মানবসভ্যতার ইতিহাসে দর্শনের বিবর্তন সর্বদা মানুষের অস্তিত্ব এবং তার উদ্দেশ্য সন্ধানের সাথে সম্পৃক্ত। তবে আধুনিক পশ্চিমা বস্তুগত দর্শন বা ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ফিলোসফি (Materialistic Philosophy) মানব অস্তিত্বের সংজ্ঞাকে এক সংকীর্ণ ও যান্ত্রিক সীমায় আবদ্ধ করেছে। এই দর্শনের মূল কথা হলো—মহাবিশ্বের একমাত্র বাস্তবতা হলো পদার্থ (Matter), আর মানুষের চেতনা, আত্মা বা আধ্যাত্মিকতা এই পদার্থেরই এক রাসায়নিক উপজাত। যখন এই দর্শন রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে প্রবেশ করে, তখন মানুষ আর 'মর্যাদাবান সৃষ্টি' থাকে না, বরং সে পরিণত হয় 'হিউম্যান রিসোর্স' বা মানব সম্পদে। এখানে 'রিসোর্স' শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ রিসোর্স বা সম্পদ বলতে আমরা সাধারণত খনিজ তেল, কয়লা বা বনজ সম্পদকে বুঝি, যা কেবল ব্যবহারের জন্য বিদ্যমান। পশ্চিমা এই বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে একটি জৈবিক যন্ত্র বা উৎপাদন উপাদানে পরিণত করেছে, যার একমাত্র মূল্য নির্ধারিত হয় তার উপযোগিতা (Utility) এবং উৎপাদনশীলতার (Productivity) মাধ্যমে।
বস্তুগত দর্শনের মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ভিত্তি এবং মানুষের যন্ত্রীকরণ
পশ্চিমা বস্তুবাদের মূল ভিত্তি হলো পজিটিভিজম বা প্রত্যক্ষবাদ, যা কেবল দৃশ্যমান এবং পরিমাপযোগ্য বাস্তবতাকে স্বীকার করে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষের মনস্তত্ত্বকে নিউরনের বৈদ্যুতিক সংকেত এবং হরমোনের খেলা হিসেবে দেখা হয়। যখন এই দর্শন মানবতাকে সংজ্ঞায়িত করে, তখন তা মানুষের অন্তরাত্মার দাবিগুলোকে অস্বীকার করে তাকে কেবল একটি 'জৈবিক উপাদান' হিসেবে গণ্য করে। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের স্বতন্ত্র সত্তা বা 'ইনডিভিজুয়ালিটি' বিলীন হয়ে যায় এবং সে পরিণত হয় বৃহৎ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি ক্ষুদ্র যন্ত্রে। এই দর্শনের প্রভাবে মানুষ এখন আর স্রষ্টার প্রতিনিধি বা খলিফা নয়, বরং সে ইতিহাসের এক নিরব দর্শক এবং পরিস্থিতির দাস।
এই বস্তুগত প্রবণতা কেবল দর্শনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পবিত্র কুরআন এবং সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রেও এক ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে। আধুনিক পশ্চিমা গবেষকরা যখন সীরাত বা কুরআনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করেন, তখন তারা একে কেবল একটি সামাজিক-রাজনৈতিক বিবর্তন হিসেবে দেখেন, যেখানে খোদায়ী নির্দেশনা বা ওহীর কোনো স্থান নেই। তারা বিশ্বাস করেন যে, মানুষ সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আরবিতে বলা হয়:
نزعة مادية وضعية لا تؤمن بأن الأديان من عند الله تعالى، ويراها إنشاء إنسانيًّا، وذلك لأن الإنسان يتحكم به التاريخ تحكمًا كاملاً
[1] । এই দর্শনের ফলে মানুষের আধ্যাত্মিক উচ্চতা এবং খোদায়ী সংযোগকে অস্বীকার করে তাকে কেবল ইতিহাসের এক উপাদান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা মানব অস্তিত্বের চরম অবমাননা।মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই বস্তুগত দর্শন মানুষকে এক গভীর শূন্যতার দিকে ঠেলে দেয়। যখন একজন মানুষকে কেবল 'রিসোর্স' হিসেবে দেখা হয়, তখন তার আবেগ, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিক তৃপ্তির কোনো মূল্য থাকে না। তার মূল্য নির্ধারিত হয় তার বেতন, পদবী এবং ভোগ করার ক্ষমতা দিয়ে। এই যান্ত্রিকীকরণ মানুষকে তার প্রকৃত সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে সে বাহ্যিক চাকচিক্যের পেছনে ছুটলেও অভ্যন্তরীণভাবে এক তীব্র অস্তিত্ববাদী সংকটে (Existential Crisis) ভোগে। এই সংকটের মূল কারণ হলো—মানুষের রূহ বা আত্মার যে অসীম তৃষ্ণা, তাকে বস্তুগত উপাদানের ক্ষুদ্র পরিমাপে মেটানোর চেষ্টা করা। এই দর্শনের প্রভাবে মানুষ এখন আর স্রষ্টার ইবাদতের জন্য নয়, বরং ব্যবস্থার উপযোগিতার জন্য বেঁচে থাকে [2] ।
উপযোগিতাবাদ এবং ভোগবাদী সংস্কৃতির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
পশ্চিমা বস্তুবাদের একটি প্রধান শাখা হলো উপযোগিতাবাদ (Utilitarianism), যার মূলমন্ত্র হলো "সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ"। আপাতদৃষ্টিতে এটি মানবতাবাদী মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বস্তুগত হিসাব। এখানে মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তার 'ইউটিলিটি' বা উপযোগিতার ভিত্তিতে। যদি কোনো মানুষ শারীরিকভাবে অক্ষম হয় বা অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল না হয়, তবে এই দর্শনের দৃষ্টিতে তার অস্তিত্বের মূল্য হ্রাস পায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরবর্তীতে আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় 'হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' (HRM) এর জন্ম দিয়েছে, যেখানে মানুষকে কেবল একটি ইনপুট হিসেবে দেখা হয় যার বিনিময়ে আউটপুট বা মুনাফা অর্জন করা হয়।
এই ভোগবাদী সংস্কৃতি বা কনজ্যুমারিজম (Consumerism) কেবল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ। পশ্চিমা আধুনিকতা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত ভোগবাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মানুষকে কেবল একজন 'ভোক্তা' (Consumer) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মানুষের ভেতরে অতৃপ্তি তৈরি করা এবং তাকে ক্রমাগত নতুন নতুন পণ্য ক্রয়ের নেশায় মগ্ন রাখা। এই প্রক্রিয়ায় মানুষ তার আত্মিক প্রশান্তি হারিয়ে ফেলে এবং বস্তুর দাসে পরিণত হয়। এই পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেক চিন্তাবিদ দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমা আধুনিকতা আসলে একটি মুখোশ, যার আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম বস্তুবাদ। যেমনটি ফুকুয়ামা তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমা আধুনিকতা এবং সেকুলারিজম আসলে একটি নির্দিষ্ট জীবনদর্শন যা ভোগবাদকে উৎসাহিত করে:
بينما تجدُ شعوبُ آسيا وأمريكا اللاتينية ودولُ المعسكر الاشتراكي وأفريقيا الاستهلاكيةَ الغربيةَ مُغرِيةً، وتودُّ تقليدَها
[3] ।ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বস্তুগত দর্শন অত্যন্ত বিপজ্জনক। যখন কোনো রাষ্ট্র মানুষকে কেবল 'রিসোর্স' হিসেবে দেখে, তখন সেই রাষ্ট্র তার রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষকে কেবল 'পন' (Pawn) বা দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। এখানে মানুষের জীবন এবং মর্যাদার চেয়ে অর্থনৈতিক লাভ বা কৌশলগত সুবিধা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সাম্রাজ্যবাদ এবং উপনিবেশবাদের জন্ম হয়েছে, যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলো অনুন্নত অঞ্চলের মানুষকে কেবল খনিজ সম্পদ আহরণের শ্রমিক বা যুদ্ধের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো সেই বস্তুগত দর্শন, যা মানুষকে স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির এক জৈবিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করে [4] ।
গায়েব বা অদৃশ্যের অস্বীকার এবং মানবিয় সংহতির বিলোপ
বস্তুগত দর্শনের সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো এর 'মেটাফিজিক্যাল ব্লিন্ডনেস' বা গায়েব বা অদৃশ্যের প্রতি চরম অস্বীকার। এই দর্শন বিশ্বাস করে যে, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম, ফেরেশতা এবং সর্বোপরি স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্ককে তারা কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করে। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার মৃত্যুতে সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তার কোনো আধ্যাত্মিক জবাবদিহিতা নেই, তখন তার নৈতিক ভিত্তি কেবল সামাজিক চুক্তির (Social Contract) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই নৈতিকতা অত্যন্ত নমনীয় এবং স্বার্থপর; যখন স্বার্থের সংঘাত হয়, তখন এই বস্তুগত নৈতিকতা ভেঙে পড়ে।
এই অদৃশ্যের অস্বীকার সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রেও এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। পশ্চিমা গবেষকরা যখন নবি সা. এর জীবন আলোচনা করেন, তখন তারা ওহীর অলৌকিকতাকে অস্বীকার করে তাকে কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা বা সামাজিক বিপ্লব হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তারা সীরাতের সেই দিকগুলোকে উপেক্ষা করেন যা মানুষকে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সীরাত তার মূল প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তা কেবল একটি ঐতিহাসিক তথ্যের স্তূপে পরিণত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
هذا المنظور الذي يرفض البعد الغيبي في تعامله مع السيرة النبوية... الأمر الذي يلحق بالسيرة أذى كبيرا
[5] ।যখন মানুষ থেকে গায়েবের বিশ্বাস ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন তার ভেতর থেকে পরোপকার, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং ত্যাগের মানসিকতা বিলীন হয়ে যায়। কারণ এই গুণগুলো কেবল বস্তুগত লাভ-ক্ষাবের হিসাব দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন এক উচ্চতর আধ্যাত্মিক চেতনা। বস্তুগত দর্শনে মানুষ কেবল তার নিজের এবং তার পরিবারের স্বার্থ দেখে, কারণ তার কাছে অন্য কোনো উচ্চতর লক্ষ্য নেই। ফলে সমাজ হয়ে ওঠে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতার যুদ্ধে মানুষ অন্য মানুষকে সহযোগী হিসেবে নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী বা বাধা হিসেবে দেখে। এভাবে বস্তুগত দর্শন মানবিয় সংহতিকে ধ্বংস করে মানুষকে একাকী এবং বিষণ্ণ করে তোলে [6] ।
পশ্চিমা আধুনিকতা বনাম ইসলামি মানবতত্ত্ব: এক মৌলিক খণ্ডন
ইসলামি মানবতত্ত্ব পশ্চিমা বস্তুবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলাম মানুষকে কেবল 'রিসোর্স' বা উপাদান হিসেবে দেখে না, বরং তাকে দেখে 'আশরাফুল মাখলুকাত' বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে। পশ্চিমা দর্শনে মানুষ প্রকৃতির একটি অংশ মাত্র, কিন্তু ইসলামি দর্শনে মানুষ প্রকৃতির অভিভাবক এবং স্রষ্টার প্রতিনিধি (খলিফা)। এখানে মানুষের মূল্য তার উৎপাদনশীলতা বা উপযোগিতার ওপর নির্ভর করে না, বরং তার তাকওয়া এবং ঈমানের ওপর নির্ভর করে। একজন অসুস্থ বা অক্ষম মানুষও আল্লাহর দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাবান হতে পারেন, যদি তার অন্তরে ঈমান থাকে। এটিই হলো ইসলামি মানবতত্ত্বের সেই অনন্য বৈশিষ্ট্য যা মানুষকে বস্তুর দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়।
বস্তুগত দর্শন মানুষকে কেবল তার শারীরিক এবং মানসিক চাহিদার সমষ্টি হিসেবে দেখে, কিন্তু ইসলাম মানুষকে রূহ (আত্মা), নকল (বুদ্ধি) এবং কলব (হৃদয়)-এর এক সমন্বিত সত্তা হিসেবে গণ্য করে। পশ্চিমা দর্শন যখন মানুষকে কেবল 'মেশিন' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, ইসলাম তখন তাকে 'আমানত' হিসেবে দেখে। এই আমানতদারিতার বোধ মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। সে জানে যে, তার জীবন কেবল ভোগবিলাসের জন্য নয়, বরং এক মহান উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য। এই উদ্দেশ্যটি হলো স্রষ্টার আনুগত্য এবং পৃথিবীতে ইনসাফ কায়েম করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে বস্তুর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শেখায়, বস্তুর গোলাম হতে নয়।
ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব আল-মিসিরির মতো চিন্তাবিদরা দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমা বস্তুবাদ আসলে এক ধরণের 'একত্ববাদ' (Pantheism) বা প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা, যেখানে স্রষ্টার স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়। এই দর্শনের ফলে মানুষ তার মর্যাদা হারিয়ে প্রকৃতির এক সাধারণ উপাদানে পরিণত হয়। কিন্তু ইসলামি দর্শন মানুষকে প্রকৃতি থেকে আলাদা এবং উচ্চতর এক মর্যাদা প্রদান করে। এই মর্যাদার ভিত্তি হলো খোদায়ী জ্ঞান এবং ইবাদত। যখন মানুষ নিজেকে কেবল একটি 'রিসোর্স' হিসেবে দেখা বন্ধ করে এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে চিনতে পারে, তখনই সে প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করে। এই মুক্তি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মুক্তি নয়, বরং এটি হলো আত্মার মুক্তি [7] ।
পরিশেষে, পশ্চিমা বস্তুগত দর্শনের এই খণ্ডন কেবল তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়, বরং এটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মানুষকে কেবল উপাদানে পরিণত করার এই প্রক্রিয়াটি আসলে তাকে তার খোদায়ী পরিচয় থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত চেষ্টা। ইসলামি সভ্যতা মানুষকে তার প্রকৃত উচ্চতা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাকে শেখায় যে, সে কেবল এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী সম্পদের উপভোক্তা নয়, বরং সে এক অনন্ত যাত্রার যাত্রী। এই চেতনা যখন মানুষের মনে জাগ্রত হয়, তখন সে আর পশ্চিমা ভোগবাদের মোহে পড়ে না এবং তার জীবন হয়ে ওঠে অর্থবহ ও উদ্দেশ্যপূর্ণ [8] ।