খণ্ড 90
ফন্ট:100%
থিম:

১১.১ 'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' (Clash of Civilizations) এবং ইসলামোফোবিয়ার (Islamophobia) রাজনৈতিক শেকড়

সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি (Geopolitics) এবং বিশ্বব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে 'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' বা সভ্যতাগত দ্বন্দ্ব এবং 'ইসলামোফোবিয়া' বা ইসলামভীতি অত্যন্ত প্রভাবশালী দুটি প্রত্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই ধারণাগুলোকে আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের ফসল মনে হলেও, এদের শিকড় প্রোথিত রয়েছে বহু শতাব্দীর ঐতিহাসিক সংঘাত, ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদ এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রকৌশলের গভীরে। ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি ভিন্ন জীবনদর্শন ও বিশ্বদৃষ্টির (Worldview) সংঘাত। এই সংঘাতের ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং এর মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক শেকড় বিশ্লেষণ করা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত জরুরি।

ক্রুসেডোত্তর ইউরোপীয় মনস্তত্ত্ব এবং ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক ভিত্তি

ইসলাম এবং পশ্চিমা খ্রিষ্টীয় জগতের মধ্যকার পদ্ধতিগত সংঘাতের সূচনা মূলত মধ্যযুগীয় ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ক্রুসেডের সামরিক পরাজয় এবং এর ফলে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত পশ্চিমা চিন্তাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মনে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ইসলামভীতির জন্ম দেয়। এই ঐতিহাসিক বৈরিতা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ইউরোপীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে স্থানান্তরিত হয়। পশ্চিমা গবেষক ও প্রাচ্যবিদদের একাংশ ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নবি সা. এর সীরাতকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস শুরু করেন, যা আধুনিক ইসলামোফোবিয়ার আদি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট চিন্তাবিদ মুহাম্মাদ আসাদ (যিনি পূর্বে লিওপোল্ড ওয়াইস নামে পরিচিত ছিলেন) পশ্চিমা মনস্তত্ত্বে ইসলামের প্রতি এই মজ্জাগত বিদ্বেষের চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, ক্রুসেডের পর থেকে ইউরোপীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় ইসলামের প্রতি ঐতিহ্যগত অবজ্ঞা ও পক্ষপাতিত্ব একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে প্রবেশ করেছে। এই ঐতিহাসিক ফাটলটি দূর করার কোনো আন্তরিক প্রচেষ্টা পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে দেখা যায়নি। মুহাম্মাদ আসাদের ভাষায়:

"فيما يتعلق بالإسلام، فإن الاحتقار التقليديّ أخذ يتسلّل في شكل تحزّب غير معقول إلى بحوثهم العلمية، وبقي هذا الخليج الذي حفره التاريخ بين أوربة والعالم الإسلامي (منذ الحروب الصليبيّة) غير معقود فوقه بجسر، ثم أصبح احتقار الإسلام جزآ أساسيا من التفكير الأوربي."

অর্থাৎ, "ইসলামের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত অবজ্ঞা এক অবান্তর পক্ষপাতিত্বের রূপ নিয়ে তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনুপ্রবেশ করেছে। ক্রুসেডের সময় থেকে ইউরোপ ও ইসলামি বিশ্বের মধ্যে ইতিহাস যে ফাটল তৈরি করেছে, তার ওপর কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। ফলস্বরূপ, ইসলামকে অবজ্ঞা করা ইউরোপীয় চিন্তাধারার একটি মৌলিক অংশে পরিণত হয়েছে।" [1]

এই বিদ্বেষের কারণ কেবল ধর্মীয় মতপার্থক্য ছিল না, বরং ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অপ্রতিরোধ্য বিস্তার খ্রিষ্টীয় আধিপত্যের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। জার্মান প্রাচ্যবিদ বেকার (Becker) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, মধ্যযুগে ইসলামের দ্রুত বিস্তার খ্রিষ্টধর্মের প্রসারের পথে একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর খাড়া করেছিল এবং খ্রিষ্টীয় সাম্রাজ্যের অধীনস্থ অঞ্চলগুলোতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ভূ-রাজনৈতিক পরাজয়ই পশ্চিমা মনস্তত্ত্বে চিরস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক রূপ পরিগ্রহ করে। [2]

ভূ-রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও মুসলিম স্পেনের সংঘাত: ইউসুফ বিন তাশফিনের পত্রের আলোকে ক্রিশ্চিয়ান হেজিমনি ও ইসলামোফোবিয়া

মধ্যযুগীয় ইউরোপে ইসলামি সভ্যতার সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় ছিল আন্দালুস বা মুসলিম স্পেন। আন্দালুসের পতন এবং সেখানে খ্রিষ্টীয় শক্তির পুনর্দখল বা 'রিকনকুইস্তা' (Reconquista) ছিল সভ্যতাগত সংঘাতের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। খ্রিষ্টীয় রাজন্যবর্গ, বিশেষ করে ষষ্ঠ আলফনসো (যাকে ইসলামি ইতিহাসে 'আদফুনশ' বলা হয়েছে), আন্দালুসের মুসলিম আমিরাতগুলোকে দুর্বল ও খণ্ডিত করে তাদের ওপর চড়া কর (জিযয়া) আরোপ করেছিলেন এবং মুসলিম জনসংখ্যাকে পদ্ধতিগতভাবে নির্মূল করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এই ভূ-রাজনৈতিক আগ্রাসন কেবল আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য ছিল না, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের বুক থেকে ইসলামি সভ্যতার চিহ্ন মুছে ফেলা।

এই চরম সংকটের মুহূর্তে উত্তর আফ্রিকার মুরাবিতুন (Almoravid) সাম্রাজ্যের মহান নেতা আমির ইউসুফ বিন তাশফিন আন্দালুসের মুসলমানদের রক্ষার্থে এগিয়ে আসেন। তিনি আল-নাসির লিদিনিল্লাহ তামীম বিন আল-মুইজ্জের কাছে প্রেরিত এক ঐতিহাসিক পত্রে আন্দালুসের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং খ্রিষ্টীয় শক্তির বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন:

"ولما بلغنا من استحواذ النصارى، دمرهم الله، على بلاد الأندلس ومعاقلها، وإلزام الجزية لرؤسائهم، واستيصال أقالمها، وإيطايهم البلاد داراً داراً... وهم مع ذلك كله يقتلون الشيب والشبان، ويأسرون النساء والصبيان."

অর্থাৎ, "যখন আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে খ্রিষ্টানরা—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—আন্দালুসের শহর ও দুর্গগুলো দখল করে নিয়েছে, মুসলিম শাসকদের ওপর জিযয়া (কর) চাপিয়ে দিয়েছে, অঞ্চলগুলোকে অবরুদ্ধ করেছে এবং একের পর এক জনপদ গ্রাস করছে... এবং তারা বৃদ্ধ ও যুবকদের হত্যা করছে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করছে, তখন আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারিনি।" [3]

ইউসুফ বিন তাশফিনের এই সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ৪৭৯ হিজরিতে সংঘটিত ঐতিহাসিক 'যাল্লাকার যুদ্ধ' (Battle of Sagrajas) ছিল খ্রিষ্টীয় হেজিমনি বা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলামি উম্মাহর এক সমন্বিত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিরোধ (Collective Security)। এই যুদ্ধে খ্রিষ্টীয় জোটের শোচনীয় পরাজয় পশ্চিমা শক্তিগুলোর মনে এই ধারণাকে আরও দৃঢ় করে যে, ইসলামি বিশ্বকে কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। ফলে, তারা ইসলামের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করে, যা আধুনিক যুগে এসে প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামোফোবিয়ার রূপ ধারণ করেছে। [4]

প্রাচ্যতত্ত্ব (Orientalism) এবং ইসলামোফোবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

পশ্চিমা উপনিবেশবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হিসেবে প্রাচ্যতত্ত্ব বা ওরিয়েন্টালিজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমদিকের প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশই ছিলেন খ্রিষ্টান মিশনারি, যারা মুসলিম দেশগুলোতে কর্মরত ছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামের শিক্ষা ও ইতিহাসকে এমনভাবে বিকৃত করা, যাতে ইউরোপীয় জনগণের মনে ইসলামের প্রতি স্থায়ী ঘৃণা ও ভীতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে প্রাচ্যতত্ত্ব যখন চার্চের প্রত্যক্ষ প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বা বৈজ্ঞানিক রূপ ধারণ করার দাবি করে, তখনও তাদের মজ্জাগত ইসলামভীতি ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

১৯৪৪ সালে প্রকাশিত এক গ্রন্থে পশ্চিমা গবেষক লরেন্স ব্রাউন (Lawrence Brown) অত্যন্ত নগ্নভাবে ইসলামের এই "বিপদ"কে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের সামনে আসল বাধা কোনো সামরিক শক্তি নয়, বরং ইসলামের নিজস্ব জীবনব্যবস্থা ও এর অন্তর্নিহিত জীবনীশক্তি। ব্রাউনের ভাষায়:

"كامن في نظامه، وفي قدرته على التوسع والإخضاع، وفي حيويّته.. إنه الجدار الوحيد في وجه الاستعمار الأوربي"

অর্থাৎ, "আসল বিপদ নিহিত রয়েছে ইসলামের নিজস্ব ব্যবস্থার মধ্যে, এর বিস্তার ও বিজয়ের ক্ষমতার মধ্যে এবং এর প্রাণশক্তির মধ্যে... ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র দুর্ভেদ্য প্রাচীর।" [5]

একইভাবে, ১৯৩০ সালের জুন সংখ্যায় প্রকাশিত 'মুসলিম ওয়ার্ল্ড' (Muslim World) সাময়িকীতে পশ্চিমা বিশ্বের এই মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে বলা হয় যে, ইসলাম মক্কায় আত্মপ্রকাশের পর থেকে সংখ্যাগতভাবে কখনও দুর্বল হয়নি, বরং ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপরন্তু, ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হলো জিহাদ, এবং ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই বললেই চলে যেখানে কোনো জাতি ইসলামে প্রবেশ করার পর পুনরায় খ্রিষ্টধর্মে ফিরে গেছে। [6] এই জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামোফোবিয়া কোনো আকস্মিক সামাজিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। ইসলামের বিস্তার ও এর রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বকে প্রতিহত করার জন্যই পশ্চিমা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে ইসলামকে একটি "সভ্যতাগত হুমকি" হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। [7]

আদি ইসলামে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও বহিরাগত শক্তির মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ: সাকাফি প্রতিনিধিদলের ঐতিহাসিক উদাহরণ

ইসলামের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিস্তারের প্রতি বহিরাগত শক্তির এই মনস্তাত্ত্বিক ভয় ও প্রতিরোধের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সা. এর যুগে মদিনা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব যখন সমগ্র আরব উপদ্বীপে বিস্তৃত হচ্ছিল, তখন মক্কার কুরাইশদের পর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ছিল তায়েফের সাকিফ (Thaqif) গোত্র। হুনায়নের যুদ্ধ এবং তায়েফ অবরোধের পর সাকিফ গোত্র চারপাশের মুসলিম গোত্রগুলোর দ্বারা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই ভূ-রাজনৈতিক একাকীত্ব এবং অর্থনৈতিক সংকট তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধকে ভেঙে চূর্ণ করে দেয়।

সাকিফ গোত্রের অন্যতম নেতা আমর বিন উমাইয়াহ যখন তায়েফের দ্বিতীয় প্রধান নেতা আবদ ইয়ালীল বিন আমরের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তাদের মধ্যকার আলোচনায় এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে ওঠে। আমর বিন উমাইয়াহ সাকিফের নেতাদের সতর্ক করে বলেন যে, আরবের সমস্ত গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তাদের পক্ষে এই নতুন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আবদ ইয়ালীল প্রথমে এই সত্যকে মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে বলেন:

"إنّ هذا لشئ ما كنت أظنُّه، لعمرو كان أمنع في نفسه من ذلك، وما هو إلا عن أمر قد حدث وكان أمرًا سوءًا، ما لم يكن من ناحية محمد."

অর্থাৎ, "আল্লাহর কসম, আমি এমন পরিস্থিতি কল্পনাও করিনি। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যদি না এটি মুহাম্মাদের সা. পক্ষ থেকে কোনো ঐশ্বরিক ফয়সালা হয়ে থাকে।" [8]

সাকিফ গোত্র যখন বুঝতে পারল যে ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই, তখন তারা মদিনায় একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাদের এই আত্মসমর্পণের পেছনেও ছিল গভীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধা ও জাহেলি কুসংস্কার। তারা ইসলাম গ্রহণের জন্য কিছু অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করতে চেয়েছিল, যেমন ব্যভিচার ও সুদের বৈধতা এবং তাদের উপাস্য মূর্তি 'লাত'কে তিন বছরের জন্য অক্ষত রাখা। রাসুলুল্লাহ সা. ইসলামের মৌলিক তাওহীদি আদর্শের সাথে আপস না করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। [9] সাকিফ গোত্রের এই প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং পরবর্তীতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ প্রমাণ করে যে, ইসলামের রাজনৈতিক ও নৈতিক আদর্শের সামনে তৎকালীন কোনো শক্তিই তাদের জাহেলি কাঠামো টিকিয়ে রাখতে পারেনি। পশ্চিমা প্রাচ্যবিদরা ইসলামের এই দ্রুত ও বৈপ্লবিক বিস্তারকে একটি "সামরিক হুমকি" হিসেবে ব্যাখ্যা করে আধুনিক ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ তৈরি করেছে, যা মূলত তাদের নিজস্ব সভ্যতাগত পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার একটি অপচেষ্টা মাত্র। [10]

""
১১.১ 'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' (Clash of Civilizations) এবং ইসলামোফোবিয়ার (Islamophobia) রাজনৈতিক শেকড়
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

১১.১ 'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' (Clash of Civilizations) এবং ইসলামোফোবিয়া (Islamophobia): পশ্চিমা পলিটিক্যাল রেটোরিক (Political Rhetoric) বনাম ইসলামি সামষ্টিক নিরাপত্তা (Collective Security) কুইজ

1 / 5

'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' তত্ত্বটি মূলত ইসলামকে কীভাবে উপস্থাপন করেছে?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...