খণ্ড 80
ফন্ট:100%
থিম:

৯.১ ফিলানথ্রপি (Philanthropy) এবং সিভিল সোসাইটি (Civil Society): ইসলামি রাষ্ট্রে তৃতীয় খাতের (Third Sector) উদ্ভব

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ 'নাগরিক সমাজ' বা সিভিল সোসাইটির বিকাশ ঘটেছিল। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায়, রাষ্ট্র (প্রথম খাত) এবং বাজার বা ব্যক্তিগত মালিকানা (দ্বিতীয় খাত)-এর বাইরে যে স্বেচ্ছাসেবী, অলাভজনক এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে 'তৃতীয় খাত' (Third Sector) বলা হয়। মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রে এই তৃতীয় খাতের উদ্ভব কেবল অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এই ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি ছিল ফিলানথ্রপি বা পরোপকারিতা, যা বাধ্যতামূলক যাকাতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী দান (সাদাকাহ) এবং সামাজিক সংহতির মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

ইসলামি সিভিল সোসাইটির মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ভিত্তি

মদিনার নাগরিক সমাজের মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব এবং তাকাফুল (পারস্পরিক নিশ্চয়তা)। এটি কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না, বরং মুমিনদের অন্তরে প্রোথিত এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক তাড়না। ইসলামি সিভিল সোসাইটি এমন এক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমষ্টিগত কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। এই সামাজিক সংহতির মূলমন্ত্র ছিল ঈমানি বন্ধন, যা জাতি, গোত্র এবং বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের যাবতীয় অহমিকা দূর করে এক অভিন্ন মানবিয় পরিচয়ে সকলকে একীভূত করেছিল।

এই মনস্তাত্ত্বিক সংহতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল রাসুল সা.-এর প্রদর্শিত আদর্শের মাধ্যমে। তিনি মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে রূপক ব্যবহার করেছিলেন, তা আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের 'সোশ্যাল ক্যাপিটাল' বা সামাজিক পুঁজির এক অনন্য উদাহরণ। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন:


مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتواصلهم مثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى

অর্থাৎ, "পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়" [1] । এই দৃষ্টিভঙ্গি নাগরিক সমাজের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি করেছিল, যেখানে ধনী ব্যক্তি দরিদ্রের অভাবকে কেবল করুণার দৃষ্টিতে না দেখে নিজের শরীরের অসুস্থতার মতো অনুভব করত।

এই মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর ফলে মদিনার সমাজে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ বা শ্রেষ্ঠত্ববোধ পোষণ করত না। রাসুল সা. এর শিক্ষা ছিল— "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে" [2] । এই নৈতিক মানদণ্ডটি সিভিল সোসাইটির ভেতরে একটি শক্তিশালী 'সেফটি নেট' তৈরি করেছিল, যা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই সমাজের প্রান্তিক মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন কেবল নীতি-নির্ধারণ এবং আইন প্রয়োগে ব্যস্ত থাকতে পারত, আর সামাজিক কল্যাণমূলক কাজগুলো নাগরিক সমাজের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো [3]

ফিলানথ্রপি এবং তৃতীয় খাতের অর্থনৈতিক প্রভাব

ইসলামি রাষ্ট্রে ফিলানথ্রপি বা পরোপকারিতা কেবল দান-খয়রাত হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশল। যখন রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বায়তুল মাল) সীমিত ছিল, তখন উচ্চবিত্ত সাহাবিগণ তাদের ব্যক্তিগত সম্পদকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করে একটি শক্তিশালী 'তৃতীয় খাত' গড়ে তুলেছিলেন। এই ব্যবস্থাটি বাজারের মুনাফালোভী মানসিকতাকে প্রশমিত করে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করেছিল। এখানে দাতা এবং গ্রহীতার সম্পর্ক ছিল সম্মানজনক, যেখানে দাতা নিজেকে অনুগ্রহকারী মনে করত না, বরং আল্লাহর আমানত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে গণ্য করত।

এই ফিলানথ্রপিক মডেলের এক অনন্য উদাহরণ হলো আবু তালহা রা.-এর ঘটনা। তিনি মদিনার অন্যতম সম্পদশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল 'বায়রুহা' নামক একটি বাগান। যখন পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি নাজিল হলো:


لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ

অর্থাৎ, "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো" [4] , তখন আবু তালহা রা. তৎক্ষণাৎ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বাগানটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলেন। তিনি রাসুল সা.-কে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বাইরুহা, এটি আল্লাহর জন্য সদাকাহ; আপনি এটিকে সেখানে ব্যয় করুন যেখানে আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দেন" [5]

এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের ত্যাগ নাগরিক সমাজের ভেতরে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরোপকারিতার সংস্কৃতি তৈরি করেছিল। এর ফলে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ রোধ হয় এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে মদিনার স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করেছিল। এই স্বেচ্ছাসেবী অর্থনৈতিক মডেলটি রাষ্ট্রীয় কর ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়েছিল এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিকল্প ও কার্যকর পথ প্রদর্শন করেছিল [6]

শ্রেণি সংঘাতের অবসান এবং সামাজিক সংহতি

আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে, বিশেষ করে মার্ক্সীয় তত্ত্বে, সমাজকে দেখা হয় দুটি পরস্পরবিরোধী শ্রেণির (শোষক ও শোষিত) লড়াই হিসেবে। কিন্তু ইসলামি সিভিল সোসাইটি এই শ্রেণি সংঘাতের ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেছিল। মদিনার সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কোনো দেয়াল ছিল না; বরং তারা একই কাতারে নামাজ আদায় করত এবং একই লক্ষ্য অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করত। এই সামাজিক সমতা কেবল তাত্ত্বিক ছিল না, বরং বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়েছিল।

ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় ধনীরা তাদের সম্পদকে ব্যক্তিগত ভোগের সামগ্রী হিসেবে না দেখে 'মুনাসিব' বা সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ফলে দরিদ্ররা ধনীদের প্রতি ঘৃণা বা ঈর্ষার পরিবর্তে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা পোষণ করত। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবিগণ এমন এক স্তরে পৌঁছেছিলেন যে, তারা ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধি পেলে আনন্দিত হতেন, কারণ তারা জানতেন যে ধনীর সম্পদ বাড়লে দরিদ্রদের জন্য সাহায্যের সুযোগ আরও বাড়বে [7]

এই সংহতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল উসমান রা.-এর মতো মহৎ ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে। মদিনায় যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়, তখন উসমান রা. এক হাজার উটের একটি বিশাল কাফেলা নিয়ে আসেন, যাতে প্রচুর পরিমাণে গম, তেল এবং কিসমিস ছিল। মদিনার ব্যবসায়ীরা এই কাফেলার বিনিময়ে পাঁচ গুণ মুনাফার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আল্লাহ আমাকে এর চেয়ে দশ গুণ বেশি মুনাফা দিয়েছেন (আখিরাতে)" এবং সম্পূর্ণ কাফেলাটি দরিদ্র মুমিনদের মাঝে বিনামূল্যে বন্টন করে দেন [8] । এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজে কোনো 'ক্লাস কনশাসনেস' বা শ্রেণি-চেতনা তৈরি হয়নি, বরং একটি সমন্বিত 'উম্মাহ' চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে মদিনার সমাজব্যবস্থায় কোনো প্রকার শ্রেণি-বিদ্রোহ বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়নি, কারণ সম্পদের বন্টন কেবল আইনি বাধ্যবাধকতায় নয়, বরং হৃদয়ের তাড়নায় সম্পন্ন হতো [9]

রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বয়

ইসলামি রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য বিদ্যমান ছিল। রাষ্ট্র কেবল মৌলিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং বিচারিক ব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, আর সামাজিক কল্যাণমূলক কাজগুলো সিভিল সোসাইটির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সমন্বিত মডেলটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র যখন নৈতিকভাবে শক্তিশালী নাগরিক সমাজের ওপর ভর করে চলে, তখন প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস পায় এবং জনসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায় এবং বন্টনের ব্যবস্থা থাকলেও, ব্যক্তিগত দান বা সাদাকাহ-এর পরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রীয় কোষাগার যেখানে নির্দিষ্ট আটটি খাতে ব্যয় হতো, সেখানে সিভিল সোসাইটির ফিলানথ্রপিক কার্যক্রম ছিল আরও নমনীয় এবং তাৎক্ষণিক। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তির আকস্মিক অসুস্থতা বা পারিবারিক বিপর্যয় মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার অপেক্ষা না করে নাগরিক সমাজের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসত। এই ব্যবস্থাটি মূলত একটি 'ডিসেন্ট্রালাইজড' বা বিকেন্দ্রীভূত কল্যাণ ব্যবস্থা ছিল, যা প্রতিটি পাড়া এবং মহল্লায় কার্যকর ছিল [10]

এই সমন্বয়ের আরেকটি দিক ছিল যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রদান। নাগরিক সমাজের ভেতরে যারা পরোপকারিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি প্রদর্শন করত, রাষ্ট্র তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করত। ফলে রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। রাষ্ট্রীয় আমলারা কেবল বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন সমাজেরই অংশ এবং পরোপকারিতার অগ্রপথিক। এই সমন্বিত কাঠামোর কারণেই মদিনার রাষ্ট্রব্যবস্থা অত্যন্ত স্থিতিশীল ছিল এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণভাবে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি [11]

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং 'আহলুস সুফফাহ' মডেল

ইসলামি সিভিল সোসাইটির সবচেয়ে মানবিক দিকটি ছিল সমাজের একেবারে প্রান্তিক এবং সহায়হীন মানুষদের জন্য একটি স্থায়ী আশ্রয় ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মদিনার মসজিদে নববীর পাশে 'সুফফাহ' নামক একটি স্থান ছিল, যেখানে সেইসব দরিদ্র মুমিনরা বসবাস করতেন যাদের কোনো ঘরবাড়ি বা পরিবার ছিল না। এদের 'আহলুস সুফফাহ' বলা হতো। তারা ছিলেন ইসলামের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার এক অনন্য উদাহরণ।

পবিত্র কুরআনে এই নিঃস্ব কিন্তু আত্মমর্যাদাশীল মানুষদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:


لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا

অর্থাৎ, "সেই দরিদ্রদের জন্য (যাকাত), যারা আল্লাহর পথে উৎসর্গিত, তারা জমিনে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষমতা রাখে না; অজ্ঞ ব্যক্তি তাদের আত্মমর্যাদার কারণে ধনী মনে করে। তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে, তারা মানুষের কাছে জেদ করে চায় না" [12] । ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি মূলত আহলুস সুফফাহ-দের শানে নাজিল হয়েছে [13]

আহলুস সুফফাহ-দের ভরণপোষণের দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্র নেয়নি, বরং মদিনার সাধারণ নাগরিকরা স্বেচ্ছায় তাদের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করত। এটি ছিল সিভিল সোসাইটির একটি স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ। এই মডেলটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি সমাজব্যবস্থায় দারিদ্র্যকে অভিশাপ হিসেবে নয়, বরং ধনীদের জন্য পরোপকারের সুযোগ হিসেবে দেখা হতো। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি সমাজের এই যত্ন তাদের মধ্যে এক গভীর আনুগত্য এবং আত্মত্যাগবোধ তৈরি করেছিল, যার ফলে তারা ইসলামের প্রসারে এবং জ্ঞানার্জনে সবচেয়ে বেশি মনোনিবেশ করতে পেরেছিলেন। এভাবে সিভিল সোসাইটি কেবল অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করেছিল [14]

""
৯.১ ফিলানথ্রপি (Philanthropy) এবং সিভিল সোসাইটি (Civil Society): ইসলামি রাষ্ট্রে তৃতীয় খাতের (Third Sector) উদ্ভব
আমাদের নবী সা. সীরাত বিশ্বকোষ
ha-mims.world
এ আর্টিকেলের কুইজ(5টি প্রশ্ন)

৯.১ ফিলানথ্রপি (Philanthropy) এবং সিভিল সোসাইটি (Civil Society): ইসলামি রাষ্ট্রে তৃতীয় খাতের (Third Sector) উদ্ভব কুইজ

1 / 5

মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রে 'তৃতীয় খাত' (Third Sector) বলতে মূলত কী বোঝানো হয়েছে?

এই আর্টিকেলটি কেমন লাগলো?

এই গবেষণাকে সহায়তা করুন

সীরাত বিশ্বকোষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার সামান্য সহায়তা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

bKash / Nagad01XXXXXXXXXX(Send Money)
☕ Ko-fi দিয়ে সহায়তা

রেফারেন্স: "সীরাত বিশ্বকোষ" লিখুন

🌟 Ha-mim's World-এর একটি গবেষণা ও জ্ঞান-প্রযুক্তি প্রকল্প

কমিউনিটি রিফ্লেকশন

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কী শিখলেন বা আপনার অনুভূতি কী, তা সবার সাথে শেয়ার করুন।

আপনার রিফ্লেকশন শেয়ার করতে দয়া করে লগইন করুন।

লোড হচ্ছে...