মানব ইতিহাসের আর্থ-সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাসে দাসপ্রথা বা শ্রমশক্তির ব্যবহার একটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায়। বিশেষ করে, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলের দাসপ্রথার অর্থনৈতিক কাঠামো ও উদ্দেশ্যগত পার্থক্যের বিষয়টি ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক গবেষণার এক বিশাল ক্ষেত্র। এই পরিশিষ্টে আমরা মূলত ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের অর্থনৈতিক প্রভাব, ব্রিটিশ রাজকোষের ওপর এর প্রভাব এবং ইউরোপীয় শক্তির আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের একটি গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করব। একইসাথে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মুসলিম শক্তির সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সাথে এর সংঘাতের প্রেক্ষাপটটি পর্যালোচিত হবে।
ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামো ও ব্রিটিশ রাজকোষের প্রভাব
ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য কেবল একটি মানবিক বিপর্যয় ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন বিশ্ব অর্থনীতির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর জন্য এটি ছিল বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণের একটি প্রধান উৎস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দাস ব্যবসা বা 'নখাসা' (النخاسة) থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ব্রিটিশ রাজকোষের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এই বাণিজ্যের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এতটাই সুদূরপ্রসারী ছিল যে, এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজকোষে দাস ব্যবসার মাধ্যমে প্রাপ্ত বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত বিশাল। নথিপত্র থেকে জানা যায়:
وكان دخل الخزينة البريطانية السنوي من الرسوم على النخاسة يقرب من (256) ألف جنيه إسترليني.
[1] ।এই বিশাল পরিমাণ অর্থ তৎকালীন ব্রিটিশ অর্থনীতির একটি স্তম্ভ হিসেবে কাজ করত। এই অর্থনৈতিক উপযোগিতার কারণেই দাস ব্যবসার বিলুপ্তি বা নিষিদ্ধকরণ নিয়ে ব্রিটিশ সরকার ও ব্যবসায়ী শ্রেণির মধ্যে এক তীব্র দ্বন্দ্বে সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে যেখানে মানবতাবাদী আন্দোলন ও নৈতিকতার দাবি উঠছিল, অন্যদিকে রাজকোষ ও বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থ ছিল এই বাণিজ্য অব্যাহত রাখার পক্ষে। এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা সৃষ্টি করেছিল।
দাস ব্যবসার এই অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই ব্রিটিশ সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ধারণার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে লড়াই করেছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজকোষ এবং বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থের সংঘাত এতটাই প্রকট ছিল যে, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। অবশেষে, ১৭৯৪ সালে ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্স এবং হাউস অফ লর্ডস একটি প্রকল্পের ওপর সম্মতি প্রদান করে, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের পক্ষ থেকে বা তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে দাস বিক্রয় নিষিদ্ধ করা। তবে এটি ছিল কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রকৃত ও চূড়ান্ত নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৮০৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে, যখন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দাস ব্যবসার চূড়ান্ত ও ব্যাপক নিষিদ্ধকরণ ঘোষণা করে। এরপর ১৮১১ সাল থেকে এই অবৈধ বাণিজ্যে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তিমূলক আইন প্রণয়ন করা হয় [2] ।
ইউরোপীয় ভূ-রাজনীতি ও দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের কূটনৈতিক তৎপরতা
দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণ কেবল একটি অভ্যন্তরীণ আইনি বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক লড়াই। ইউরোপীয় শক্তিগুলো তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং নৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এই বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও চুক্তির আয়োজন করেছিল। এই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল, কারণ বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে এই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল।
১৮১৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্যারিসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে আটটি বৃহৎ শক্তি—ব্রিটেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, প্রুশিয়া এবং ডেনমার্ক—একত্রিত হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দাস বাণিজ্য বা 'নখাসা' (النخاسة) বন্ধ করার জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করা। সম্মেলনের ফলাফল হিসেবে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার কাজ ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বাণিজ্য বন্ধ করা এবং যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে বা এই বাণিজ্যে লিপ্ত থাকবে, তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
وفي 16 كانون الثاني - يناير - من سنة 1815، عقدت ثمانية دول عظمى هي بريطانيا وفرنسا والبرتغال وإسبانيا والنمسا والسويد وبروسيا والدانمرك مؤتمرا بباريس للنظر في هذه المشكلة.
[3] ।এই সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের আইন প্রণয়ন করে। ডেনমার্ক এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে; তারা ১৭৯৪ সালেই দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৭৯৯ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮০৪ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে বাধ্য করে। এরপর নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং পর্তুগাল ১৮১০ সালে এই বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে। ফ্রান্স ১৮১৯ সালে এবং সুইডেন ১৮১৩ সালে এই পথে হাঁটে। এই আইনি পদক্ষেপগুলোর পেছনে কেবল নৈতিকতা নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য ও নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিন্যাসও কাজ করছিল। ইউরোপীয় শক্তিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অন্যান্য রাষ্ট্র ও অঞ্চলকে তাদের নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।
ভূমধ্যসাগরীয় অর্থনীতি ও মুসলিম সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্যের বিপরীতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মুসলিম শক্তির সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চরিত্র ছিল। উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী মধ্যযুগ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মুসলিমদের সামুদ্রিক আধিপত্য ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। তবে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের উত্থানের ফলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনীতি তখন সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড বা যা ইউরোপীয়রা 'পাইরেসি' (Piracy) হিসেবে অভিহিত করত, তা ছিল তাদের অর্থনীতির প্রধান উৎস। ইউরোপীয় শক্তিগুলো যখন দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের নামে আলজেরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, তখন আলজেরিয়ার তৎকালীন শাসক বা 'দাই' (Dai) তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইউরোপীয় শক্তিগুলো আলজেরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল যাতে তারা সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে এবং দাস মুক্তি ও দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের ইউরোপীয় আইন মেনে চলে। কিন্তু আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল এমন যে, এই সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা মানে ছিল তাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ধ্বংস করা।
واستقبل داي الجزائر - وديوانه - هذين المبعوثين بسخرية، لأن القرصنة كانت المورد الرئيسي للإقتصاد الجزائري، ولأن الجزائر لم تدع إلى المشاركة في تلك المؤثمرات.
[4] ।ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের একটি গভীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ছিল। মুসলিমদের কাছে এটি কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ছিল 'জিহাদ' (Jihad) বা আল্লাহর পথে সংগ্রাম, যার ক্ষেত্র ছিল সমুদ্র। বিশেষ করে পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এই তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। যখন ১৪০৩ সালে (ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে এটি সম্ভবত ১৪৫৩ সালের ঘটনাকে নির্দেশ করছে) কনস্টান্টিনোপল তুর্কিদের দখলে যায় এবং স্পেনে আন্দালুসীয় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়, তখন উত্তর আফ্রিকায় মুসলিমদের সামুদ্রিক তৎপরতা আরও তীব্রতর হয়।
الأمر الجدير بالملاحظة هو ذلك الإجماع - لدى المسلمين وأعدائهم - على أن القرصنة كانت بالنسبة للمسلمين نوعا من الجهاد في سبيل الله، مسرحه البحر.
[5] ।ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের মতে, ভূমধ্যসাগরে খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় পক্ষই সামুদ্রিক লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। ১৫শ ও ১৬শ শতাব্দীতে খ্রিস্টানদের সামুদ্রিক তৎপরতা অত্যন্ত প্রবল ছিল, যা পরবর্তীতে আমেরিকার আবিষ্কারের পর আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে স্থানান্তরিত হয়। অন্যদিকে, স্পেনের পতন ও আন্দালুসীয় মুসলিমদের বিতাড়নের ফলে উত্তর আফ্রিকায় মুসলিমদের সামুদ্রিক অভিযান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই ঐতিহাসিক বিবর্তনটি প্রমাণ করে যে, আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আটলান্টিক বাণিজ্য ছিল মূলত একটি শিল্পায়িত ও সাম্রাজ্যবাদী দাস বাণিজ্য ব্যবস্থা, যেখানে শ্রমশক্তিকে পণ্যের মতো ব্যবহার করা হতো। অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড ছিল ভূ-রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি সমন্বিত রূপ।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: একটি তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ
ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য এবং ভূমধ্যসাগরীয় মুসলিম সামুদ্রিক অর্থনীতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি নিহিত ছিল তাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও কাঠামোর মধ্যে। আটলান্টিক বাণিজ্য ছিল একটি 'প্ল্যান্টেশন ইকোনমি' বা বাগানভিত্তিক কৃষি অর্থনীতির অংশ, যেখানে বিপুল পরিমাণ দাসকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে চিনি, তুলা ও তামাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করা হতো। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন মুনাফা নিশ্চিত করা। ব্রিটিশ রাজকোষে প্রাপ্ত বার্ষিক ২ লক্ষ ৫৬ হাজার পাউন্ডের রাজস্ব এই বাণিজ্যের বিশালতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড ছিল মূলত একটি 'প্রতিরক্ষামূলক ও ভূ-রাজনৈতিক অর্থনীতি'। স্পেনের পতন (১৪৯২ খ্রি.) এবং কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর মুসলিমদের সামুদ্রিক তৎপরতা ছিল তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বজায় রাখার একটি মাধ্যম। ইউরোপীয় শক্তিগুলো যখন এই কর্মকাণ্ডকে 'পাইরেসি' বা জলদস্যুতা হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার দোহাই দিয়ে দমন করতে চেয়েছিল, তখন তারা মূলত তাদের সামুদ্রিক আধিপত্য ও ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। আলজেরিয়ার 'দাই'-এর প্রত্যাখ্যান ছিল মূলত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক Hegemony বা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি সার্বভৌমত্বের লড়াই।
পরিশেষে, এই দুই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ডেটা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আটলান্টিক বাণিজ্য ছিল একটি পরিকল্পিত, রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শোষণমূলক ব্যবস্থা, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছিল। বিপরীতে, ভূমধ্যসাগরীয় সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড ছিল একটি বিবর্তনীয় ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিল। এই দুই ব্যবস্থার সংঘাত কেবল বাণিজ্যের লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি ভিন্ন বিশ্বদর্শন ও অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত।