] । সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক মিশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সা.-এর একটি পবিত্র চিঠি বনু আমিরের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং আবু বারা-র ভ্রাতুষ্পুত্র আমের ইবনে তুফাইলের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয় বিশিষ্ট সাহাবি হারাম ইবনে মিলহান রা.-এর ওপর। কিন্তু তাঁরা তখনও জানতেন না যে, আরবের বুকে এক চরমতম ও কলঙ্কিত বিশ্বাসঘাতকতার জাল বোনা হচ্ছে [8]

বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম বহিঃপ্রকাশ: হারাম ইবনে মিলহান (রা.)-এর শাহাদাত

হারাম ইবনে মিলহান রা. যখন রাসুলুল্লাহ সা.-এর চিঠি নিয়ে আমের ইবনে তুফাইলের দরবারে পৌঁছান, তখন আমের ইবনে তুফাইল আরবের সমস্ত কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও মেহমানদারির নিয়ম লঙ্ঘন করে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। সে রাসুলুল্লাহ সা.-এর চিঠিটি খুলে পড়ারও প্রয়োজন মনে করেনি। বরং সে অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে তার এক অনুসারীকে ইশারা করে, যাতে সে পেছন থেকে হারাম ইবনে মিলহান রা.-কে আক্রমণ করে। ঘাতক জাব্বার ইবনে সুমা অত্যন্ত নির্মমভাবে পেছন থেকে হারাম ইবনে মিলহান রা.-এর পিঠে বর্শা বিদ্ধ করে, যা তাঁর বুক ভেদ করে সামনে চলে যায় [9]

বর্শার আঘাতে যখন রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছিল, তখন হারাম ইবনে মিলহান রা. তাঁর দুই হাতে সেই পবিত্র রক্ত মেখে নিজের মুখে ও মাথায় মাখতে মাখতে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অমর বাণী উচ্চারণ করেন:

«الله أكبر فزت ورب الكعبة»

অর্থাৎ, "আল্লাহু আকবার! কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়ে গেছি!" [10] । এই দৃশ্যটি ঘাতক জাব্বার ইবনে সুমার মনে এমন এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে, সে পরবর্তীতে চিন্তা করতে বাধ্য হয়—মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ কীভাবে নিজেকে সফল দাবি করতে পারে? এই ঘটনার গভীরতা ও আধ্যাত্মিক সত্যতা উপলব্ধি করে জাব্বার ইবনে সুমা পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আমের ইবনে তুফাইলের রক্তপিপাসা ও রাজনৈতিক অহংকার এতে শান্ত হয়নি। সে মদিনার এই প্রতিনিধি দলকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার জন্য এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করে [11]

বীর মাউনার গণহত্যা ও অসম যুদ্ধকৌশল

হারাম ইবনে মিলহান রা.-কে নির্মমভাবে হত্যা করার পর আমের ইবনে তুফাইল তার নিজস্ব গোত্র বনু আমিরকে বাকি মুসলিম প্রতিনিধি দলের ওপর আক্রমণ করার জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু বনু আমির গোত্র তাদের নেতা আবু বারা-র দেওয়া ‘জিওয়ার’ বা নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, তারা আবু বারা-র চুক্তি ভঙ্গ করবে না। এই পরিস্থিতিতে আমের ইবনে তুফাইল তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য বনু সুলাইম গোত্রের বিভিন্ন উপগোত্র—যেমন রি’ল, যাকওয়ান এবং উসাইয়্যার সাহায্য কামনা করে। এই গোত্রগুলো কোনো নৈতিক বা সামাজিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে আমের ইবনে তুফাইলের ডাকে সাড়া দেয় [12]

বনু সুলাইমের সশস্ত্র যোদ্ধারা বীর মাউনা কূপে অবস্থানরত নিরস্ত্র ও অসতর্ক সাহাবিদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সাহাবিগণ যখন নিজেদের অবরুদ্ধ ও অতর্কিত আক্রমণের শিকার হিসেবে আবিষ্কার করলেন, তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে তাঁদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের তলোয়ার ধারণ করেন এবং আরবের এই বিশাল সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে (Asymmetric Warfare) লিপ্ত হন। তাঁরা বীরত্বের সাথে লড়াই করতে করতে একে একে শাহাদাতের সুধা পান করেন। সীরাত গ্রন্থে এই নির্মম গণহত্যার বিবরণ অত্যন্ত বেদনাবিধুর ভাষায় বর্ণিত হয়েছে:

«مقتل أصحاب سرية القراء رضي الله عنهم»

অর্থাৎ, "কুররা বা পাঠক সাহাবিদের সেই প্রতিনিধি দলের নির্মম শাহাদাত" [13] । এই গণহত্যায় কেবল দুজন সাহাবি বেঁচে গিয়েছিলেন। একজন হলেন কাব ইবনে জায়েদ রা., যাকে কাফেররা মৃত ভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁর দেহে প্রাণ অবশিষ্ট ছিল এবং তিনি পরবর্তীতে মদিনায় ফিরে আসেন। অন্যজন হলেন আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরি রা., যিনি ঘটনার সময় সাহাবিদের উট চরাতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান [14]

মদিনায় শোকের ছায়া এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কূটনৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিক্রিয়া

বীর মাউনার এই বর্বরোচিত গণহত্যার সংবাদ যখন মদিনায় পৌঁছায়, তখন সমগ্র মদিনা রাষ্ট্রে এক গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে আসে। একই সময়ে রাজী’র ঘটনার খবরও মদিনায় পৌঁছায়, যেখানে আরও ১০ জন সাহাবিকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করা হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর জীবনে আর কোনো ঘটনায় এতটা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হননি, যতটা তিনি ব্যথিত হয়েছিলেন এই সত্তরজন হাফেজে কুরআনের শাহাদাতে। তাঁরা ছিলেন মদিনা রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুদণ্ড। এই শোকের গভীরতা কেবল ব্যক্তিগত ছিল না, বরং এটি ছিল মদিনার নিরাপত্তা ও সম্মানের ওপর এক চরম আঘাত [15]

এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সা. এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি টানা এক মাস ধরে প্রতিদিন ফরজ নামাজের (বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের নামাজে) শেষ রাকাতে রুকু থেকে উঠে আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া বা ‘কুনূতে নাযেলা’ (قنوت النازلة) পাঠ করেন। তিনি এই দোয়ায় বিশ্বাসঘাতক গোত্রগুলোর নাম ধরে ধরে আল্লাহর শাস্তি প্রার্থনা করেন:

«اللهم العن رِعْلاً وذَكْوانَ وعُصَيَّةَ عصت الله ورسوله»

অর্থাৎ, "হে আল্লাহ! আপনি লানত বর্ষণ করুন রি’ল, যাকওয়ান এবং উসাইয়্যা গোত্রের ওপর, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করেছে।" এই কুনূতে নাযেলার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সা. কেবল আধ্যাত্মিক ফরিয়াদই করেননি, বরং এর মাধ্যমে আরবের সমস্ত গোত্রকে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা প্রদান করেছিলেন যে, মদিনা রাষ্ট্র এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ভুলে যায়নি এবং এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ঘটনাটি মদিনার মুসলমানদের সামরিক ও কৌশলগতভাবে আরও সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য করে, যা পরবর্তীতে বনু নাযির ও অন্যান্য শত্রু গোত্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম করেছিল [16]

""
অধ্যায় ৩: বির মাউনা: আরবের ইতিহাসে কলঙ্কিত বিশ্বাসঘাতকতা (Bi'r Ma'una: The Infamous Betrayal in Arab History)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

অধ্যায় ৩: বির মাউনা: আরবের ইতিহাসে কলঙ্কিত বিশ্বাসঘাতকতা (Bi'r Ma'una: The Infamous Betrayal in Arab History) কুইজ

1 / 5

বির মাউনার ঘটনা আরবের ইতিহাসে কী হিসেবে কুখ্যাত?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...