খণ্ড 74
ফন্ট:100%
থিম:

অধ্যায় ৬: কল্যাণ রাষ্ট্র মডেল: পাবলিক ফাইন্যান্স ও রাজস্ব নীতি (Welfare State Model: Public Finance and Fiscal Policy)

মানব সভ্যতার ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও রাজস্ব নীতি কেবল শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়নি, বরং তা সমাজ বিনির্মাণ ও ধ্বংসের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। মদিনায় রাসুলুল্লাহ সা. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কল্যাণ রাষ্ট্রটি ছিল এমন এক অনন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল (Macroeconomic Model), যা একদিকে যেমন ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতি ও পাবলিক ফাইন্যান্সের (Public Finance) মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করেছে। তৎকালীন রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের শোষণমূলক কর ব্যবস্থা এবং পরবর্তীকালে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে অনুসৃত চরমপন্থী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের রাজস্ব নীতি ছিল অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবতাবাদী। এই অধ্যায়ে আমরা রাসুলুল্লাহ সা. এর রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক দর্শন, পাবলিক ফাইন্যান্সের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে ইসলামি রাজস্ব নীতির প্রায়োগিক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ইসলামি অর্থব্যবস্থার সামষ্টিক কাঠামো ও রাজস্ব নীতির দার্শনিক ভিত্তি (Philosophical Foundations of Islamic Fiscal Policy)

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের রাজস্ব নীতির মূল ভিত্তি হলো এই বিশ্বাস যে, মহাবিশ্বের যাবতীয় সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং রাষ্ট্র বা ব্যক্তি কেবল সেই সম্পদের আমানতদার বা ট্রাস্টি মাত্র। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বা "অর্থনৈতিক উদারতাবাদ" (Economic Liberalism) যেখানে বাজারকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার দাবি জানায় এবং রাষ্ট্রকে কেবল একটি "নিরপেক্ষ" ও "সীমিত" ভূমিকায় অবতীর্ণ করতে চায়, সেখানে ইসলামি অর্থব্যবস্থা রাষ্ট্রকে একটি সক্রিয় কল্যাণমূলক ভূমিকা প্রদানের পক্ষে অবস্থান নেয় [1] । ইসলামি রাজস্ব নীতি কেবল কর আদায় ও সরকারি ব্যয় নির্বাহের একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামষ্টিক কল্যাণ অর্জনের একটি প্রধান হাতিয়ার। ইসলামের এই রাজস্ব দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো সমাজে সম্পদের এমন এক সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, যাতে সম্পদ কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়।

ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন এবং পরবর্তীকালের ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একটি রাষ্ট্রের রাজস্ব নীতি যদি অতিরিক্ত কর আরোপের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তা নাগরিক সমাজের উৎপাদনশীলতা ও উদ্যোগকে ধ্বংস করে দেয়। অতিরিক্ত করের বোঝা বা উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তি-উদ্যোগ ও প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক স্পৃহাকে অবদমিত করে ফেলে, যা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিকে বিনষ্ট করে [2] । অন্যদিকে, রাষ্ট্র যদি সম্পদ বণ্টনে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে সমাজে চরম বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সামাজিক সংহতিকে বিনষ্ট করে এবং বিপ্লব বা বিদ্রোহের পথ উন্মুক্ত করে। এই দুই চরমপন্থার বিপরীতে ইসলামি রাজস্ব নীতি একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে। ইবনে খালদুনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সংহতি ও স্থায়িত্ব কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে জনগণের মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর, যা ঐশ্বরিক বিধানের অনুসরণের মাধ্যমে অর্জিত হয় [3] । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন:

"لَوْ أَنفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَّا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ"

অনুবাদ: "তুমি যদি পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদও ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরের মাঝে প্রীতি ও ঐক্য সৃষ্টি করতে পারতে না।" [4] । এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, কেবল বস্তুগত সম্পদ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন একটি ন্যায়ভিত্তিক আদর্শিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো। ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে রাজস্ব নীতিকে এই আদর্শিক কাঠামোরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে আল-জাওজি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রাজস্ব নীতি তার আয় ও ব্যয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে:

"إن السياسة المالية بإراداتها ونفقاتها تعتبر أداة هامة لتحقيق الأهداف"

অনুবাদ: "নিশ্চয়ই রাজস্ব নীতি তার আয় ও ব্যয়ের মাধ্যমে (রাষ্ট্রীয়) লক্ষ্যসমূহ অর্জনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়।" [5] । সুতরাং, ইসলামি পাবলিক ফাইন্যান্সের মূল দর্শন হলো আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শোষণমুক্ত, উৎপাদনমুখী এবং কল্যাণকামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

পাবলিক ফাইন্যান্স ও সম্পদ বণ্টন: রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বনাম বাজার স্বাধীনতা (Public Finance and Wealth Distribution)

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে পাবলিক ফাইন্যান্সের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও বাজারের স্বাধীনতার মধ্যে এক অপূর্ব সমন্বয় সাধন। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাজারকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ছেড়ে দেওয়া হয় না, আবার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয় না। বরং রাষ্ট্র এখানে পরোক্ষ হস্তক্ষেপের (Indirect Intervention) মাধ্যমে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করে, যার প্রধান মাধ্যম হলো রাষ্ট্রের রাজস্ব নীতি [6] । রাসুলুল্লাহ সা. এর যুগে মদিনার বাজারে কোনো কৃত্রিম মূল্য নির্ধারণ (Price Control) করা হয়নি, কিন্তু মজুতদারি, সুদ, ধোঁকাবাজি এবং একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক মুনাফা অর্জনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।

ইতিহাসের অন্যান্য সভ্যতার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের চরমপন্থী রূপ কীভাবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। উদাহরণস্বরূপ, একাদশ শতাব্দীতে চীনের বিখ্যাত সংস্কারক ওয়াং আন-শি (Wang An-shi) সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের এক চরম রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক মডেল প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেন, কৃষিজমির ফসলের একটি অংশ সরাসরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বাণিজ্যকে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া অধিকারে পরিণত করেন [7] । এর ফলে প্রথম দিকে কিছু সুফল দেখা গেলেও, অতি দ্রুত বিশাল আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যক্তি-উদ্যোগ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত কর ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে [8] । এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও করের বোঝা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হয়।

অনুরূপভাবে, প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, সম্রাট ভেসপাসিয়ান (Vespasian) রাষ্ট্রকে দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিটি জিনিসের ওপর কর আরোপ করেছিলেন, এমনকি রোমের পাবলিক টয়লেটের ওপরও কর ধার্য করেছিলেন [9] । তাঁর পুত্র টাইটাস যখন এই অসম্মানজনক করের প্রতিবাদ করেন, তখন ভেসপাসিয়ান করের মুদ্রা তাঁর নাকের কাছে নিয়ে বলেছিলেন, "দেখো বাছা, এ থেকে কি কোনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে?" [10] । যদিও ভেসপাসিয়ান এই সংগৃহীত অর্থ রোমের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন, গণপূর্ত কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের বেতন প্রদানের মতো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছিলেন, কিন্তু তাঁর এই কর নীতি ছিল অত্যন্ত নিপীড়নমূলক এবং তা জনগণের ওপর চরম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রাসুলুল্লাহ সা. কর্তৃক প্রবর্তিত পাবলিক ফাইন্যান্স মডেলটি এই উভয় চরমপন্থাকে এড়িয়ে গেছে। ইসলামি রাষ্ট্রে কর বা রাজস্বের উৎসগুলো (যেমন: জাকাত, খরাজ, জিজয়াহ, উশর) পূর্বনির্ধারিত এবং শরিয়াহর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রাষ্ট্র চাইলেই জনগণের ওপর ইচ্ছামতো করের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে না। জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) দরিদ্রদের মাঝে পুনর্বণ্টন করা হয়, যা বাজারের তারল্য বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিক চাহিদা (Aggregate Demand) সচল রাখে। অন্যদিকে, খরাজ ও উশরের মাধ্যমে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতাকে উৎসাহিত করা হয়। ইসলামি রাজস্ব নীতিতে করের হার এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা উৎপাদনকারীকে নিরুৎসাহিত করে না, আবার দরিদ্রদের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে না। এটিই হলো ইসলামি পাবলিক ফাইন্যান্সের ভারসাম্যপূর্ণ রূপ, যা বাজারকে সচল রেখেও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (Maqasid al-Shariah and Macroeconomic Stability)

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের রাজস্ব নীতি ও পাবলিক ফাইন্যান্সের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় 'মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ' বা ইসলামি শরিয়াহর উচ্চতর লক্ষ্যসমূহের আলোকে। মাকাসিদ আশ-শারিয়াহর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন (নফস), সম্পদ (মাল), বংশধারা (নসল), বুদ্ধি (আকল) এবং দ্বীনের হেফাজত করা [11] । সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এই লক্ষ্যগুলোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। রাসুলুল্লাহ সা. মদিনায় যে বায়তুল মাল (Public Treasury) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা প্রদান করা। এটি কেবল মুসলমানদের জন্যই নয়, বরং অমুসলিম নাগরিকদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য ছিল।

মদিনার প্রাথমিক যুগে যখন রাষ্ট্রের সম্পদ সীমিত ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সা. অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার (Resource Allocation) নিশ্চিত করেছিলেন। পরবর্তীতে যখন রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও সুসংহত হয়। খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে এবং পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ রহ. এর শাসনামলে এই রাজস্ব নীতি ও পাবলিক ফাইন্যান্সের সংস্কার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায় [12] । উমর বিন আবদুল আজিজ রহ. তাঁর পূর্বসূরিদের অন্যায় কর নীতি বাতিল করে শরিয়াহভিত্তিক রাজস্ব নীতি পুনর্প্রতিষ্ঠা করেন, যার ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমাজে এমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে যে জাকাত নেওয়ার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু তাঁর পরবর্তী খলিফা ইয়াজিদ বিন আবদুল মালিকের আমলে পুনরায় পূর্ববর্তী কর নীতিতে ফিরে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয় [13] । এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি রাজস্ব নীতির বিচ্যুতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ইসলামি রাজস্ব নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তা জনগণের মধ্যে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে এবং কর প্রদানের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। ধর্মনিরপেক্ষ অর্থব্যবস্থায় কর প্রদানকে একটি চাপিয়ে দেওয়া বোঝা হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত তীব্র থাকে। কিন্তু ইসলামি অর্থব্যবস্থায় জাকাত ও উশর প্রদানকে একটি ইবাদত এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তাদের প্রদেয় অংশ প্রদান করে। এই মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক ভিত্তিটিই ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রকে অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ মডেল থেকে পৃথক করে। ইবনে খালদুনের মতে, যখন কোনো সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় ঘটে, তখন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধি পায়, যা রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে [14] । রাসুলুল্লাহ সা. এর মদিনা রাষ্ট্রটি ছিল এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার এক জীবন্ত বাস্তবায়ন, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি শাশ্বত কল্যাণ রাষ্ট্রের মডেল হিসেবে চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

""
অধ্যায় ৬: কল্যাণ রাষ্ট্র মডেল: পাবলিক ফাইন্যান্স ও রাজস্ব নীতি (Welfare State Model: Public Finance and Fiscal Policy)
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

অধ্যায় ৬: কল্যাণ রাষ্ট্র মডেল: পাবলিক ফাইন্যান্স ও রাজস্ব নীতি (Welfare State Model: Public Finance and Fiscal Policy) কুইজ

1 / 5

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতির মূল ভিত্তি কী?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...